পরকালীন প্রস্তুতি

কুর'আন-সুন্নাহর আলোকে পরকালীন মুক্তির আশায় একটি পরকালমুখী উদ্যোগ

গৃহের বাহিরে গিয়ে নারীদের কর্মের ব্যাপারে নির্দেশনা

প্রশ্ন: আমি একজন ২০ বছরের যুবতী, ইঞ্জিনিয়ারিং এ পড়াশুনা করছি। গ্রীষ্মে আমি একটি স্টেশনারী দোকানে পার্ট টাইম জব করি, আমার কলেজ ফি এর জন্য। আমি কি এতে গুনাহগার হবো? আমি নিকাব করি, তাই মাঝেমাঝে মনে হয় কোন ধার্মিক ব্যক্তি আমাকে এ কারনে কিছু বলেন না।

উত্তর: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ সুবহানাহুওয়াতা’আলার।

প্রথমত, শরীআহের মূলনীতির একটি হল, নারীরা গৃহে অবস্থান করবে এবং প্রয়োজনীয় উদ্দেশ্যে ছাড়া বাহিরে যাবে না। আল্লাহ তা’আলা বলছেন,

“আর তোমরা গৃহে অবস্থান করো এবং জাহিলীযুগের মতো নিজেদেরকে প্রদর্শন করে বেড়াবে না।” [সূরা আল-আহযাব: ৩৩]

যদিও এখানে নবীজী (সা) এর পত্নীদেরকে সম্বোধন করা হয়েছে, তথাপি এটি মু’মিন নারীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। এখানে নবীজীর (সা) পত্নীদেরকে সম্বোধন করার কারন, নবীজী (সা) এর সাথে তাদের সম্মান ও অবস্থান জড়িত এবং তাঁরা মু’মিন নারীদের জন্য উদাহরন স্বরূপ।

রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন, “নারীরা হচ্ছে চাদর এবং যদি সে গৃহের বাইরে যায় তবে শয়তান খুশি হয় (তাকে বিভ্রান্ত করতে পারবে বলে)। সে (নারী) আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতেপারে না যতটা সে গৃহে থেকে করতে পারতো।” [ইবনে হিব্বান ও ইবনে আবী খুযাইমাহ, আলবানী এটিকে সহীহ বলেছেন, সিলসিলা আস সহীহাহ ২৬৮৮]

এবং তিনি (সা) নারীদের মসজিদে সালাত আদায়ের ব্যাপারে উদ্বিগ্ন হয়ে বলেছিলেন, “তাদের গৃহই তাদের জন্য উত্তম।” [আবু দাউদ ৫৬৭, আলবানী এটিকে সহীহ বলেছেন, আরও তথ্যের জন্য ৬৭৪২ নং প্রশ্নোত্তর দেখুন]

দ্বিতীয়ত, কিছু বিশেষ শর্তসাপেক্ষে নারীদের বাইরে কাজ করতে যাওয়া জায়েয আছে। যদি এসব মিলে যায় তবে সে বাইরে কাজ করতে যেতে পারে।

সেগুলো হলো....

* প্রয়োজনীয় পরিমান অর্থের জন্য তার কাজ করা প্রয়োজন, যেটি আপনার ক্ষেত্রে খাটে।

* কাজটি প্রকৃতিগতভাবে নারীদের জন্য উপযুক্ত হতে হবে। যেমন: ডাক্তারী, নার্সিং, শিক্ষকতা, সেলাই এবং এরকম আরও।

* কর্মস্থলটি শুধুমাত্র নারীদের জন্যই হতে হবে এবং সেখানে নন-মাহরাম পুরুষদের সাথে কোন মেলামেশার সুযোগ থাকবে না।

* কাজের সময় সে পূর্ণরূপে শরীআহ অনুযায়ী হিজাব (পর্দা) করবে।

* তার কাজ তাকে মাহরাম ছাড়া ভ্রমনে বাধ্য করবে না।

* তার বাইরে কাজ করতে যাওয়া, কোনো হারাম কাজে জড়িত করবে না। যেমন: ড্রাইভারের সাথে একাকী অবস্থান করা বা পারফিউম ব্যাবহার করা যাতে নন-মাহরামরা কাছে সেটা ঘ্রাণ যেতে পারে।

* কাজ এমন হবে না, যা তার প্রয়োজনীয় বিষয়াদিকে উপেক্ষা করতে বাধ্য করে। যেমন: গৃহের দেখাশোনা, স্বামী-সন্তানের যত্ন নেয়া।

শাইখ উসাইমিন (রহ.) বলেন, “নারীরা যেখানে কাজ করবে, সে কর্মক্ষেত্র শুধুমাত্র নারীদের জন্যে হতে হবে। যেমন: বালিকাদের শিক্ষাদান, কারিগরি সহায়তা পরিচালনা, নিজ ঘরে মহিলাদের জন্য নারী দর্জি এবং অন্যান্য। পুরুষদের সাথে মাঠে কাজ করা নারীদের জন্য জায়েয নয়, কারন পুরুষের সাথে তাকে মিশতে হতে পারে, যা মারাত্মক ফিতনাহ (কুকর্মে প্ররোচনা এবং নানা সমস্যার উৎস) তাই এটা উপেক্ষা করা উচিত।

উল্লেখ্য, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন, “আমি পুরুষের জন্য নারীর চেয়ে বড় আর কোন ফিতনাহ রেখে যাচ্ছি না। আর, বনী ইসরাইলের প্রথম ফিতনাই ছিলো নারী সংক্রান্ত। সুতরাং লোকদের উচিত তাদের পরিবারকে ফিতনা এবং ফিতনার উপকরণ থেকে দূরে রাখা। [ফতোয়ায়ে আল-মার’আহ আল মুসলিমাহ : ২/৯৮১]

আপনার কর্মক্ষেত্র যদি এসকল শর্ত পূরন করে, তবে সেখানে কাজ করায় আপনার কোন দোষ নেই ইনশা’আল্লাহ। আমরা দু’আ করি আল্লাহ যেন আপনাকে একজন সচ্চরিত্র ও দ্বীনদার স্বামী মিলিয়ে দেন যাতে তিনি এসব করতে পারেন।

আর, আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।

মূলঃ শাইখ সালিহ আল মুনাজ্জিদ
অনুবাদকঃ আগন্তুক মুসাফির

কোন মন্তব্য নেই