পরকালীন প্রস্তুতি

কুর'আন-সুন্নাহর আলোকে পরকালীন মুক্তির আশায় একটি পরকালমুখী উদ্যোগ

অনলাইনে দ্বীন প্রচার নিয়ে কিছু কথা

এমন অনেকে আছে যারা অনলাইনে অনেক ভালো কিছু লেখেন, fecebook বা প্রাইভেট ফোরাম সাইটেও লিখেন। তাতে অনেকে আছে ভালো না লাগায় খারাপ কমেন্ট করে।এতে কিছু লেখক নিরুতসাহিত হন ও মন খারাপ করেন, তখন কি করবেন জেনে নিন—

১. কেউ প্রতিবাদ করলে বুঝবেন কথা সত্য ছিলো, গায়ে লেগেছে তাই বকেছে। অনেক সময় কথা ভুল থাকায় মানুষ শুধরে দিতে চায়, কিন্তু কেউ কেউ ঠিকপথ জানেনা তাই যেভাবে পারে সেভাবেই চেষ্টা করে, এটাও খেয়াল রাখুন। এজন্যই সমালোচকরা আপনার এক প্রকার বন্ধু, যেমন কেচো মাঠের প্রাকৃতিক লাঙ্গল, আবার ব্যাঙ্গরা পোকা খায় মশা খায় ও এতে আমাদের উপকার করে, অনেকটা সেরকম।

২. যাদের পোস্ট অন্যের ভেতর প্রভাব ফেলেনা তার মানে পোস্ট টা আলু মার্কা পোস্ট, কেউ ভাল করে পড়েনি। তাই কিছু বলেনি। আর আপনি যদি চান আপনার পোস্ট ২-৩ জন পড়ুক তাহলে ভিউ ২-৩ জনই হবে, তবে এর জন্য ফেসবুকে লিখতে হবে প্রাইভেসি চেঞ্জ করে, অথবা নিজের প্রাইভেট ব্লগে।

৩. বাজারে কেউ তরকারী বিক্রি করতে গেলে তার কাছে ২ জন আসুক এটা কেউ চায়না, তবে যারা আসে তাঁরা সবাই বলেনা পটল ভালো ছিলো। আসলেই পটল ভালো ছিলো কিন্তু সবার রুচি ও তো এক নয়। কেউ ঘি খায়, কেউ মাখন খায় আর কেউ খায় মদ। মাখন যতই ভালো হোক, মদ পান কারীর জন্য তাতে কি ভালো কিছু আছে? সে কি ভালো বলবে? 

৪. আপনার পোস্টে ইসলামিক পোস্ট আছে? । যাদের প্রফাইলে আছে। সেখানে একটু গিয়ে দেখুন স্বর্গের বানী নামক মধু ঢালা বানী কে কয়েকজন মানুষ কি বলেছে। গেলেই প্রমান পাবেন । ইসলামিক পোস্ট দেখতে থাকুন আর বুঝতে থাকুন। সবাই জানে আল্লাহর কথা ই সর্বোত্তম ও সুন্দর কথা। তা শুনেও কেউ গালি দিলে আপনি কি বলবেন?

৫. ইসলামিক পোস্ট যদি লেখেন আর দেখেন ভিউ, লাইক কমেন্ট হচ্ছেনা, ভাবছেন কষ্ট ই বৃথা ? নাহ। বৃথা নয়, যদি আপনার উদ্দেশ্য থাকে আল্লাহ সন্তুষি অর্জন ও সাওয়াব লাভ, পরকালে জান্নাতলাভ। এগুলো কনফার্ম।
=>কিন্তু যদি একমাত্র উদ্দেশ্য থাকে বেশি মানুষ ইসলামে ভেড়ানো। তাহলে ৩ কারণে ভুল করলেন।
* ক). মুল উদ্দেশ্য ভুলে গেলেন।
* খ). নবী নুহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম ৯০০ বছর দ্বীনের কথা বলার পর কথা শুনেছিলো ৮০ জন। কিন্তু এতে তাকে কেউ বৃথা বলতে পারবেন না। কারন সব নবী আলিহিমুসসালাম দের দ্বীন প্রচার করতে পাঠানো হয়েছিলো। মানুষ গুনতে নয়।

এইকথা আল্লাহ ই অনেক বার বলেছেন। যেমন “তুমি রবের পক্ষ থেকে সত্য প্রচার কর, কেউ ইচ্ছা করলে তা শুনবে, যে ইচ্ছা করবে শুনবেনা, আল্লাহ জালিমদের জন্য শাস্তি প্রস্তুত রেখেছেন” (আল কুরআন, সূরা কাহাফ)

* গ) লাইক ,কমেন্ট ভিউ এর আশায় দাওয়াত দিলে বা মানুষ বেশি বানাতে দাওয়াত চাইলে (এটাই যদি নিয়ত হয়) তবে ইহা হাসিল করার শত শত পন্থা আছে। মুহুর্তে ১০০০০ লাইক, কমেন্ট পাবার উপায় আছে, ইন্টারনেটে দেখে নিন । । মানুষ বেশি ভেড়াতে ইহুদি রা অস্ত্র ব্যবহার করছে তা করতে হবে। সব ই হবে।

আসল কথা হলো: আমরা ফজিলত কে উদ্দেশ্য বানিয়েছি , আর উদ্দেশ্য ভুলে গেছি ।

অনেকেআবার একটা ভুলটাকরেন – ইচ্ছা হয় সবাইকে দেখাতেই হবে, সবাই ভালো করতেই হবে, সবাই মানুক, মানাতেই হবে – এই মানসীকরতা আল্লাহর দেয়া দাওয়াতি কাজের নিয়মের বিপরীত। কুরআন খুলে দেখুন। অনেকবার বহু জায়গাতে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন – তোমার দায়িত্ব শুধু প্রচার করা, যে শুন্তে পায় শে মানবে,বধির ও কানোয়ালা কি সমান? আপনাকে দারোগা করে পাঠানো হইনি, আপনি শুধু সুসংবাদ দাতা ও ভয় প্রদর্শন কারী – ইত্যাদি নানা ভাবে এই হেক্মাত শেখানো হয়েছে। তাই, আল্লাহর কথা মতো দাওয়াত দিতে চাইলাম, আর দাওয়াতের নিয়ম করলাম আমার মন মতো, এরকম করলে হবেনা। দাওয়াতের নিয়ম টাও তো আল্লাহ বলেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে সব করে দেখিয়েছেন, তাও দেখতে হবে।

সবসময় মনে রাখতে হবে, ইসলাম শুধু কোনটা করতে হবে এটাই বলেনি, কিভাবে করতে হবে, কোন সময়ে করতে হবে, কতটুকু করতে হবে তাও বলেছেন, আর ইসলাম আমাদের কোনটা করা যাবেনা শুধু তাই বলেন নি, কখন, কিভাবে তা এড়িয়ে যেতে হবে তাও বলেছেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহুয়া আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই সব প্রাক্টিকাল দেখিয়েছেন। তাই তার অনুস্মরণ করা অবশ্য কর্তব্য 

কোন মন্তব্য নেই