পরকালীন প্রস্তুতি

কুর'আন-সুন্নাহর আলোকে পরকালীন মুক্তির আশায় একটি পরকালমুখী উদ্যোগ

শিয়া আকীদা সম্পর্কে ইবন তাইমিয়্যার মিনহাজুস সুন্নাহ থেকে নির্বাচিত কিছু কথা

শাইখুল ইসলাম ইমাম আহমদ ইবন তাইমিয়্যা র. বলেন: আল্লাহ আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে আমরা আমাদের সালাতের মধ্যে বলি:

﴿ ٱهۡدِنَا ٱلصِّرَٰطَ ٱلۡمُسۡتَقِيمَ ٦ صِرَٰطَ ٱلَّذِينَ أَنۡعَمۡتَ عَلَيۡهِمۡ غَيۡرِ ٱلۡمَغۡضُوبِ عَلَيۡهِمۡ وَلَا ٱلضَّآلِّينَ ٧ ﴾ [الفاتحة: ٦، ٧]

“আমাদেরকে সরল পথের হিদায়াত দিন; তাদের পথ, যাদেরকে আপনি নিয়ামত দিয়েছেন, যাদের উপর আপনার ক্রোধ আপতিত হয়ন এবং যারা পথভ্রষ্টও নয়।” ( সূরা আল-ফাতিহা: ৬–৭ )। বস্তুত পথভ্রষ্ট হচ্ছে ঐ ব্যক্তি, যে হক তথা সত্যকে চিনতে পারে নি, যেমন খ্রিষ্টানগণ; আর অভিশপ্ত হল ঐ বিপথগামী ব্যক্তি, যে সত্যকে জানে এবং তার বিপরীত কাজ করে, যেমন ইয়াহূদীগণ ...; আর ‘সরল পথ’ সত্যকে জানা ও তার উপর আমল করাকে অন্তর্ভুক্ত করে, যেমনটি সুন্নাহ-ভিত্তিক দো‘আর মধ্যে রয়েছে:

« اللهم، أرني الحق حَقّا ووفّقني لاتباعه، وأرني الباطل باطلا ووفّقني لاجتنابه، ولا تَجْعَلْه مشتبهًا علي فاتبع الهوى » .

“হে আল্লাহ! আপনি আমাকে সত্যকে সত্যরূপে দেখিয়ে দিন এবং আমাকে তার অনুসরণ করার তাওফীক দিন; আর বাতিলকে বাতিলরূপেই আমাকে দেখিয়ে দিন এবং আমাকে তা বর্জন করার তাওফীক দিন; আর আপনি তাকে আমার জন্য সন্দেহ-সংশয়পূর্ণ করবেন না, তাহলে যে আমি প্রবৃত্তির অনুসরণ করে বসব।” [পৃ. ১৯, ১ম খণ্ড ]।

১. প্রশ্ন: শিয়া-রাফেযী সম্প্রদায়ের ব্যাপারে শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যা র. এর বক্তব্য কী?

১. উত্তর: তারা অজ্ঞতা ও যুলুমের দিক বিবেচনায় ভীষণভাবে প্রবৃত্তির পূজারী; নবীগণের পরে প্রথম সারির মুহাজির ও আনসার এবং যাঁরা তাঁদেরকে উত্তমভাবে অনুসরণ করেছে (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তাঁরাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট), তাঁদের মধ্যকার আল্লাহ তা‘আলার উত্তম বন্ধুদের সাথে তারা (রাফেযীরা) শত্রুতা করে; পক্ষান্তরে তারা ইয়াহূদী, খ্রিষ্টান, মুশরিক এবং নুসাইরি (তথাকথিত সিরিয়ার আলাভী সম্প্রদায়), ইসমাঈলিয়্যা (আগাখানী সম্প্রদায়) ও অন্যান্য পথভ্রষ্ট নাস্তিকদের বিভিন্ন কাফির ও মুনাফিকদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করে। [পৃ. ২০, ১ম খণ্ড]।


২. প্রশ্ন: তারা কি ইয়াহূদীদের সহযোগিতাকারী ?

২. উত্তর: রাফেযীরা কর্তৃক ইয়াহূদীদেরকে সহযোগিতা করার বিষয়টি একটি প্রসিদ্ধ বিষয়। [পৃ. ২১, ১ম খণ্ড]।


৩. প্রশ্ন: তাদের কিছু সংখ্যক দাবি করে যে, তাদের অন্তর পবিত্র, আপনাদের বক্তব্য কী ?

৩. উত্তর: সবচেয়ে নিকৃষ্ট অন্তর হলো, কোনো বান্দার অন্তরে উত্তম মুমিনগণ এবং নবীগণের পরে আল্লাহর ওলী তথা বন্ধুদের নেতৃত্বের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা। [ পৃ. ২২, ১ম খণ্ড ]।


৪. প্রশ্ন: কখন তাদেরকে ‘রাফেযী’ উপাধিতে ভূষিত করা হয় এবং কেন ? আর কে এই উপাধি দেন ?

৪. উত্তর: যায়েদ (ইবন আলী ইবন হুসাইন) এর আবির্ভাবের সময় থেকে শিয়া সম্প্রদায় রাফেযী ও যায়েদিয়া উপদলে বিভক্ত হয়ে যায়; কারণ, যখন যায়েদকে আবূ বকর ও ওমর রা. সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো, তখন তিনি তাঁদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেন; তখন একটি দল তাকে প্রত্যাখ্যান করে; ফলে তিনি তাদেরকে লক্ষ্য করে বলেন: " رفضتموني " অর্থাৎ তোমরা আমাকে প্রত্যাখ্যান বা অস্বীকার করেছ। অতএব তারা তাকে প্রত্যাখ্যান বা অস্বীকার করেছে বিধায় তাদেরকে ‘রাফেযী’ নামে নামকরণ করা হয়েছে। আর শিয়া সম্প্রদায়ের মধ্য থেকে যে বা যারা তাকে প্রত্যাখ্যান বা অস্বীকার করেনি তার সাথে তাদের সম্পর্কযুক্ত করার কারণে তাদেরকে ‘যায়েদিয়া’ নামে নামকরণ করা হয়েছে। [ পৃ. ৩৫, ১ম খণ্ড ]।


৫. প্রশ্ন: রাফেযীরা সাহাবীগণের মধ্য থেকে কাদেরকে নির্দোষ বলে মনে করে ?

৫. উত্তর: তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সকল সাহাবীর মধ্য থেকে অল্প সংখ্যক সাহাবীকে নির্দোষ বলে মনে করে, যাদের সংখ্যা দশজনের কিছু বেশি। [পৃ.৩৯,১ম খণ্ড]।


৬. প্রশ্ন: তাদের মধ্যে মিথ্যা ও অজ্ঞতার পরিমাণ বেশি কেন ?

৬. উত্তর: যখন তাদের মাযহাবের মূলভিত্তি ছিল মূর্খতা বা অজ্ঞতার উপর নির্ভরশীল, তখন তাদের গোষ্ঠীসমূহ অধিক হারে মিথ্যাবাদী ও মূর্খ হয়ে থাকে। [ পৃ. ৫৭, ১ম খণ্ড ]।


৭. প্রশ্ন: রাফেযীরা কিসের দ্বারা বিশেষভাবে চিহ্নিত?


৭. উত্তর: আলেমগণ সাধারণ বর্ণনা, রিওয়ায়েত ও সনদের মাধ্যমে এই কথার উপর ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, রাফেযীরা চরম মিথ্যাবাদী গোষ্ঠী; আর তাদের মাঝে মিথ্যার বিষয়টি অনেক পুরাতন বিষয়; আর এই জন্যই ইসলামের ইমামগণ তাদেরকে অধিক হারে মিথ্যা বলার স্বাতন্ত্র্য বৈশিষ্ট্যর অধিকারী বলে জানতেন। [ পৃ. ৫৯, ১ম খণ্ড ]।


৮. প্রশ্ন: তারা মিথ্যা ও প্রতারণাকে পবিত্র মনে করে— এই কথাটা কি সঠিক এবং তারা তাকে কী নামে নামকরণ করে?

৮. উত্তর: তারা বলে: আমাদের ধর্ম হল ‘তাকিয়্যা’ !! আর তা হলো: তাদের কোনো ব্যক্তির মনের মধ্যে যা আছে, তার মুখের ভাষায় তার বিপরীত কথা বলা। বস্তুত এটা হল নিরেট মিথ্যা ও কপটতা (নিফাকী)। [ পৃ. ৬৮, ১ম খণ্ড ]।


৯. প্রশ্ন: মুসলিম শাসনকর্তাদের ব্যাপারে রাফেযীদের অবস্থান কী?

৯. উত্তর: তারা হচ্ছে মুসলিম শাসনকর্তাদের বিরোধিতায় সবচেয়ে কট্টরপন্থী মানুষ এবং তাদের আনুগত্য করা থেকে বহু দূরে অবস্থানকারী মানুষ; তবে বাধ্য হয়ে তাদের আনুগত্য করে। [ পৃ. ১১১, ১ম খণ্ড ]।


১০. প্রশ্ন: কিভাবে তাদের কর্মকাণ্ডসমূহকে মূল্যায়ণ করা হবে?


১০. উত্তর: সেই ব্যক্তির চেষ্টা-প্রচেষ্টার চেয়ে কোন্ চেষ্টাসাধনা সবচেয়ে বেশি ব্যর্থ, যে ব্যক্তি দীর্ঘ পরিশ্রম করে ক্লান্ত হয়ে যায়, বেশি বেশি অসার কথা বলে, মুসলিম সমাজে বিভেদ সৃষ্টি করে, সাহাবী ও তাবে‘য়ীগণকে অভিশাপ দেয়, কাফির ও মুনাফিকদেরকে সহযোগিতা করে, বিভিন্ন রকম কুটকৌশল ও প্রতারণার আশ্রয় গ্রহণ করে, যথাসম্ভব নতুন পথ ও মত তৈরি করে, মিথ্যা সাক্ষ্য’র মাধ্যমে শক্তি সঞ্চয় করে এবং তার অনুসারীদেরকে প্রতারণার জাল সম্পর্কে কথা বলে। [ পৃ. ১২১, ১ম খণ্ড ]।


১১. প্রশ্ন: তাদের তথাকথিত ইমামদের ব্যাপারে তাদের বাড়াবাড়ি কোন সীমা পর্যন্ত পৌঁছেছে?

১১. উত্তর: তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে তাদেরকে রব (প্রভু) হিসেবে গ্রহণ করেছে। [ পৃ. ৪৭৪, ১ম খণ্ড ]।


১২. প্রশ্ন: রাফেযীরা কি কবর পূজারীদের অন্তর্ভুক্ত ?

১২. উত্তর: তাদের শাইখ ইবনু নু‘মান ... একটি কিতাব রচনা করেছে, যার নাম দিয়েছে ‘মানাসিকুল মাশাহিদ’ (مناسك المشاهد), বা কবরের হাজ্জ। সে কিতাবে ঐ ব্যক্তি মানুষের কবরকে তীর্থস্থানে পরিণত করেছে, যেমনিভাবে কাবা ঘরে হাজ্জ করা হয়। [ পৃ. ৪৭৬, ১ম খণ্ড ]।


১৩. প্রশ্ন: তাদের মূলনীতিগুলো কি মিথ্যা ও কপটতার অন্তর্ভুক্ত ?

১৩. উত্তর: আল্লাহ তা‘আলা মুনাফিকদেরকে সম্পর্কে জানিয়ে দিয়েছেন যে, তারা মুখে এমন কথা বলে, যা তাদের অন্তরে নেই; আর রাফেযীরাও এটাকে তাদের ধর্মের মূলনীতিসমূহের অন্তর্ভুক্ত করে নিয়েছে এবং তারা তাকে ‘তাকিয়্যা’ ( التقيّة ) নাম দিয়েছে; আর তারা এটাকে আহলে বাইতের ইমামগণের পক্ষ থেকে বলে বর্ণনা করে, যাঁদেরকে আল্লাহ তা‘আলা এর থেকে মুক্ত রেখেছেন, এমনকি তারা জা‘ফর সাদিকের নিকট থেকে বর্ণনা করে যে, তিনি বলেছেন: ‘তাকিয়্যা’ ( التقيّة ) হচ্ছে আমার এবং আমার পূর্বপুরুষগণের ধর্ম। অথচ আল্লাহ তা‘আলা আহলে বাইত ও তাঁরা ভিন্ন অন্যান্য মুমিনদেরকেও এর থেকে পবিত্র করে রেখেছেন। কারণ আহলে বাইত বা নবী পরিবারের সদস্যগণ ছিলেন সত্যবাদিতা ও ঈমানের বাস্তবতায় শ্রেষ্ঠ মানুষদের অন্তর্ভুক্ত, আর তাঁদের দীন ছিল ‘তাকওয়া’ (আল্লাহ ভীতি), ‘তাকিয়্যা’ (মিথ্যা বলা) নয়। [ পৃ. ৪২, ২য় খণ্ড ]।


১৪. প্রশ্ন: কোন্ শ্রেণীর মানুষের মাঝে রাফেযীদের পাওয়া যাবে ?

১৪. উত্তর: যাদের মধ্যে অধিকাংশ রাফেযীদেরকে পাওয়া যাবে: তারা হয়ত নাস্তিক, মুনাফিক ও ধর্মত্যাগী; অথবা তাদেরকে পাওয়া যাবে জাহিল তথা মূর্খদের মাঝে, যাদের কুরআন-সুন্নাহর বর্ণনা ভিত্তিক ও যুক্তি-বুদ্ধি ভিত্তিক কোনো জ্ঞান নেই। [ পৃ. ৮১, ২য় খণ্ড ]।


১৫. প্রশ্ন: রাফেযীদের নিকট সঠিক দ্বীনদারী ও জিহাদ আছে কি ?

১৫. উত্তর: দুনিয়ার প্রতি তাদের ভালবাসা এবং তার প্রতি তাদের লোভ-লালসার বিষয়টি সুস্পষ্ট; আর এই জন্য তারা হোসাইন রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর কাছে চিঠি লিখেছিল; অতঃপর তিনি যখন তাদের নিকট তাঁর চাচতো ভাইকে পাঠালেন, তারপর তিনি যখন স্বশরীরে আগমন করলেন, তখন তারা তাঁর সাথে প্রতারণা করেছে এবং দুনিয়ার বিনিময়ে আখেরাতকে বিক্রয় করে দিয়েছে; তারা তাঁকে তাঁর শত্রুর কাছে সমর্পণ করেছে এবং তারা তাঁর শত্রুর সাথে যোগ দিয়ে তাঁকে হত্যা করেছে; সুতরাং ঐসব লোকদের নিকট কোন্ দ্বীনদারী থাকতে পারে? আর তাদের নিকট কোন্ জিহাদই বা আছে? আলী ইবন আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু তাদের নিকট থেকে এমন বহু তিক্ত অভিজ্ঞতার স্বাদ গ্রহণ করেছেন, যা আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ জানেন না, এমনকি তিনি তাদের বিরুদ্ধে বদদো‘আও করেছেন। তিনি বলেছেন: “হে আল্লাহ আমি তাদের উপর বিরক্ত, আর তারাও আমার উপর বিরক্ত। সুতরাং আপনি আমার জন্য তাদের জায়গায় তাদের চেয়ে ভালো লোকের ব্যবস্থা করে দিন। আর তাদের জন্যও আমার জায়গায় আমার চেয়ে খারাপ লোকের ব্যবস্থা করে দিন।” [ পৃ. ৯০ - ৯১, ২য় খণ্ড ]।


১৬. প্রশ্ন: তারা (রাফেযীরা) কি পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত ?

১৬. উত্তর: তাদের চেয়ে অন্য কোনো সম্প্রদায়কে এত অধিক পথভ্রষ্ট পাওয়া যায় কি, যারা আনসার ও মুহাজিরগণের প্রথম সারির সাহাবীগণের প্রতি শত্রুতা পোষণ করে এবং কাফির ও মুনাফিকদেরকে বন্ধু বলে গ্রহণ করে। [ পৃ. ৩৭৪, ৩য় খণ্ড ]।


১৭. প্রশ্ন: অন্যায়-অশ্লীলতার ব্যাপারে তাদের (রাফেযীদের) অবস্থান কী ?

১৭. উত্তর: তারা অধিকাংশ সময়ে তাদের কৃত অন্যায় কর্ম থেকে পরস্পর পরস্পরকে নিষেধ করে না; বরং তাদের বাড়িঘর অবস্থিত দেশ বা অঞ্চল সর্বাধিক যুলুম ও অশ্লীলতা-বেহায়াপনার মত মন্দ কর্মে ভরপুর। [ পৃ. ৩৭৬, ৩য় খণ্ড ]।


১৮. প্রশ্ন: কাফিরদের ব্যাপারে তাদের (রাফেযীদের) অবস্থান কী ?

১৮. উত্তর: তারা সবসময় কাফির তথা মুশরিক, ইয়াহূদী ও খ্রিষ্টানগণকে বন্ধু বলে গ্রহণ করে এবং মুসলিমদেরকে নিধন করা ও তাদের সাথে শত্রুতা পোষণ করার ব্যাপারে তাদেরকে সহযোগিতা করে। [ পৃ. ৩৭৮, ৩য় খণ্ড ]।


১৯. প্রশ্ন: আল্লাহর দীনের মধ্যে তারা (রাফেযীরা) কী অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছে ?


১৯. উত্তর: আল্লাহর দীনের মধ্যে তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর এমন মিথ্যার অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছে, যে ধরনের মিথ্যারোপ তারা ভিন্ন অন্য কেউ করেনি; আর তারা এমনভাবে সত্যকে প্রত্যাখ্যান করেছে, যেমনিভাবে তারা ভিন্ন অন্য কেউ তা প্রত্যাখ্যান করেনি; আর তারা আল-কুরআনকে এমনভাবে বিকৃত করেছে, যে ধরনের বিকৃতি তারা ভিন্ন অন্য কেউ করেনি। [ পৃ. ৪০৪, ৩য় খণ্ড ]।


২০. প্রশ্ন: বিভিন্ন বিষয়ে আহলে বাইতের ইজমার বিরোধিতার কারণে রাফেযীদের দ্বারা আহলে বাইতের অনুসরণ করার দাবির বিষয়টির বিশুদ্ধতা কতটুকু?

২০. উত্তর: কোনো সন্দেহ নেই যে, তারা সাহাবীগণের ইজমার বিরুদ্ধাচরণের সাথে সাথে আহলে বাইত তথা নবী পরিবারের ইজমারও বিরোধিতা করেছে; কারণ, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে এবং আবূ বকর, ওমর, ওসমান ও আলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমের যুগে নবী পরিবার- বনু হাশিমের মধ্যে এমন কোনো ব্যক্তি ছিলেন না যিনি দ্বাদশ ইমামের কথা বলতেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরে কাউকে মাসুম বা নিষ্পাপ বলতেন এবং তিন খলিফা (আবূ বকর, ওমর ও ওসমান) কে কাফির বলতেন (নাউযুবিল্লাহ); এমনকি (তাঁদের মধ্যে) এমন কেউ ছিলেন না যিনি তাঁদের (আবু বকর, উমর ও উসমানের) নেতৃত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেন, (আল্লাহর) গুণাবলী অস্বীকার করতেন এবং তাকদীরকে অস্বীকার করতেন। [ পৃ. ৪০৬ - ৪০৭, ৩য় খণ্ড ]। (অর্থাৎ একাজগুলোই রাফেযীরা করে থাকে, ফলে তারা আহলে বাইতের ইজমা তথা ঐকমত্যেরও বিরোধিতা করেছে।)


২১. প্রশ্ন: রাফেযীদের সাথে সংশ্লিষ্ট বিশেষ কিছু খারাপ গুণ উল্লেখ করবেন বলে কি আমরা আশা করতে পারি ?

২১. উত্তর: যে মিথ্যা তাদের মধ্যে পাওয়া যায়, সত্যকে অস্বীকার করা, অধিক মূর্খতা, অসম্ভবের প্রতি বিশ্বাস, বিবেক-বুদ্ধির কমতি, প্রবৃত্তির অনুসরণের ক্ষেত্রে চরম বাড়াবাড়ি এবং অস্পষ্ট বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্টতা, অনুরূপ বৈশিষ্ট্য অপর কোনো দল বা গোষ্ঠীর মধ্যে পাওয়া যায় না। [ পৃ. ৪৩৫, ৩য় খণ্ড]।


২২. প্রশ্ন: রাফেযীরা সাহাবীদের ব্যাপারে মিথ্যা অপবাদ দেয় কেন ?

২২. উত্তর: রাফেযীরা সাহাবীগণ ও তাঁদের বর্ণনার ব্যাপারে মিথ্যা অপবাদ দেয়; তাদের এই কাজের অভ্যন্তরীণ উদ্দেশ্য হলো: আল্লাহর রাসূলের রিসালাতকে প্রশ্নবিদ্ধ করা। [ পৃ. ৪৬৩, ৩য় খণ্ড ]।


২৩. প্রশ্ন: কাকে কেন্দ্র করে শিয়া সম্প্রদায় পরিচালিত হয় ?

২৩. উত্তর: শিয়াদের এমন কোন নেতৃবৃন্দ নেই, যাদেরকে তারা সরাসরি সম্বোধন করবে; তবে তাদের কিছু ইমাম বা নেতা রয়েছে যারা অন্যায়ভাবে তাদের ধন-সম্পদ ভক্ষণ করে এবং তাদেরকে আল্লাহর পথে চলতে বাধা প্রদান করে। [ পৃ. ৪৮৮, ৩য় খণ্ড ]।


২৪. প্রশ্ন: রাফেযীদের ইমাম বা নেতারা তাদের অনুসারীদেরকে কিসের নির্দেশ দেয় ?

২৪. উত্তর: তারা তাদেরকে আল্লাহর সাথে শরীক করতে এবং ‘গাইরুল্লাহ’ তথা আল্লাহ ভিন্ন অন্যের পূজা করতে নির্দেশ প্রদান করে; আর তাদেরকে আল্লাহর পথে চলতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে; ফলে তারা ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল’ –এই সাক্ষ্য দানের বাস্তবতা থেকে বের হয়ে যায়; কারণ, তাওহীদের হাকীকত তথা বাস্তবতা হল, একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা; তাঁকে ছাড়া অন্য কাউকে না ডাকা, তাঁকে ছাড়া অন্য কাউকে ভয় না করা, তাঁকে ছাড়া অন্য কারোর উপর ভরসা না করা এবং দীনকে শুধু তাঁর জন্য নির্দিষ্ট করা, অন্য কোনো সৃষ্টির জন্য নির্দিষ্ট না করা; আর ফিরিশ্তা ও নবীদেরকে রব বা প্রভু বলে গ্রহণ না করা। সুতরাং ইমাম, শাইখ, আলেম ও রাজা প্রমুখের সাথে বিশ্বাস ও ইবাদতের সম্পর্ক হবে কিভাবে ! [ পৃ. ৪৯০, ৩য় খণ্ড]।


২৫. প্রশ্ন: শাহাদাৎ তথা সাক্ষ্য প্রদানের ব্যাপারে তাদের (রাফেযীদের) অবস্থান কী ?


২৫. উত্তর: রাফেযীরা ... যদি সাক্ষ্য দেয়, তাহলে তারা এমন বিষয়ে সাক্ষ্য দেয়, যার সম্পর্কে তারা জানে না, অথবা তারা জেনে-বুঝে মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়; সুতরাং তাদের অবস্থান হল এমন, যেমনটি ইমাম শাফে‘য়ী র. বলেছেন: “আমি রাফেযী সম্প্রদায়ের চেয়ে বেশি মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানকারী অপর কোনো একটি সম্প্রদায়কেও দেখিনি। [ পৃ. ৫০২, ৩য় খণ্ড]।


২৬. প্রশ্ন: রাফেযীদের মূলনীতিসমূহ কি আহলে বাইতগণ প্রণয়ন করেছেন ?

২৬. উত্তর: তারা তাদের সকল মূলনীতির ক্ষেত্রে আলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু এবং আহলে বাইতের সকল ইমামের বিরোধী; বিশেষ করে যে ক্ষেত্রে তারা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের মূলনীতি থেকে পৃথক হয়ে গেছে [ পৃ. ১৬, ৪র্থ খণ্ড ]।


২৭. প্রশ্ন: রাফেযীরা জা‘ফর সাদিকের প্রতি যা সম্পর্কযুক্ত করেছে, সে ব্যাপারে আপনাদের বক্তব্য কী ?


২৭. উত্তর: জা‘ফর সাদিকের পূর্ববর্তীদের উপর মিথ্যা আরোপের চেয়ে তার উপর মিথ্যা আরোপের বিষয়টি অনেক বেশি; মিথ্যাবাদীদের পক্ষ থেকে তার উপর মিথ্যার বিপদটি খুব বেশিই আপতিত হয়েছে। তিনি কখনও এসব মিথ্যার সাথে জড়িত নন। আর এই জন্যই দেখা যায় যে, মিথ্যাবাদিরা তার প্রতি বিভিন্ন প্রকারের মিথ্যা সম্পর্কযুক্ত করেছে। (তাঁর নামে মিথ্যা গ্রন্থ রচনা করেছে) [ পৃ. ৫৪, ৪র্থ খণ্ড ]।


২৮. প্রশ্ন: রাফেযীদের দ্বারা আহলে বাইতের সাথে বংশ-সম্পর্ক দাবি করার ব্যাপারে আপনাদের অভিমত কী ?

২৮. উত্তর: হুসাইন রা. এর বংশধরগণ যেসব বিপদের সম্মুখীন হয়েছে, তন্মধ্যে অন্যতম একটি বড় বিপদ হল রাফেযীদের দ্বারা হুসাইন রা. এর বংশধরদের সাথে বংশ-সম্পর্ক দাবি করা। (অর্থাৎ তাদের এ দাবী সম্পূর্ণ মিথ্যা) [ পৃ. ৬০, ৪র্থ খণ্ড ]।


তথ্যসূত্র

* মিনহাজুস সুন্নাহ আন-নবুবিয়্যাহ ( منهاج السنة النبوية ), আবূ আব্বাস শাইখুল ইসলাম তকী উদ্দীন আহমদ ইবন তাইমিয়্যা র.।

তার মুদ্রণ ও প্রকাশনার ব্যাপারে তত্ত্ববধান করেছে ইদারাতুস সাকাফা ওয়ান নাশরি (إدارة الثقافة والنشر), ইমাম মুহাম্মদ ইবন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়; প্রথম মুদ্রণ: ১৪০৬ হি.

1 টি মন্তব্য:

  1. আমাদের আলেমদের মিলাদ মাফিলে একত্ববাদ বিষয়ে বেশীগুরুত্ব দিয়ে বক্তব্য দেয়া উচিত।

    উত্তর দিনমুছুন