পরকালীন প্রস্তুতি

কুর'আন-সুন্নাহর আলোকে পরকালীন মুক্তির আশায় একটি পরকালমুখী উদ্যোগ

ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিবার চায়!

"ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিবার চায়" --- ৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের অত্যন্ত জনপ্রিয় ও গায়ের রক্ত মাথায় নিয়ে যাবার মত একটি গান। মুখের ভাষা কেড়ে নেয়া যায় না। যে বেকুবামী পাকিস্থানিরা করেছিল, চিকন চালাক ইনডিয়ানরা তার ধার কাছ দিয়েও যায় নাই। তারা আর্ট ও কালচারের মোড়কে সাজিয়ে তাদের সংস্কৃতি, ভাষা, চালচলন, আচার, ব্যবহার, এমনকি ফেন্সিডিল --- সব আমাদেরকে চালান করে যাচ্ছে আর আমরাও সোনামুখ করে সেটা খেয়ে ভাবছি "বাহ! বেশ তো জাতে উঠলাম"।

সবচেয়ে বড় সমস্যা হল, আমরা জাতি হিসেবে আমাদের নিজেদের সম্মান রাখতে জানি না।

১) দেশী কাপড় থাকতেও আমরা ভারতীয় কাপড়েই স্বাচ্ছ্যন্দ বোধ করি।
২) আমাদের টেলিভিশনে সারাক্ষন ভারতীয় চ্যানেল গুলো চলে।
৩) ভারতীয় পন্যে আমাদের বাজার সয়লাব, এমনকি কোরবানির গরুটাও সেখান থেকে আসা চাই।
৪) আমাদের মুসলিমদের প্রধান উৎসব ঈদে বলিউডের নায়ক নায়িকাদের নামের ও ফ্যাশানের ড্রেস ছাড়া ঈদই পূর্ণতা পায় না।
৫) আমাদের বিয়ে মুসলিম অনুসাশন না মেনে, ভারতীয় তথা হিন্দু অনুশাসন মেনে হচ্ছে।
৬) ইসলামের অনুশাসন বাদ দিয়ে আমরা ভারতীয় সংস্কৃতি নিয়ে বেশি উৎসাহী।

তাই, এখন পেটের থেকে বের হয়েই বাংলাদেশী বাচ্চারা হিন্দিতে কথা বলে। আর বাচ্চার বাবা-মা ‘বান্দি’ (বাংলা+হিন্দি = বান্দি) ভাষায় কথা বলতে বেশী সাছন্দ্যবোধ করেন। শুধু হিন্দি কেন, ‘দাদাদের’ মত নাক দিয়ে 'শুদ্ধ বাংলা' বলারও আপ্রাণ চেষ্টা করি। বাংলা একাডেমী প্রাঙ্গনে কলকাতার কবি-সাহিত্যিক এসে তাদের চরণ ধুলা না দিলে ২১ শের বই মেলা জমে না। আর আজকালকার বাংলাদেশী বিয়ের অনুষ্ঠানগুলি দেখলে মনে হয় হিন্দি সিনেমার দৃশ্য, যেখানে বর-কনে, শ্বশুর-শাশুড়ি, শালা-শালী, ননদ-দেবর একসাথে ড্যান্সও করে! এই ব্যপারে যদি কিছু বলেন তাহলে উত্তরে বলবে, "আরে, ছোড় দো না ইয়ার, দো দিন কি দুনিয়া, ইসকি মাজা লে লো"!

আজকে আমাদের এই (অস্বস্থিকর) অবস্থার জন্য আমরা নিজেরাই দায়ী।


লিখেছেন: সিফাত মেহজাবিন

কোন মন্তব্য নেই