পরকালীন প্রস্তুতি

কুর'আন-সুন্নাহর আলোকে পরকালীন মুক্তির আশায় একটি পরকালমুখী উদ্যোগ

তোমরা কোথায় যাচ্ছ?

তোমার জন্ম এক সুনিশ্চিত আঁতুড়ঘরে। তোমার আত্মীয়-অনাত্মীয় সবি চেনা-জানা। তোমাকে বিদ্যালয়ে পাঠানো হয়েছিল - তারা তোমাকে তোমার সুনিশ্চিত আত্ম-পরিচয় দিতে পারেনি, তুমি মক্তবে গিয়েছিলে - তোমাকে কোন-রকমে কিছু মাসায়েল আর কুরআন খতম দিয়ে ছেড়ে দিয়েছে।

তুমি উচ্চ-বিদ্যালয়ে গিয়ে তোমার সংশয়-সন্দেহ বেড়েছে, তোমাকে সমাজ-বিজ্ঞান পড়ায় এক, জীববিজ্ঞান পড়ায় আরেক, ধর্ম পড়ায় আরেক। তোমার বাসার টিভি ছিল তোমার আরেক মুদাররিস। উচ্চ বিদ্যালয়ের শেষের দিনগুলোতে তুমি হঠাৎ বালেগ হলে। শুরু হল তোমার আরেক ফিতনাময় জীবন। দ্বীনের বিধান সম্পর্কে অজ্ঞ তুমি হারিয়ে গেলে অশ্লীলতার অন্ধকারে।

ইন্টার (কলেজ লাইফ) তোমার জীবনের আনচান আর বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণে হারিয়ে গেল।

ভার্সিটিতে গিয়ে তোমার হামবড়া ভাবটা বেড়ে গেল। তুমি ভাবছ তুমি সেন্টার অব অ্যাটরাকশান। কিছু মুভি, আড্ডা, সিগারেট ফুঁকা আর মেয়েদের সাথে ডেট; তোমার কেতাবে তোমাকে কিংবদন্তী বানিয়ে ফেলেছে।

ছেড়া জিন্স, হাল-ফ্যাশানের টি-শার্ট আর এভিয়েটর চশমা তোমাকে বানিয়ে দিল - হালের ক্রেজ। তুমি কখনো রকস্টার, কখনো দিগ্বিজয়ী, কখনো ফটোগ্রাফার!

কিছু চটি বই আর কিছু মুভি-ডকুমেন্টারি দেখে নিজেকে দেখাচ্ছ - প্রিটেন্ডিং এথিইস্ট!

ইদানীং তুমি জোকারের হোয়াই সো সিরিয়াস টি-শার্ট পড়ে ঘুর। হতাশার আঁকিবুঁকি তোমার চেহেরায় এখন লুকানো দায়, তুমি সুইসাইড নিয়েও ভাবছ?

আবার রিভিউ কর, তোমার পুরো জীবনকে, তোমার দাপিয়ে বেড়ানো উত্তঙ্গু দিন-গুলোর কথা।

তুমি কোথায় পৌঁছুতে চেয়েছিলে? কাকে ইম্প্রেস করতে তৎপর ছিলে? তোমার প্রিটেনশান এতো বেশী কেন ছিল? তুমি কি লুকোতে? তুমি কি ভুলে ছিলে?

আমি সহজ কথায় বলছি তুমি কি ভুলেছিলে?

"এবং যে আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার জীবিকা সংকীর্ণ হবে এবং আমি তাকে কেয়ামতের দিন অন্ধ অবস্থায় উত্থিত করব।" [সুরা ত্ব-হা: ১২৪]

আমি তো অনে---ক গুনাহগার, আমার কি হবে?

"বলুন, হে আমার বান্দাগণ যারা নিজেদের উপর যুলুম করেছ তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত গোনাহ মাফ করেন। তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।" [সুরা যুমারঃ ৫৩]

আমি কি শান্তি পাবো?

- "জেনে রাখ, আল্লাহর যিকির দ্বারাই অন্তর সমূহ শান্তি পায়।" [সুরা রাদ: ২৮]
"অতএব, তোমরা কোথায় যাচ্ছ? এটা তো কেবল বিশ্বাবাসীদের জন্যে উপদেশ, তার জন্যে, যে তোমাদের মধ্যে সোজা চলতে চায়।" [ সুরা তাকউইর: ২৬-২৮]


Writer
SAYYID MAHMUD GAZNABI

কোন মন্তব্য নেই