পরকালীন প্রস্তুতি

কুর'আন-সুন্নাহর আলোকে পরকালীন মুক্তির আশায় একটি পরকালমুখী উদ্যোগ

মহিলাদের মজলিস (২য় পর্ব)


আলহামদুলিল্লাহ,
প্রথম পর্বের পর দ্বিতীয় পর্ব এখানে আপনাদের সাথে শেয়ার করছি-

১/ আল্লাহ্ তাআ'লা আমাদেরকে একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অবকাশ দিয়ে রেখেছেন। তিনি ইচ্ছে করলেই কিন্তু পারেন তার অবাধ্যতার জন্য আমাদেরকে সাথে সাথে শাস্তি দিয়ে দিতেন। কিন্তু না! তিনি চান আমরা তাওবাহ্ করি, ভুল পথ থেকে সরে আসি। আর এরকম দয়া কেবল আল্লাহর পক্ষেই সম্ভব। তবে তারপরও যদি আমরা আল্লাহর দিকে না ফিরে আসি তাহলে তো আমাদেরকে এর পরিণাম ভোগ করতেই হবে! আর এজন্য প্রস্তুত করা হয়েছে জাহান্নাম। আর তা এতোটাই ভয়ংকর যার একমুহূর্তের আলিঙ্গন পৃথিবীর শত বছরের আনন্দ নিমিষেই ভুলিয়ে দিবে। বিচার দিবসে এই জাহান্নামকে শিকল পরিহিত অবস্তায় আনা হবে। কারণ সে খুব ক্ষিপ্ত, সে মানুষের অন্তর পর্যন্ত পুরিয়ে ফেলে। আমরা কি চাইনা এই ভয়ংকর জাহান্নাম থেকে নিজেকে রক্ষা করতে? অবশ্যই চাই। আর এজন্য প্রয়োজন ইসলামকে নিজের একমাত্র জীবনব্যাবস্থা হিসেবে মেনে নেয়া। আল্লাহ্ আমাদের জন্য সহজ করুন।

২/ আমাদের সামনে অপেক্ষা করছে একটি কঠিন দিন। যা পৃথিবীর ৫০০০০ দিনের সমান। বুঝতেই পারছেন আমি কোন দিনের কথা বলছি- হ্যাঁ, আমি বিচারদিনের কথা বলছি। ঐদিনে এমন কিছু মূহর্ত আসবে যখন মানুষ নিজেকেও ভুলে যাবে। অর্থাৎ একপ্রকার দিশেহারার মতো হয়ে যাবে। মা তার প্রিয় সন্তানকে ভুলে যাবে, সন্তান তার আদরের মা কে ভুলে যাবে, স্বামী তার ভালোবাসার স্ত্রীকে ভুলে যাবে, স্ত্রী তার স্বামীকে ভুলে যাবে। কি কঠিন মূহর্ত! ঐদিন আরো একটি মুহূর্ত আসবে যখন সবাই তার আমলনামা হাতে পাবে আর অবাক হয়ে দেখবে যে ছোটো ছোটো কাজগুলোও লিপিবদ্ধ আছে! তাহলে বলেনতো আমরা এমন কিছু করবো কেন যা দেখে আমরা নিজেরাই লজ্জিত হব! আসুন আজ থেকেই আমরা বদলে যাই, আল্লাহর হক সম্পর্কে সচেতন হই। আল্লাহ্ আমাদের কবুল করুন।

৩/ আমরা যদি আল্লাহর আনুগত্য করি, রসূলের (সা) আদর্শ মেনে চলি তাহলে অবশ্যই এর প্রতিদান পাবো। আর এর প্রতিদান কি জানেন? তা হলো জান্নাত। আর জান্নাত এমন আনন্দের স্থান যেখানে মানুষ কল্পনার মাধ্যমেও পৌঁছতে পারেনা। কারণ এটা আল্লাহ তার প্রিয় বান্দাদের জন্য সারপ্রাইজ হিসেবে রেখেছেন। জান্নাতে যাওয়া মাত্রই আমরা পেছনের সব দুঃখকষ্ট ভুলে যাবো। মনে হবে এর আগে আমি কোন দুঃখই পাইনি, সুবাহানাআল্লাহ্। আর এটা কেবল আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের জন্যই বরাদ্দ। আমরা কি চাইনা আল্লাহর প্রিয় হইতে? আমরা কি চাইনা একটি আনন্দপূর্ণ জীবন পেতে যা কখনো শেষ হবে না? অবশ্যই চাই। তবে এর জন্য আমাদেরকে (নারীদেরকে) অল্প কিছু কাজ করলেই চলবে, ইনশা আল্লাহ্ তা'আলা। এগুলো হলো- আল্লাহর ফরয ইবাদাতগুলো (নামাজ, রোজা, পর্দা) যথাযথভাবে আদায় করা, স্বামীর (ভালোকাজে) আনুগত্য করা, স্বামীর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা, প্রতিবেশীদের কষ্ট না দেয়া, গীবাত না করা, নিজেদের লজ্জাস্থান হিফাযত করা ইত্যাদি। আর এগুলো তেমন কঠিন কাজ না। আমরা আল্লাহর উপর ভরসা রেখে একটু চেষ্টা করলেই পেরে যাবো, ইনশা আল্লাহ তা'আলা। তাহলে আসুন বুকে সাহস রেখে আজকে থেকেই প্রতিজ্ঞা করি। চেষ্টা করবতো আমরা? একটু কষ্ট হলেও? আসুন না দুনিয়াতে একটু কষ্ট করি। আসলে দুনিয়াতে একটু কষ্ট করতে পারলেই কিন্তু আমাদের আখিরাতটা অনেক সুন্দর হয়ে যাবে। আর দুনিয়ার কষ্টতো সাময়িক কষ্টই। এটা একদিন শেষ হয়েই যাবে....। আল্লাহ্ আমাদেরকে জান্নাতবাসিনী করুন, আমিন।

(চলবে.....)

লিখেছেন: সুমাইয়া ইসলাম

২টি মন্তব্য: