Ticker

6/recent/ticker-posts

Advertisement

রাসূলুল্লাহ (সা:) কে হত্যার চেষ্টা ও এর ব্যর্থ ফলাফল

রাসূলুল্লাহ (সা:) যখন কুরাইশ নেতৃবৃন্দের নিকট হতে ফিরে আসলেন তখন আবূ জাহল কুরাইশ নেতৃবৃন্দের মধ্যে ঘোষণা দিয়ে বললো, 'কুরাইশ ভ্রাতৃবৃন্দ! আপনারা সম্যকরূপে অবগত আছেন যে, মুহাম্মদ (সা:) আমাদের ধর্মে কলঙ্ক রটাচ্ছে, আমাদের পূর্বপুরুষের নিন্দা করছে, আমাদের জ্ঞান বুদ্ধিকে খাটো বলে রটনা করছে এবং দেবদেবীগণের অবমাননা করছে । এ সব কারণে আল্লাহ্ তা'আলার শপথ করে বলছি যে, আমি একখন্ড ভারী এবং সহজে উঠানো যায় এমন পাথর নিয়ে বসবো এবং মুহাম্মদ যখন সিজদায় যাবে তখন সেই পাথর মেরে তার মাথা চূর্ণ করে ফেলবো । এমন এ অবস্থায় তোমরা আমাকে একা অসহায় ছেড়ে দাও, আর না হয় সাহায্য করো । বনু আবদে মানাফ এর পর যা চাই তা করুক। উপস্থিত লোকেরা বলল, 'আল্লাহর শপথ! আমরা তোমাকে অসহায় ছেড়ে দিতে পারি না । তুমি যা করার ইচ্ছে করেছ তা করে ফেল ।'


সকাল হলে আবু জাহল তার ঘোষনার অনুরূপ একখন্ড পাথর নিয়ে রাসূলুল্লাহ (সা:) এর অপেক্ষায় বসে থাকলো । রাসূলুল্লাহ (সা:) যথা নিয়মে আগমন করলেন এবং সালাতে রত হলেন । কুরাইশগণও সেখানে উপস্থিত হয়ে আবূ জাহলের কথিত কান্ড দেখার জন্য অপেক্ষমান রইল । যখন রাসূলুল্লাহ (সা:) সিজদায় গমন করলেন তখন আবূ জাহল পাথর উঠিয়ে তাঁর দিকে অগ্রসর হল, কিন্তু নিকটে পৌঁছে পরাস্ত সৈনিকের মতো স্ববেগে পশ্চাদপসরণ করল । এ সময় তাকে অত্যন্ত বিবর্ণ ও ভীত সন্ত্রস্ত দেখাচ্ছিল । তার দু'হাত পাথরের সঙ্গে শক্তভাবে চিমটে লেগে গিয়েছিলো । পাথরের গা থেকে হাত ছাড়াতে তাকে যথেষ্ট কষ্ট ও বেগ পেতে হয়েছিলো ।

এ দিকে কুরাইশগণের মধ্য থেকে কিছু সংখ্যক লোক দ্রুত তার নিকট এগিয়ে আসে এবং বলতে থাকে, 'আবুল হাকাম! ব্যাপারটি হল কী? কিছুই যেন বুঝে উঠছি না ।'

সে বললো, 'আমি রাত্রিবেলা যা বলেছিলাম তা করার জন্যই এগিয়ে যাচ্ছিলাম । কিন্তু যখন তাঁর নিকটে গিয়ে পৌঁছলাম তখন একটি উট আমার সামনে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ালো । হায় আল্লাহ্! কক্ষণো আমি এমন মস্তক, এমন ঘাড় এবং এমন দাঁতবিশিষ্ট উঠ দেখি নি! মনে হল সে যেন আমাকে খেয়ে ফেলতে চাচ্ছে ।

ইবনে ইসহাক্ব বলেন, আমাকে বলা হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সা:) ইরশাদ করেছেন, 'উষ্ট্রের রূপ ধারণ করে সেখানে ছিলেন জিবরাঈল (আ:) । আবূ জাহল যদি আমার নিকট যেত তাহলে তার উপর বিপদ অবতীর্ণ হয়ে যেত ।' -(ইবনে হিলমা ১ম খণ্ড, ২৯৮-২৯৯ পৃ:)

তথ্যসূত্র: আর-রাহীকুল মাখতুম, ১৪৬-১৪৭ পৃ:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ