ব্লাক ম্যাজিক থেকে বাঁচার ৪টি আমল



জাদুর একটা ধরন হচ্ছে শয়তান ও জাদুকরের মাঝে এক ধরনের চুক্তি। যেখানে শর্ত থাকে যে জাদুকর কতিপয় হারাম বা শিরকী কাজে লিপ্ত হবে, আর বিনিময়ে শয়তান তাকে সহযোগিতা করবে ও তার অনুসরণ করবে। শয়তানের নিকটবর্তী হওয়ার জন্য জাদুকরেরা ঘৃণ্য কিছু উপায় অবলম্বন করে। যেমন: কুরআনের আয়াত উল্টো করে লেখা, কুরআন পায়ের নিচে দলিত করে টয়লেটে নিয়ে যাওয়া বা নোংরা কিছু দিয়ে কুরআনের আয়াত লেখা, সর্বদা নাপাক থাকা বা বিনা অযুতে নামাজ পড়া, শয়তানের উদ্দেশ্যে পশু জবাই করে জবাইকৃত পশু শয়তানের নির্ধারিত স্থানে অর্পণ করা, ইত্যাদি। এসব কুফরি পদ্ধতিতে জাদুকরেরা শয়তান জিনদের খুশী করে এবং তাদের মাধ্যমে অন্যদের ওপর জাদু করে। যাকে আধুনিক ভাষায় বলে, ব্লাক ম্যাজিক।


আমাদের আশেপাশেই এমন অনেক মানুষ আছে ব্লাক ম্যাজিকের শিকার। ব্লাক ম্যাজিকের কারণে মানুষ কতটা ক্ষতির সম্মুখীন হয়, এটা সেসব মানুষদের না দেখলে বোঝা মুশকিল। আমরা চাই না এরকম কঠিন পরীক্ষায় পড়তে। আর এজন্য আগে থেকেই প্রতিরোধের ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরী। জাদুটোনা থেকে বাঁচতে ৪টি কাজ নিয়মিত করা চাই। যথা:


১. ইসলামী শরীয়াহর সমস্ত বিধিবিধান মেনে চলা, হারাম ও নিষিদ্ধ সমস্ত বিষয় পরিহার করা এবং পূর্বের সমস্ত গুনাহসহ যাবতীয় অন্যায় অপকর্ম হতে তাওবা ও ইসতিগফার করা। গুনাহ থেকে যত বেশি দূরে থাকবেন, শয়তান ততই আপনার থেকে দূরে থাকবে। অন্যদিকে নেক আমল যত বেশি করবেন, ফেরেশতারা ততই কাছে থাকবে। অনেক মানুষ গোপন গুনাহের কারণেও জাদুর শিকারে পরিণত হয়ে যায়।


২. অধিক পরিমাণে কুরআন তিলাওয়াত করা। প্রতিদিন তিলাওয়াতের একটি রুটিন বানিয়ে সে অনুযায়ী তিলাওয়াত করা। ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) মাদারিজুস সালিকীন গ্রন্থে বলেছেন, 'আল্লাহ তাআলা কুরআনে আত্মীক ও দৈহিক—উভয় প্রকার শিফা(ওষুধ) রেখেছেন।' আসলে কুরআনের বরকত অজস্র। তাই নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত করুন। ১ পৃষ্ঠা করে হলেও।


৩. কুরআন-সুন্নাহতে বর্ণিত বিভিন্ন দুআ, নিরাপত্তা লাভের আয়াত ও দুআ এবং অন্যান্য দুআ ও নির্ধারিত যিকিরসমূহের প্রতি বিশেষ যত্নবান হওয়া। 'হিসনুল মুসলিম' বইতে এই দুআ যিকরগুলো পাবেন। এগুলো প্রতিদিন বই থেকে দেখে দেখে পড়লে এক সময় মুখস্ত হয়ে যাবে। তখন কষ্ট ছাড়াই অনায়াসে পড়ে ফেলতে পারবেন।


৪. ঘুম থেকে উঠার পর সম্ভব হলে খালি পেটে ৭টি আজওয়া খেজুর খাওয়া। সাআদ ইবনু আবি ওয়াক্কাস রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুল সা.-কে বলতে শুনেছি, “যে ব্যক্তি ভোরে সাতটি আজওয়া খেজুর খাবে, সেদিন কোনো বিষ অথবা জাদু তার ক্ষতি করতে পারবে না।” (সহীহ বুখারী, ৫৭৭৯) আজওয়ার বিভিন্ন ক্যাটাগরি আছে বাজারে। একদম প্রিমিয়াম কোয়ালিটিরটা সাধ্যের বাহিরে হলেও সাধারণ কোয়ালিটির আজওয়া সংগ্রহে রাখতে পারেন এবং নিয়মিত খেতে পারেন।


হিসনুল মুসলিম গ্রন্থের নতুন অনুবাদ 'দুআ যিকির রুকইয়া' অবলম্বনে।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন