পরকালীন প্রস্তুতি

কুর'আন-সুন্নাহর আলোকে পরকালীন মুক্তির আশায় একটি পরকালমুখী উদ্যোগ

নিজের অর্ধাঙ্গ গড়ে নিতে এতো হেলা কেন ?

এক মেয়েকে বলতে শুনেছিলাম - যে কোন ছেলে যদি আমাকে প্রতিদিন ভালো রেস্টুরেন্টে খাওয়ায় আর সপ্তাহে একবার মার্কেটে নিয়ে যায় তবে এক মাস প্রেম করতে রাজি আছি।
এক ছেলে উক্ত মেয়ের কথা শুনেই বলে উঠেছিলো- আমি রাজি আছি! এক মাস প্রেম করলেই চলবে।

তারমানে ভোগবিলাসে মেতে উঠতে এ যুগের নারী পুরুষের বাস্তবিক অর্থে তেমন কোন বাছবিচার নেই। মেয়েরা বিবাহিত অবিবাহিত নির্বিশেষে সুন্দর এবং টাকাওয়ালারা ছেলের সাথে ইচ্ছা মতো সময় কাটাতে পারে। আবার ছেলেরাও তাই।

আর বেশীরভাগ পুরুষই বিয়ের কিছুদিন পর বউয়ের চেয়ে অন্য নারীতেই আকর্ষণ খুঁজে পায়। বেশীরভাগ মেয়েই বিয়ের পর আলুথালু হয়ে যায়। মেয়েরা বাসায় থাকে কাজের বুয়ার মতো, আর বাহিরে যায় চওড়া মেকআপ মেখে। অন্যের স্বামীকে লোভ দেখিয়ে, রুপের আগুনে জ্বালিয়ে বাসায় এসেই মেকআপ তুলে ফেলে। এদের স্বামীরাও এটাতেই অভ্যস্ত, তারাও বাহিরের নারীতেই চোখের ক্ষুধা মেটায়।

পূজা কিংবা পহেলা বৈশাখ কিংবা যে কোন উৎসবের আগে মার্কেটে গেলে হরেক রকমের গহনাগাটি পাওয়া যায়। বিশেষত গাউসিয়া চাঁদনী চকে তিল ধারণের যায়গা থাকেনা।
মাঝে মাঝে মনে হয় এর সিংহভাগ যেসব নারীরা কিনে থাকে ,তার আশিভাগের ও বেশী হয়তো বাহিরের মানুষকে দেখানোর উদ্দেশ্যেই কেনা। ২০ ভাগ হতে পারে স্বামী কিংবা পরিবারের কোন অনুষ্ঠানে যাওয়া বা পারিবারিকভাবে উৎসব পালনের উদ্দেশ্যে কেনা।

কয়দিন আগে ফেইসবুকের একটি ফ্যাশন পেইজে খুব অরুচিকর একটি পোশাক দেখেছিলাম। একটা মন্তব্য ও করেছিলাম।
এটা কখনোই বলছিনা যে সবাই বোরখা পড়বে। কিন্তু মানুষ হিসেবে সামাজিক ভারসাম্য রাখার জন্য পাশবিক উগ্রতাকে উশকে দেয় এমন পোশাক না পড়াটা জাতি বর্ণ নির্বিশেষে সবারই একটা দায়িত্ব।

কলা ভবনের পেছনে ম্যাগাজিনের দোকানে মাঝে মাঝে বাংলাদেশের টপ লিডিং ম্যাগাজিনগুলো দেখা যায়। ম্যাগাজিনগুলোতে নারী দেহের যথেচ্ছা ব্যবহার লক্ষণীয় , হয়তো পুরোটা দেহই ঢাকা! কিন্তু যায়গা মতো সবই আবার খোলা। এটাকেই নাকি ফ্যাশন বলে। তাকানোর জিনিষ দিলে মানুষ কী না তাকিয়ে পারে?
এটা পুঁজিবাদীরা ভালোই জানে, তাই এই ব্যবস্থা।

একটা ছোট লোহার চুম্বক তারচেয়ে ১২ গুণ বেশী ওজনের বস্তু ধারণ করতে পারে। একজন দেহপসারনি নারী ও ঠিক চুম্বকের মতো। একজনের সঙ্গিনী হওয়া সত্ত্বেও ১০০ জনের মাথা নষ্ট করতে পারে। কখনো কখনো সংখ্যাটা কোটিতে যেয়ে ও ঠেকে।

এই অবাধ তথ্য প্রবাহের যুগে তাই আমাদের প্রযুক্তি জীবনটা সহজ হলেও সামাজিক জীবনটা খুব বেশী জটিল আকার ধারণ করেছে।
সেই যে নানু দাদুদের যুগে পাতিলের মতো কালো বউ বলে শাশুড়ি মুখ ঝামটা দিলেও স্বামী প্রাণভরে ভালোবাসতো, সেই ঘরেই ১৪-১৫ টা সন্তান হতো, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সেই কথিত নারীর মুখ দর্শন না করলে ভাত খাওয়া হবেনা, সেই ভালোবাসা এখন আর নেই।

এখন ঘরের বাহিরে বের হলেই হাজার মুখ খুঁজে পাওয়া যায়। উপরের বর্ণনার মতো।
কয়দিন আগে খবরে দেখলাম সিলেটে এক ব্যবসায়ীকে খুন করেছে তার বউ। অভিযোগ ৯ বছরের বিবাহিত জীবনের শেষে সেই লোক পরকীয়ায় মেতেছিল। অবশেষে, মহিলাও স্বীকারোক্তি দিয়ে হয়তো আজীবন কারাবাস করবে। একটা ম্যাচ যেমন এক টুকরা কাগজ জ্বালাতে পারে, আবার সর্বগ্রাসি রুপ নিলে একটা এলাকাও জ্বালিয়ে দেওয়াটা ক্ষণিকের সময় মাত্র। হয়তো পুঁজিবাদী নারীচর্চা নারীর পন্ন্যায়নের আগুন এই সংসারেও লেগেছিল। তাই দুটি মানুষের জীবন নষ্ট হয়ে গেলো।

মানুষ ভাবতে পারে, আমার চেয়ে আমাকে কেউ বেশী ভালবাসতে পারেনা। ধারনাটা আসলে ভুল। আমাদের চেয়েও আমাদেরকে সৃষ্টিকর্তা বেশী ভালোবাসেন। তাই এই অশান্তির আগুন থেকে বাঁচানোর জন্যই এসেছে পরিপূর্ণ জীবন বিধান।

চাকচিক্য কিংবা গ্ল্যামার হারানোর ভয়ে হয়তো পুঁজিবাদী নারীরা এটা স্বীকার করবেনা, যে মানব রচিত ব্যবসায় তারা কতোটুকু ক্ষতির স্বীকার। কিন্তু দিনশেষে অনেক তারকার আত্মহত্যা কিংবা একটা সংসার পাবার আকাঙ্খা এই জীবনের ফাঁকা দিকটার কথাই বারবার মনে করিয়ে দেয়।

আর মেয়েদের ও দোষ কিছুটা বেশীই। এই ভয়াবহ সময়ে প্রতিদিন নিজ সঙ্গীকে নিয়ে দুই এক ঘণ্টা দ্বীনচর্চা, আর অন্যকে না দেখিয়ে শুধুই স্বামীর জন্য সাজিয়ে নেওয়াটা খুব খুব জরুরী। একটা মেয়ে একটা রুটি ও কতো যত্ন নিয়ে বানায়। তাহলে নিজের অর্ধাঙ্গকে গড়ে নিতে এতো হেলা কেন?



লিখেছেন:
শেখ সাফওয়ান জেরিন

1 টি মন্তব্য: