পরকালীন প্রস্তুতি

কুর'আন-সুন্নাহর আলোকে পরকালীন মুক্তির আশায় একটি পরকালমুখী উদ্যোগ

কেন তুমি আশরাফুল মাখলুকাত (সৃষ্টির সেরা) ?

তুমি ইসলাম সম্পর্কে খুব ভালো না জানলেও অন্তত এইটুকু জানো যে মহান আল্লাহ্ তায়ালা তোমাকে আশরাফুল মাখলুকাত বা সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু কখনি কি একবার ভেবে দেখেছো কেন তুমি সৃষ্টির সেরা। নাকি তুমি এমনি এমনিই তুমি সৃষ্টির সেরা!!?

এইটা বলা কি চরম নিরবুদ্ধিতা না বল? তুমি নিজেও কি অন্য কাউকে শুধু শুধু সেরা বলে বলে মেনে নিবে? তুমি জানো যে তোমার বাবা তোমার পরিবারের শ্রেষ্ঠ কারণ তোমার বাবা তোমার পরিবারের সকল দায়িত্ব বহন করেন। তেমনিভাবে তোমাকে কিছু দায়িত্ব দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে যেটা অন্য কোন প্রানীকে দেয়া হয় নাই আর সে জন্যেই তুমি আশরাফুল মাখলুকাত বা সৃষ্টির সেরা।

আল্লাহ্ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেনঃ-
“ তোমরা হলে উত্তম জাতি। তোমাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে মানুষের কল্যান সাধনের জন্যে। তোমাদের কাজ হল, তোমরা মানুষকে সত্যের পথে চলার আদেশ করবে এবং অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখবে।” -সুরা আল ইমরানঃ ১১০।

দেখ আল্লাহ্ কত স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন কেন তোমাকে শ্রেষ্ঠ হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। এখন বল এই দায়িত্ব পালন না করলে কি তুমি আর শ্রেষ্ঠ থাকবে বা থাকতে পারবে? থাকতে পারবেনা। তাহলে কি হবে তোমার অবস্থান???

সেটাও কিন্তু আল্লাহ্ তায়ালা পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছেনঃ-
“আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সর্বোত্তম আকৃতিতে। অতঃপর তাকে নামিয়ে দিয়েছি নিকৃষ্ট থেকে নিকৃষ্টতর অবস্থানে।” - সুরা আত ত্বীনঃ ৪-৫।

অর্থাৎ তুমি যদি তোমার এই দায়িত্ব মানে “সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজে নিষেধ” পালন না করো বা পালনে অবহেলা করো তাহলে তোমাকে এক নিকৃষ্ট স্তরে নামিয়ে দেয়া হবে। অর্থাৎ পশু পাখিরও নীচের স্তরে।

এখন একটু চিন্তা করতো তোমাকে যে দায়িত্ব দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে সেটা সম্পর্কে কতটুকুই বা জানো কতটুকুই বা পালন করছো। যদি না করে থাক তাহলে তোমার অবস্থানটা কি পশুর চেয়েও নীচে নেমে গেলনা?

কোন মন্তব্য নেই