পরকালীন প্রস্তুতি

কুর'আন-সুন্নাহর আলোকে পরকালীন মুক্তির আশায় একটি পরকালমুখী উদ্যোগ

সালাফী, আহলে হাদীছ ইত্যাদি নাম ধারণ সম্পর্কে মাননীয় শাইখ বিন বায (রহ.) এর বক্তব্য

আল হামদুলিল্লাহ- আমাদের এই যুগে অনেক ‘জামাআত’ আছে যারা মানুষকে হকের প্রতি আহবান জানিয়ে থাকে। যেমন আরব উপদ্বীপে সৌদী সরকার, অনুরূপভাবে ইয়ামান, গালফের দেশ সমূহে, মিশর ও শামে, আফ্রিকা, ইউরোপ, আমেরিকা, ভারত উপমহাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অনেক জামাআত, ইসলামী সেন্টার, ইসলামী সংস্থা আছে যারা মানুষকে হকের পথে আহবান করে, হকের সুসংবাদ প্রদান করে এবং বাতিল থেকে মানুষকে সতর্ক করে।

অতএব সত্য অনুসন্ধানকারী মুসলিমের উপর আবশ্যক হচ্ছে, সে যেখানেই থাকুক এই ‘জামাআত’গুলো খুঁজে বের করবে। যখন সে এমন জামাআত বা ইসলামী সেন্টার বা জমঈয়ত ইত্যাদি পাবে, যারা আল্লাহর কিতাব ও রাসূল সা.এর সুন্নাতের প্রতি দাওয়াত দেয়, তখন তাদের অনুসরণ করবে এবং তাদের সাথেই থাকবে।

যেমন: সুদান ও মিশরে আছে ‘আনসারুস সুন্নাহ’। ভারত উপমহাদেশে আছে ‘আহলে হাদীছ’। এছাড়া আরো অন্য দেশে বিভিন্ন ‘জামাআত’ আছে যারা মানুষকে আল্লাহর কিতাব ও রাসূল সা.এর সুন্নাতের প্রতি আহবান জানায়। দাওয়াত দেয় এক আল্লাহর ইবাদতকে তাঁর জন্যে খালেস ও নির্ভেজাল করার। কবর পুজারী ও অন্যান্য বাতিল ফিরকার মত তাঁরা আল্লাহর সাথে শিরকের দিকে মানুষকে আহবান করে না। (মাজমূ ফাতাওয়া- শাইখ বিন বায ৮/১৮১)

সম্মানিত শাইখ বলেছেন,
এই সমস্ত জামাআতের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কথা হল: দেখতে হবে তাদের আকীদা ও আমল। যদি সত্যের উপর মুস্তাকীম থাকে, তাওহীদ ও ইখলাসের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকে, কথা-কাজ ও আমলের দিক থেকে রাসূল সা.এর প্রকৃত অনুসারী হয়, তবে এই্ নামগুলোতে কোন সমস্যা নেই। কিন্তু তাঁরা যেন আল্লাহকে ভয় করে চলে এবং সে ব্যাপারে সত্যবাদী হয়।

তাদের মধ্যে কেউ যদি নিজেদের জামাতের পরিচয়ের জন্য নাম রাখে ‘আনসারুস সুন্নাহ’ বা কেউ নাম রাখে ‘সালাফী’ বা কেউ নাম রাখে ‘আহলে হাদীছ’ অথবা কেউ নাম রাখে ‘উমুক জামাআত’.. এগুলোতে কোন সমস্যা নেই যদি তারা সত্যের পথে চলে। হকের উপর মুস্তাকীম থাকে থাকে। আল্লাহর কিতাব ও নবীর সুন্নাতের অনুসরণ করে এবং এ দুটি থেকেই যাবতীয় ফায়সালা গ্রহণ করে। আর এ দুটির ভিত্তিতে আকীদা, কথা ও আমলে মুস্তাকীম থাকে।

এই জামাআতগুলোর মধ্যে কেউ যদি কোন বিষয়ে ভুল করে, তবে আহলে ইলমের তথা উলামাদের উপর ওয়াজিব হচ্ছে তাদেরকে সতর্ক করা এবং দলীল ভিত্তিক তাদেরকে হকের নির্দেশনা দেয়া।

মূল কথা হচ্ছে, আমরা অবশ্যই পূণ্য ও তাকওয়ার ভিত্তিতে পরস্পরকে সহযোগিতা করব। আমাদর পরস্পরের সমস্যাগুলো ইলম, হিকমত ও উত্তম পন্থায় সমাধান করব। এই জামাআতগুলোর মধ্যে কোথাও যদি আকীদা সংক্রান্ত, ফরয বা হারাম সংক্রান্ত বিষয়ে কোন ভুল পরিলক্ষিত হয়, তবে শরীয়তের দলীল উল্লেখ করে নম্র ভাষায়, হিকমতের সাথে ও উত্তম পন্থায় তাদেরকে সতর্ক করব। যাতে করে তাঁরে হকের দিকে ফিরে আসে এবং তা কবুল করে। এমন ব্যবহার করব না যাতে তারা পালিয়ে যায়। ইসলামের অনুসারীদের উপর এটাই হচ্ছে ওয়াজিব যে, তারা পূর্ণ ও তাক্বওয়ার ভিত্তিতে পরস্পরকে সহযোগিতা করবে। পরস্পরকে নসীহত করবে।

পরস্পরকে অপমানিত ও অপদস্থ করবে না, যাতে শত্রুরা তাদের বিরুদ্ধে সুযোগ পেয়ে যায়। (মাজমূ ফাতাওয়া- শাইখ বিন বায ৮/১৮৩)


অনুবাদক: শাইখ আব্দুল্লাহ আল কাফী
লিসান্স, মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, সউদী আরব
দাঈ ও গবেষক, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদী আরব।

কোন মন্তব্য নেই