পরকালীন প্রস্তুতি

কুর'আন-সুন্নাহর আলোকে পরকালীন মুক্তির আশায় একটি পরকালমুখী উদ্যোগ

বিষয়ভিত্তিক কুরআনের আয়াত : আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:

১.
"যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ তা' আলার যিনি সকল সৃষ্টি জগতের পালনকর্তা। যিনি নিতান্ত মেহেরবান ও দয়ালু। যিনি বিচার দিনের মালিক।" -(সূরা আল ফাতিহা, আয়াত: ২-৪)

২.
"যে পবিত্রসত্তা তোমাদের জন্য ভূমিকে বিছানা এবং আকাশকে ছাদ স্বরূপ স্থাপন করে দিয়েছেন, আর আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করে তোমাদের জন্য ফল-ফসল উৎপাদন করেছেন তোমাদের খাদ্য হিসাবে। অতএব, আল্লাহর সাথে তোমরা অন্য কাকেও সমকক্ষ করো না। বস্তুতঃ এসব তোমরা জানো।" -(সূরা আল বাকারাহ, আয়াত: ২২)

৩.
"তিনিই সে সত্ত্বা যিনি সৃষ্টি করেছেন তোমাদের জন্য যা কিছু জমীনে রয়েছে সে সমস্ত। তারপর তিনি মনোসংযোগ করেছেন আকাশের প্রতি। বস্তুতঃ তিনি তৈরী করেছেন সাত আসমান। আর আল্লাহ সর্ববিষয়ে অবহিত।" -(সূরা আল বাকারাহ, আয়াত: ২৯)

৪.
"তারা (মুনাফিকরা) কি এতটুকুও জানে না যে, আল্লাহ সেসব বিষয়ও পরিজ্ঞাত যা তারা গোপন করে এবং যা প্রকাশ করে?" -(সূরা আল বাকারাহ, আয়াত: ৭৭)

৫.
"পূর্ব ও পশ্চিম আল্লারই। অতএব, তোমরা যেদিকেই মুখ ফেরাও, সেদিকেই রয়েছে আল্লাহর চেহারা। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বদিক পরিবেষ্টনকারী, সর্বজ্ঞ।" -(সূরা আল বাকারাহ, আয়াত: ১১৫)

৬.
"তিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের উদ্ভাবক। যখন তিনি কোন কার্য সম্পাদনের সিন্ধান্ত নেন, তখন সেটিকে একথাই বলেন, ‘হয়ে যাও’ তৎক্ষণাৎ তা হয়ে যায়।" -(সূরা আল বাকারাহ, আয়াত: ১১৭)

৭.
"অতঃপর (তওয়াফের জন্যে) দ্রুতগতিতে সেখান থেকে ফিরে আস, যেখান থেকে সবাই ফিরে। আর আল্লাহর কাছেই মাগফেরাত কামনা কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, অতি দয়ালু।" -(সূরা আল বাকারাহ, আয়াত: ১৯৯)

৮.
"অতঃপর তোমাদের মাঝে পরিস্কার নির্দেশ এসে গেছে বলে জানার পরেও যদি তোমরা পদস্খলিত হও, তাহলে নিশ্চিত জেনে রেখো, আল্লাহ পরাক্রমশালী, বিজ্ঞ।" -(সূরা আল বাকারাহ, আয়াত: ২০৯)

৯.
"বনী ইসরাঈলদিগকে জিজ্ঞেস কর, তাদেরকে আমি কত স্পষ্ট নির্দশনাবলী দান করেছি। আর আল্লাহর নেয়ামত পৌছে যাওয়ার পর যদি কেউ সে নেয়ামতকে পরিবর্তিত করে দেয়, তবে আল্লাহর আযাব অতি কঠিন।" -(সূরা আল বাকারাহ, আয়াত: ২১১)

১০.
"আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই, তিনি জীবিত, সবকিছুর ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না এবং নিদ্রাও নয়। আসমান ও যমীনে যা কিছু রয়েছে, সবই তাঁর। কে আছ এমন, যে সুপারিশ করবে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া? দৃষ্টির সামনে কিংবা পিছনে যা কিছু রয়েছে সে সবই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানসীমা থেকে তারা কোন কিছুকেই পরিবেষ্টিত করতে পারে না, কিন্তু যতটুকু তিনি ইচ্ছা করেন। তাঁর সিংহাসন সমস্ত আসমান ও যমীনকে পরিবেষ্টিত করে আছে। আর সেগুলোকে ধারণ করা তাঁর পক্ষে কঠিন নয়। তিনিই সর্বোচ্চ এবং সর্বাপেক্ষা মহান।" -(সূরা আল বাকারাহ, আয়াত: ২৫৫)

১১.
"হে আমাদের পালনকর্তা! সরল পথ প্রদর্শনের পর তুমি আমাদের অন্তরকে সত্যলংঘনে প্রবৃত্ত করোনা এবং তোমার নিকট থেকে আমাদিগকে অনুগ্রহ দান কর। তুমিই সব কিছুর দাতা।" -(সূরা আল ইমরান, আয়াত: ৮)

১২.
"বলে দিন, তোমরা যদি মনের কথা গোপন করে রাখ অথবা প্রকাশ করে দাও, আল্লাহ সে সবই জানতে পারেন। আর আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে, সেসব ও তিনি জানেন। আল্লাহ সর্ব বিষয়ে শক্তিমান।" -(সূরা আল ইমরান, আয়াত: ২৯)

১৩.
"আর যা কিছু আসমান ও যমীনে রয়েছে সে সবই আল্লাহর এবং আল্লাহর প্রতিই সবকিছু প্রত্যাবর্তনশীল।" -(সূরা আল ইমরান, আয়াত: ১০৯)

১৪.
"আর যা কিছু আসমান ও যমীনে রয়েছে, সেসবই আল্লাহর। তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করবেন, যাকে ইচ্ছা আযাব দান করবেন। আর আল্লাহ হচ্ছেন ক্ষমাকারী, করুণাময়।" -(সূরা আল ইমরান, আয়াত: ১২৯)

১৫.
"আর তোমরা যদি আল্লাহর পথে নিহত হও কিংবা মৃত্যুবরণ কর, তোমরা যা কিছু সংগ্রহ করে থাকো আল্লাহ তা’আলার ক্ষমা ও করুণা সে সবকিছুর চেয়ে উত্তম।" -(সূরা আল ইমরান, আয়াত: ১৫৭)

১৬.
"নিশ্চয়ই আল্লাহ কারো প্রাপ্য হক বিন্দু-বিসর্গও রাখেন না; আর যদি তা সৎকর্ম হয়, তবে তাকে দ্বিগুণ করে দেন এবং নিজের পক্ষ থেকে বিপুল সওয়াব দান করেন।" -(সূরা আন নিসা, আয়াত: ৪০)

১৭.
"যা কিছু নভোন্ডলে আছে এবং যা কিছু ভুমন্ডলে আছে, সব আল্লাহরই। সব বস্তু আল্লাহর মুষ্ঠি বলয়ে।" -(সূরা আন নিসা, আয়াত: ১২৬)

১৮.
"হে মানবকূল, যদি আল্লাহ তোমাদেরকে সরিয়ে তোমাদের জায়গায় অন্য কাউকে প্রতিষ্ঠিত করেন? বস্তুতঃ আল্লাহর সে ক্ষমতা রয়েছে।" -(সূরা আন নিসা, আয়াত: ১৩৩)

১৯.
"হে মানবজাতি! তোমাদের পালনকর্তার যথার্থ বাণী নিয়ে তোমাদের নিকট রসূল এসেছেন, তোমরা তা মেনে নাও যাতে তোমাদের কল্যাণ হতে পারে। আর যদি তোমরা তা না মান, জেনে রাখ আসমানসমূহে ও যমীনে যা কিছু রয়েছে সে সবকিছুই আল্লাহর। আর আল্লাহ হচ্ছেন সর্বজ্ঞ, প্রাজ্ঞ।" -(সূরা আন নিসা, আয়াত: ১৭০)

২০.
"অতঃপর যে তওবা করে স্বীয় অত্যাচারের পর এবং সংশোধিত হয়, নিশ্চয় আল্লাহ তার তওবা কবুল করেন। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু।" -(সূরা আল মায়িদাহ, আয়াত: ৩৯)

২১.
"তুমি কি জান না যে আল্লাহর নিমিত্তেই নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের আধিপত্য। তিনি যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেন এবং যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন। আল্লাহ সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।" -(সূরা আল মায়িদাহ, আয়াত: ৪০)

২২.
"জেনে নাও, নিশ্চয় আল্লাহ কঠোর শাস্তি দাতা ও নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল-দয়ালূ।" -(সূরা আল মায়িদাহ, আয়াত: ৯৮)

২৩.
"যারা আমার নিদর্শনসমূহকে মিথ্যা বলে, তারা অন্ধকারের মধ্যে মূক ও বধির। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা সরল পথে পরিচালিত করেন।" -(সূরা আল আন আম, আয়াত: ৩৯)

২৪.
"যাদেরকে তারা আহবান করে, তারা নিজেরাই তো তাদের পালনকর্তার নৈকট্য লাভের জন্য মধ্যস্থ তালাশ করে যে, তাদের মধ্যে কে নৈকট্যশীল। তারা তাঁর রহমতের আশা করে এবং তাঁর শাস্তিকে ভয় করে। নিশ্চয় আপনার পালনকর্তার শাস্তি ভয়াবহ।" -(সূরা বনী ঈসরাইল, আয়াত: ৫৭)

২৫.
"তিনি আল্লাহ; যিনি নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডলের সবকিছুর মালিক। কাফেরদের জন্যে রয়েছে বিপদ ও কঠোর আযাব ।" -(সূরা ইবরাহীম, আয়াত: ২)

২৬.
"সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই, যিনি আমাকে (ইব্রাহীমকে) এই বার্ধক্যে ইসমাঈল ও ইসহাক দান করেছেন নিশ্চয় আমার পালনকর্তা দোয়া শ্রবণ করেন।" -(সূরা ইবরাহীম, আয়াত: ৩৯)

২৭.
"জেনে রাখুন, আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। ক্ষমাপ্রার্থনা করুন, আপনার ক্রটির জন্যে এবং মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের জন্যে। আল্লাহ, তোমাদের গতিবিধি ও অবস্থান সম্পর্কে জ্ঞাত।" -(সূরা মুহাম্মদ, আয়াত: ১৯)

২৮.
".....যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে তার জন্যে তিনিই যথেষ্ট। আল্লাহ তার কাজ পূর্ণ করবেন।" -(সূরা আত ত্বালাক, আয়াত: ৩)

২৯.
"তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন পোড়া মাটির ন্যায় শুষ্ক মৃত্তিকা থেকে। এবং জিনকে সৃষ্টি করেছেন অগ্নিশিখা থেকে। অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অনুগ্রহ অস্বীকার করবে?" -(সূরা আর রহমান, আয়াত: ১৪-১৬)

৩০.
"বলুনঃ আমার পালনকর্তার কথা, লেখার জন্যে যদি সমুদ্রের পানি কালি হয়, তবে আমার পালনকর্তার কথা, শেষ হওয়ার আগেই সে সমুদ্র নিঃশেষিত হয়ে যাবে। সাহায্যার্থে অনুরূপ আরেকটি সমুদ্র এনে দিলেও।" -(সূরা কাহফ, আয়াত: ১০৯)


উপরের আয়াতসমূহে আল্লাহ্ সুবহানওয়া তা'আলার শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণিত হয়েছে । যা পরিপূর্ণরূপে বুঝে উঠা আমাদের জন্য অসম্ভব । কারণ প্রতিটা সৎ কাজের পেছনে রয়েছে আল্লাহর দয়া, আবার প্রতিটা মন্দ কাজের পেছনে রয়েছে হুঁশিয়ার । যা প্রায়ই আমরা উপেক্ষা করে চলছি । এছাড়া প্রতিটা সৃষ্টির মধ্যেই রয়েছে নিদর্শন এবং প্রতিটা ঘটনার মধ্যেই রয়েছে রহস্য । আরও রয়েছে নিঃস্ব হয়েও আল্লাহর দিকে ফিরে আসার সুযোগ এবং ভুল বুঝেই ক্ষমা পাওয়ার সুযোগ । আল্লাহ্ তা'আলার আরও রয়েছে এরকম হাজারো বড়ত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব, যা কখনো শেষ হবার নয়। (আল্লাহু আকবর)


[বি:দ্র: এই বিষয়ে পবিত্র কুরআন মাজীদে আরও আয়াত রয়েছে এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত বিস্তারিত হাদীসও রয়েছে।]

কোন মন্তব্য নেই