পরকালীন প্রস্তুতি

কুর'আন-সুন্নাহর আলোকে পরকালীন মুক্তির আশায় একটি পরকালমুখী উদ্যোগ

প্রশ্নোত্তরের ইসলাম : পবিত্রতা

প্রশ্নঃ ফরয গোসল বিশুদ্ধ হওয়ার পূর্বশর্ত কি নিয়ত করা?

উত্তরঃ হ্যাঁ, যেহেতু ফরয গোসল একটি ইবাদত।

প্রশ্নঃ ফরয গোসলের ক্ষেত্রে কোন বিষয়ে সবচেয়ে গুরুত্বারোপ করতে হবে?

উত্তরঃ সমস্ত শরীর ভিজানো- কোন কিছু যেন শুকনা না থাকে।

প্রশ্নঃ নাপাক ব্যক্তির উপর কোন কাজটি করা হারাম? নামায  নাকি খানাপিনা ?

উত্তরঃ নামায

প্রশ্নঃ হায়েয-নেফাস শেষ হলে গোসল করা সুন্নাত। সত্য না মিথ্যা?

উত্তরঃ মিথ্যা, বরং তখন গোসল করা ফরয।

প্রশ্নঃ স্ত্রী সহবাস করার পর যদি বীর্যপাত না হয়, তবে করার বিধান কি?

উত্তরঃ গোসল করা ওয়াজিব।

প্রশ্নঃ নাপাক ব্যক্তির উপর কি কি হারাম?

উত্তরঃ নামায, তওয়াফ, কুরআন স্পর্শ ও পাঠ করা, মসজিদে অবস্থান করা।

প্রশ্নঃ কোন ধরণের শুকনো বস্তু দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা যায়?

উত্তরঃ মাটি দ্বারা তায়াম্মুমের মাধ্যমে।

প্রশ্নঃ তায়াম্মুম করে নামায পড়ার পর সময় পার হওয়ার আগেই যদি পানি পাওয়া যায়, তবে নামায কি ফিরিয়ে পড়তে হবে?

উত্তরঃ না, নামায ফিরিয়ে পড়তে হবে না।

প্রশ্নঃ কোন ধরণের অসুস্থতায় তায়াম্মুম করতে পারবে?

উত্তরঃ পানি ব্যবহার করলে যদি অসুখ বেড়ে যায়, বা ভাল হতে দেরী হয়, তবে তায়ম্মুম করতে পারবে।

প্রশ্নঃ কোন ধরণের নাপাকীতে তায়াম্মুম করতে পারবে?

উত্তরঃ ছোট-বড় সব ধরণের নাপাকীতে।

প্রশ্নঃ সংক্ষেপে তায়াম্মুমের পদ্ধতি উল্লেখ কর?

উত্তরঃ দুহাতে পবিত্র মাটি নিয়ে, তাতে ফুঁ দিয়ে মুখমন্ডল ও দুহাতের কব্জি পর্যন্ত মাসেহ করবে।

প্রশ্নঃ তায়াম্মুমের জন্য কয়বার মাটি নিতে হবে?

উত্তরঃ একবার।

প্রশ্নঃ নামায বিশুদ্ধ হওয়ার পূর্বশর্ত কি?

উত্তরঃ পবিত্রতা।

প্রশ্নঃ ওযুর ফরয কয়টি ও কি কি?

উত্তরঃ ওযুর ফরয ৬টি।

ক) সমস্ত মুখমন্ডল ধৌত করা।

খ) কুনুই পর্যন্ত দুহাত ধৌত করা।

গ) সম্পূর্ণ মাথা মাসেহ করা।

ঘ) টাখনুসহ দুপা ধৌত করা।

ঙ) তারতীব (ধারাবাহিকতা) রক্ষা করা।

ছ) পরষ্পর করা। (এক অঙ্গ না শুকাতে অন্য অঙ্গ ধৌত করা)

প্রশ্নঃ ওযুর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কি তিনবার করে ধৌত করা ওয়াজিব?

উত্তরঃ না, বরং সুন্নাত।

প্রশ্নঃ ওযুর শুরুতে কি বলতে হয়?

উত্তরঃ বিসমিল্লাহ।

প্রশ্নঃ রাসূল (সাল্লাল্ল­াহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, “ক্বিয়ামত দিবসে আমার উম্মতের পরিচয় হচ্ছে, তাদের কপাল ও পদযুগল শুভ্র আলোকময় হবে।” কি কারণে তা হবে?

উত্তরঃ ওযুর কারণে

প্রশ্নঃ কোন সময় দুহাত কব্জি পর্যন্ত ধৌত করা ওয়াজিব?

উত্তরঃ নিদ্রা থেকে উঠে পানির পাত্রে হাত প্রবেশ করানোর আগে।

প্রশ্নঃ টয়লেটে প্রবেশ ও সেখান থেকে বের হওয়ার আদব কি?

উত্তরঃ প্রথমে বাম পা তারপর ডান দিয়ে প্রবেশ করতে হবে। বের হওয়ার সময় প্রথমে ডান পা তারপর বাম দিয়ে বের হবে।

প্রশ্নঃ ওযু নামায বা যে কোন ইবাদতের শুরুতে নাওয়াইতু.. বলে মুখে নিয়ত উচ্চারণ করার হুকুম কি?

উত্তরঃ নাজায়েয- বিদআত। (হাদীছে এর কোন প্রমাণ নেই)

প্রশ্নঃ কোনো পাত্রে কুকুরে মুখ দিলে কি করতে হবে?

উত্তরঃ পাত্রের বস্তু ফেলে দিয়ে উহা সাতবার ধৌত করতে হবে একবার মাটি দিয়ে।

প্রশ্নঃ পেশাব-পায়খান করার সময় কিবলার দিকে মুখ করে বসার বিধান কি?

উত্তরঃ ফাঁকা মাঠে পেশাব-পায়খানা করলে কিবলা সামনে বা পিছনে রাখা জায়েয নয়।

প্রশ্নঃ কোন দুটি কাজে মানুষের লানত পেতে হয়?

উত্তরঃ রাস্তা এবং ছায়াদ্বার বা ফলদ্বার বৃক্ষের নীচে পেশাব-পায়খানা করলে।

 প্রশ্নঃ পেশাব করার পর কুলুখ ধরে চল্লিশ কদম হাঁটার বিধান কি?

উত্তরঃ বিদআত। (হাদীছে এর কোন প্রমাণ নেই)

 প্রশ্নঃ পবিত্রতার জন্য পানি ব্যবহার করার পূর্বে কি অবশ্যই কলুখ ব্যবহার করতে হবে?

উত্তরঃ আবশ্যক নয়। এটা বাড়াবাড়ি।

প্রশ্নঃ যদি সন্দেহ হয় যে পেশাব শেষ করার পরও যেন কিছু বের হচ্ছে। তখন কি করতে হবে?

উত্তরঃ সন্দেহের দিকে ভ্রুক্ষেপ করবে না। ওযু শেষ করে লজ্জাস্থানের সামনে পানির ছিটা দিবে।

প্রশ্নঃ কোন্‌ কোন্‌ বস্তু দ্বারা কলুখ নেয়া জায়েয নয়?

উত্তরঃ হাড়, গোবর, খাদ্য জাতীয় এবং প্রত্যেক সম্মানিত বস্তু।

প্রশ্নঃ ওযুতে তারতীব রক্ষা করার অর্থ কি?

উত্তরঃ এর অর্থ হচ্ছে, ধারাবাহিকতা রক্ষা করা অর্থাৎ- ওযুর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যেটা আগে ধোয়ার নিয়ম সেটার আগে অন্যটা না ধোয়া।

প্রশ্নঃ পরস্পর ওযু করার অর্থ কি?

উত্তরঃ এক অঙ্গ ধোয়ার পর পরবর্তী অঙ্গ ধৌত করতে এতটুকু দেরী না করা যাতে আগের অঙ্গ শুকিয়ে যায়।

প্রশ্নঃ ওযুতে ঘাড় মাসেহ করার বিধান কি?

উত্তরঃ বিদআত, কেননা এক্ষেত্রে কোন সহীহ হাদীছ নেই।

প্রশ্নঃ কোন্‌ কোন্‌ কাজের জন্য ওযু আবশ্যক?

উত্তরঃ নামায, কাবা ঘরের তওয়াফ ও কুরআন স্পর্শ করার জন্য।

প্রশ্নঃ মেসওয়াক ব্যবহার করার হুকুম কি?

উত্তরঃ সুন্নাত।

প্রশ্নঃ মেসওয়াক ব্যবহার করার উপকারিতা কি?

উত্তরঃ মুখের দুর্গন্ধ দূর হয় এবং এতে আল্লাহ সন্তুষ্ট হন।

প্রশ্নঃ বিশেষভাবে কখন মেসওয়াক করা সুন্নাত?

উত্তরঃ ওযুর পূর্বে, নামাযের পূর্বে, কুরআন পাঠের পূর্বে, নিদ্রা থেকে উঠার পর।

প্রশ্নঃ রোযাদার কি মেসওয়াক করতে পারে?

উত্তরঃ রোযাদারের মেসওয়াক করা সুন্নাত।

প্রশ্নঃ নাক থেকে রক্ত বের হলে কি ওযু নষ্ট হবে?

উত্তরঃ না, ওযু নষ্ট হবে না।

প্রশ্নঃ শরীরের কোন স্থান কেটে অল্প/বেশী রক্ত বের হলে ওযু থাকবে কি?

উত্তরঃ হ্যাঁ, এতে ওযু নষ্ট হয় না। কোন কোন ইমামের মতে অধিক রক্ত বের হলে ওযু নষ্ট হয়ে যায়।

প্রশ্নঃ ওযু ভঙ্গের কারণ কি?

উত্তরঃ পেশাব-পায়খানার রাস্তা দিয়ে কোন কিছু বের হওয়া, নিদ্রা প্রভৃতির মাধ্যমে অজ্ঞান হওয়া, কোন আড়াল ছাড়া লজ্জাস্থান স্পর্শ করা, উটের মাংশ খাওয়া।

প্রশ্নঃ কি খেলে ওযু নষ্ট হয়?

উত্তরঃ উটের মাংশ খেলে ওযু নষ্ট হয়।

প্রশ্নঃ বসে বসে নিদ্রা গেলে কি ওযু নষ্ট হয়?

উত্তরঃ না, বসে বসে কোন কিছুতে হেলান না দিয়ে নিদ্রা গেলে ওযু নষ্ট হয় না।

প্রশ্নঃ ওযুর প্রারম্ভে দুহাত কব্জি পর্যন্ত ধৌত করা ওয়াজিব না সুন্নাত?

উত্তরঃ সুন্নাত।

প্রশ্নঃ পবিত্রাবস্থায় মোজা পরিধান করলে কি তার উপর মাসেহ করা যাবে?

উত্তরঃ হ্যাঁ কোন অসুবিধা নেই।

প্রশ্নঃ কোন্‌ ধরনের পবিত্রতায় মোজার উপর মাসেহ চলবে?

উত্তরঃ ছোট নাপাকী থেকে পবিত্রতা অর্জনের ক্ষেত্রে।





কোন মন্তব্য নেই