Ticker

6/recent/ticker-posts

Advertisement

বিপদ থেকে মুক্তি কোন পথে?



শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যা (মৃত্যু ৭২৮ হিজরী) রহি’মাহুল্লাহু তাআ’লাকে প্রশ্ন করা হয়েছিলো,

“যে ব্যক্তি কঠিন রোগ-ব্যাধি, অসুস্থতায় আক্রান্ত, তার জন্য কি শিফা রয়েছে? যে ব্যক্তি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত, তার নিরাপত্তার জন্য কি উপায় রয়েছে? যে ব্যক্তি অলসতার কাছে পরাজিত, সে কিভাবে মুক্তি পেতে পারে? কিভাবে আমি আল্লাহর একজন সাহায্যপ্রাপ্ত বান্দা হতে পারি? যে ব্যক্তি সন্দেহ ও সংশয় দ্বারা পরাজিত, যখনই সে আল্লাহর দিকে ফিরে আসতে চায় তার কুপ্রবৃত্তি তাকে আল্লাহর পথে ফিরে আসা থেকে বিরত রাখে, যখনই সে কর্মমুখর হতে চায় ব্যর্থতা তাকে পেয়ে বসে, এমন ব্যক্তির জন্য কি সমাধান রয়েছে?”


ইমাম ইবনু তাইমিয়া রহি’মাহুল্লাহু তাআ’লা উত্তরে বলেন,

“এমন ব্যক্তির (বিপদ থেকে) মুক্তির জন্য পথ হচ্ছেঃ

(১) আল্লাহ তাআ’লার দিকে প্রত্যাবর্তন করা।

(২) সহীহ হাদীসে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের শিখানো দুয়াগুলো মুখস্থ করে সেইগুলো দিয়ে নিরলসভাবে আল্লাহর কাছে কাকুতি মিনতি করে দুআ করা।

(৩) সতকর্তার সাথে দুআ কবুলের সময় বাছাই করে সেই সময়গুলোতে দুআ করা, যেমন রাতের শেষ অংশে, আযান ও ইকামতের মাঝখানের সময়ে, সিজদাতে এবং সালাতের শেষ অংশে।

(৪) এমন দুঃখ-কষ্টে আক্রান্ত ব্যক্তির উচিৎ বেশি বেশি ইস্তিগফার (আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা) করা। কারণ যে ব্যক্তি ইস্তিগফার করে, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন এবং এই পার্থিব জীবনে তাকে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত উত্তম জীবন সামগ্রী ভোগ করতে দেন।

(৫) সে যেন সকাল, সন্ধ্যা এবং ঘুমানোর পূর্বে; এই তিনটি সময়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের শিখানো বরকতময় কিছু নির্দিষ্ট যিকির ও দুআ করার অভ্যাস গড়ে তুলে এবং এই সময়গুলোতে যিকির করতে যেই জিনিসগুলো বাঁধা সৃষ্টি করে সেইগুলো দূর করতে সদা সচেষ্ট থাকে। যে ব্যক্তি আন্তরিকতার সাথে এই সময়গুলোর যিকির এবং দুআগুলো নিয়মিতভাবে পড়বে, তার কাছে আল্লাহর সাহায্য পৌঁছানো সময়ের ব্যাপার মাত্র এবং আল্লাহ তার অন্তরে ঈমান লিখে দিবেন।

(৬) সে যেন তার উপর আরোপিত প্রত্যেক ফরয বা ওয়াজিব কাজগুলো যথাযথভাবে আদায় করে। বিশেষ করে মনোযোগী ও বিনয়ী অন্তর নিয়ে, আত্মিক ও বাহ্যিক হক্ক আদায় করে পাঁচ ওয়াক্ত ফরয সালাত কায়েম করে। কেননা, সালাত হচ্ছে দ্বীনের খুঁটি বা স্তম্ভ।

(৭) তার অধিকাংশ কথার মাঝে যেন لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللّٰهِ الْعَلِيِّ الْعَظِيْمِ

উচ্চারণঃ লা- হাওলা ওয়ালা- ক্বুওয়্যাতা ইল্লা- বিল্লা-হিল আ’লিয়্যিল আ’যীম।

অর্থঃ সুউচ্চ এবং সুমহান আল্লাহর সাহায্য ছাড়া (পাপ কাজ থেকে দূরে থাকার) কোনো উপায় এবং (সৎ কাজ করার) কোনো শক্তি কারো নেই।

এই দুআটা পড়ে। এই দুআর বরকতে একজন ব্যাক্তি ভারী বোঝা বহন করতে সক্ষম হয় এবং সমস্ত ভীতিকে জয় করে উত্তম পরিণতি লাভ করতে পারে।

(৮) সে যেন দুআ করতে কখনও ক্লান্ত না হয়, কেননা একজন ব্যাক্তি যতক্ষণ পর্যন্ত না “আমি অনেক দুআ করলাম, কিন্তু আমার দুআ কবুল হল না”, এই কথা বলে দুআর ব্যাপারে তাড়াহুড়া করে, ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ তার দুআ কবুল করেন।

(৯) সে যেন এটা নিশ্চিতভাবে জেনে নেয় যে, ধৈর্য্যের সাথেই রয়েছে বিজয়, দুঃখের সাথেই রয়েছে মুক্তি, কষ্টের সাথেই রয়েছে স্বস্তি। এই দুনিয়াতে এমন কোন মানুষ নেই, তিনি নবী হন কিংবা তাঁর চাইতে কম মর্যাদার, ধৈর্য্য ছাড়া কেউই কল্যাণ লাভ করতে পারেনি।

(১০) আর সমস্ত প্রশংসা এবং কৃতজ্ঞতা শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য।”


[“মুখতাসার আল-ফাতাওয়া আল-মিসরিয়্যা” গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত।]

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

1 মন্তব্যসমূহ