পরকালীন প্রস্তুতি

কুর'আন-সুন্নাহর আলোকে পরকালীন মুক্তির আশায় একটি পরকালমুখী উদ্যোগ

আমাকে জাগিয়ে তুলেছে

আরবের মানুষগুলো যখন আল্লাহর পবিত্র স্থানে বসবাস করার পরও অন্ধকারের সবচেয়ে নিকৃষ্টতম অবস্থানে পৌছে গেল।আল্লাহকে সম্পূর্ণরূপে ভূলে গিয়ে লা'ত, মানাত, উজ্জাকে রব হিসেবে পূজা করতে শুরু করেছিল, সমাজে নারীদের মর্যাদা বলতে কিছুই ছিলনা, কন্যা শিশুদের যখন জীবন্ত পুতে ফেলতে একটুও বাধতনা। এক কথায় মানবতা যখন সবচেয়ে গভীর সংকটে পতিত হয়েছিল, ঠিক তখনি যার স্পর্শ পেয়ে সমাজ আলোকিত হল, মানবতা মুক্তির পথ দেখল, নারী তার আত্বমর্যাদা ফিরে ফেল, সেটাই হল ইসলাম।

এই ইসলামকে ভালোবাসার পেছনে আমার রয়েছে হাজারো অনুভূতি। যেই অনুভূতি সে'ই উপলব্ধি করতে পারবে যে ইসলামের প্রকৃত স্বাদ আস্বাদন করতে পেরেছে, ইসলামকে প্রকৃতভাবে বুঝতে পেরেছে । আসলে ইসলামকে জানার পর ইসলামকে ভালোবাসতে পারেনি এরকম মানুষ খুব একটা খুজে পাওয়া যাবেনা বললেই চলে।

ইসলামের বিষয়গুলো বরাবরই আমাকে মোহিত করে। ইসলাম নিয়ে যতই পড়াশুনা করি ততই আমি মুগ্ধ না হয়ে পারিনা! ইসলাম কিভাবে জীবনের প্রকৃত অর্থকে দেখিয়ে দেয়, জীবনের সব সমাধান উপস্থাপন করে তা বারবার আমাকে নতুনভাবে ভাবিয়ে তুলে। ইসলামের প্রতি ভালবাসার নতুন মাত্রা যোগায়। আসলে ইসলামের প্রত্যেকটি বিষয় মুগ্ধকর। যা মানুষকে খুব সহজে বদলে দিতে পারে, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রশান্তি এনে দেয়। স্বপ্নগুলোকে বদলে দেয় আচিন্তনীয় সুখের আশায়। জীবনের প্রতিটি মুহুর্ত করে তুলে অর্থময়।দিয়ে দেয় মানবতার প্রকৃত সমাধান।

এই ইসলামই একমাত্র পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা ও মানবতার মুক্তির চুড়ান্ত পথ । কিয়ামত পর্যন্ত যা মানুষকে আলোর পথ দেখাবে। আরো দেখাবে একটি আনন্দময় পরকালীন জীবনের । যা অন্য কারো পক্ষেই সম্ভব নয় ।

এই ইসলামের প্রতিটি বিধানই মানবতার জন্য সুফল বয়ে আনে।ইসলাম যা হারাম করেছে তা মানুষের জন্য ক্ষতিকর। আর যা হালাল করেছে তা মানুষের জন্য উপকারী। এমন একটি জিনিসও খুজে পাওয়া যাবেনা, যা মানুষের জন্য উপকারী কিন্তু ইসলাম হারাম করেছে কিংবা যা মানুষের জন্য অপকারী কিন্তু ইসলাম হালাল করেছে । অর্থাৎ একমাত্র ইসলামেই পাওয়া যাবে সবকিছুর সঠিক ব্যবহার ।

আসলে পৃথিবীর প্রত্যেকটি মানুষের জন্য যা অবশ্যই চাই, তাই ইসলাম, কিন্তু আমরা অধিকাংশই তা বুঝতে পারি না-

যেমন ধরুন, একজন ইসলাম বিদ্বেষী যে প্রতিনিয়ত ইসলামের বিবিরোধিতা করে, ইসলামের বিরুদ্ধে দুয়েক লাইন না লিখলে যার পেটের ভাত হজম হয়না, তাকেও যদি আপনি জিজ্ঞেস করেন, তুমি কি চাও তোমার বোনকে কেউ ধর্ষণ করুক?

না, সে অবশ্যই তা চাইবেনা! তার মধ্যে যদি ন্যুনতম জ্ঞান থাকে, সে কখনই চাইবেনা রাস্তায় চলার সময় তার বোনকে কেউ কটু কথা বলুক, তার বোনের দিকে কেউ মন্দ দৃষ্টিতে তাকাক।

ইসলাম ঠিক সেই সমাধানটাই দিয়ে দিচ্ছে। যাতে কারও মেয়েকে শ্লীলতাহানিতে পড়তে না হয়, কারো বোনকে মন্দ দৃষ্টির স্বিকার হতে না হয়। এজন্য ইসলাম পর্দা ফরজ করেছে। আর পুরুষদেরকেও বলা হয়েছে তাদের দৃষ্টিকে নত রাখতে ও তাদের যৌনাঙ্গকে হেফাজত করতে।

"হে নবী! আপনি আপনার পত্নীগণকে ও কন্যাগণকে এবং মুমিনদের স্ত্রীগণকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়। এতে তাদেরকে চেনা সহজ হবে। ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল পরম দয়ালু ।" -(সুরা আহযাব: আয়াত ৫৯)

"মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গর হেফাযত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে।"- (সুরা আন নূর: আয়াত ৩০)

ইসলাম এভাবেই মানুষকে নিরাপত্তা দেয়, আর রক্ষা করে প্রত্যেকের সম্মান, পবিত্রতা ও আত্বমর্যাদাবোধ।

ইসলামে মদ হারাম ঘোষণা করা হয়েছে । কারণ এই মদ পান করার পর মানুষ আর স্বাভাবিক আচরণ করতে পারেনা। নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে করে বসতে পারে অশ্লীল আচরণ, হত্যা, ব্যাভিচারের মত মারাত্বক অপরাধগুলো।

আমি অনেক বেশী অবাক হয়েছিলাম যখন জানতে পেরেছিলাম যে এই মদ যারা বানায় তারাও তাদের সন্তানদেরকে মদ পান করতে দেয় না। কারণ তারা ইসলামকে বুঝতে না পারলেও বুঝতে পারে যে তাদের সন্তানদেরকে মদ পান করতে দিলে তারা বাবা মার সাথে কী ধরনের আচরণ করতে পারে!

এভাবে হাজারো উদাহরণ দেওয়া যায়, যেগুলো ইসলামে হারাম করা হয়েছে এবং তা আমাদের জন্য সত্যিকারেই অপকারী।

ইসলামের প্রতিটি বিষয় এতই বিজ্ঞান সম্মত ও বাস্তব সম্মত যে, যা নাস্তিকবাদীদের সমূলে উৎপাটন করে তাদের ভিতকে নাড়া দিয়েছে, বিজ্ঞানকে করেছে আরও উন্নত ও সমৃদ্ধ। বিশ্ব জগতের সব প্রতিষ্ঠিত সত্য প্রমাণিত হয়েছে সন্দেহাতীতভাবে, যা ইসলাম বলে আসছে কয়েকশত বছর আগ থেকেই ।

আর ইসলামই মানুষকে দেখিয়েছে আলোকিত পথ ও শান্তির পথ। যেই পথের সন্ধান পেয়ে যে মানুষগুলো চিনতে পেরেছে তাদের রবকে, বুঝতে পেরেছে জীবনের আসল উদ্দ্যেশ্য।

যেই মানুষগুলো ভ্রাতৃত্ব আর মমত্ববোধ কি জানতোনা, সেই মানুষগুলোই ইসলামের সংস্পর্শে এসে দেখিয়েছে ভ্রাতৃত্ববোধের মহান দৃষ্টান্ত। যুদ্বের ময়দানে একে অপরকে পানি পান করানোর প্রতিযোগিতায় নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়ে রচনা করেছে ভাতৃত্ববোধের শ্রেষ্ঠ আদর্শ।

তাইতো ইসলামকে বুঝতে শুরু করা মানুষগুলো মিথ্যে মায়ার এই দুনিয়ার মোহকে ত্যাগ করে চিরস্থায়ী সেই জীবনকে সাজাতে প্রস্তুতি নিতে শুরু করে, জীবনের প্রতি ক্ষেত্রে আল্লাহর আনুগত্য আর ভালবাসায় তার সন্তুষ্টির দিকে ছুটে চলে। সেই জীবনের সেই স্বপ্নের আশায় বিভোর হয়ে ওঠে যেখানে থাকবেনা কোন দুঃখ, স্পর্শ করবেনা কোন ক্লেশ, থাকবেনা যৌবন হারানোর চিন্তা, আর থাকবেনা মৃত্যুর ভয়।

আর এমন একটি জীবনের আশায় ইসলামকে ভালোবেসে নিজের সবকিছু বিলিয়ে দিতেও আমার কোন আপত্তি নেই । কারণ এই ইসলাম'ই যে আমাকে জাগিয়ে তুলেছে । আলহামদুলিল্লাহ্ ।


লিখেছেন: মোহাম্মদ শাহজাহান (IIUC)

কোন মন্তব্য নেই