পরকালীন প্রস্তুতি

কুর'আন-সুন্নাহর আলোকে পরকালীন মুক্তির আশায় একটি পরকালমুখী উদ্যোগ

কেমন ছিলেন তিনি? – ৩


কয়েকদিন আগে পত্রিকায় দেখলাম ছাগলে ক্ষেত খাওয়াকে কেন্দ্র করে বড় ভাইকে খুন করেছে ছোট ভাই। পড়ে খুব অবাক হলাম। কারণটা কতো তুচ্ছ! এতো তুচ্ছ কারণে কেউ কাউকে খুন করতে পারে? তাও আবার নিজের ভাইকে?
এই ‘ওল্ড হোম’ এর যুগে সম্পর্কগুলো খুব ঠুনকো হয়ে গিয়েছে। তাই সামান্য কারণেই তা তাসের ঘরের মতো ভেঙ্গে পড়ে। এ দেশে বাবা মারা গেলে চাচা-ফুফু’রা এতিম শিশুদেরকে তাদের সম্পদ থেকে বঞ্চিত করে, জমি আত্নসাৎ করে। গ্রামে কিংবা শহরে সব জায়গাতেই ছড়িয়ে আছে এমন অজস্র উদাহারণ।
আবার আরেক শ্রেণীর মানুষ রয়েছে একদম উল্টো। আত্নীয়স্বজনদের বেলা তারা একদম অন্ধ হয়ে যায়। সকল অনৈতিক কাজে আত্নীয়দের সমর্থন করে। ন্যায়-অন্যায়ের চেয়ে রক্তের সম্পর্ক বেশি গুরুত্ব পায়।

জাহেলি যুগে আরবদের ছিল ভয়াবহ গোত্র-প্রীতি। সকল অন্যায় কাজে তারা নিজ গোত্র ও আত্নীয়দের সমর্থন করে যেতো। মাঝে মাঝে তুচ্ছ কারণে গোত্রে-গোত্রে যুদ্ধও লেগে যেতো। নিজ গোত্র অন্যায় করেছে জানার পরেও তারা গোত্রের পক্ষে যুদ্ধ করতো। রাসূল (সা) যেমন তাঁর আত্নীয়দের সাথে সদ্ভাব বজায় রাখতেন, ঠিক একইভাবে তিনি অন্ধ গোত্র-প্রীতিকেও নিষিদ্ধ করেছেন। তিনি সবাইকে আত্নীয়দের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে বলতেন। যারা সামান্য কারণে আত্নীয়দের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে তাদের সাবধান করে বলতেন, “আত্নীয়দের সাথে সম্পর্ক ছিন্নকারী ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না।” তবে অনেক সময় নিকটাত্নীয়দের জুলুম আমাদের জীবনকে বিপন্ন করে দেয়। সেক্ষেত্রেও, তিনি সর্বোচ্চ ধৈর্য অবলম্বন করতে বলতেন।
.
তাঁর চাচা ছিলেন এগারোজন, ফুফু ছয়জন। এদের মধ্যে মাত্র দুইজন চাচা আর একজন ফুফু ইসলামের পথে এসেছিলেন। চাচা আর ফুফুদের ভাগ্যে ইসলাম না জুটলেও তাদের ছেলেমেয়েরা ঠিকই ইসলামের সুশীতল ছায়ায় এসেছেন। তাঁর পঁচিশ জন চাচাতো ভাইয়ের মধ্যে দুইজন বাদে সবাই ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। এগারো জন ফুফাতো ভাই আর তিনজন ফুফাতো বোনের মধ্যে প্রায় সবাই ই ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। বাদ ছিল কেবল উবাইদুল্লাহ ইবনে জাহশ, যে শুরুতে ইসলাম গ্রহণ করলেও পরবর্তিতে মুরতাদ হয়ে যায়।
.
দুধ ভাই ছিলেন তিনজন, দুধ বোন দুইজন। তাঁর নিজের কোন ভাই-বোন ছিল না। দুধ ভাই-বোনদেরকে তিনি নিজের ভাই-বোনের মতই সম্মান করতেন। ভালোবাসতেন। হুনাইনের যুদ্ধে তাঁর বোন শায়মা বন্দী হয়েছিলেন। রাসূল (সা) যখন তার পরিচয় জানতে পেরেছিলেন, তখন তার সম্মানে নিজের চাদর বিছিয়ে দিয়েছিলেন। তারপর সে জায়গায় বোনকে বসিয়েছিলেন। শায়মাকে আশ্বস্ত করে তিনি বললেন, “তুমি যদি আমার কাছে থাকতে চাও, তবে তোমার জন্য রয়েছে আমার হৃদয় নিঙড়ানো ভালোবাসা আর সম্মান। আর যদি তা না চাও, তবে তোমাকে উপহারসহ তোমার সম্প্রদায়ের লোকদের কাছে আমি পাঠিয়ে দিব।”
.
খুব ছোট থাকতেই মাকে হারিয়েছেন। বাবা তো জন্মের আগেই মারা গিয়েছেন। কুফরের উপর মারা যাওয়ার কারণে তারা দুইজনেই জাহান্নামে থাকবেন। সারা বিশ্বের মানুষকে তিনি জাহান্নাম থেকে জান্নাতে যাওয়ার পথ দেখিয়েছেন, অথচ নিজের বাবা-মাকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাতে পারেননি- এ কষ্ট তাঁকে প্রচণ্ড ব্যথিত করত। আল্লাহর কাছে নিজের মায়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করার অনুমতি চেয়েছিলেন। কিন্তু একজন কাফিরের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করার অনুমতি আল্লাহ তায়ালা দেননি। আল্লাহ তায়ালার কাছে মায়ের কবরের কাছে যাওয়ার অনুমতি চাইলে আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রার্থনা কবুল করেন। মায়ের কবরের সামনে যেয়ে অঝোর ধারায় কাঁদতেন। তাঁর কান্না দেখে অনেকেই কেঁদে ফেলতো। সাহাবি বুরাইদা (রা) বলেন, “(তিনি যখন মায়ের কবরের সামনে কাঁদছিলেন, সে কান্না দেখে) মানুষজন কাঁদতে শুরু করেছিলো। আমি একসাথে এতো মানুষকে কখনোই কাঁদতে দেখিনি।”
.
আত্নীয় স্বজনদেরকে আকুল হয়ে ইসলামের দিকে ডাকতেন। জাহান্নামের আগুন থেকে নিজেদের রক্ষা করতে বলতেন। আল্লাহর আযাবের ভয়াবহতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছেন, “হে কুরাইশ! নিজেদেরকে বাঁচাও। আমি তোমাদেরকে আল্লাহর (আযাব) থেকে রক্ষা করতে কিছুই করতে পারব না। ওহে আবদে মানাফের সন্তানেরা! আমি তোমাদেরকে আল্লাহর (আযাব) থেকে রক্ষা করতে কিছুই করতে পারব না। ওহে আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব! আমি আপনাকে আল্লাহর (আযাব) থেকে রক্ষা করতে কিছুই করতে পারব না। হে আল্লাহর রাসূলের ফুফু সাফিয়া! আমি আপনাকে আল্লাহর (আযাব) থেকে রক্ষা করতে কিছুই করতে পারব না। ওহে মুহাম্মদের মেয়ে ফাতিমা! তোমার যা খুশি চেয়ে নাও। কিন্তু আমি তোমাকে আল্লাহর (আযাব) থেকে রক্ষা করতে কিছুই করতে পারব না।”
.
কুরাইশদের শত অত্যাচারে চাচা আবু তালিব তাঁকে রক্ষা করে গেছেন। তাই রাসূল (সা) শেষ পর্যন্ত প্রানান্ত চেষ্টা করে গেছেন, চাচাকে ইসলামের পথে আনতে। কিন্তু পারেননি। চাচার মৃত্যুশয্যায় তাকে কাতর হয়ে অনুরোধ করেছেন, “(শুধু একবার) বলুন, আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই। আমি আপনার ব্যাপারে আল্লাহর কাছে সুপারিশ করব।” তাঁর সেই চেষ্টা দেখে আল্লাহ তায়ালা নাযিল করেন-
“তুমি যাকে পছন্দ করো, তাকে সৎ পথে আনতে পারবে না। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাকে সৎ পথ দেখান।” (সূরা ক্বাসাস ২৮:৫৬]
কাফির অবস্থাতেই আবু তালিব মারা যান।
.
কাছের লোকগুলো যাতে ছোট-বড় সকল প্রকার গুনাহ থেকে দূরে থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতেন। একদিন চাচাতো ভাই ফাযল (রা) এর সাথে উটে করে কোথাও যাচ্ছিলেন। সে সময়ে খাস’আম গোত্রের এক মহিলা রাসূল (সা) এর কাছে একটি বিষয় জানতে এলেন। মহিলা দেখতে ছিলেন খুবই সুন্দরী। রাসূল (সা) লক্ষ্য করলেন, চাচাতো ভাই মহিলার দিকে তাকিয়ে আছেন। তিনি সাথে সাথে হাত দিয়ে ফাযল (রা) এর চেহারা ঘুরিয়ে দিলেন।
.
আত্নীয়দের প্রতি সদাচারণ করতেন। তাদের প্রয়োজনের দিকে খেয়াল রাখতেন। ফাযল ইবনে আব্বাস (রা) ও আব্দুল মুত্তালিব ইবনে রাবি’আহ (রা) টাকা-পয়সার কারণে বিয়ে করতে করতে পারছিলেন না। তারা রাসূল (সা) এর কাছে এসে নিজেদের কষ্টের কথা জানালেন। মানুষের দেয়া যাকাত থেকে কিছু অর্থ তাদের নিজেদের জন্য চাইলেন। রাসূল (সা) বললেন, “মুহম্মদ কিংবা মুহাম্মদের পরিবারের জন্য যাকাত বৈধ নয়।” তিনি তাদেরকে অর্থ দিলেন না কিন্তু ঠিকই লোক ডেকে তাদের বিয়ের ব্যবস্থা করলেন।
.
বদর যুদ্ধে তাঁর চাচা আব্বাস (রা) বন্দী হয়েছিলেন। উমার (রা) ছিলেন বন্দীদের দায়িত্বে। তিনি কষে আব্বাস (রা)-কে বাঁধলেন। জোরে বাঁধার কারণে আব্বাস (রা) ব্যাথায় গোঙাতে থাকেন। রাসূল (সা) যখন জানতে পারলেন চাচা ব্যাথায় কষ্ট পাচ্ছেন উনি কষ্টে সারারাত ঘুমোতে পারলেন না। আব্বাস (রা)-কে তিনি তাঁর পিতার মতোই ভালোবাসতেন। কয়েকজন আনসার সাহাবী এটা জানতে পেরে আব্বাস (রা) এর বাঁধন খুলে দিলেন। রাসূল (সা) আনসার সাহাবীদের কাজে খুশি হয়েছিলেন। সাহাবীরা রাসূল (সা)- কে আরো খুশি করার জন্য মুক্তিপন ছাড়াই আব্বাস (রা)- কে ছেড়ে দিতে চাইলেন। কিন্তু না! রাসূল (সা) আত্নীয় বলে তাকে এক্ষেত্রে আলাদা কোন প্রটোকল দেননি। অন্য সব বন্দীর মতোই মুক্তিপণ দিয়েই তাকে ছাড়া পেতে হয়েছিলো।
অনেকে হয়তো ভাবতে পারেন, “কী অর্থলোভী মানুষ রে বাবা! চাচাকে এতো ভালোবাসতো। তাও টাকা মাফ করে দিল না।” যারা এমনটা ভাবছেন তাদেরকে আরেকটু সামনে নিয়ে যাচ্ছি-
.
আব্বাস (রা) তখন মুসলিম হয়ে গেছেন। মদিনায় রাসূল (সা) এর সাথে থাকছেন। বাহরাইন থেকে বিপুল পরিমাণে অর্থ এলো। রাসূল (সা) সব অর্থ মসজিদের সামনে রাখতে বললেন। যথাসময়ে নামায পড়তে এলেন। একটিবারের জন্য এই বিপুল অর্থের দিকে ফিরেও চাইলেন না। নামায শেষে সবার মাঝে এগুলো বিলিয়ে দেয়া শুরু করলেন। আব্বাস (রা) মোটামুটি ধনী ছিলেন। কিন্তু বদর যুদ্ধে মুক্তিপন দেয়ার ফলে তখন তার আর্থিক অবস্থা নাজুক হয়ে পড়ে। তাই তখন তিনি রাসূল (সা) এর কাছে এসে বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল! আমি (বদর যুদ্ধে) আমার আর আকিলের মুক্তিপন দিয়েছি। আমাকেও এখন থেকে কিছু অর্থ দিন না!” আব্বাস (রা) এর কাঁধ যতোটুকু অর্থের ভার সহ্য করতে পেরেছিলো, রাসূল (সা) তাকে ঠিক ততোটুকু অর্থ দিলেন। এভাবে সবাইকে অর্থ বিতরণ করতে করতে একসময় কিছুই রইলো না।
.
স্বজনদের মধ্যে কেউ অসুস্থ হলে তিনি তাদের রুকিয়্যা করে দিতেন। কোনটা তাদের জন্য ভালো আর কোনটা খারাপ সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতেন। একদিন আলী (রা) এর সাথে এক আনসার সাহাবীর বাসায় গেলেন। আলী (রা) তখন কেবলই অসুস্থতা থেকে আরোগ্য লাভ করেছেন। তাঁদেরকে কাঁচা খেজুর খেতে দেয়া হলো। রাসূল (সা) খাওয়া শুরু করলেন। আলী (রা)-ও কিছু খেজুর খেতে চাইলেন। কিন্তু তিনি তো কেবল অসুস্থ থেকে সুস্থ হয়েছেন। তার দূর্বল পাকস্থলীতে তো এই কাঁচা খেজুর সইবে না। তাই রাসূল (সা) তাকে স্মরণ করিয়ে দিলেন, “তুমি না কেবল (অসুস্থ থেকে) সুস্থ হলে?”
এরপর তাদের সামনে সবজি আনা হলো। রাসূল (সা) তখন বললেন, “আলী! এটা খাও। এটা তোমার জন্য উত্তম হবে।”
.
চাচাতো ভাই জাফর (রা) আবিসিনিয়াতে হিজরত করেছিলেন। বহুদিন পর তিনি ফিরে এসে রাসূল (সা) এর সাথে দেখা করলেন। যেদিন এলেন সেদিনই রাসূল (সা) এর কাছে খায়বার যুদ্ধে জয়লাভের সংবাদ পৌঁছেছে। বহুদিন পর ভাইকে দেখে রাসূল (সা) প্রচণ্ড খুশি হলেন। তাকে চুমু দিলেন। হাসতে হাসতে বললেন, “আমি জানি না কীসে আমি খুশি হবো। খায়বার যুদ্ধে জয়লাভের সংবাদে নাকি জাফরের ফিরে আসাতে।” তিনি জাফর (রা)-কে মুতা যুদ্ধে যায়দ ইবনে হারিছ (রা) এরপর সেনাপতি বানিয়ে দেন। যুদ্ধে জাফর (রা) শহীদ হয়ে যান।
.
মৃত্যুর পর তিনি চাচাতো ভাইয়ের ছেলেমেয়েদের দেখাশুনা করেছেন। তিনবার তাদের জন্য দু’আ করেছেন এই বলে, “হে আল্লাহ! তুমি জাফরের পরিবারকে হেফাজত করো।” জাফর (রা) এর স্ত্রী রাসূল (সা) এর কাছে এসে নিজের কষ্টের কথা জানালেন। তার ছোট ছোট সন্তানেরা এতিম হয়ে গেছে, তিনি কিভাবে তাদের বড় করবেন তা নিয়ে দুঃশ্চিন্তার কথা বললেন। রাসূল (সা) তাকে আশ্বস্ত করে বললেন, “আপনি কি তাদের জন্য দারিদ্র্যের ভয় করেন যখন এই দুনিয়া আর আখিরাতে আমি তাদের সহায়তা করে যাবো, রক্ষা করে যাবো?” এরপর থেকে জাফর (রা) এর এতিম সন্তানগুলোকে দেখলে তিনি তাদেরকে সামনে নিয়ে এসে বসাতেন। মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেন।
.
অন্য আত্নীয়দের জন্যও তিনি প্রায়ই দু’আ করতেন। ইবনে আব্বাস (রা)-কে বুকে জড়িয়ে ধরে তিনি দু’আ করেছেন। বলেছেন, “হে আল্লাহ! তাকে তুমি প্রজ্ঞা দান করো।” রাসূল (সা) এর এই দু’আ মহান আল্লাহ তায়ালা কবুল করেছিলেন। সবচেয়ে প্রজ্ঞাময় কিতাব কুর’আনের জ্ঞান তার অন্তরে ঢেলে দিয়েছিলেন। আজ যে আমরা কুর’আনের অনেক আয়াতের ব্যাখ্যা জানতে পারি তা ইবনে আব্বাস (রা) এর কারণেই। আবু তালিবের মৃত্যুর পর তিনি আলী (রা) এর জন্য এতো সুন্দর দু’আ করেছিলেন যে আলী (রা) বলতেন, “সারা দুনিয়ার সকল উট আমাকে দিলেও (উনার) এই দু’আ আমি কাউকে দিবো না।”
.
চাচা হামজা (রা)-কেও তিনি প্রচণ্ড ভালোবাসতেন। উহুদ যুদ্ধে হামজা (রা)-কে হত্যা করার পর তার দেহ বিকৃত করে ফেলা হয়। হামজা (রা) এর বিকৃত দেহ দেখে রাসূল (সা) প্রচণ্ড কষ্ট পেয়ে বলেছিলেন, “আল্লাহ আপনার উপর রহম করুন। আপনি আত্নীয়দের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখতেন। অনেক ভালো ভালো কাজ করতেন। যাদের আপনি দুনিয়াতে রেখে গেছেন তাদের কষ্ট যদি আরো বেড়ে না যেতো, তবে আমি আপনার দেহ এভাবেই রেখে দিতাম। যাতে (কিয়ামতের দিন) আপনি বিভিন্ন জায়গা থেকে পুনরুত্থিত হতে পারেন। আল্লাহর শপথ! আপনার বদলে আমি তাদের ৭০ জনকে এভাবে বিকৃত করে দেবো।”
.
রাসূল (সা) এ কথা বলার পর জিবরাঈল (আ) ওহী নিয়ে আসলেন। পরম করুণাময় আল্লাহ তায়ালা নাযিল করলেন-
“যদি তোমরা প্রতিশোধ গ্রহণ কর তাহলে ঠিক ততখানি করবে যতখানি অন্যায় তোমাদের প্রতি করা হয়েছে; তবে তোমরা ধৈর্য ধারণ করলে ধৈর্যশীলদের জন্য ওটাই উত্তম।” [সূরা আন নাহল ১৬:১২৬]
এ আয়াত নাযিল হবার পর রাসূল (সা) নিজের শপথ ফিরিয়ে নিলেন। শপথের কাফফারা আদায় করলেন।
.
আত্নীয়দের ভালোবাসতেন ঠিকই, কিন্তু তাদের মধ্যে খারাপ কিছু দেখে থাকলে তিনি তা সমর্থন করেননি। সুবিচার করার সময় তিনি আত্নীয় আর অনাত্নীয় ভেদাভেদ করেননি। বলতেন, “মুহাম্মদের মেয়ে ফাতিমা যদি চুরি করতো, তবে আমি তার হাতও কেটে দিতাম।" আরাফার দিনে তিনি দাঁড়িয়ে সবার উদ্দেশ্যে বলেছিলেন,
“জাহেলিয়াতের সব কিছুই (আজ থেকে) আমার পায়ের নীচে। বাতিল......। জাহেলিয়াতের সুদ বাতিল। আর সবার প্রথম সুদ আমি বাতিল করছি আমাদের পক্ষ থেকে। আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিবের সুদ (আজ থেকে) বাতিল।”
.
[শায়খ সালিহ আল মুনাজ্জিদ এর “كَيـف عَــاملهُم صلى الله عليه وسلم” (Interactions Of The Greatest Leader) গ্রন্থ অবলম্বনে লেখা] 
---------
কেমন ছিলেন তিনি?
পর্ব ৩: আত্মীয়দের সাথে আচরণ
.
লেখকঃ শিহাব আহমেদ তুহিন

অফিসিয়াল ওয়েব সাইট ঃ Click Here  এবং Click Here

ফেসবুক পেজঃ Click Here

কোন মন্তব্য নেই