পরকালীন প্রস্তুতি

কুর'আন-সুন্নাহর আলোকে পরকালীন মুক্তির আশায় একটি পরকালমুখী উদ্যোগ

ভুল বুঝতে পারার ফল : হিন্দু হতে মুসলিম

৯৩ সালের ৯ মার্চ আমার পিতা অকস্মাৎ হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। বাবরী মসজিদের শাহাদত এবং তাতে আমার অংশগ্রহণ তাঁকে খুবই আঘাত দিয়েছিল। তিনি প্রায় আমার মাকে বলতেন, মালিক আমাকে মুসলমানদের মধ্যে জন্ম দিলেন না কেন? আমি যদি মুসলমানদের ঘরে জন্ম নিতাম তাহলে অন্তত জুলুম-নিপীড়ন সহ্যকারীদের তালিকায় আমার নাম থাকত। তিনি আমার পরিবারের লোকদেরকে ওসিয়ত করেছিলেন, আমি মারা গেলে আমার লাশের খাটিয়ার (আরতির) কাছে যেন বলবীর না আসে, প্রথা ও রেওয়াজ মাফিক আগুনে যেন পোড়ানো না হয়। হিন্দুদের শ্মশানে যেন না নেওয়া হয়। পরিবারের লোকেরা তাঁর অন্তিম ইচ্ছা মুতাবিক সব কিছু করে। আট দিন পর আমি আমার পিতার মৃত্যুর খবর পাই। এতে আমার মন ভেঙে যায়। তাঁর মৃত্যুর পর বাবরী মসজিদ ভাঙ্গা আমার কাছে জুলুম মনে হতে থাকে এবং গর্বের পরিবর্তে আফসোস হতে থাকে। আমার দিল্ যেন হঠাৎ দপ করে নিভে যায়। আমি বাড়ি গেলে মা আমার পিতার কথা স্মরণ করে কাঁদতে থাকেন এবং বলতে থাকেন যে, এমন দেবতার মতো বাপকে তুই কষ্ট দিয়ে মেরে ফেললি! তুই কতটা নিচ ও হীন জাতের মানুষ। মায়ের এ ধরনের আচরণের কারণে আমি বাড়ি যাওয়া বন্ধ করে দিই।

জুন মাসে মুহাম্মদ ওমর (নও মুসলিম) তাবলিগ জামায়াত থেকে ফিরে এল। সে পানি পথে আমার সঙ্গে দেখা করল এবং তার পুরো ঘটনা আমাকে বলল। বিগত দুু’মাস থেকে আমার মন সব সময় ভীত-সন্ত্রস্ত থাকত,না জানি কোন আসমানী বালা-মুসীবত আমার ওপর এসে পড়ে। পিতার দুঃখ ও মনোকষ্ট এবং বাবরী মসজিদের শাহাদতের দরুন আমার মন সব সময় সন্দিগ্ধ থাকত। মুহাম্মদ ওমরের কথা শুনে আমি আরও বেশি পেরেশান হয়ে পড়লাম। ওমর ভাই আমাকে আরও বেশি জোর দিলেন, আমি যেন ২৩ জুন তারিখে সোনীপথে যখন মাওলানা সাহেব আসবেন তাঁর সাথে গিয়ে অবশ্যই দেখা করি। আরও ভালো হয় যদি তাঁর সঙ্গে আমি কিছু দিন থাকি। আমি প্রোগ্রাম বানালাম। কিন্তু পৌঁছুতে আমার কিছুটা দেরি হয়। ওমর ভাই আমার আগেই পৌঁছে গিয়েছিল এবং মাওলানা সাহেবকে আমার অবস্থা সম্পর্কে সব বলেছিল। আমি সেখানে গেলে মাওলানা সাহেব আমাকে সাগ্রহে কাছে টেনে নিলেন এবং বললেন, আপনার আন্দোলনে এই গোনাহ করার জন্য যোগীন্দরের সঙ্গে যদি সর্বময় মালিক এরূপ করতে পারেন তাহলে আপনার সঙ্গেও একই রূপ ব্যবহার করা হতে পারে । আর মালিক যদি এই জগতে শাস্তি নাও দেন তাহলে মৃত্যর পর চিরস্থায়ী জীবনে যেই শাস্তি মিলবে আপনি তা কল্পনাও করতে পারবেন না।

এক ঘণ্টা সাথে থাকার পর আমি সিদ্ধান্ত নিলাম, আসমানী বালার হাত থেকে বাঁচতে হলে আমাকে অবশ্যই মুসলমান হতে হবে, মুসলমান হওয়া দরকার। মাওলানা সাহেব দু’দিনের জন্য বাইরে কোন সফরে যাচ্ছিলেন। আমি আরও দু’দিন তাঁর সাথে থাকার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করলাম। তিনি খুব খুশি হয়েই অনুমতি দিলেন। একদিন হরিয়ানা, এরপর দিল্লী ও খোর্জার সফর ছিল। দু’দিন পর তিনি ফুলাত ফিরে এলেন। এ দু’দিন আমার মন ইসলাম গ্রহণের জন্য তৈরি হয়ে গিয়েছিল। আমি ওমর ভাইকে আমার ইচ্ছার কথা বললাম। সে খুব খুশি হয়ে মাওলানা সাহেবকে তা জানাল। আলহামদুলিল্লাহ! ২৫ জুন ১৯৯৩ বাদযোহর আমি ইসলাম কবুল করি। মাওলানা সাহেব আমার নাম রাখেন মুহাম্মদ আমের। ইসলাম সম্পর্কে পড়াশোনা এবং নামাযের নিয়ম-কানুন ও দরকারী মাসলা-মাসায়েল শেখার জন্য তিনি আমাকে কিছুদিন ফুলাত থাকার পরামর্শ দিলেন। আমি আমার স্ত্রী ও ছোট বাচ্চাদের সমস্যার কথা বললে তিনি বাড়ির ব্যবস্থা করে দিলেন। আমি কয়েক মাস ফুলাত এসে থাকলাম এবং আমার স্ত্রীর ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে কাজ করতে থাকি। তিন মাস পর আলহামদুলিল্লাহ! আমার স্ত্রীও মুসলমান হয়ে যায়।

কোন মন্তব্য নেই