পরকালীন প্রস্তুতি

কুর'আন-সুন্নাহর আলোকে পরকালীন মুক্তির আশায় একটি পরকালমুখী উদ্যোগ

ইমাম মালিক (রহ.) : মালিকি ফিক্বহের প্রধান

মালিকি মাযহাবের প্রতিষ্ঠিতা বিশেষজ্ঞ মালিক ইবনে আনাস ইবনে আমির। ৯৩ হিজরিতে মদীনায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর দাদা 'আমির ছিলেন মদীনার প্রধান সাহাবীদের অন্যতম। হাদীসের তৎকালীন সর্বশ্রেষ্ঠ বিশেষজ্ঞ ইমাম আয-যুহরী ও বিখ্যাত হাদীস বর্ণনাকারী আব্দুল্লাহ ইবনে উমারের আযাদকৃত গোলাম নাফি'র তত্ত্বাবধানে ইমাম মালিক হাদীস অধ্যয়ন করেন। কেবল হাজ্জের উদ্দেশ্য ব্যতীত তিনি কখনো মদীনার বাইরে ভ্রমণ করতেন না। ফলে, তাঁর জ্ঞান অনেকাংশে মদীনায় প্রাপ্ত হাদীসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে।

আব্বাসি শাসকদের সরকারি আইনে বলা হয়েছিলো, কোন ব্যক্তি খলীফার আনুগত্যের শপথ ভঙ্গ করলে অবধারিতভাবে তার স্ত্রী তালাঁক হয়ে যাবে। ইমাম মালিক সরকারি এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করার কারণে ১৪৭ হিজরীতে মাদীনার শাসকের নির্দেশে তাঁকে মারাত্মকভাবে নির্যাতন করা হয়। ইমাম মালিককে বেঁধে এমনভাবে প্রহার করা হয়েছিল যে, তাঁর হাত মারাত্মকভাবে আহত হয়েছিলো। কিছু কিছু বর্ণনায় আছে যে, ঐ আঘাতের ফলে তিনি সালাতে তাঁর হাত বুকের উপর রাখতে অক্ষম হয়ে পড়েন এবং হাত ছেড়ে দিয়েই সালাত আদায় করেন।

ইমাম মালিক মদীনাতে চল্লিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে হাদীসের পাঠ দান করেন। তিন আল মুয়াত্তা' নামে নাবী (সা:) এর হাদীস এবং সাহাবী ও তাবি'উনদের আসার সম্বলিত একটি গ্রন্থ সংকলন করেছিলেন।

আব্বাসি খলীফা আবু জা'ফর আল মনসূর (শাসনকাল ১৩৬-১৫৮ হিজরি) নাবী (সা:) এর সুন্নাহভিত্তীক একটি সার্বজনীন সংবিধান চেয়েছিলেন। তাঁর অনুরোধেই ইমাম মালিক হাদীস সংকলনের এই কাজ শুরু করেন। তবে, গ্রন্থের সংকলন সমাপ্ত হওয়ার পর ইমাম মালিক গ্রন্থটি সকালের উপর বাধ্যতামূলক করে দেওয়ার প্রস্তাব নাকচ করে দেন।

১৭৯ হিজরিতে ইমাম মালিক তার জন্মস্থান মাদীনায় ইন্তেকাল করেন।

কোন মন্তব্য নেই