পরকালীন প্রস্তুতি

কুর'আন-সুন্নাহর আলোকে পরকালীন মুক্তির আশায় একটি পরকালমুখী উদ্যোগ

ইসলামে দাস প্রথা


দাসপ্রথা নিয়ে প্রাচীনকাল থেকেই চলছে বিতর্ক। এই সামাজিক ব্যাধি নিয়ে বিতর্কের কূল-কিনারা পাওয়া বেশ মুশকিল। তবে পূর্বের প্রাচ্যবিদ আর বর্তমানে খ্রিস্টান মিশনারী, নাস্তিক-মুক্তমনা, আর কমিউনিস্টদের ইসলামকে আঘাত করার অন্যতম এক হাতিয়ার হলো দাসপ্রথা ও ইসলামের সম্পর্ক। তারা তাদের কথার মাধ্যমে সন্দেহের বীজ বুনে দিতে চায় যাতে ইসলাম সম্পর্কে সন্দিহান করা যায়। এর ধারাবাহিকতা শুরু হয়েছে প্রাচ্যবিদদের দ্বারা যারা রাসুলুল্লাহর(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জীবনী লেখার নামে তার(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিরুদ্ধে অতীব সুকৌশলে বিষ ঢুকিয়ে দিয়েছে। J.J. Pool, William Muir এসব কুখ্যাতদের নাম এইক্ষেত্রে অগ্রগন্য। তাদের যোগ্য উত্তরসূরী খ্রিস্টান মিশনারী আর নাস্তিক-মুক্তমনা এবং সামন্তবাদী কমিউনিস্ট, যাদের ইসলামকে বুদ্ধিবৃত্তিক ভাবে আঘাত করার জন্যে খুব বিখ্যাত চাল হলো ইসলামে দাসপ্রথা। এদের জবাবের পূর্বেই দাসপ্রথার অতি সংক্ষেপে ইতিহাস জেনে নেওয়া যাক।

.
প্রাচীন রোম আর গ্রীসে দাসপ্রথার জঘন্যতম পাশবিকতার বর্ণনা দেওয়া আসলেই কঠিন। তারা সারাবছরই ধন-সম্পদের লোভে যুদ্ধে লেগে থাকতো আর যুদ্ধে জয়ী হলে তারা নারী-পুরুষ সবাইকে দাস বানিয়ে পশুর মতো খাটাতো আর নারীদেরকে ভোগ্যপন্যের মতো ব্যবহার করত। তাদের জীবনের অন্যতম ভোগ ছিলো দাসী নারীদের নিয়ে ভোগ্যপণ্যের মতো ব্যবহার। দাসরা তাদের প্রভুর উপরে সামগ্রিকভাবে নির্ভর করত পিতার মতোই। এমনকি কোনো প্রভুরা তাদের দাসদের নিজেদের বাস্তবিকই সন্তান বলে পরিচয় দিত যাকে গ্রীক ভাষায় পাই আর ল্যাটিন ভাষায় পুয়ের বলা হতো।[1] দাসদের সাক্ষ্যও গ্রহন ও করা হতো না। সাক্ষ্য-প্রমান সংগ্রহ করার জন্য তাদের উপর ভয়াবহ অত্যাচার নিপীড়ন ও চলত। তাদেরকে কখনো কখনো ছেড়ে দেওয়া হতো হিংস্রসব মাছভর্তি চৌবাচ্চায় সামান্য কাচের দামী পানপাত্র ভেঙ্গে ফেলায়।[2] কখনো কখনো দাসদের বা যুদ্ধবন্দীদেরকে রোমান দর্শকদেরকে আনন্দ দানের জন্য ভয়ানক হিংস্র প্রাণির সাথে বা কখনো মারাত্মক অপরাধীদের সাথে লড়তে বাধ্য করা হতো যাদেরকে গ্ল্যাডিয়েটর বলা হতো[3] দুর্ভিক্ষের দিনে গ্ল্যাডিয়েটরদের নগর থেকে বিতাড়িত করা হতো খাবার বাচানোর জন্যে। এককথায় দাসদের কোনো প্রকার মানবিক অধিকার বলতে কিছু ছিলো না। তাদের উপর অমানবিক ও পাশবিক অত্যাচারের ফিরিস্তি অনেক বড় যা বর্ণনা করা এখানে উদ্দেশ্য নয়।
.
মূল আলোচনায় প্রবেশ করা যাক। ইসলাম কেন দাসপ্রথাকে সমর্থন করে বা এই ধরনের হাজারো প্রশ্নের আগে চলুন একটু ঘুরে আসি ইসলামের প্রাথমিক যুগে। সেই সময়ে দাসপ্রথার কী অবস্থা ছিলো???
.
সেই সময়ে কয়েক উপায়ে দাস বানানো যেতঃ
.
(১) ঋণগ্রস্থ ব্যক্তি যদি সঠিক সময়ে ঋণ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হত তাহলে তাকে দাস বানানো হতো;
.
(২) অভাবের তাড়নায় বাবা মা সন্তানদের ভরনপোষনের জন্য ধনীদের কাছে দিলে ক্রয়কারীরা তাকে দাস করে রাখত নিজেদের কাছে;
.
(৩) যেহেতু অবকাঠামোগত তেমন সুযোগ-সুবিধা বিদ্যমান ছিলো না তাই অর্থনৈতিক কারনে সমাজের অনগ্রসর ব্যক্তিরা নিজেদেরকে সমাজের অর্থনৈতিক দিক থেকে অগ্রসর ব্যক্তিদের পৃষ্ঠপোষকতায় নিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে দাস হয়ে যেত;
.
(৪) ছিনতাই বা অপহরনের মাধ্যমে কাউকে বন্দী করে দাস বানানো;
.
(৫) অভিজাত শ্রেণির লোকদের সাথে অসদ্ব্যবহার করার জন্যে কাউকে দাস বানানো;
.
(৬) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারন যুদ্ধ-বিগ্রহ। আরবে গোত্রভিত্তিক যুদ্ধ সবসময় লেগেই থাকত। এই সময়ে যুদ্ধের কারনে বিজিত জাতির নারী-পুরুষকে অনিবার্যভাবে দাস হয়ে যেতে হতো। মূলত যুদ্ধই প্রাচীনকাল থেকে দাস হওয়ার মূল কারন বলে বিবেচিত হয়ে থাকে হোক তা গ্রীক, রোমান, আরবীয় বা ভারতীয় সমাজ।
.
ইসলামের প্রাথমিক যুগে দাস-দাসী রাখা বা থাকা অত্যন্ত স্বাভাবিক ব্যাপার ছিলো বলা যেতে পারে সেই সময়কার সভ্যতার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিলো। এটি এমন এক ব্যাপার ছিলো যা কেউই অপছন্দ করতো না বা একে পরিবর্তনের চিন্তাও করত না। সেইসময়ে তা একেবারে অস্থি-মজ্জাগত বিষয় যাকে একেবারে উচ্ছেদ করা সম্ভব ছিলো না। এই কারনে অনেকে অভিযোগ করেন যে কেন ইসলাম দাসপ্রথাকে একেবারে গোড়া থেকেই উচ্ছেদ করে দেয়নি যেখানে মদ খাওয়াকে ধীরে ধীরে হারাম করা হয়েছে দাসপ্রথাকে কেন একেবারে হারাম করে দেওয়া হয়নি??? 
.
সেইসময়ে আরবের লোকেরা ছিলো মদের জন্য পাগলপ্রায়। তবে মদ যতটা তাদের সংস্কৃতির অংশ ছিলো তার তুলনায় দাস ব্যবস্থার প্রভাব ও প্রসার ছিলো আরো অনেক বেশি সূদুরপ্রসারী অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক অনেকদিক থেকেই দাসপ্রথার প্রভাব বিদ্যমান ছিলো তাই ইসলাম দাসব্যবস্থাকে একেবারে উতখাত না করে বরং কিছু অভূতপূর্ব বাস্তবমুখী কায়দায় দাসদের মুক্ত করার জন্য উতসাহ বা কখনো আবশ্যক করেছে সাথে সাথে দাস বানানের(Enslaving) সকল প্রথাকে বন্ধ করে দিয়ে শুধুমাত্র একটি উপায়কে উন্মুক্ত রেখেছে। যা পরে আলোচনা করা হবে। তার আগে ইসলাম কি কি উপায়ে দাসমুক্তির ব্যবস্থা করেছে তা আলোচনা করা হবে।
.
প্রথমত, ইসলামে দাসমুক্তির উপায় 
.
ইসলাম এমন একটি জীবনব্যবস্থা যা বিশ্বজগতের এক এবং একচ্ছত্র অধিপতি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নিকট নিজেকে আত্মসমর্পণ করা। প্রতিটি মানুষই আল্লাহর দাস বা গোলাম যিনি তার দাসের স্রষ্টা, পালনকর্তা। যিনি তার দাসকে ভালোবাসেন নিজের গর্ভেধারন করা মায়ের থেকেও বেশি। ইসলামের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব হলো প্রতিটি মানুষ হোক সে ধনী বা গরীব, বড় বা ছোট, স্বাধীন বা দাস যে পর্যায়েরই হোক না কেন সকলকে সকল প্রকার মানসিক দাসত্ব থেকে মুক্ত করে এক আল্লাহর দাসত্বমনা করতে পারা। সকল প্রকার গোলামির পিঞ্জর থেকে বের করে এনে তাওহীদ ও ইসলামের ছায়াতলে এনে আল্লাহর দাস হিসেবে নিজেকে চিনতে পারাই দাসত্ব থেকে মুক্তির প্রথম উপায়। হয়তো শারীরিক দাসত্ব থেকে মুক্তির জন্য আব্রাহাম লিংকন চুক্তি করেছিলো তবে সত্যিকারের দাসত্ব থেকে মুক্তি মিলেনি। তবে ইসলাম প্রথমেই যেই জিনিসের শিক্ষা দিলো সকলেই আল্লাহর বান্দা কারো উপর কারো কোনো প্রকার শ্রেষ্ঠত্ব নেই শুধুমাত্র ঈমান ও তাকওয়া ছাড়া।[4] এই এক শিক্ষা এতদিনের দাসত্বের শক্ত খাচা থেকে মুক্তি দিলো। তাই তো নিগ্রো সম্মানিত সাহাবী বিলাল ইবন রাবাহ(রাদি) ও ইসলামের তাওহীদের দাওয়াত পেয়ে হয়ে গেলেন মুক্ত পৃথিবীর কোনো শক্তিই তাকে আর আল্লাহর দাস হতে বাধা দিতে পারেনি। মরুভূমির উত্তপ্ত বালুতে চিত করে শুইয়ে বুকে পাথর রেখে দিলেও কখনো আহাদ!!আহাদ!! বলতে ভুল হয়নি কেননা ইসলাম তাকে সত্যিকারে মুক্তির স্বাদ আস্বাদন করিয়েছে এখন আর তিনি আল্লাহ ছাড়া কারো গোলাম নন। এই বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ কেননা ভেজাল মুক্তমনারা কখনোই সত্যিকার মুক্তমনের স্বাদ আস্বাদন করতে সক্ষম নয়।
.
তবে ইসলাম শুধুমাত্র এতটুকু করেই ক্ষান্ত হয়নি। ইসলাম দাসদের মুক্ত করার ব্যাপারে কিছু যুগান্তকারী পদ্ধতিও বাতলে দিয়েছেন। সেগুলো নিম্নরুপঃ
.
(১) ইতক বা স্বেচ্ছায় মুক্তিদান; 
(২) গুনাহের কাফফারা; 
.
(৩) মুকাতাবাহ
.
(৪) সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা
.
১। ইতক বা স্বেচ্ছায় মুক্তিদানঃ
.
কোন মনিব যদি চান সরাসরি স্বেচ্ছায় দাস-দাসীকে মুক্তি দিতে পারেন। কুরআন ও সুন্নাহয় এর অনেক ফযীলতের কথা বর্নিত হয়েছে।
আল্লাহ সৎকর্মের উল্লেখের সময় মুক্তিকামী ক্রীতদাসের জন্য ব্যয় করাকে উল্লেখ করেছেন।(সূরা বাকারাহ ২ঃ১৭৬)
.
এছাড়াও আল্লাহ বলেন,
.
আপনি কি জানেন সেই ঘাটি কি?? তা হলো দাসমুক্তি(সূরা বালাদ ৯০ঃ১২-১৩)
.
রাসুলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,
.
“যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমকে দাসত্বের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করবে তাকে তার প্রতিটি অঙ্গের বিনিময়ে প্রতিটি অঙ্গকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করবেন”[5]
.
এছাড়াও স্বেচ্ছায় দাসমুক্তি বা ইতকের অনেক ফযীলত রয়েছে। এই কারনেই রাসুলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তার সাহাবারা এই ক্ষেত্রে অগ্রগন্য হয়ে অনেক দাসকে মুক্তি দিয়েছিলেন।
.
রাসুলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অনেক দাসকে ইতক দিয়েছিলেন। এছাড়া আবু বাকর(রাদি) যিনি বেশ ধনী ছিলেন তিনিও দাসমুক্তির জন্যে অনেক অর্থ ব্যয় করেছেন। ইতিহাসে এর নজীর দ্বিতীয়টি নেই যে স্বেচ্ছায় কেউ এতো পরিমানে দাস মুক্ত করেছে। এর একমাত্র কারন আল্লাহর আনুগত্য ও তার জান্নাত লাভের খালিস ইচ্ছা আর কিছুই নয়।
.
(২) গুনাহের কাফফারাহঃ
.
ইসলামে কিছু গুনাহের জন্য দাসমুক্তির ব্যবস্থা রয়েছে। যেমনঃ
.
(ক) কোনো মুমিনকে ভুলবশত হত্যা করে ফেললে (সূরা নিসা ৪ঃ৯২)
.
(খ) ইচ্ছাকৃত ভাবে আল্লাহর নামে কৃত শপথ ভঙ্গ করে ফেলা (সূরা মায়িদাহ ৫ঃ৮৯)
.
(গ) যিহার।[6]
.
(ঘ) রোযার সময় ভুলবশত স্ত্রী মিলন করে ফেললে[7]
.
(৩) মুকাতাবাহ বা লিখিত চুক্তিঃ
.
মুকাতাবাহ বলতে এমন চুক্তিকে বোঝায় যার দ্বারা দাস নিজেই নির্দিষ্ট অর্থ পরিশোধের শর্তে তার মুক্তির জন্য তার মনিবের সাথে এমন চুক্তিতে আবদ্ধ হয় যাতে মনিব ও দাস উভয়েই ঐক্যমতে পৌছায়। 
শায়খ মুহাম্মাদ ইবন ইবরাহীম আত তুওয়াইজিরী(রাহি) বলেন, “এটি হচ্ছে দাস দাসীর পক্ষ থেকে মনিবকে নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে আজাদ করার নাম”[8]
.
আল্লাহ বলেন, “তোমাদের অধিকারভুক্ত যারা চুক্তিবদ্ধ হতে চায় তাদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হও যদি তাতে কল্যান থাকে” (সূরা নূর ২৮ঃ৩২)
ইসলাম মুকাতাবাহকে সহজ করে দিয়েছে। যেহেতু
.
১। যাকাতের একটি খাত ইসলাম নির্ধারন করেছে দাসমুক্তি। (সূরা তাওবা ৯ঃ৬০);
.
২। গোলামের জন্য এই ছাড় আছে যে সে মনিবকে কিস্তিতে অর্থ পরিশোধ করবে;[9]
.
৩। মনিবের কর্তব্য হলো দাসকে অর্থ পরিশোধের ব্যাপারে সহায়তা করা;
.
৪। দাস চুক্তি মোতাবেক অর্থ পরিশোধ করে দিলে সঙ্গে সঙ্গে সে মুক্তি লাভ করবে;
.
(৪) ইসলামী সরকারের পৃষ্ঠপোষকায়ঃ
.
ইসলামী সরকার যাকাতের খাত থেকে দাসমুক্তিতে ব্যবহার করতে পারে যেমনটা পূর্বে বর্ণনা হয়েছে। আর মুকাতাবাহ চুক্তি সম্পাদন করার পরে দাসের এই নিয়ে মোটেও চিন্তা করা লাগত না যে তার মনিব এই কারনে তার উপরে অত্যাচার করতে পারে কেননা ইসলামী সরকার তখন তার পৃষ্ঠপোষক হয়ে যান। এমনকি সরকার চাইলে বাড়তি অর্থ দিয়ে দাস ক্রয় করে তা মুক্ত করে দিতে পারে। 
.
ইসলাম দাস বানানোর প্রায় সকল রাস্তাকে(একটি বাদে) বন্ধ করে দিলেও মুক্তির অভিনব পদ্ধতি দিয়েছে যা সম্পূর্ণ বাস্তবভিত্তিক। এমন সব উপায়ের সন্ধান দিয়েছে যার ধারে কাছে কোনো তথাকথিত আধুনিক রাষ্ট্র ভাবতেও পারেনি। যেখানে কমুনিস্ট আর সোশালিস্টরা সবকিছুকেই অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোন থেকে ভাবতে চায় সেখানে ইসলাম দাস ও স্বাধীন সকলকেই সত্যিকার মানসিক ও বাহ্যিক অর্থেও মুক্তির পথের দিশা দেয়। যেখানে আমেরিকার মতো রাষ্ট্র একের পর এক দাস বিদ্রোহে জর্জরিত হয়ে দাস মুক্তির পথ অন্বেষণ করে তখন ইসলাম কালোত্তীর্ণ সমাধান ১৪০০ বছর আগেই দিয়ে গেছে। 
.
[চলবে ইনশাআল্লাহ] 

ইসলামে দাসপ্রথা ২ [প্রথম পর্বের জন্য দেখুন #সত্যকথন_৮৪]
.
গত পর্বে ইসলামে দাসপ্রথা ও দাসমুক্তির ব্যাপারে ইসলামের যুগান্তকারী উপায়সমূহের ব্যাপারে অতি সংক্ষেপে আলোচনা করা হয়েছিলো। এই পর্বে ইনশাআল্লাহ ইসলামে দাসপ্রথার স্বরুপ নিয়ে আলোচনা করা হবে।
কুরআন কারীমে দাসদের সাথে কেমন আচরন করা হবে তার আলোচনা আছে কিন্তু কোথাও দাস বানানোর বিষয় উল্লেখ নেই। কুরআন কারীমের কোথাও স্বাধীন মানুষকে দাস বানানোর আদেশ নেই। তবে যেহেতু সরাসরি কুরআনে দাস বানানোর ব্যাপারে ইতিবাচক বা নেতিবাচক আয়াত নেই তাই একে সরাসরি নিষেধ করার কোনো উপায় নেই।
.
ইসলাম পূর্ব সময়ে যে যে উপায়ে দাস বানানো যেত ইসলাম সেইসকল পথ বন্ধ করে দিয়েছে শুধুমাত্র একটি বাদে তা হলো আল্লাহর রাস্তায় জিহাদে যুদ্ধবন্দিদের দাস বানানো। অর্থাৎ যুদ্ধবন্দী ছাড়া ইসলামে দাস বানানোর আর কোনো উপায় বাকী নেই। তবে তাও বেশ শর্তসাপেক্ষে যা একটু পরেই উল্লেখ হবে। তার আগে জেনে নেই যে ইসলামে মূলত জিহাদ কী ও কেন??
.
ইসলামে জিহাদ বলতে আল্লাহর রাস্তায় কাফিরদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধ করা।
.
শায়খ মুহাম্মাদ ইবন ইবরাহীম তুওয়াইজিরী(রাহি) বলেন, “আল্লাহর কালেমা তথা তাওহীদকে উড্ডিন করার নিমিত্তে তার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য কাফেরদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে শক্তি ও প্রচেষ্টা ব্যয় করাকে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ বলে”[1]
.
জিহাদ মূলত বেশ কয়েকটি উদ্দেশ্যে করা হয়ে থাকে।
.
১। ফিতনা দূরীভূত করা এবং দ্বীনকে পরিপূর্ণ ভাবে আল্লাহর জন্য করা(সূরা-আনফাল, ৮ঃ৩৯) এখানে ফিতনা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো শিরক ও কুফর।
.
২। ইসলামী রাষ্ট্রের প্রতিরক্ষার জন্য।
.
৩। মজলুম মুসলিমদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের সাহায্য করা।(সূরা নিসা ৪ঃ৭৫)
.
৪। তাগুত অথবা জালিমের বিরুদ্ধে(সূরা নিসা ৪ঃ৭৬)
.
৫। আগ্রাসন রোধের জন্য(সূরা বাকারাহ ২ঃ১৯০)
.
মানুষকে মানুষের গোলামী থেকে বের করে আল্লাহর গোলামীর দিকে নিয়ে যাওয়া, দুনিয়ার সংকীর্নতা থেকে আখিরাতের প্রশস্ততার দিকে নিয়ে যাওয়া, আর অন্যান্য দ্বীন বা মতবাদের অন্যায়-জুলুম থেকে ইসলামের ন্যায়বিচারের দিকে নিয়ে যাওয়াই ইসলামের জিহাদের মূল উদ্দেশ্য, যেমনটি বিখ্যাত সাহাবী রাবঈ ইবন আমর(রাদি) পারস্য সেনাপতি রুস্তকে বলেছিলো(আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ইফা, ৭/৭৭)
.
ইসলামী শরিয়াতের অনুমোদিত জিহাদে যুদ্ধবন্দীদের দাস বানানো যেতে পারে এই একটি রাস্তা ইসলাম খোলা রেখেছে তবে সেটিও শর্তসাপেক্ষে। জিহাদে যুদ্ধবন্দীদের ব্যাপারে খলীফা নিম্নের ৪টি সিদ্ধান্তের যেকোনো একটি সিদ্ধান্ত গ্রহন করা যেতে পারে মুসলিম উম্মাহর বৃহত্তর স্বার্থ ও সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায়ঃ
.
(১) বন্দী করে অনুগ্রহ করে সবাইকে বিনা মুক্তিপনে ছেড়ে দেওয়া;[2] যেমনটি রাসুলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মক্কা বিজয়ের দিন করেছিলেন সেদিন সমস্ত ক্ষমতা, প্রতাপ, আধিপত্য মুসলিমদের হাতে থাকা সত্ত্বেও, আরব ভূখন্ডে ইসলাম পূর্ণতা পেলেও, মুসলিমদের পরিপূর্ন বিজয়ের দিন, যেদিন ক্ষমতার পূর্ণ ব্যবহার করার শক্তি থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘ ২৩ বছরের কত ব্যথার দগদগে স্মৃতিগুলোর প্রতিশোধ না নিয়েই সমস্ত কাফিরকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছিলো। কোথায় পাবেন এমন আদর্শ ইসলাম ছাড়া!!!!!!
.
(২) মুক্তিপণ নিয়ে ছেড়ে দেওয়া;[3] যেমনটি রাসুলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বদরের যুদ্ধের সময় করেছিলেন।
.
(৩) তাদেরকে হত্যা করা[4] যদিও এই সম্পর্কিত আয়াতটি নাযিল হয়েছিলো বদর যুদ্ধের সময়ে যেখানে বন্দীদের হত্যা না করে মুক্তিপন নিয়ে মুক্তি দিয়ে দেওয়ার জন্য মুসলিমদের তিরস্কার করা হয়েছে। কেননা বদর যুদ্ধ মুসলিমদের প্রথম যুদ্ধ ও অত্যন্ত নাজুক পরিস্থিতিতে মুসলিমগন আল্লাহর ইচ্ছায় বিজয় লাভ করেছিলেন। সেই সময়ে বদর যুদ্ধের অবাধ্য কাফিরদেরকে শুধুমাত্র মুক্তিপন নিয়ে আবার মুসলিমদের বিপক্ষে আবার ষড়যন্ত্র করে ইসলামের দাওয়াতে বাধা সৃষ্টির সুযোগ করে দেওয়াটা কখনোই সুদক্ষ রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হতে পারেনা। তাই আল্লাহ মুসলিমদের এহেন দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তাদের তিরস্কার করে সাবধান করে দিয়েছিলেন যাতে প্রয়োজনের সময় দ্বীনের স্বার্থে মুসলিমরা কখনোই কঠোর হতে ভুলে না যায় এবং অবাধ্য কাফিরদের যাতে উপযুক্ত সাজা দেয়। তবে গাযওয়ায়ে বানু কুরাইযাতে রাসুলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অবাধ্য ইয়াহুদী কাফিরদেরকে যারা বার বার চুক্তি ভঙ্গ করে বিভিন্নভাবে মুসলিমদের কষ্ট দিচ্ছিলো তাদের বন্দী করে হত্যা করেছিলেন।[5] তবে তাও শুধুমাত্র দ্বীনের স্বার্থে।
.
(৪) তাদেরকে দাস বানিয়ে রাখা; উপরের তিনটি উপায়ের একটি ও যদি গ্রহনযোগ্য না হয়ে তবে মুসলিম খলীফা চাইলে যুদ্ধবন্দীদেরকে দাস বানিয়ে রাখতে পারে। তাদেরকে যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে তাদের হক আদায় করে দাস হিসেবে রাখা যেতে পারে। দাস-দাসীদের অধিকার পর্বে এই নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে ইনশাআল্লাহ।
.
তো উপরোক্ত আলোচনা থেকে এই ব্যাপারটি স্পষ্ট হয়ে গেলো যে শরীয়তসম্মত জিহাদে খলীফা বা নেতা চাইলে বন্দীদের ব্যাপারে পরিস্থিতি মোতাবেক উপরোক্ত ৪টি সিদ্ধান্তের যেকোনো একটি গ্রহন করতে পারেন। তবে স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ১ ও ২নং এর যেকোনো একটি গ্রহনই আল্লাহর কাছে পছন্দনীয়। ইসলাম কখনোই শত্রুদের রক্তপিপাসু না যে পেলো আর ধড়াধড় মেরে গেলো। তবে দ্বীনের দাওয়াতে বাধা দানকারীদের ব্যাপারে দয়ার কোনো সুযোগও নেই। আর ৩টির একটিও যদি উপযোগী না হয় তবে খলীফা চাইলে যুদ্ধবন্দীদেরকে দাস বানিয়ে রাখা যেতে পারে। এতে করে যা হবেঃ
.
(ক) যুদ্ধবন্দী যদি এমন হয় যে তার ফিরে গেলে মুসলিম উম্মাহর ও ইসলামের ক্ষতি করতে পারে বা পুনরায় ষড়যন্ত্র করতে পারে তাহলে তার ক্ষতি থেকে মুসলিমরা বেচে যাবে। এতে দ্বীনের দাওয়াত প্রসারিত হবে;
(খ) সবচেয়ে বড় উপকারীতা হলো মুসলিমদের সাথে বসবাস করতে করতে যদি কেউ ইসলামের সুমহান আদর্শের দ্বারা প্রভাবিত হয় আর আল্লাহর ইচ্ছায় ইসলাম গ্রহন করে নিজেকে অনন্তকালের জাহান্নাম থেকে বেচে যায় এর থেকে বড় সৌভাগ্যের ও মর্যাদার আর কিছুই হতে পারেনা;
.
(গ) আর যদি তা নাও হয় তবুও দাসত্ব থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য দাস-দাসী মনিবের সাথে মুকাতাবাত বা লিখিত চুক্তি করে নিতে পারে। মনিব এতে কল্যান দেখতে পেলে তাদের সাথে চুক্তিতে আবদ্ধ হয়ে নিলে সে দাসত্ব থেকে মুক্তি পেতে পারে;
.
প্রশ্ন হতে পারে যে, ইসলাম তাহলে কেন অন্যান্য সামাজিক ব্যাধির মতো এই দাসপ্রথাকে চিরবিলুপ্ত করে দেয়নি???
.
পূর্বেই আলোচনা থেকে পরিষ্কার হয়ে গেছে যে, ইসলামের আগমনই এমন সময় হয়েছে যখন দাসপ্রথার দৃষ্টিভঙ্গি বর্তমানের মতো ছিলোনা। দাসপ্রথার ওপর তখন অর্থনীতির ভিত্তি দাঁড়িয়ে ছিলো তাছাড়া বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর শিকড় বিদ্যমান ছিলো তা ছিলো অত্যন্ত গভীরে প্রোথিত শিকড়। তাই ইসলাম সেইসময়ে দাসপ্রথাকে পরিপূর্ন বিলুপ্ত করেনি এতে করে পুরো সমাজব্যবস্থাই মুখ থুবড়ে পড়তো যা ইসলামী দাওয়াত প্রসারের পথে প্রতিবন্ধকতা স্বরুপ দেখা দিতে পারত তাই ইসলাম তখন দাসপ্রথাকে পরিপূর্ন ভাবে বাতিল না করে দিয়ে এর সমাধানের দিকে বেশি মনোযোগ দিয়েছে।
.
তাছাড়া ইসলামে জিহাদ যেহেতু চলমান প্রক্রিয়া তাই সুদূরপ্রসারী ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে যুদ্ধবন্দীদের দাসপ্রথা সম্পূর্ণ বিলুপ্ত ঘোষনা করেনি যাতে কাফিরদের মোকাবেলায় যাতে যুদ্ধনীতি বা রাজনৈতিক নীতিতে ইসলামে স্থবিরতা না থাকে। নিশ্চয়ই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা জানেন আর আমরা খুবই কম জানি।
[চলবে ইন শা আল্লাহ]

ইসলামে দাসপ্রথা ৩ [প্রথম দুটি পর্বের জন্য দেখুন #সত্যকথন_৮৪ এবং #সত্যকথন_৮৫]
.
এই পর্বে ইসলামকে আঘাত করার ও প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর জন্য কমিউনিস্ট, সোশ্যালিস্ট, নাস্তিক-মুক্তমনা, খ্রিস্টান মিশনারী তথা ইসলামবিদ্বেষীদের অনেক মুখরোচক একটি অভিযোগ নিয়ে আলোচনা করা হবে ইনশাআল্লাহ। আর তা হলো ইসলাম কেন যুদ্ধবন্দিনী দাসীদের সাথে শারীরিক সম্পর্ক করা বৈধ করেছে?
.
প্রাচীন গ্রীসে নারীদেরকে সম্পত্তি বলে বিবেচিত করা হত, আর যুদ্ধবন্দী নারীদের ধর্ষন করা ছিলো “সামাজিক ভাবে ব্যাপক গ্রহনযোগ্য যুদ্ধনীতি” [1]
রোম, গ্রীস ছাড়া অন্যান্য স্থানে নারীদের এর থেকে ভালো ব্যবহারের নিদর্শন পাওয়া যায়না। যেখানে যুদ্ধের পরে একটি অতি স্বাভাবিক ব্যাপার ছিলো ধর্ষন। যেখানে দাসীরা ছিলো সমাজের সবচেয়ে নিচু পর্যায়ের তাদের সাথে যেমন খুশি তেমন ব্যবহার করা যেত, যেখানে তারা ছিলো পুরুষের যৌনভোগের সস্তা বস্তু। তারা ছিলো অবজ্ঞা-অবহেলার পাত্র। যার সামান্য বর্ণনা দিতে গেলেও পৃথক গ্রন্থ লেখার প্রয়োজন, যা আমার উদ্দেশ্য নয়।
.
পূর্বে আলোচনা করা হয়েছে যে দীর্ঘদিনের সামাজিক ব্যাধি দাসপ্রথাকে ইসলাম পরিশীলিত ও নিয়ন্ত্রিত করেছে একদিকে যেমন শরীয়াতসম্মত জিহাদের মাধ্যমে কাউকে দাস বানানোর(Enslaving) এই একটি মাত্র পথই ইসলাম খোলা রেখেছে অন্যদিকে এর বিপরীতে দাসমুক্তির বেশ কিছু বাস্তবভিত্তিক ও যুগোপযোগী পথ উন্মোচন করেছে। আর তাই ইসলাম একটি পূর্নাঙ্গ জীবনবিধান হওয়ার কারনে সুদীর্ঘকাল থেকে চলে আসা দাসীদের সাথে অবাধ ও অনিয়ন্ত্রিত যৌনতাকে বন্ধ করতে এবং পাশাপাশি দাসীদের জৈবিক চাহিদা পূরনের জন্য শুধুমাত্র বৈধভাবে মালিকানায় প্রাপ্ত দাসীর সাথে শারীরিক মেলামেশাকে বৈধ করেছে।
দাসীর সাথে শারীরিক মেলামেশা আল্লাহ বৈধ করেছেন যা কুরআনের বিভিন্ন আয়াত দ্বারা প্রমানিত যেমন { (সূরা নিসা ৪ঃ২৪), (সূরা মুমিনূন ২৩ঃ৬), (সূরা আযহাব ৩৩ঃ৫০), (সূরা মাআরিজ ৭০ঃ৩০)},
.
আচ্ছা, তাহলে একজন কীভাবে কোন দাসীর পরিপূর্ণ মালিকানা লাভ করতে পারে?? তা দুটি উপায়েঃ-
১। নিজে কাফিরদের বিপক্ষে জিহাদে অংশগ্রহন করে নিজের গনীমতের অংশ থেকে যদি দাসী লাভ করে থাকে;
২। যদি অন্য কারো নিকট থেকে যিনি শারঈভাবে দাসীর মালিক তার নিকট থেকে দাসীকে ক্রয় করে থাকে;
.
আর এখানে কিছু ব্যাপার লক্ষনীয় তা হলো -
ক) উপরোক্ত দুই উপায় ছাড়া আর কোনো ভাবেই দাসীর মালিকানা পাওয়া যায় না তাই এই দুটি পন্থা ছাড়া অন্য কোনো উপায়ে কেউ যদি চাকরানীর সংগে বা চুক্তিবদ্ধ হয়ে উপপত্নীরুপে কারো সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে তবে তা হারাম ও ব্যভিচার বলে গন্য হবে[2];
খ) শারঈ জিহাদ যেহেতু শুধুমাত্র কাফিরদের বিপক্ষে লড়া যায় তাই মুসলিমদের দুই পক্ষের মধ্যেকার রাজনীতি, ভাষা, অত্যাচার, নিপীড়ন, জাতীয়তাবাদ ইত্যাদির কারনে সংঘটির যুদ্ধকে জিহাদের নাম দিয়ে সেখানে মুসলিম নারীদেরকে দাসী বানানো হারাম হবে এবং তাদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন অবশ্যই ব্যভিচার বলে গন্য হবে। তাই অনেক মুক্তিযোদ্ধাদের চেতনাধারী মুখোশের অন্তরালের ইসলামবিদ্বেষীদের ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বাংলাদেশের মা-বোনের সাথে আচরনকে পুজি করে ইসলামকে কটাক্ষ করে থাকে, যা তাদের জ্ঞানের স্বল্পতাকে প্রমান করে;
গ) দাসীর সাথে এমন সম্পর্ক করা ইসলামই প্রথম শুরু করেনি বরং ইসলাম পূর্বেকার এই সম্পর্কিত যাবতীয় ঘৃন্যতা ও বল্গাহীন পাশবিকতাকে বন্ধ করে দিয়ে একে নিয়ন্ত্রিত ও মানবিক করেছে;
ঘ) দাসীর সাথে শারীরিক সম্পর্ক করা ইসলামের কোনো অবিচ্ছেদ্য অংশ নয় বরং তা বৈধ;
.
দাসী মিলনের ব্যাপারে দৃষ্টিকোনঃ-
(১) ইসলামী রাষ্ট্রের খলীফা যদি সিদ্ধান্ত নেন যে যুদ্ধবন্দীদের ছেড়ে দেওয়া হবে না এমনকি মুক্তিপনের বিনিময়ে ও নয় তাহলে মুজাহিদিনরা (যারা জিহাদে সরাসরি অংশগ্রহন করেছেন) যদি গনীমতের মাল হিসেবে দাসী তার নির্দিষ্ট অংশে (হিসসা) পেয়ে থাকেন তাহলেই শুধু দাসী হালাল হবে অন্যথায় নয়। আর গনীমত বন্টন হওয়ার পূর্বে কোনোমতেই গনীমত থেকে কিছু নেওয়া যাবেনা এটাই সাধারন নিয়ম[3]
.
আর হাদীছে গনীমতের মাল বন্টনের পূর্বে কিছু নেওয়ার ব্যাপারে কঠিন নিষেধাজ্ঞা এসেছে যে এমন করবে সে রাসুলুল্লাহর (صلى اللّٰه عليه وسلم) উম্মাত বলে পরিগনিত হবে না বলে হাদীছে কড়া তিরস্কার আছে।[4] আর তাই যেহেতু গনীমত বন্টনের পূর্বে কোনোমতেই গনীমত থেকে কিছু নেওয়া যাবেনা তাই দাসীর সাথে মিলিত হওয়ার কোনো প্রশ্নই উঠেনা আর কেউ এমনটি করলে তা যিনা বলে বিবেচিত হবে এবং সে অবশ্যই রজমের যোগ্য হয়ে যাবে।
.
যেমন হাদীছ বর্ণিত আছে যে, খালিদ (রাদি) যিরার ইবনুল আহওয়াজকে পাঠালেন। তারা বানী আসাদকে আক্রমন করলে সেখানে এক সুন্দরী নারীকে তারা বন্দী করলে। তিনি বন্টন হওয়ার পূর্বেই তাকে তার সঙ্গীদের নিকট থেকে চেয়ে নিয়ে তার সাথে মিলিত হলেন, পরবর্তীতে তিনি অনুতপ্ত বোধে খালিদ(রাদি) এর নিকট যেয়ে বললে খালিদ(রাদি) উমার ইবনুল খাত্তাবের(রাদি) নিকট লিখে জানালে। তিনি বলেন, যিরার রজমের যোগ্য (যেহেতু তিনি গনীমতের মাল বন্টনের পূর্বেই নিজের ইচ্ছামত নারীকে বেছে নিয়ে মিলিত হয়েছেন), পরবর্তীতে রজম করার পূর্বেই যিরার ইবনুল আহওয়াজ মারা যান। [5]
.
এই হাদীস থেকে বুঝা যায় যে গনীমত বন্টনের পূর্বে কোনোমতেই দাসীদের স্পর্শ ও করা যাবেনা। হাদীসটি অভিযোগকারীদের মুখে চপেটাঘাত কেননা তারা অনেকে প্রোপাগান্ডা ছড়ায় মুসলিমরা নাকি যুদ্ধক্ষেত্রেই নারীদের ধর্ষন করে(!!!) নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক।
.
(২) গর্ভবতী যুদ্ধবন্দিনীর সাথে মিলিত হওয়া যাবেনাঃ
রাসুলুল্লাহ(صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, “ কোন গর্ভবতী বন্দিনীর সাথে সন্তান প্রসবের পূর্বে ও কোনো নারীর সাথে হায়েজ থেকে পবিত্র হওয়ার পূর্বে মিলিত হবেনা” এই বিষয়ে বিভিন্ন হাদীছ বর্নিত আছে।[6]
.
(৩) বন্দিনী যদি গর্ভবতী না হয় তবে এক ইদ্দত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবেঃ
রাসুলুল্লাহ(صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, “ কোনো গর্ভবতী বন্দিনীর সাথে সন্তান প্রসবের পূর্বে এবং অন্য নারীর(বন্দিনী) সাথে এক হায়েজ হতে পবিত্র হওয়ার পূর্বে মিলিত হবেনা” [7]
.
এই বিষয়ে অন্যান্য হাদীছ ও বর্নিত হয়েছে[8]
(৪) দুই ক্রীতদাসী বোনের সাথে একত্রে মিলিত হওয়া যাবে নাঃ
সাহাবী উছমান ইবন আফফান(রাদি), যুবাঈর ইবনুল আওয়াম(রাদি), অন্যান্য সাহাবী এবং ইমাম মালিক(রাহ) এর মতে দুই ক্রীতদাসী বোনের সাথে একত্রে( বুঝানো হচ্ছে এক বোনের সাথে সম্পর্ক থাকাকালীন সময়ে অন্য বোনের সাথে) সম্পর্ক রাখা যাবেনা।[9]
.
উমার(রাদি) এর মতে মা এবং কন্যার সাথে ও একই সময়ে মিলিত হওয়া যাবেনা।[10]
.
(৫) দাসী শুধুমাত্রই তার মালিকের জন্যঃ
ইসলামে দাসী নারীকে রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি বলে বিবেচনা করা হয় না। যেখানে প্রাচীন গ্রীসে ও রোমানে দাসী নারীকে মনে করা হত জনগনের সম্পত্তি। সেখানে ইসলামে শুধুমাত্র মালিকের জন্যই দাসীকে বৈধ করেছে আর কারো জন্য নয়। নিজের বাবার[11] বা এমনকি নিজের স্ত্রীর[12] দাসীর সাথে সম্পর্ক স্থাপন ও জায়েজ নেই। যদি স্ত্রীর সম্মতি থাকে তবে পুরুষকে ১০০ বেত্রাঘাত করা হবে এবং যদি স্ত্রীর সম্মতি না থাকে তবে তা জিনার দায়ে রজম করা হবে।
.
(৬) কৃতদাসীর বিয়ে দিয়ে দিলে সে মালিকের জন্য হারাম হয়ে যাবেঃ
রাসুলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, “ তোমাদের কেউ যদি পুরুষ দাসীকে ,তার নারী দাসীর সাথে বিয়ে দেয় তবে তার গুপ্তাঙ্গের দিকে দৃষ্টি দেওয়া উচিত হবেনা।[13]
.
(৭) দাসীর বৈবাহিক সম্পর্কঃ
কোনো মহিলাকে যদি স্বামীর পূর্বেই যদি দারুল ইসলামে বন্দী করে নিয়ে আসা হয় এবং স্বামী যদি দারুল হারবে থেকে যায় তাহলে তাদের বৈবাহিক সম্পর্কে বিচ্ছেদ ঘটবে। আর যদি স্বামী এবং স্ত্রীকে একত্রে বন্দী করা হয় তবে স্বামীর পূর্বে স্ত্রীকে দারুল ইসলামে আনা যাবেনা এবং তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক অটূট থাকবে। যেমনটি ইমাম মুহাম্মাদ বর্ণনা করেছেন তার সিয়ারুস সাগীর কিতাবে।[14] ইমাম সারাখসী ও এমনটিই বলেন।[15]
.
এখানে খুব মুখরোচক একটি প্রশ্ন আসতে পারে যে, ইসলাম কি বন্দিনীদের ধর্ষন করার অনুমতি দেয়, কেননা একজন মেয়ে কিভাবে এমন কারো সাথে শারিরীক সম্পর্ক করতে রাজী হতে পারে যে তার পরিবারের লোকদেরকে হত্যা করেছে?? সুতরাং মুসলিমরা নিশ্চয়ই ধর্ষন করে(নাউযুবিল্লাহ)।
.
প্রথমত, তারা কোন প্রমানই দেখাতে পারবেন না যে মুসলিম সৈন্যরা বন্দিনীদেরকে ধর্ষন করেছেন (নাউযুবিল্লাহ)। কোন প্রমানই নয়। আর একজন মেয়ে কেন তার পরিবার হন্তাদের সাথে শারিরীক সম্পর্ক করতে যাবেন এই প্রশ্নের উত্তরে বলা যায়, এই অভিযোগকারীদের অনেকেই ইতিহাস সম্পর্কে জ্ঞাত নয়।
.
জন ম্যাকক্লিনটক(মৃ-১৮৭০) লেখেন,
“ Women who followed their father and husbands to the war put on their finest dresses and ornaments previous to an engagement, in the hope of finding favor in the eyes of their captors in case of a defeat.[16]
নিজেই একটু দেখতে পারেন,
.
ম্যাথু বি সোয়ার্টজ লেখেন,
“The Book of Deuteronomy prescribes its own rules for the treatment of women captured in war [ Deut 21:10-14 ] . Women have always followed armies to do the soldiers' laundry, to nurse the sick and wounded, and to serve as prostitutes
They would often dress in such a way as to attract the soldiers who won the battle. The Bible recognizes the realities of the battle situation in its rules on how to treat female captives, though commentators disagree on some of the details.
The biblical Israelite went to battle as a messenger of God. Yet he could also, of course, be caught up in the raging tide of blood and violence. The Western mind associates prowess, whether military or athletic, with sexual success.
The pretty girls crowd around the hero who scores the winning touchdown, not around the players of the losing team. And it is certainly true in war: the winning hero "attracts" the women. [17]
.
স্যামুয়েল বার্ডার(মৃ ১৮৩৬) লেখেন,
“It was customary among the ancients for the women, who accompanied their fathers or husbands to battle, to put on their finest dresses and ornaments previous to an engagement, in order to attract the notice of the conqueror, if taken prisoners.” [18]
নিজেই একটু দেখে নিতে পারেন,
.
তাই বলা যায় যে, পরিবারের হন্তাদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করা মোটেই আশ্চর্যজনক ব্যাপার নয় যেটা ইতিহাস দিয়েই প্রমানিত।
.
দ্বিতীয়ত, আমরা পূর্বের আলোচনা থেকে বুঝতে পারছি যে, বন্দিনীদেরকে ইদ্দত পালনের বা হায়েজ থেকে মুক্ত হওয়ার জন্যে সময় দেওয়া আবশ্যক। এখান থেকে গুরুত্বপূর্ন বিধান লক্ষ্য করা যায়, এই সময় দেওয়ার ফলে বন্দিনীদেরকে তাদের নতুন ইসলামী পরিবেশের সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য সহায়তা করে থাকে যেমনটি মোল্লা আলী ক্বারী(রাহ)বলেছেন।[19]
এতে করে তারা নতুন ইসলামিক পরিবেশের সাথে পরিচিত হতে পারে, ইসলাম সম্পর্কে জানতে ও বুঝতে পারে।
.
তৃতীয়ত, যদি বন্দিনীরা যদি তাদের সাথে সম্পর্কে রাজী নাই থাকত তবে মালিকরা তাদের বিক্রি করে দিত যাতে অন্য মালিকের কাছে দাসী চলে যেতে পারে এতে করে হয়ত দাসীর অন্য মালিকের সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন ঘটে। এখানে ধর্ষনের ব্যাপার স্যাপার কোথা থেকে আসলো?
.
চতুর্থত, বন্দিনীরা যখন দেখবে যে তারা এমন কিছু মানুষের সাক্ষাত পেয়েছে যারা একেবারে আলাদা, অনন্য ও অসাধারন, যারা বিশ্বমানবতাকে আল্লাহর দাসত্বের দিকে আহবান করে, যারা সকলকে আল্লাহর ভালোবাসা, তার সন্তুষ্টি ও জান্নাতের দিকে আহবান করে, যাদের নিকট তাদের নাবীর(صلى الله عليه وسلم) কথা সর্বোচ্চে ও সর্বোর্দ্ধে, যাদের নিকট আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনই জীবনের এক ও একমাত্র লক্ষ্য, সেই মহান অধিপতির জন্য জীবন দেওয়াকে জীবনের যারা থেকে ও বেশী ভালোবাসে, যাদের কাছে এই দুনিয়ার ধনসম্পদ, নারী, বাড়ি, সুদৃশ্য গাড়ি তুচ্ছ, দিনের বেলা রোযা রেখে ওই জিহাদের ময়দানের বীর সেনানি যখন মানুষ যখন ঘুমে বিভোর তখন আরামের শয্যা ত্যাগ করে মহান সেই সত্তার কাছে সিজদাহয় অবনিত হয়, নিজের গুনাহর জন্য ক্ষমা চায়। এরা যখন দেখবে তাদের নেতা খেজুর পাতার ওপরেই আরামসে ঘুম দেয়, , তারা যখন প্রত্যক্ষ করবে এরা যারা দাসকে রুটি দিয়ে নিজেরা সন্তুষ্টির সাথে খেজুর খেয়ে দিনাতিপাত করে, নিজেরা তাই খায় যা দাস দাসীরা খায় এর তাই পরিধান করে যা দাস দাসীরা পরিধান করে, যাদের রাষ্ট্রনায়ক নিজে উটের রশি ধরে দাসকে উটের পিঠে বসায়, তারা যখন ইসলামের সৌন্দর্য ও স্বরুপ, ন্যায়বিচার, ক্ষমাপরায়নতা, দেখতে পাবে তখন তাদের স্বাচ্ছন্দ্যে রাজী হওয়া অস্বাভাবিক নয় বরং সম্পূর্ণ স্বাভাবিক।
.
দাসীর সাথে সম্পর্কের লুকায়িত হিকমাহ ও যৌক্তিকতাঃ
তার আগে আমরা একটু পিছনে দিকে ফিরে তাকাইঃ
পূর্বে, দাসীর বিয়ের পরেও দাসী মালিকের চাহিদা মেটাতে বাধ্য ছিলো। তাদের সম্পর্কের কারনে জন্ম নেওয়া বাচ্চার পিতৃত্ব ও তারা স্বীকার করত না।[20]
দাসীর সন্তান ও দাস হিসেবেই বিবেচিত হত। আর মালিক পিতৃত্ব স্বীকার করত না আর তার পক্ষেই দেশের প্রশাসন থাকত।[21]
ইহুদী সমাজে দাসীদেরকে পরিবারের ভিতরেই অথবা বাহিরে পতিতা হিসেবে ব্যবহার করা পূর্বে সাধারন ব্যাপার বলে গন্য করা হত।[22]
রোমান সমাজে বড় বড় ব্যবসায়ীদের দাসীদেরকে জোর করে পতিতা বানিয়ে রাখা হত অন্য পুরুষের খায়েশ পুরনের জন্যে।[23]
আসুন ইসলামের দিকে ফিরে আসি।
.
পূর্বে আলোচনা করা হয়েছে যে ইসলামের দাসপ্রথার ভিত্তি কি? এবং এখন পর্যন্ত দাসপ্রথাকে কেন ইসলাম বৈধ করেছে? এই বৈধতার সীমাই বা কতটুকু? এই পর্বে আরো আলোচনা করা হয়েছে যে, ইসলামে দাসীর সাথে শারীরিক সম্পর্কের ভিত্তি ও সীমা। এর যৌক্তিকতা ও লুকায়িত সৌন্দর্য ও হিকমাহ গুলো নিচে উল্লেখ করা হলোঃ
(১) পূর্বে দাসীদেরকে যে কেউই ব্যবহার করতে পারত এমনকি একই পরিবারের অনেক সদস্য তাদেরকে ভোগ করতে পারত। তবে ইসলাম শুধুমাত্র মালিকের জন্যই বৈধ করেছে। এতে প্রাচীনকালে যেমন যুদ্ধ শেষে নারীদেরকে ধর্ষন করা হত, বা তাদেরকে বিভিন্ন অনৈতিক কাজে বাধ্য করা হত। ইসলাম সেই সুযোগকে মিটিয়ে দিয়েছে। ইসলামে বৈধভাবে মালিকানাপ্রাপ্ত মালিকের সাথে দাসীর শারীরিক সম্পর্কের সুযোগ রেখে নারীকে বেইজ্জতি থেকে বাচিয়েছে, তাদেরকে সম্মানিত করেছে, তাদেরকে নতুন একটি পরিবার দিয়েছে, তাদেরকে অন্ন-বস্ত্র,বাসস্থানের নিশ্চয়তা দিয়েছে;
(২) মালিক ও দাসীর সম্পর্ক অবশ্যই ঘোষনা করতে হবে। যাতে লোকমনে তাদের দুইজনের ব্যাপারে কোন প্রকার সন্দেহ ও সংশয় না থাকে। এতে করে নারীটি পায় যথার্থ সম্মান ও মর্যাদা;
(৩) এর ফলে দাসীটির শারীরিক চাহিদা পূরনের একটি সুষ্ঠু ব্যবস্থা হয়, এতে একদিকে দাসীটির স্বাভাবিক চাহিদা পূরন হয় অন্যদিকে দাসীটি চাহিদা পূরন না করতে পেরে অবৈধ কোনো পন্থা বেছে নিবেনা এতে রাষ্ট্রে চারিত্রিক পবিত্রতা ও শৃংখলা বজায় থাকব;
(৪) মালিকের জন্য দাসীকে বিয়ে করা জায়েজ।[24]
যেমন হাদীছে এসেছে, যে ব্যক্তি দাসীকে উত্তম রুপে লালন-পালন, প্রতিপালন করে, তার ্প্রতি ইহসান করে, তাকে মুক্ত করে বিবাহ করে তার জন্যে আছে দ্বিগুন সওয়াব;[25]
(৫) দাসীকে কোনোমতেই ব্যভিচারে জোর করা যাবেনা যেমনটা রোমান সমাজে প্রচলন ছিলো;
(৬) দাসীকে অন্ন-বস্ত্রের নিশ্চয়তা দিতে হবে, সাথে উত্তম আচরন করতে হবে;
(৭) দাসী যদি উম্মুল ওয়ালাদ অর্থ ওই মালিকের সন্তানের জননী হয় তবে ওই দাসী বিক্রি হারাম হয়ে যাবে। হাদীছে এসেছে, তোমরা উম্মুল ওয়ালাদ বিক্রি করোনা। [26]
আর ওই দাসী মালিকের মৃত্যুর পরে মুক্ত হয়ে যাবে।[27] এতে যেমন দাসীর মুক্ত হওয়ার সুযোগ আছে, তেমনি সন্তানের পিতৃপরিচয়ের নিশ্চয়তা আছে। আর সন্তান ও মুক্ত বলে বিবেচিত হবে;
(৮) দাসীর জন্য এ সুযোগ ও রয়েছে সে মালিকের কাছে দাসত্ব থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য আবেদন করতে পারে এবং দাসত্ব থেকে মুক্তি পেতে পারে। দাসত্ব থেকে মুক্তির উপায় নিয়ে এই সিরিজের পর্ব-১ এ আলোচনা করা হয়েছে;
(৯) সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এতে দাসী খুব কাছ থেকে ইসলাম সম্পর্কে জানতে, বুঝতে, উপলব্ধি করতে পারে। এতে হয়ত সে ইসলাম গ্রহন করে নিতে পারে, যা তার জন্যে চিরস্থায়ী জাহান্নাম থেকে মুক্তি আর চিরশান্তির জান্নাতের নিশ্চয়তা দিতে পারে;
[চলবে ইন শা আল্লাহ]
তথ্যসূত্রঃ
[1] রেদওয়ানুর রহমান, দাস বিদ্রোহ ও স্পার্টাকাস(২০১৫), পৃ-১৪
[2] ঐ, পৃ-১৬
[4] সূরা হুজুরাত ৪৯ঃ১৩
[5] সহীহ বুখারী, ইফা, কিতাবুল ইতক, হা-২৩৫১
[6] যিহার হলো স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে বলা যে তুমি আমার মায়ের পিঠের মতো হারাম এই কথা বললে সেই স্ত্রী স্বামীর জন্য হারাম হয়ে যাবে যেমন তার মা তার জন্য হারাম।
[7] সহীহ বুখারী, ইফা, ৩/২৫৮, হা-১৮১৩
[8] কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ইসলামী ফিকহ, ২/৪৪৬
[9] সহীহ বুখারী, কিতাবুল ইতক, হা-২৩৯৩
=======================
…………………………………
[1] কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ইসলামী ফিকহ, ২/৭৮৫
[2] সূরা মুহাম্মাদ ৪৭ঃ৪
[3] সূরা মুহাম্মাদ ৪৭ঃ৪
[4] সূরা আনফাল ৮ঃ৬৭
[5] আর রাহীকুল মাখতুম, গাযওয়ায়ে বানু কুরাইযাহ দ্রষ্টব্য
=====================
লেখকঃ হোসাইন শাকিল
=====================

অফিসিয়াল ওয়েব সাইট ঃ shottokothon.com  এবং response-to-anti-islam.com

ফেসবুক পেজঃ fb.com/shottokothon1

কোন মন্তব্য নেই