পরকালীন প্রস্তুতি

কুর'আন-সুন্নাহর আলোকে পরকালীন মুক্তির আশায় একটি পরকালমুখী উদ্যোগ

তোরা আমার বন্ধু হবি নাকি শত্রু হবি?

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

আমরা যারা জাহিল জীবন থেকে উঠে এসেছি আমাদের জন্য বন্ধু, বন্ধুত্ব ব্যাপারগুলো অনেক আবেগের। বন্ধু, বন্ধুত্বের ব্যাপারগুলো ভাবলেই স্বভাবতই আমাদেরকে স্মৃতিকাতরতায় পেয়ে বসে। কিছু বিষয় থাকে যাকে সংজ্ঞায় সংজ্ঞায়িত করলে কেমন জানি ব্যাকরণিক ব্যাপার স্যাপার মনে হয়, বন্ধুত্ব তেমনই একটি। কোন মনিষী বা দার্শনিক কতসুন্দর করে বন্ধুত্বের সংজ্ঞা দিয়েছেন সেটা তাই খুব একটা আমলে নেওয়ার মত নয়,যেখানে বন্ধুত্বের সম্পর্কগুলো হয় মানুষের অনুভূতির সংমিশ্রণে। সেই অনুভূতি ব্যক্তি বিশেষে এতটাই ডিফার করে যে, এটাকে কিছু কথার ফ্রেমে আটকে রাখা যায় না।

আজকের জাহিলিয়াতে পরিপূর্ণ একটা যুগে আমাদের “বন্ধু-আড্ডা-গান” ছেলেমেয়েদের কাছে বন্ধুত্ব মানেই গল্প-গান-কবিতা-উপন্যাস আর সেলুলয়েডের রঙিন পর্দায় দেখানোকিছু মুখস্ত পাঠ। বন্ধুত্ব মানেই তাদের চোখে ভাসে একদল ছেলেমেয়ে গল্প করছে, কাঁধেহাত রেখে হাঁটছে, খেলছে, ঝগড়া করছে, একজন হঠাৎ রাগ করে দলছুট হয়ে যাচ্ছে, তার মানভাঙাতে চেষ্টা করছে কেউ। বন্ধুত্ব মানেই তাদের মনে ভাসে দলবেঁধে পুকুরে দাপাদাপি,বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে ফুটবল খেলা, আড্ডায় ভারত-পাকিস্তান, রিয়াল-বার্সা তর্ক, গানমুভির লেটেস্ট আপডেট, কনসার্টে একসাথে গায়ের গেঞ্জি খুলে লাফালাফি! তাদের কাছেবন্ধুত্ব মানেই “দোস্ত তোর গার্লফ্রেন্ডটা তো দারুণ, পটালি কেমনে?”, বন্ধুত্বমানেই খাওয়ার পর বিল একজন আরেক জনের উপর চাপিয়ে দেওয়া, সিগারেটের দুই তিনটা টানমারতে বন্ধুর দিকে বাড়িয়ে দেওয়া, bluetooth অন করে “দোস্ত জিনিসটা পাঠা, কুইক”, তাদের কাছে বন্ধুত্ব মানেই....

একদিন রাতে ছাত্রলীগ আমাকে হল থেকে বের করে দিল। রাত তখন সাড়ে বারোটা-একটারমত। আমি কোথায় যাব সেই চিন্তা করছি। আমি চাইলেই লুকিয়ে হলেই থাকতে পারতাম কিংবা আমার রুমম্যাট বন্ধুরা চাইলেই আমাকে রুমে রাখতে পারত। আমি রুমে গিয়ে দেখলাম আমার একবন্ধু আমার তোষক-কাঁথা-বালিশ উঠিয়ে তার থাকার জায়গা করছে। আরাম করে ঘুমানোর জন্য আমার কাঁথা তার বেডশিটের উপর দিয়ে বিছানাকে আরো আরামদায়ক করছে। এই ছেলেগুলোর সাথে আমি কয়েকবছর ধরে একই রুমে আছি, একসাথে খাই, ঘুমায়, কেউ আমাকে জিজ্ঞেস করেনি এতরাতে আমি কোথায় যাব। মুচকি হেসে ভাবছিলাম এতদিন এত কাছাকাছি থেকেও আমাদের হৃদয়গুলোর মাঝে কত দূরত্ব, আমরা কেউই কারো বন্ধু হতে পারিনি, একজন আরেকজনকেভালোবাসতে পারিনি।

এত রাতে এক দ্বীনি বড় ভাইকে ফোন করে তার কাছে থাকতে গেলাম। আমি গিয়েছি বলেতিনি এত রাতে তোষকে ছারপোকার ঔষধ দিলেন, বিছানা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করলেন। সকালেঘুম থেকে উঠার পর আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, “আচ্ছা তুমি রাতে একবার উঠে বসেছিলে, ছারপোকায় কামড়েছিল নাকি?” সময়ের এক্সিসে হয়ত প্রশ্নটা করতে দুই তিন সেকেন্ড লেগেছে কিন্তু আন্তরিকতা আর ভ্রাতৃত্বের এক্সিসে এর পরিমাপ করা হয়ত সম্ভব না।

আজো আমি যখন ভার্সিটি, হলের জাহিল পরিবেশে হাঁপিয়ে উঠে কোন দ্বীনি সার্কেলে যাই সেটা যেন আমার জন্য বুক ভরে শ্বাস নেওয়ার মত। যাদের অনেকের সাথেই হয়ত পরিচয় খুব অল্প দিনের কিন্তু আমি অনভুব করি আমাদের হৃদয়গুলো যেন এক শক্ত বন্ধনে আবদ্ধ। মানুষ যখন শুধু আল্লাহর জন্য একে অপরের সাথে সম্পর্কে আবদ্ধ হয় মহান আল্লাহর রহমত সেখানে বর্ষিত হয় তার সত্যতা আমি অনেকবার দেখেছি। আমার জাহিল বন্ধুরা যখন মোজমাস্তি, বন্ধু আড্ডা গানে সময় না কাটানোর জন্য উপহাস করে, আমার একঘরে স্বভাবের জন্য টিটকারি মারে আমি মাঝে মাঝে তাদের মুচকি হেসে জবাব দিই, “তোদের মত সারি সারি বন্ধু একদিন আমারও ছিল, তোদের এই উচ্ছল জীবনের স্বপ্নও একদিন আমি লালন করতাম। আল্লাহর দ্বীনের জন্য আমি সবকিছু ত্যাগ করেছি। তোদের মত অনেক বন্ধুকেই হয়ত আমি হারিয়েছি বিনিময়ে অনেকগুলো ভাই পেয়েছি, যাদের সাথে মিশলে আমি অনুভব করি, হায়! কোনকালেই যদি তোদের মত কোন বন্ধু আমার না থাকত!”

ইসলামে বন্ধুত্বের চেয়ে ভ্রাতৃত্বের বিষয়টিই বেশী আলোচিত হয়েছে। যারা সিরাত পড়েছেন তার নিশ্চয় মক্কার মুসলিমরা যখনমদিনায় হিজরত করল এর পরের ঘটনাগুলো জানেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামমক্কার মুজাহিরদের সাথে মদিনার আনসারদের ভ্রাতৃত্ব সম্পর্ক স্থাপন করে দিয়েছিলেন। আরকেমন ছিল সেই ভ্রাতৃত্ব তা আমরা সবাই জানি। সেই ভাতৃত্ব ছিল এমন যে, কেউ তার ভাইয়ের জন্য নিজের প্রাণ দিতেও পিছপা ছিল না। এছাড়াও হাদিসে একটা ঘটনা বর্নিত হয়েছে, একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার সাহাবীদের সাথে ছিলেন, হঠাৎ তিনি কেঁদে উঠলেন। সাহাবীরা কান্নার কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি জবাব দিলেন, আমি আমার ভাইদের কথা মনে করে কাঁদছি। সাহাবীরা প্রশ্ন করলেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমরা কি আপনার ভাই নই। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জবাবে বললেন, তোমরা তো আমারসাথী, আমার ভাই হল তারা যারা আমার পরে আসবে আর আমাকে না দেখেই তারা আমার উপর ঈমান আনবে।

আমার অনেক ছেলেকে দেখার সুযোগ হয়েছে যারা দ্বীনি পরিবেশ কিংবা পরিবার থেকেএসেও ভার্সিটি লাইফে এসে এখন পুরোপুরি জাহিল জীবন যাপন করছে। তেমনিভাবে অনেক ছেলেকে এমনও দেখেছি যারা সবকিছু বুঝে, জাহিলিয়াতের ভয়াবহতা আর আল্লাহর অবাধ্যতারবিষয়ে তারা বেশ ভালোই অবগত এবং এসব নিয়ে চিন্তিতও। অনেকেই চায় জাহিল জীবন ছেড়ে দ্বীনের পথে আসতে, অনেকেই এধরনের তাড়না অনুভব করে। যখনই আমি তাদের এই অবস্থা থেকে বের হতেনা পারার কিংবা দ্বীনি জীবন ছেড়ে জাহিল জীবনে প্রবেশ করার কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়েছি প্রতিবারই আমি এটাই দেখেছি যে, তাদের এই অবস্থার মূল কারণ তাদের জাহিল বন্ধুদের সঙ্গ। সেদিন শাইখ সালেহ আল মুনাজ্জিদের কাছে এক ছেলে প্রশ্ন করেছে, সে অনেকপাপ করেছে এখন সে তাওবা করতে চায়। শাইখ তাকে অনেক উপদেশ দিলেন। সেই উপদেশে তিনিগুরুত্ব দিয়ে একটা পয়েন্ট আলোচনা করেছেন, সে যেন কোনভাবেই জাহিল বন্ধুদের সাথে না মিশে এবং এমন জায়গায় না যায় যেখানে আল্লাহর অবাধ্যতায় লিপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

আবু মুসা আশআরি (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসূল (সা.) বলেন, ‘সৎ ও অসৎ বন্ধুর উদাহরণ আতর বিক্রেতা ও কামারের ন্যায়। আতর বিক্রেতা হয়তো তোমাকে একটু আতর লাগিয়ে দেবে, অথবা তুমি তার কাছ থেকে আতর ক্রয় করবে, অথবা তুমি তার কাছে আতরের ঘ্রাণ পাবে। আর কামার হয়তো তোমার কাপড় পুড়িয়ে দেবে নয়তো তার কাছ থেকে খারাপ গন্ধ পাবে।’(বোখারি ও মুসলিম)

আমার জাহিল যুগের বন্ধুদের আমি দেখেছি। আর এখন ভার্সিটি আর হলে থাকার সুবাধে জাহিল বন্ধুদের লাইফ স্টাইল, তাদের আলোচনার বিষয় বস্তু, তাদের জীবনের লক্ষ্য উদ্দেশ্য এসব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়। এই ছেলেগুলোর আলোচনার মূল কেন্দ্রই থাকে নারী, অশ্লীলতা, অর্থহীন জাহিলিয়াত আর শয়তানের পথের দিকে নিয়ে যায় এমন আলোচনা। তাই এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ আমরা কাদের সাথে বন্ধুত্ব করছি। আমাদের একে অপরের ভালোবাসার মানদণ্ড কি মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি? মহান আল্লাহ কিয়ামতের দিন যে সাত প্রকার ব্যক্তিকে তার আরশের ছায়া দিবেন তার এক প্রকার হল তারা, যারা অপরকে আল্লাহর জন্য ভালোবেসে ছিল এবং আল্লাহর জন্যই কারো সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিল। এই দুনিয়ায় আপনার বন্ধু নির্বাচন আখিরাতের জন্যও কত গুরুত্বপূর্ণ তা এখান থেকে হয়ত বুঝা যাবে,

হাসান আল বাসরী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, তোমরা পৃথিবীতে ভাল মানুষদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখতে তৎপর হও, কারন এই সম্পর্কের কারণে হয়ত তোমরা আখিরাতে উপকৃত হতে পারবে।

তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো কিভাবে?

তিনি বললেন যখন জান্নাতিরা জান্নাতে অধিষ্ঠিত হয়ে যাবে তখন তারা পৃথিবীর ঘটনা স্মরণ করবে এবং তাদের পৃথিবীর বন্ধুদের কথা মনে পড়ে যাবে। তারা বলবে, আমি তো আমার সেই বন্ধুকে জান্নাতে দেখছিনা, কি করেছিল সে?

তখন বলা হবে, সেতো জাহান্নামে।

তখন সেই মু'মিন ব্যাক্তি আল্লাহর কাছে বলবেন, হে আল্লাহ, আমার বন্ধুকে ছাড়া আমার কাছে জান্নাতের আনন্দ পরিপূর্ণ হচ্ছেনা।

অতঃপর আল্লাহ সুবহানু ওয়া তাআলা আদেশ করবেন অমুক ব্যাক্তিকে জাহান্নাম থেকে বের করে জান্নাতে প্রবেশ করাতে।

তার বন্ধু জাহান্নাম থেকে রক্ষা পেল এই কারনে নয় যে সে তাহাজ্জুদ পড়ত, বা কুরআন পড়ত বা সাদাকাহ করত বা রোজা রাখত, বরং সে মুক্তি পেল কেবলই এই কারণে যে তার বন্ধু তার কথা স্মরণ করেছে। তার জান্নাতী বন্ধুর সম্মানের খাতিরে তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেয়া হল।

জাহান্নামিরা তখন অত্যন্ত অবাক হয়ে জানতে চাইবে কি কারনে তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেয়া হল, তার বাবা কি শহিদ? তার ভাই কি শহিদ? তার জন্য কি কোন ফেরেশতা বা নবী শাফায়াৎ করেছেন?

বলা হবে না, বরং তার বন্ধু জান্নাতে তার জন্য আল্লাহর কাছে অনুরোধ করেছে।

এই কথা শুনে জাহান্নামিরা আফসোস করে বলবে হায় আজ আমাদের জন্য কোন শাফায়াৎকারি নেই এবং আমাদের কোন সত্যিকারের বন্ধু নেই, যার উল্লেখ আছে এই আয়াতগুলোতেঃ
"অতএব আমাদের কোন সুপারিশকারী নেই।এবং কোন সহৃদয় বন্ধু ও নেই।" (২৬: ১০০-১০১)

শেষকথা: গতবছর সেন্টমার্টিনে গিয়েছিলাম। বিশ পঁচিশ জনের গ্যাং, এর মধ্যে আমরা কয়জন দ্বীনি ভাই ছিলাম। যে কয়দিন ছিলাম আমরা সে কয়জন একসাথে থাকতাম, একসাথেঘুরতাম, স্বলাত পড়তাম। ফজরের স্বলাত পড়ে আমরা বিচে একটা ভ্রাম্যমান দোকানে বসেআড্ডা দিতাম, দ্বীনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করতাম। কথা প্রসঙ্গেই ঐ দোকানের ছেলেটার সাথে কথা হচ্ছিল। সে একজন হাফিজ। টেকনাফের একটা মাদ্রাসায় পড়ছে আর পর্যটনমৌসুমে এখানে টুকটাক জিনিসপত্র বিক্রি করে। এরপরেও আরো বেশ কয়েকবার তার সাথে দেখাহয়েছিল।

আমি এমনিতেই আবেগী মানুষ, সমুদ্র জিনিসটা আরো আবেগি করে দেয়। যেদিন চলে আসছিলাম খুব মায়া লাগছিল এত সুন্দর জায়গাটার জন্য। সবাই যখন জিনিসপত্র গোছগাছ করতে ব্যস্ত তখন আমি কাঁধে ব্যাগটা নিয়ে শেষবারের মত সমুদ্র দেখতে গিয়েছিলাম। বিচে গিয়ে একা একা দাঁড়িয়ে আছি দেখি ঐ ছেলেটা দৌড়ে আমার দিকে আসছে। আমি মনে করার চেষ্টা করলাম তার দোকানে আমার কোন বাকি আছে কিনা, না তা তো নেই! সে আমার কাছে এসে এক বুক আন্তরিকতা নিয়ে হাত বাড়িয়ে দিল আর বলল , “ভাই চলে যাচ্ছেন? ভালো মন্দ মাফ করে দিয়েন ভাই”। শেষ সময়ে মাত্র মিনিট খানিকের একটা কথোপকথন কিন্তু এতদিন হয়ে গেল সেই মুহুর্তটা আমার এখনো মনে আছে । এরপরেও কোনোদিন সেখানে গেলে আমার বিশ্বাস আমি তাকে ঠিক চিনতে পারবো। মাত্র অল্প কিছু সময়ের পরিচয়ের এই ছেলেটাকে তখন টুপ করে আমার লিস্টে এড করে নিলাম...

হ্যাঁ আমার লিস্ট। প্রতিনিয়তই আমি লিস্টে নাম ঠুকতে থাকি। যাদেরকে আল্লাহর জন্য ভালোবাসি সেই লিস্ট আর যাদেরকে আল্লাহর জন্য অপছন্দ করি সেই লিস্ট। আমার এখনো মনে আছে স্কুল জীবনে আমার বেস্টফ্রেন্ড, দ্বীনে আসার পর সেই আমাকে নিয়ে প্রথম ব্যঙ্গ করেছিল। কলেজের ফ্রেন্ডরারাস্তায় আমাকে দেখলে কেউ চিনতে পারে না। অনেকেই দেখে অনেক্ষণ হায় হায় একি তোর অবস্থা বলে করুণার চোখে তাকায়, হুজুর বেশভূষা নিয়ে কথা শোনায়। আমি চুপিচুপি লিস্টেনাম ঠুকতে থাকি। যেদিন আমি আমার রবের সামনে দাঁড়াবো, যেদিন আমার রব হাশরের মাঠেরকঠিন সময়ে তার বান্দারের ডেকে বলবেন, কে আছো আমার জন্য একে অপরকে ভালোবেসেছিলে, আমার জন্যই একে অন্যের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করেছিলে, আসো আজ আমি তোমাদেরকে আমার আরশের ছায়া দিব। সেদিন আমি মহান রবের কাছে আমার এই লিস্ট দুইটা জমা দিব আর আরশেরছায়া চেয়ে নিব ইনশাআল্লাহ।
একজন আলিম আল্লাহর রহমতের কথা বলতে গিয়ে প্রথমেই বলেছিলেন ঈমানের কথা, এরপরই তিনি বলেছিলেন ইসলামী ভ্রাতৃত্বের কথা। তাই কাউকে আল্লাহর জন্য ভালোবাসতে পারা, আল্লাহর জন্য এক হতে পারাটা আল্লাহর অসংখ্য নিয়ামতের একটি। জীবন কারো জন্য থেমে থাকে না। বন্ধু আড্ডা গান, মোজ মাস্তিতে কাটানো ছেলেটার সময় যেমন কাটে, হুজুরদের সময়য়ও তেমনই কেটে যায়, থেমে থাকেনা কিছুই। মাঝখান দিয়ে আমরা সবাই আরো একটু মৃত্যুর কাছাকাছি হই। আসল সফলতা তো সেদিন, আসল বন্ধুত্ব তো সেদিন, আসল ভ্রাতৃত্ব তো সেদিন, যেদিন আল্লাহ বলছেন,

“তারা কেবল কেয়ামতেরই অপেক্ষা করছে যে,আকস্মিকভাবে তাদের কাছে এসে যাবে এবংতারা খবর ও রাখবে না। বন্ধুবর্গ সেদিন একে অপরের শত্রু হবে, তবে খোদাভীরুরা নয়”। [সূরা আয যুখরুফ: ৬৬-৬৭]

যেদিনঅনিন্দ্য সুন্দর জান্নাতের বাজারে আল্লাহর মনোনীত বান্দারা এক হবে, যেদিন শীতলপানির ঝর্না পাড়ে কিংবা নয়ানাবিরাম বাগানে আল্লাহর মুত্তাকিরা এক হবে আমি তোদেরসাথে সেদিনের সঙ্গী হতে চাই।

তাই হিসেবটাএই দুনিয়াতেই চুকিয়ে নিই চল। চল হিসেব কষা শুরু হয়ে যাক আল্লাহর সামনে সেদিন কিআমরা একে অন্যের শত্রু হতে যাচ্ছি নাকি বন্ধু। তোদের কথা আমি কখনোই ভুলি না। আমার আন্তরিক দু’আতে আমি সবসময় তোদের স্মরণ করি। একদিন হয়ত তোরাও বদলে যাবি। কোন একদিন রাস্তায় হঠাৎ তোদের কেউ একজন আমাকে বুকে ঝাপটে ধরবি আর আমি অবাক হয়ে দেখব তোর গায়েও আমার মতই পাঞ্জাবি, টুপি, লম্বা দাঁড়ি আর আতরের সুবাস। আমি কখনোই আশা হারাইনা। আমি অনেক ভালো আছি, তোরাও ভালো থাকিস...


লিখেছেন: অবুঝ বালক

কোন মন্তব্য নেই