পরকালীন প্রস্তুতি

কুর'আন-সুন্নাহর আলোকে পরকালীন মুক্তির আশায় একটি পরকালমুখী উদ্যোগ

ফিকহুস সিয়াম (পর্ব-৫)

■ নারীদের হায়েজ ও নিফাস অবস্থায় সাওম:

এ অবস্থায় নারীর জন্য সাওম পালন করা বৈধ নয়, এবং সাওম পালন করলেও তা আদায় হবে না। বরং তাকে সাওম পালন থেকে বিরত থাকতে হবে এবং পরবর্তীতে তা আদায় করতে হবে।

হাদীসে বর্ণিত রয়েছে:
মুয়াযা থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: 'আমি আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা কে জিজ্ঞেস করলাম যে, হায়েজ অবস্থায় নারীর বিষয়টি কেমন যে সে সাওমের কাযা আদায় করে কিন্তু সালাতের কাযা আদায় করে না?' তিনি (আয়িশা (রা:) বললেন, 'তুমি কি হারুরিয়্যা (খারেজী)?' আমি বললাম, হারুরিয়্যা নই, তবে জানতে চাচ্ছি। তিনি (আয়িশা (রা:) বললেন: 'আমাদেরও তা হত, ফলে আমাদেরকে সাওমের কাযা আদায়ের নির্দেশ দেয়া হত, আর সালাতের কাযা আদায়ের নির্দেশ দেয়া হত না।' -(সহীহুল বুখারী: ৩২১; মুসলিম: ৩৩৫)

□ যদি রমাদানের কোন দিনে দিবাভাগ থাকতেই মুসাফিরের সফর শেষ হয়, অথবা হায়েজ বা নিফাস থেকে কোন নারী সুস্থ হয়, তবে বাকী দিবসেও তারা পানাহার করতে পারবে। -(মাজমু ফাতাওয়া আশ শায়খ আল উসাইমীন, ১৯/৯৯-১০৪)



● বার্ধক্য কিংবা স্থায়ী অসুস্থতার কারণে অক্ষম ব্যক্তির সাওম:

বার্ধক্যের কারণে কিংবা আরোগ্যের আশা নেই- এমন রোগে আক্রান্ত হওয়ার কারণে অক্ষম ব্যক্তি প্রতিদিনের সাওমের পরিবর্তে একজন মিসকিন ( যার উপার্জন তার জন্য যথেষ্ট নয় এমন ব্যক্তি) খাওয়াবেন। ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু ''আর যাদের জন্য তা (সিয়াম) কষ্টকর হবে, তাদের কর্তব্য ফিদয়া- একজন দরিদ্রকে খাবার প্রদান করা।.....'' (সূরা বাকারাহ্: ১৮৪) আয়াতটি সম্পর্কে বলেন যে আয়াতটি মানসূখ নয়, বরং তা এমন বৃদ্ধ ও বৃদ্ধার জন্য প্রযোজ্য হবে যারা সাওম পালনে সক্ষম নয়। -(সহীহুল বুখারী: ৪৫০৫)

○ বার্ধক্য কিংবা দূরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত হওয়ার কারণে অক্ষম ব্যক্তি প্রতিদিনের সাওমের পরিবর্তে একজন করে মিসকিন খাওয়াবেন। রান্না করে খাওয়ানো যেতে পারে, কেননা আল কুরআনে 'ইতআম' তথা 'খাওয়ানোর' কথা এসেছে। অথবা তাদের প্রত্যেককে অর্ধেক সা' (প্রায় ১.৫ কেজি) পরিমাণ চাল বা অনুরূপ খাদ্য (যা ঐ দেশের মানুষ খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে) দেয়া যাবে। আর এক্ষেত্রে সাথে খাওয়ার জন্য সব্জি, ডাল বা গোশত জাতীয় কিছু দেয়াটা উত্তম।*১

○ বার্ধক্যের কারণে অক্ষম কিংবা দূরারোগ্য রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে যদি মিসকিন খাওয়ানোর সামর্থ্য না থাকে, তবে তার উপর কোন দায়িত্ব নেই এবং তাকে পরবর্তীতেও আর কিছু করতে হবে না ।*২

○ একজন ব্যক্তিকে ৩০ টি সাওমের ফিদয়া দেয়া যাবে।*৩

○ এই ফিদয়া রমাদানের শুরুতে বা এর মধ্যে অথবা শেষে দেয়া যাবে । তবে রমাদানের পূর্বে অগ্রীম দেয়া যাবে না।*৪

○ সাওমের ফিদয়া হিসেবে যেহেতু খাওয়ানোর কথা এসেছে, তাই অর্থের দ্বারা এই ফিদয়া আদায় হবে না, খাদ্য দান করতে হবে।*৫

দেখুন:
১: শারহু উমদাতিল ফিকহ্ -ড. আব্দুল্লাহ বিন আব্দিল আযীয আল জিবরীন, পৃ: ৫৭৭; মাজমু ফাতাওয়া আশ শায়খ আল উসাইমীন, ১৯/১২৪-১২৫
২: আশ শারহু আল মুমতি, ৬/৩৪০
৩: সৌদী স্থায়ী কমিটির ফতোয়াসমগ্র, ১০/১৯৮
৪: মাজমূ ফাতাওয়া ওয়া মাকালাত মুতানাউয়াহ -আশ শায়খ বিন বায, ১৫/২০৩-২০৪; আশ শারহু আল মুমতি, ৬/৩২৬
৫: সৌদি স্থায়ী কমিটির ফতোয়াসমগ্র, ১০/১৯৮


আরো পড়ুনঃ

কোন মন্তব্য নেই