পরকালীন প্রস্তুতি

কুর'আন-সুন্নাহর আলোকে পরকালীন মুক্তির আশায় একটি পরকালমুখী উদ্যোগ

দ্বীনি ভাই সমাচার


বন্ধুদের সাথে রেস্টুরেন্টে খেতে গেলে, খাওয়ার পাশাপাশি সবার একটা ধান্ধা থাকে কার ঘাড়ে বিলটা চাপিয়ে দেয়া যায়! ভার্সিটিতে সিনিয়র-জুনিয়র সবাই একসাথে আড্ডায় বসছে, বিষয়বস্তু হল ইরোটিক জোকস আর নারী; পোশাকআশাক, পজেশান্স ছাপিয়ে বড়জোর স্পোর্টস আপডেট! সেকুলার সমাজে কেউ খুব বড় ধরনের এসটাব্লিশমেন্ট পেয়ে গেলে তার কিছু একটা বনে যাওয়া ভাব আর উত্তঙ্গু ইগোর কারণে কাছে ঠেকা দায়!

আলহামদুলিল্লাহ্‌! সমাজে এখনো বিভিন্ন বয়সের একশ্রেণীর চিরতরুন মানুষ আছে - যাদের এখনো রীতিমত প্রতিযোগিতা করতে দেখি কিভাবে এই রেস্টুরেন্ট বিল সে দিবে! যাদের সান্নিধ্যে আপনি কোন অশ্লীল ইঙ্গিত, অসার কথা শুনবেন না (দুনিয়ায়, আখিরাতেও ইনশাআল্লাহ্‌)! যারা অনেক বেশী এসটাব্লিশমেন্টের পরেও জমিনে নম্রভাবে বিচরন করার প্রচেষ্টায় থাকে! এদের সাথে হাসিমুখে কথা বলাটাও চ্যারিটি!

এরা এক অদ্ভুত সম্প্রদায়! এরা আমার দ্বীনি ভাই, অন্য মায়ের উদরে আপন ভাই!

ইদানিং ‘দ্বীনি ভাই’ শব্দটা কি পরিমাণ অপব্যবহার হয়েছে, এ নিয়ে রীতিমত গবেষণা চলছে। ট্রল হচ্ছে!

ওয়াল্লাহ! কিয়ামতের দিন আমার আমলনামায় আল্লাহ্‌র কাছে গৃহীত হয়েছে এমন কোন আমল দেখতে পেলে তার একটা বড় অংশের কন্ট্রিবিউটর হবে - তাদের সঙ্গ! যেদিন স্ত্রী-সন্তান, সম্পদ কোন উপকারে আসবে না। ঈমান আনার পরে সবচেয়ে মধুরতম বিষয় হল - এই দ্বীনি ভাইদের আল্লাহ্‌র জন্য ভালবাসা আর তাদের ভালবাসায় সিক্ত হওয়া!
এরা তো তারাই যারা জান্নাত এবং জাহান্নামের অধিবাসীরা আলাদা হয়ে যাওয়ার পরে, আল্লাহ্‌ ‘আযযা ওয়া জালের কাছে জিজ্ঞেস করবে - ‘দুনিয়াতে অমুক তো আমাদের সাথে ভাল কাজ করতো, সে কোথায়?’

হাসান আল বাসরি রহিমাহুল্লাহ বলেছেন, “দুনিয়াতে অনেক বেশী মুত্তাকী বন্ধু গ্রহন করো, কিয়ামতের দিন তারা সুপারিশকারী হবে।”

ইমাম ইবনিল কায়্যিম রহিমাহুল্লাহ বলতেন, “ আমাকে যদি জান্নাতে না দেখ, তবে আমার অনুসন্ধান করো, আর বলো, ‘ও আল্লাহ্‌! তোমার এক বান্দা আমাদেরকে তোমার কথা স্মরণ করিয়ে দিত।’ আর তিনি অঝোরে কাঁদতে শুরু করেন।

আমারও এই অনুগ্রহের প্রয়োজন, আমার দ্বীনি ভাইদের কাছ থেকে!

ইবুনল মুবারাক রহিমাহুল্লাহর সাথে একটি কউল সমন্ধ করা হয়, “ আমি সলিহীন (সৎকর্মপরায়ণ) নই, তবুও তাদের ভালবাসি, আমি তলিহীনদের (মন্দপ্রবন ব্যক্তি) ঘৃণা করি, হয়ত আমি তাদের চেয়ে মন্দও হতে পারি।” (সিয়ারে আলাম আন নুবালা, ভলিউম ৮)
আল্লাহ্‌র জন্য ভালবাসা আর ঘৃণা করা - হাদিসে বর্ণিত ঈমানের সুমধুরতা অনুভব করার তিনটি আলামতের একটি। আর কিয়ামতের কঠিন দিনে আল্লাহ্‌র আরশের সুশীতল ছায়া লাভ করবে এমন সাতটি গুণের একটি।
দ্বীনি ভাইদের সম্পর্কে সুউচ্চ ধারনা পোষণ করার আর তাঁরই নিমিত্তে ভালবাসার তাওফিক - আল্লাহ্‌র কাছেই চাচ্ছি।

আল্লাহ্‌ আমাদের জন্য সহজ করুন। আমিন।



WRITER: SAYYID MAHMUD GAZNABI

কোন মন্তব্য নেই