পরকালীন প্রস্তুতি

কুর'আন-সুন্নাহর আলোকে পরকালীন মুক্তির আশায় একটি পরকালমুখী উদ্যোগ

রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামেরে কথা ও হাসি

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অত্যন্ত সুন্দর কথোপকথনকারী ও সুমিষ্ট ছিলেন।

হযরত রাফে ইবন খাদীজ (রা) হতে বর্ণিত, হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন, আমি(বাকপটুত্বে ও ভাষার অলংকারে) সবচেয়ে বেশি ফসীহ ও বলীগ। (নাসাঈ ও হাকেম)

হযরত বুরাইদা(রা) থেকে বর্ণিত, বেহেশতীগণ বেহেশতে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ভাষায়(আরবীতে) কথাবার্তা বলবে। (আবুল হাসান ইবন দ্বাহকাক, শামায়েলে)

হযরত ইবন আব্বাস (রা) হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অল্প কথা বলতেন, হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথা এত বিন্যাসের সাথে হত, যেমন মুক্তার মালা। (হাকেম)

হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা) বলেন, হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তোমাদের ন্যায় অধিক কথা বলতেন না।
(তিবরানী)

হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথা সবচেয়ে বেশি সংক্ষেপিত হত, হযরত জিবরাঈল(আ) ও হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যখন যে বিষয়ে প্রয়োজন হত অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত শব্দে তা বলে দিতেন।হযরত ইবন আব্বাস (রা) হতে বর্ণিত, হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথা অত্যন্ত সংক্ষেপ ও কম শব্দে অধিক অর্থ বিশিষ্ট হত, তাতে কম বেশ হওয়ার অবকাশ ছিল না, তাঁর কথা মতির মালার ন্যায় গাঁথা হত। রাসুলুল্লাহ হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেমে থেমে একটু একটু করে কথা বলতেন, যেন শ্রোতারা হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বাণী মুখস্ত করতে পারে।

হযরত হিন্দ ইবন আবি হালা (রা) হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আওয়াজ উচ্চ ও কথা বলার ভঙ্গী মধুর ছিল। (শামায়েলে তিরমিযি)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বেশির ভাগ সময় চুপ থাকতেন, প্রয়োজন ছাড়া আদৌ কথা বলতেন না।হযরত আব্দুল্লাহ ইবন উমার (রা) হতে বর্ণিত, হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অশ্লীল কথা বলতেন না। ক্রোধ ও আবেগ সর্বদাই সত্য কথা বলতেন। (আবু দাউদ)

হযরত আলী(রা) হতে বর্ণিত, যে ব্যক্তি কোন অশ্লীল কথা বলে ফেলত, হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতেন। অগত্যা কোন শক্ত কথা যদি হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বলতেই হত, তবে তা তিনি ইঙ্গিতে বলতেন, কখনও পরিষ্কারভাবে বলতেন না।

হযরত আলী(রা) হতে বর্ণিত, হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন নীরবতা অবলম্বন করতেন, তখন উপস্থিত লোকজন কথা বলতেন, তিনি মজলিসে কারো কথায় বাধা দিতেন না। হযরত জাবের (রা) বলেন, হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শুভাকাংক্ষী হিসেবে হাসি পরিত্যাগ করে লোকদেরকে নসিহত করতেন। (মুসলিম শরীফ)

হযরত আব্দুল্লাহ ইবন হারেস(রা)থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বীয় সাহাবীদের(রা) সামনে বেশি বেশি মুচকি হাসি দিতেন এবং তাদের কথাবার্তার উপর অত্যন্ত আনন্দিত হতেন এবং তাদের সাথে বেশি মিলে মিশে থাকতেন। (তিরমিযি)


একদা একটি গ্রামবাসী রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খেদমতে এমতাবস্থায় হাজির হল, যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মন পেরেশান ছিল, সাহাবায়ে কেরাম(রা) রাসুলুল্লাহর উজ্জ্বল চেহারায় বিষন্নতার ভাব দেখে বুঝে ফেললেন যে, হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মন আজ পেরেশান। ঐ গ্রাম্য ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট কিছু জিজ্ঞেস করতে চাইল, কিন্তু সাহাবায়ে কেরাম (রা) তাকে নিষেধ করলেন যে, এ সময় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মন পেরেশান, এ সময় কিছু জিজ্ঞেস করো না। গ্রাম্য ব্যক্তি বলল, তোমরা আমাকে নিষেধ করো না। ওই সত্ত্বার কসম ! যিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সত্য নবী হিসেবে প্রেরণ করেছেন, আমি হুজুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে না হাসিয়ে ছাড়বো না। সারকথা , ঐ গ্রাম্য ব্যক্তি আরজ করলো যে, ইয়া রাসুলুল্লাহ ! শুনতে পেলাম যে, দাজ্জাল ছরিদ(এক প্রকার খাদ্য) নিয়ে আসবে, আপনার কি এ অনুমতি যে, আমি অনাহারে মারা যাই, আর আদৌ ঐ ছরিদ আহার না করি, না এ অনুমতি যে, আমি ঐ ছরিদ খুব পেট ভরে খেয়ে, আল্লাহ তায়ালার উপর ঈমান এনে তাকে(দাজ্জাল) অস্বীকার করি?
একথা শুনামাত্র রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এত হাসলেন যে, হুজুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দাঁত মোবারক প্রকাশ হয়ে গেল। অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঐ গ্রাম্য ব্যক্তির উত্তরে এরশাদ করলেন, যে বস্তুর দ্বারা আল্লাহ তায়ালা অন্যান্য মুসলমানদেরকে ঐ (দাজ্জাল) কাফের থেকে বেপরোয়া করে দিবেন, তোমাকেও ঐ জিনিসের দ্বারা ঐ অভিশপ্ত থেকে বেপরোয়া করে দিবেন।
হযরত হিন্দ ইবন আবি হালা(রা) বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবাগণ(রা)ও হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুকরণ ও সম্মানার্থে তাঁর সামনে শুধু মুচকি হাসি হাসতেন, উচ্চ হাসি দিতেন না। (শামায়েলে তিরমিযি)


হুজুর হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বদা প্রফুল্লচিত্ত ও আনন্দিত থাকতেন, কিন্তু কোরআন মাজীদ অবতীর্ণ হবার সময়, কেয়ামতের আলোচনার সময় ও ওয়াজের সময়, হুজুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর চেহারায় মুচকি হাসির স্থলে, ভয় ভীতির ভাব প্রকাশ পেত।

হযরত ইবন উমার(রা) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রকৃত সন্তুষ্টির সময় অত্যন্ত আনন্দিত ও প্রফুল্ল থাকতেন, হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওয়াজ শরীফ(নসীহতমূলক) ঘটনায় পরিপূর্ণ থাকত, হাস্যকর ও পরিহাস থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থাকত, রাসুলুল্লাহ (সা) যদি কখনও রাগ হতেন তবে শুধু আল্লাহ তায়ালা ও দ্বীনের সন্তুষ্টির জন্যেই হতেন। (ইবন হাব্বান)

কোন মন্তব্য নেই