পরকালীন প্রস্তুতি

কুর'আন-সুন্নাহর আলোকে পরকালীন মুক্তির আশায় একটি পরকালমুখী উদ্যোগ

বিবর্তনের কেচ্ছা কাহিনী


গল্পটা আপনার কাছে এভাবে বলা হয়, হোমো হাবিলিস (২ মিলিয়ন বছর) বিবর্তিত হয়ে হোমো ইরেক্টাস (১ মিলিয়ন বছর) হয়ে গেলো তারপরে আসলো হোমো নিয়ান্ডার্থালেনসিস (৪ লক্ষ থেকে ৪০ হাজার বছর), তারপরে আধুনিক মানুষ (২ লক্ষ বছর থেকে বর্তমান)। সিকোয়েন্সটা এতদিন ভালোই মিলছিলো, একটা বিলুপ্ত হয়ে গেলে আরেকটা আসতো। প্যাচটা লেগে গেছে এ বছরের জুনে মরক্কো থেকে যখন আধুনিক মানুষের একটা ফসিল আবিষ্কার করে জীবাশ্ববিদেরা। নেচার জার্নালে প্রকাশিত হয় এই গবেষণা। এতে দেখা যায় পৃথিবীতে আধুনিক মানুষের বিচরণ ছিল ধারণাকৃত বয়স (~২ লক্ষ) এর থেকেও কমপক্ষে ১ লক্ষ বছর আগে!!! অর্থাৎ, ফসিল গবেষকদের মতে সাড়ে ৩ লক্ষ বছর আগেও পৃথিবীতে আধুনিক মানুষের উপস্থিতি ছিল। তারমানে নিয়ান্ডারথাল আর আধুনিক মানুষ প্রায় একই সময়ে অবস্থান করতো। নিয়ান্ডার্থালকে এখন আধুনিক মানুষের পূর্বপুরুষ বলতে কলাবিজ্ঞানীদের গলা আটকে যাচ্ছে। চমকপ্রদ এই খবর খুব বেশি মানুষদের শেয়ার করতে দেখা যায়নি।

লিটারেচারগুলোতে কিছু ফানি গ্রিক পুরাণের গল্প দেখা যায়, এই ধরেন তারা বলে হোমো ইরেক্টাস আর নিয়ান্ডার্থালরা একসময় কো-এক্সিস্ট করতো, এমনকি এটাও প্রমাণিত, চল্লিশ হাজার বছর আগেও নিয়ান্ডার্থালরা পৃথিবীতে ছিলো, তারমানে কিছু ইরেক্টাস নিয়ান্ডারথাল হয়ে গেছিলো বাকিগুলা ইরেক্টাসই থেকে গেছিলো, আবার কিছু নিয়ান্ডারথাল মানুষ হয়ে গেছিলো আর কিছু নিয়ান্ডারথাল মানুষ না হওয়ার বেদনা নিয়ে ধরাধাম ত্যাগ করছিলো!!!

গ্রিক মিথোলজিও এর থেকে অধিকততর বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়।



'বিবর্তনের কেচ্ছা কাহিনী (দ্বিতীয় পর্ব)'


ছোটবেলায় কাঠবিড়ালির ছবি মিলানোর ধাঁধার কথা মনে আছে? মাথা মিলাইতে গেলে লেজ ঠিক থাকেনা আবার লেজ ঠিক করতে গেলে মাথা মিলে না। হোমো ইরেক্টাস, নেয়ান্ডার্থালিস আর সেপিয়েন্স নিয়ে কলাবিজ্ঞানীরা এমন ধাঁধায় পড়ে গেছে। একটা মিলাইতে গেলে আরেকটা মিলেনা। একদল গবেষণা করে বের করলো, ইরেক্টাস থেকে নিয়ান্ডারথাল এবং নিয়ান্ডার্থালের আপডেট ভার্সন আধুনিক মানুষ বের হয়েছে, মানে একটা পরে আরেকটা এসেছে, খুব ছান্দিক আর কাব্যিক। আবার আরেকদল বিজ্ঞানী গবেষণা করে বের করলো, আধুনিক মানুষ, নিয়ান্ডারথাল আর ইরেক্টাসরা পৃথিবীতে কো-এক্সিস্ট করতো। ইন্দোনেশিয়াতে এরা প্রায় ৫০০০ বছর একসাথে বসবাস করেছে!!! কিছু ইরেক্টাস বিবর্তিত হয়ে মানুষ হলো আর কিছু অমানুষ (ইরেক্টাস) থেকে গেলো!!!

প্রশ্ন হইলো, তিন প্রজাতি যেহেতু একই সময়ে কো-এক্সিস্ট করতো তাহলে আধুনিক মানুষ টিকে থাকলো বাকি দুই গ্রুপ বিলুপ্ত হয়ে গেলো কেনো? এই প্রশ্নের জবাব গুলা বিশাল ধরণের হাস্যকর। একেকজনের একেক মত। অবৈজ্ঞানিক হাইপোথিসিস এ ভরপুর। একদল মনে করে প্রায় ৮০০০০ বছর আগে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার তোবা পর্বতে মহাপ্রলয়ংকারী অগ্ন্যুৎপাত হয়েছিল যার ফলে মানুষ ছাড়া বাকি দুই গ্রুপ শেষ!!!

আরেক দল (অ)বিজ্ঞানী মনে করে, আধুনিক মানুষের সাথে বাকি দুই গ্রূপের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গ্যাঞ্জাম লেগে যায়, মানুষ বাকি দু গ্রুপরে শেষ করে দেয় যদিও বাকি দুই গ্রুপ মানুষের চেয়ে শারীরিকভাবে পাওয়ারফুল ছিল আর অস্ত্রশস্ত্র আগেই বানানো শিখে নিয়েছিল। তারপরেও আধুনিক মানুষের কাছে তাদের হার মানতে হয়। আরেক গ্রুপ মনে করে, প্রচন্ড শীত আর বরফের কারণে বাকি দুই গ্রুপ শেষ, মানুষ বেঁচে ছিল কারণ তারা নাকি সুই সুতা দিয়ে কাঁথা সেলাই করতে পারতো!! আরেকদল কলাবিজ্ঞানী মনে করে মানুষের ব্রেন নাকি বাকি দুই গ্রূপের থেকে ভালো ছিল। সোজা বাঙলায়, বাকি দুই গ্রূপ কিছুটা মাথামোটা কিছিমের ছিল।

তো এখন প্রশ্ন হইলো, একই স্পেসিস থেকে উৎপত্তি হওয়া স্বত্তেও মানুষ বাকিদের থেকে বেশি মেধাবী আর টেকনিক্যালি সাউন্ড কেনো ছিল? এই প্রশ্নের যেসব হাস্যকর উত্তর আছে যার অধিকাংশই সাধারণ মানুষ জানেনা। কলাবিজ্ঞানীরা এই প্রশ্নে এসে যতটা মাইনকা চিপায় পড়েছে আর অন্য কোথাও পড়েনি। বাকি সব জায়গায় গোজামিল দিতে পারলেও এখানে এসে তারা নিজেরাই নিজেদের মধ্যে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশের কলাবিজ্ঞানীরা ভেবেছিলো গোপন থাকা এই জায়গাটায় মনে হয় কেউ হাত লাগবে না। সামনে সময় পেলে 'তথাকথিত' আদিম মানুষ থেকে আধুনিক মানুষ হয়ে উঠা বা 'বিহেভিওরাল মডার্নিটি' নিয়ে কলাবিজ্ঞানীদের গাজাখোরি তত্ত্ব নিয়ে আলোচনা করার আশা রাখি।


লেখকঃ সাইফুর রহমান 
অফিসিয়াল ওয়েব সাইট ঃ Click Here  এবং Click Here

ফেসবুক পেজঃ Click Here

কোন মন্তব্য নেই