পরকালীন প্রস্তুতি

কুর'আন-সুন্নাহর আলোকে পরকালীন মুক্তির আশায় একটি পরকালমুখী উদ্যোগ

প্রসঙ্গ নবী(স) এর ইসরা ও মিরাজঃ ইসরার ঘটনার সত্যতা কতটুকু? মসজিদুল আকসা কি আসলেই সে সময়ে ছিল?


.
নবী মুহাম্মাদ ﷺ এর ইসরা ও মিরাজ নিয়ে প্রশ্ন তোলে নাস্তিক-মুক্তমনা ও খ্রিষ্টান মিশনারীরা। তাদের বক্তব্য হচ্ছে - মুহাম্মাদ ﷺ ইসরা ও মিরাজের রাতে মক্কা থেকে জেরুজালেমের আল আকসা মসজিদ ভ্রমণ করার দাবি করেছেন। কিন্তু এটি আদৌ সম্ভব নয়, কারণ সেখানে তখন কোন মসজিদ বা অন্য কোন উপাসনালয় ছিল না। তার বহু আগেই, ৭০ খ্রিষ্টাব্দে রোম সম্রাট টাইটাস ইহুদিদের মহামন্দির গুড়িয়ে দেয়। [https://goo.gl/NAFQgp] কাজেই ইসরা ও মিরাজের রাতে মহানবী ﷺ আকসা মসজিদে যাবার যে দাবি করেছেন তা মিথ্যা (নাউযুবিল্লাহ)।
.
চলুন দেখি, যুক্তি-প্রমাণ ও বিবেকের কষ্টিপাথরে, কার দাবি সত্য।
.
‘মিরাজ’ শব্দ এসেছে আরবি উরুযুন শব্দ থেকে। উরুযুন অর্থ সিঁড়ি আর মিরাজ অর্থ ঊর্ধ্বগমন। যেহেতু সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠা হয় সেজন্য রাসূলের ঊর্ধ্বগমনকে মিরাজ বলা ইসরা [إسراء ] - মানে হল রাতে পরিভ্রমণ করা। পারিভাষিকভাবে এটি হল রাসুলুল্লাহ ﷺ এর মক্কার মসজিদুল হারাম থেকে জেরুজালেমের মসজিদুল আকসা পর্যন্ত ভ্রমণ। এ ব্যাপারে আল্লাহর বাণীঃ
“ পরম পবিত্র ও মহিমাময় সত্তা তিনি, যিনি স্বীয় বান্দাকে (মুহাম্মাদ ﷺ) এক রাতে ভ্রমণ করিয়েছিলেন মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসায় (বাইতুল মুকাদ্দাস) যার চারপাশকে আমি করেছিলাম বরকতময়,তাঁকে আমার নিদর্শন দেখানোর জন্য। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।”
[সূরা বনী ইসরাঈল, ১৭:১]

.
প্রথমে আমরা জেনে নিই—ইসলামী পরিভাষায় ‘মসজিদ’ কী।
আরবি ভাষায় ‘মাসজিদ’ শব্দের মানে হচ্ছে ‘সিজদা করার স্থান’। শব্দটি এসেছে ‘সুজুদ’ শব্দ থেকে, যার মানে হচ্ছে ‘সিজদা করা’। কাজেই একটা মসজিদকে দ্বীনি শিল্পকর্মে ভরপুর পিলার দ্বারা তৈরি বিশাল কোন স্থাপনা হতে হবে—এমন কোন কথা নেই। সীমানা দ্বারা ঘেরা যেকোন ইবাদতের স্থানই মসজিদ হতে পারে।আবার ছোট দেয়াল কিংবা পাথর দ্বারা তৈরি স্থাপনাও মসজিদ হতে পারে। ঐ এলাকাটিকে তাত্ত্বিকভাবে “মসজিদ” বা ‘সিজদা করার স্থান’ বলা যেতে পারে।
.
নবী মুহাম্মাদ ﷺ বলেনঃ
فُضِّلْتُ عَلَى الْأَنْبِيَاءِ بِسِتٍّ أُعْطِيتُ جَوَامِعَ الْكَلِمِ وَنُصِرْتُ بِالرُّعْبِ وَأُحِلَّتْ لِيَ الْغَنَائِمُ وَجُعِلَتْ لِيَ الْأَرْضُ طَهُورًا وَمَسْجِدًا وَأُرْسِلْتُ إِلَى الْخَلْقِ كَافَّةً وَخُتِمَ بِيَ النَّبِيُّونَ
“পূর্ববর্তী অন্যান্য নবীদের উপর ছয়টি বিষয়ে আমাকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। আমাকে দেয়া হয়েছে অল্প শব্দে অনেক বেশী অর্থবোধক কথা বলার যোগ্যতা, আমি অনেক দূর থেকে শত্রুবাহিনীর মধ্যে ভয় সৃষ্টির মাধ্যমে বিজয় প্রাপ্ত হই। গনিমত তথা পরাজিত শত্রুবাহিনীর ফেলে যাওয়া সম্পদ আমার জন্যে বৈধ করা হয়েছে। আমার জন্য সমগ্র পৃথিবীকে পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম এবং মসজিদ বানানো হয়েছে। সমগ্র সৃষ্টিকুলের জন্য আমাকে নবী বানানো হয়েছে এবং আমার মাধ্যমেই নবী আগমনের ধারাকে সমাপ্ত করা হয়েছে।”
[সহীহ মুসলিম, হাদীস ৭১২]
হাদিস থেকে জানা গেল যে সমগ্র পৃথিবীই মসজিদের অন্তর্গত।
.
শাইখ মুহাম্মাদ ইবন সালিহ আল উসাইমিন (র) তাঁর মসজিদ ও নামাযঘর সংক্রান্ত এক ফতোয়ায় বলেছেনঃ
“সাধারণ অর্থ অনুযায়ী সমগ্র পৃথিবীই হচ্ছে মসজিদ কারণ নবী(ﷺ) বলেছেনঃ “আমার জন্য সমগ্র পৃথিবীকে পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম এবং মসজিদ বানানো হয়েছে। ”
সুনির্দিষ্ট অর্থ, মসজিদ হচ্ছে একটি স্থান যেদিকে স্থায়ীভাবে সলাতের(নামাযের) জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে এবং স্থায়ীভাবে বণ্টণ করা হয়েছে, হোক সেটি পাথর, কাদা বা সিমেন্টে বানানো অথবা তা দ্বারা না বানানো। ...”
[ফতোয়া শাইখ উসাইমিন ১২/৩৯৪]
.
অতএব মসজিদের জন্য স্থান হচ্ছে মূখ্য বিষয়। ছাদবিশিষ্ট ইমারত থাকুক বা না থাকুক, সেটি মূখ্য নয়। মসজিদুল হারাম, মসজিদুল আকসা এগুলো স্বয়ং আল্লাহর পক্ষ থেকে স্থিরিকৃত স্থায়ী ইবাদতের জায়গা।
.
আবূ যার গিফারী(রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! সর্বপ্রথম কোন মাসজিদ নির্মিত হয়েছে? তিনি বলেন: মাসজিদুল হারাম। রাবী বলেন, আমি আবার বললাম, তারপর কোনটি? তিনি বলেন: তারপর মসজিদুল আকসা। আমি জিজ্ঞেস করলাম, উভয়ের মধ্যে ব্যবধান কত বছরের? তিনি বলেন: চল্লিশ বছরের। এখন তোমার জন্য সমগ্র পৃথিবীই মাসজিদে। অতএব যেখানেই তোমার সলাতের ওয়াক্ত হয়, সেখানেই তুমি সলাত আদায় করতে পারো।
[সুনানু ইবনে মাজাহ, হাদিস ৭৫৩]
.
হাদিস ও কুরআনে ইব্রাহিম(আ) কর্তৃক নির্মিত হবার পূর্বে মসজিদুল হারামের স্থানটিকেও ‘আল্লাহর ঘর’ বলে অভিহীত করা হয়েছে। যদিও সেখানে তখন কোন ইমারত ছিল না।ছাদবিশিষ্ট ঘর ছিল না।
“... তারপর (আল্লাহর হুকুমে) ইব্রাহীম (আ) হাযেরা (আ) এবং তাঁর শিশু ছেলে ইসমাঈল(আ)-কে সাথে নিয়ে বের হলেন, এ অবস্থায় যে, হাযেরা (আ) শিশুকে দুধ পান করাতেন । অবশেষে যেখানে কা‘বা ঘর অবস্থিত, ইব্রাহীম (আ) তাঁদের উভয়কে সেখানে নিয়ে এসে মাসজিদের উঁচু অংশে যমযম কূপের উপরে অবস্থিত একটি বিরাট গাছের নীচে তাদেরকে রাখলেন ।
তখন মক্কায় না ছিল কোন মানুষ না ছিল কোনরূপ পানির ব্যবস্থা । পরে তিনি তাদেরকে সেখানেই রেখে গেলেন। আর এছাড়া তিনি তাদের কাছে রেখে গেলেন একটি থলের মধ্যে কিছু খেজুর এবং একটি মশকে কিছু পরিমাণ পানি । এরপর ইব্রাহীম (আ) ফিরে চললেন।
.
তখন ইসমাঈল (আ)-এর মা পিছু পিছু ছুটে আসলেন এবং বলতে লাগলেন, হে ইব্রাহীম! আপনি কোথায় চলে যাচ্ছেন ? আমাদেরকে এমন এক ময়দানে রেখে যাচ্ছেন, যেখানে না আছে কোন সাহায্যকারী আর না আছে (পানাহারের) ব্যবস্থা। তিনি একথা তাকে বারবার বললেন। কিন্তু ইব্রাহীম (আ) তাঁর দিকে তাকালেন না। তখন হাযেরা (আ) তাঁকে বললেন, এ (নির্বাসনের) আদেশ কি আপনাকে আল্লাহ দিয়েছেন ? তিনি বললেন, হ্যাঁ । হাযেরা (আ) বললেন, তাহলে আল্লাহআমাদেরকে ধ্বংস করবেন না। তারপর তিনি ফিরে আসলেন ।
.
আর ইব্রাহীম (আঃ) ও সামনে চললেন । চলতে চলতে যখন তিনি গিরিপথের বাঁকে পৌঁছলেন, যেখানে স্ত্রী ও সন্তান তাঁকে আর দেখতে পাচ্ছেন না, তখন কা’বা ঘরের দিকে মুখ করে দাঁড়ালেন । তারপর তিনি দু’হাত তুলে এ দু’আ করলেন, আর বললেন,
‘‘হে আমার প্রতিপালক ! আমি আমার পরিবারকে কতকে আপনার সম্মানিত ঘরের নিকট এক অনুর্বর উপত্যকায় .........যাতে আপনার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ।
(সুরা ইব্রাহিমঃ ১৪:৩৭)
...
...
... ঐ সময় আল্লাহর ঘরের স্থানটি যমীন থেকে টিলার ন্যায় উঁচু ছিল । বন্যা আসার ফলে তাঁর ডানে বামে ভেঙ্গে যাচ্ছিল। এরপর হাযেরা (আ) এভাবেই দিন যাপন করছিলেন। ... ... ... ... ... যখন তিনি তাঁর পিতাকে দেখতে পেলেন, তিনি দাঁড়িয়ে তাঁর দিকে এগিয়ে গেলেন। এরপর একজন বাপ-বেটার সঙ্গে, একজন বেটা-বাপের সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে যেরূপ করে থাকে তারা উভয়ে তাই করলেন। এরপর ইব্রাহীম (আ) বললেন, হে ইসমাঈল। আল্লাহ আমাকে একটি কাজের নির্দেশ দিয়েছেন। ইসমাঈল (আ) বললেন, আপনার প্রভু আপনাকে যা আদেশ করেছেন, তা করুন। ইব্রাহীম (আ) বললেন, আল্লাহ আমাকে এখানে একটি ঘর বানাতে নির্দেশ দিয়েছেন। এই বলে তিনি উঁচু টিলাটির দিকে ইশারা করলেন যে, এর চারপাশে ঘেরাও দিয়ে, তখনি তাঁরা উভয়ে কা’বা ঘরের দেয়াল উঠাতে লেগে গেলেন। ...”
[সহীহ বুখারী , হাদিস ৩৩৬৪]
.
সব থেকে বড় কথা, যে আয়াতে (বনী ইস্রাঈল ১) মুহাম্মাদ ﷺ এর ইসরার কথা বলা আছে ও মসজিদুল আকসার কথা এসেছে, ঐ একই আয়াতে মসজিদুল হারামের কথাও এসেছে।“... যিনি স্বীয় বান্দাকে (মুহাম্মাদ ﷺ) এক রাতে ভ্রমণ করিয়েছিলেন মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসায় ...” (বনী ইস্রাঈল ১৭:১) এই আয়াতে মসজিদুল হারামকে ‘মসজিদ’ বলা হয়েছে অথচ এটিও তখন ছিল একটি খালি জায়গা, মসজিদুল আকসার মতই! সেখানে কাবাঘর ছিল বটে, কিন্তু এর চারদিকে কোন ছাদবিশিষ্ট ‘মসজিদ’ ছিল না বরং খালি জায়গা ছিল। সে সময়ে কাবার খুব নিকটে মানুষজনের ঘরবাড়ী ছিল। মানুষজন কাবার চারদিকে ঐ খালি জায়গাতেই ইবাদত করত। এবং ঐ খালি জায়গাকেই উক্ত আয়াতে ‘মসজিদ’ বলা হয়েছে। যেসব ছিদ্রান্বেষী ঐ আয়াত দেখিয়ে বলতে চায় “খালি জায়গাকে কিভাবে আল আকসা মসজিদ বলা যেতে পারে”, তাদের এই তথ্যটি জেনে রাখা উচিত যে মসজিদুল হারামও “খালি জায়গা” ছিল, এবং সিজদার ঐ পবিত্র স্থানকেও আল্লাহ ‘মসজিদ’ বলে অভিহীত করেছেন। ঐ আয়াত থেকেই তাদের ভ্রান্ত দাবি খণ্ডণ হয়ে যায়।
.
যে স্থানে সুলাইমান (আ) এর মসজিদ (ইহুদিদের পরিভাষায়ঃ বাইত হা মিকদাশ, খ্রিষ্টানদের পরিভাষায়ঃ মহামন্দির বা Temple Mount) ছিল এবং নবী-রাসুলদের অনুসারী ইহুদিরা উপাসনার জন্য জড়ো হত, সেই এক সীমানার মধ্যেই বর্তমান আল আকসা মসজিদ স্থাপন করা হয়েছে। আর হুবহু সেই জায়গাটির উপর স্থাপন করা হয়েছে সোনালী গম্বুজের ‘কুব্বাতুস সাখরা’(Dome of Rock) মসজিদটি। কুব্বাতুস সাখরা মসজিদ স্থাপন করা হয়েছে বনী ইস্রাঈলের কিবলাহ পাথরের উপরে। আর সীমানা দেয়াল দ্বারা ঘেরা পুরো এলাকাটিই মুসলিমদের কাছে বাইতুল মুকাদ্দাস/বাইতুল মাকদিস/ আল আকসা/ হারাম আল শারীফ। মক্কার মসজিদুল হারাম যেমন একটি নির্দিষ্ট এলাকা নিয়ে অবস্থিত, একইভাবে আল আকসাও একটি নির্দিষ্ট এলাকা নিয়ে অবস্থিত।এই এলাকার মধ্যে সব জায়গাই “মসজিদ” বলে বিবেচিত হয়।
.
আগেই বলা হয়েছে যে—‘মসজিদ’ মূলত সিজদা করবার স্থান। ‘মসজিদ’ হবার জন্য কোন ইমারত থাকা জরুরী নয়। আল আকসায় সে সময়ে কোন ইমারত না থাকলেও সীমানাসহ জায়গাটি চিহ্নিত ছিল। মুহাম্মাদ ﷺ ইসরার রাতে জেরুজালেমের সে স্থানে গিয়েছিলেন। কাজেই এই তিনি সেদিন মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসায় গিয়েছেন এ দাবির মধ্যে তাত্ত্বিকভাবে কোনই ভুল নেই বা মিথ্যা নেই। এমনকি কুরআন ও হাদিসের পরিভাষার সাথেও তা কোনক্রমেই সাংঘর্ষিক নয়।
.
বিরোধিরা এরপরেও দাবি করতে চায় - মুহাম্মাদ ﷺ আল আকসায় গমন বলতে শুধুমাত্র ঐ স্থানটিতে যাওয়া বোঝাননি বরং তিনি ইমারতবিশিষ্ট একটি মসজিদের কথাই বলেছেন।এর স্বপক্ষে তারা নিম্নোক্ত দলিলগুলো ব্যবহার করে -
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেনঃ আমি হাজরে আসওয়াদের কাছে ছিলাম। এ সময় কুরায়শরা আমাকে আমার মিরাজ সম্পর্কে প্রশ্ন করতে শুরু করে। তারা আমাকে বাইতুল মুকাদ্দাসের এমন সব বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে লাগল, যা আমি ভালভাবে দেখিনি। ফলে আমি খুবই চিন্তিত হয়ে পড়লাম।
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেনঃ তারপর আল্লাহ তাআলা আমার সম্মুখে বাইতুল মুকাদ্দাসকে উদ্ভাসিত করে দিলেন এবং আমি তা দেখছিলাম । তারা আমাকে যে প্রশ্ন করছিল, তার জবাব দিতে লাগলাম। ...
[সহীহ মুসলিম, খণ্ড ১, কিতাবুল ঈমান অধ্যায়, হাদিস ৩২৮]
.
আমি হিজরে (হাজর আসওয়াদ) দাঁড়ালাম, বাইতুল মাকদিস দেখতে পেলাম এবং এর নিদর্শনগুলো বর্ণণা করলাম। তাদের মধ্যে কেউ কেউ জানতে চাইলো ঐ মসজিদে কতগুলো দ্বার আছে? আমি (আগে) সেগুলো গুনিনি কাজেই আমি এর দিকে তাঁকালাম এবং এক এক করে গুনলাম এবং এগুলোর তথ্য তাদের দিলাম।
[তাবাকাত আল কাবির খণ্ড ১, ইবন সা’দ, পৃষ্ঠা ২৪৬-২৪৮ দ্রষ্টব্য]
.
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেনঃ আমার জন্য বুরাক পাঠানো হলো। বুরাক গাধা থেকে বড় এবং খচ্চর থেকে ছোট একটি সাদা রঙের জন্তু। যতদূর দৃষ্টি যায়, এক এক পদক্ষেপে সে ততদূর চলে। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেনঃ আমি এতে আরোহন করলাম এবং বাইতুল মাকদিস পর্যন্ত এসে পৌঁছলাম। তারপর অন্যান্য নবীগণ তাদের বাহনগুলো যে রজ্জুতে বাধতেন, আমি সে রজ্জুতে আমার বাহনটিও বাধলাম।
তারপর মসজিদে প্রবেশ করলাম ও দুই রাকাত নামায আদায় করে বের হলাম। ...
[সহীহ মুসলিম, খণ্ড ১, কিতাবুল ঈমান অধ্যায়, হাদিস ৩০৯]
.
এই বর্ণণাগুলোয় দেখা যায় যে রাসুলুল্লাহ ﷺ বলছেনঃ তাঁর সামনে বাইতুল মুকাদ্দাসকে উদ্ভাসিত করা হয়েছিল,তিনি মসজিদে প্রবেশ করেছেন ও তা থেকে বের হয়েছেন, তিনি মসজিদের কিছু দ্বারের কথা বলছেন। এ থেকে নাস্তিক ও খ্রিষ্টান মিশনারীরা দাবি করে যে - তিনি ইমারতসহ একটি মসজিদের কথাই বলেছেন কেননা তিনি যদি খালি স্থানের কথা বলতেন, তাহলে তাঁর সামনে কী উদ্ভাসিত করা হল, খালি স্থান হলে তো দ্বার থাকার কথা না, খালি স্থানে কী করে তিনি প্রবেশ করলেন ও বের হলেন। কাজেই তিনি একটি ইমারতবিশিষ্ট মসজিদের কথাই বলতে চেয়েছেন যা একটি অসত্য কথা (নাউযুবিল্লাহ)।
.
প্রথম কথাঃ উদ্ভাসিত হওয়ার জন্য ইমারত থাকা জরুরী নয়।যে কোন স্থানই কারো সামনে উদ্ভাসিত হয়ে বা ফুঁটে উঠতে পারে।
.
দ্বিতীয় কথাঃ পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে মসজিদুল হারাম যেমন একটা নির্দিষ্ট এলাকা নিয়ে গঠিত, বাইতুল মুকাদ্দাসও তেমনি একটি নির্দিষ্ট এলাকা নিয়ে গঠিত। সেই এলাকাটি সীমানা প্রাচীরে ঘেরা ছিল। সেই এলাকাতে ঢোকা ও বের হওয়া মসজিদে ঢোকা ও বের হওয়া হিসাবে বলা হয়েছে।
.
তৃতীয় কথাঃ বিবরণের মধ্যে দ্বার বা দরজার কথাও বলা আছে। বাইতুল মুকাদ্দাস এলাকাটি সীমানা প্রাচীর দিয়ে ঘেরা ছিল এবং তাতে কিছু প্রবেশদ্বার ছিল।এখানে এই প্রবেশদ্বারের কথাই বলা হয়েছে।
.
নাস্তিক ও খ্রিষ্টান মিশনারীরা এবার হয়তো বলতে পারেনঃ ঐ যুগে এলাকাটি সীমানা প্রাচীরে ঘেরা ছিল এবং তাতে প্রবেশদ্বার ছিল, তার প্রমাণ কী? মুহাম্মাদ ﷺ এর দাবির কোন সাক্ষী আছে? আর মুহাম্মাদ ﷺ যে ঐ প্রবেশদ্বার দিয়েই ঢুকেছেন তার প্রমাণ কী? কোন ঐতিহাসিক বিবরণ কি আছে?
.
.
প্রসঙ্গ নবী(স) এর ইসরা ও মিরাজঃ ইসরার ঘটনার সত্যতা কতটুকু? মসজিদুল আকসা কি আসলেই সে সময়ে ছিল? [বাকি অংশ]
(লেখাটির পূর্বের অংশ দেখুন #সত্যকথন_১০২ এ। লিঙ্কঃ https://goo.gl/FCR4zq )
.
মুহাম্মাদ(স) যখন ইসরা ও মিরাজে গিয়েছেন, তখন সেখানে কেউ না থাকলেও এর কয়েক বছর পর খলিফা উমার(রা) যখন জেরুজালেমে যান, তখন কিন্তু সেখানে অনেক লোক ছিল। খলিফা উমার(রা) কর্তৃক বাইতুল মুকাদ্দাসে ঢোকার বিবরণের মধ্যেও এটা উল্লেখ আছে যে — তিনি একটি দরজা দিয়ে সেখানে প্রবেশ করেছিলেন। এবং এটা ছিল সেই দ্বার যে দ্বার দিয়ে মুহাম্মাদ ﷺ ইসরার রাতে সেখানে প্রবেশ করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি সেখানে মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন। উমার(রা) এর বাইতুল মুকাদ্দাসে প্রবেশের সময় সেখানে অনেক মানূষ ছিল, অনেক সাক্ষী ছিল। কাজেই সেখানে যে দ্বার বা দরজা ছিল তাতে কোন সন্দেহ নেই। এই ঐতিহাসিক ঘটনা অনেকেই লিপিবদ্ধ করেছেন। ইবন কাসির (র) এর বর্ণণা থেকেঃ
.
“...খলিফা উমার (রা) সম্মুখে অগ্রসর হয়ে বায়তুল মুকাদ্দাসের খ্রিষ্টানদের সাথে সন্ধিচুক্তি সম্পাদন করলেন এবং শর্ত করলেন যে, তিন দিনের মধ্যে সকল রোমান নাগরিক বায়তুল মুকাদ্দাস ছেড়ে চলে যাবে। এরপর তিনি বায়তুল মুকাদ্দাসে প্রবেশ করলেন। প্রবেশ করলেন সেই দরজা দিয়ে, মি’রাজের রাতে রাসুলুল্লাহ ﷺ যে দরজা দিয়ে প্রবেশ করেছিলেন। কেউ কেউ বলেছেন যে, বায়তুল মুকাদ্দাসে প্রবেশের সময়ে তিনি তালবিয়া পাঠ করেছিলেন,ভেতরে গিয়ে দাউদ (আ)-এর মিহরাবের পার্শ্বে তাহিয়্যাতুল মসজিদ নামায আদায় করলেন।পরের দিন ফজরের নামায মুসলমানদেরকে সাথে নিয়ে জামাআতের সাথে আদায় করলেন। ...এরপর তিনি ‘সাখরা’ বা বিশেষ পাথরের নিকট এলেন।কা’ব আল আহবার (র) থেকে তিনি ঐ স্থান সম্পর্কে জেনে নিয়েছিলেন। কা’ব (র) এই ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন যেন তিনি মসজিদটি ওই পাথরের পেছনে তৈরি করেন। হযরত উমার(রা) বললেন, ইয়াহূদী ধর্ম তো শেষ হয়ে গিয়েছে। তারপর বায়তুল মুকাদ্দাসের সম্মুখে মসজিদ নির্মাণ করলেন।এখন সেটি উমরী মসজিদ নামে পরিচিত। ... ”
[আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ইবন কাসির(র), ৭ম খণ্ড(ইসলামিক ফাউন্ডেশন), পৃষ্ঠা ১০৭-১০৮]
.
ইমাম আহমাদ(র) আরো বর্ণণা করেন যে উমার(রা) বাইতুল মুকাদ্দাসে প্রবেশের পর ঠিক সেখানেই নামায পড়েন, যেখানে রাসুলুল্লাহ(ﷺ) নামায পড়েছিলেন।
[আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ইবন কাসির(র), ৭ম খণ্ড(ইসলামিক ফাউন্ডেশন), পৃষ্ঠা ১১২]
.
উমার (রা) দ্বার দিয়ে প্রবেশ করেন, নামায আদায় করেন, এবং পরে মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন। এ থেকে বোঝা যাচ্ছে যে—মসজিদ তৈরির আগেই সেখানে দ্বার ছিল। বিবরণ থেকে এটাও বোঝা যাচ্ছে যে, এই দ্বার হচ্ছে বাইতুল মুকাদ্দাস এলাকার প্রবেশদ্বার। বাইতুল মুকাদ্দাসের একটি মানচিত্রের ছবি দেখলে বিষয়টি আরো পরিষ্কার বোঝা যাবে। উমার(রা) এর প্রবেশদ্বার অন্য স্থানগুলো এতে চিহ্নিত করে দেখানো আছে।
[[মানচিত্র ও এর বিবরণ ১ম, ২য় ও ৩য় কমেন্টে উল্লেখ করা হল।]]
.
আসলে ঐ এলাকাটি সম্পর্কে স্থানীয়দের পরিষ্কার ধারনা রয়েছে।এই দ্বার ও মসজিদের খুঁটিনাটি তাদের জানা।এমনকি এখানে “বুরাক দ্বার” নামে একটি প্রবেশদ্বারও আছে[চিত্রে ৮ নং দ্বার] । এটি Western wall ও Wailing Wall নামেই পর্যটকদের কাছে বেশি পরিচিত।দ্বারটি বর্তমানে বন্ধ এবং স্থানীয়রা একে বুরাক দেয়াল নামে চেনেন। এই দ্বার ও এলাকাটির ভৌগলিক অবস্থান সম্পর্কে যাদের ধারণা আছে, তারা মোটেও নাস্তিক ও খ্রিষ্টান মিশনারীদের প্রচারণায় বিভ্রান্ত হন না। এ ব্যাপারে ঐ সব সরলমনা মুসলিম বিভ্রান্ত হন যারা ফিলিস্তিন থেকে অনেক দূরে বাস করেন, যাদের এলাকাটি সম্পর্কে ধারনা নেই এবং ইসরার ইতিহাস সম্পর্কেও বিস্তারিত জ্ঞান নেই।
.
আমরা আরো একটি বিবরণ দেখতে পারিঃ
.
“...এরপর তিনি [আবু বকর (রা)] সেখান থেকে সোজা রাসুলুল্লাহ ﷺ এর নিকট চলে আসলেন এবং বললেনঃ হে আল্লাহর নবী! আপনি কি এদের কাছে বলেছেন যে এই রাতে আপনি বায়তুল মুকাদ্দাস গিয়েছিলেন?
তিনি ﷺ বললেনঃ হ্যাঁ।
আবু বকর (রা) বললেনঃ হে আল্লাহর নবী! সে মসজিদটির বর্ণণা দিন তো; আমি সেখানে গিয়েছিলাম।
তখন নবী ﷺ বললেনঃ তখন বায়তুল মুকাদ্দাসকে আমার সামনে তুলে ধরা হল। আমি তার দিকে তাঁকিয়ে দেখতে লাগলাম।
এরপর রাসুলুল্লাহ ﷺ আবু বকর (রা) এর কাছে বায়তুল মুকাদ্দাসের বর্ণণা দিতে লাগলেন। আর আবু বকর (রা) প্রতিবারই বলতে লাগলেনঃ আপনি সত্যই বলেছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আপনি আল্লাহর রাসুল। ...”
[সীরাতুন নবী(সা.), ইবন হিশাম(র), ২য় খণ্ড(ইসলামিক ফাউন্ডেশন) পৃষ্ঠা ৭৪]
.
এখানে দেখা যাচ্ছে যে আবু বকর (রা) পুর্বে বাইতুল মুকাদ্দাসে গিয়েছিলেন এবং সেখানকার বর্ণণা তাঁর জানা ছিল। রাসুল ﷺ যে বর্ণণা দিয়েছিলেন, তার সঙ্গে আবু বকর(রা) এর দেখা বাইতুল মুকাদ্দাস হুবহু মিলে গিয়েছিল।যদি বর্ণণা না মিলত, তাহলে তো আবু বকর (রা) বুঝতেন যে মুহাম্মাদ ﷺ সত্য বলেননি। অথচ আদৌ এমন কিছু হয়নি, মুহাম্মাদ ﷺ এর সত্যবাদিতাই আবু বকর(রা) এর কাছে প্রমাণিত হয়ে গিয়েছিল।
.
যেসমস্ত নাস্তিক ও খ্রিষ্টান মিশনারী ইসরা ও মিরাজের ব্যাপারে মুহাম্মাদ(ﷺ)কে অপবাদ দেন, তাদের কি উচিত না এই বিবরণটি দেখা?
.
আরো একটি বিবরণ উল্লেখ করছিঃ
.
“...আমি (উম্মু হানি) বললামঃ হে আল্লাহর নবী! আপনি এ (ইসরা ও মিরাজ এর) কথা লোকদের কাছে প্রকাশ করবেন না। অন্যথায় তারা আপনাকে মিথ্যাবাদী বলবে ও আপনাকে কষ্ট দেবে।
.
কিন্তু তিনি বললেনঃ আল্লাহর কসম! আমি অবশ্যই তাদের কাছে এ ঘটনা ব্যক্ত করব।
তখন আমি আমার এক হাবশী দাসীকে বললামঃ বসে আছো কেন, জলদি রাসুলুল্লাহ ﷺ এর সঙ্গে যাও, তিনি লোকদের কী বলেন তা শোন, আর দেখ তারা কী মন্তব্য করে।
.
রাসুলুল্লাহ ﷺ বের হয়ে গিয়ে লোকদের এ ঘটনা জানালেন।তারা বিস্মিত হয়ে বললঃ হে মুহাম্মাদ! এ যে সত্য তার প্রমাণ? এমন ঘটনা তো আমরা কোনদিন শুনিনি।
তিনি বললেনঃ প্রমাণ এই যে, আমি অমুক উপত্যকায় অমুক গোত্রের একটি কাফেলার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম।সহসা আমার বাহন জন্তুটির গর্জনে তারা ত্রস্ত হয়ে পড়ে।ফলে তাদের একটি উট হারিয়ে যায়।আমি তাদের উটটির সন্ধান দেই।
আমি তখন শামের দিকে যাচ্ছিলাম।এরপর সেখান থেকে ফিরে আসার পথে যখন দাজনান পর্বতের কাছে পৌঁছি, তখন সেখানেও একটি কাফেলা দেখতে পাই, তারা সকলে নিদ্রিত ছিল।তাদের কাছে একটি পানিভরা পাত্র ছিল।যা কোন কিছু দিয়ে ঢাকা ছিল।আমি সে ঢাকনা সরিয়ে তা থেকে পানি পান করি।এরপর তা আগের মত করে ঢেকে রেখে দেই।
আর এর প্রমাণ এই যে — সে কাফেলাটি এখন বায়যা গিরিপথ থেকে সানিয়াতুত তানঈমে নেমে আসছে।তাদের সামনে একটি ধুসর বর্ণের উট আছে।যার দেহে একটি কালো ও আরেকটি বিচিত্র বর্ণের ছাপ আছে।
.
উম্মু হানী (রা) বলেনঃ এ কথা শোনামাত্র উপস্থিত লোকেরা সানিয়ার দিকে ছুটে গেল।তারা ঠিকই সম্মুখভাগের উটটিকে রাসুলুল্লাহ ﷺ এর বর্ণণামত পেল। তারা কাফেলার কাছে তাদের পানির পাত্র সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। তারা বলল, আমরা পানির একটি ভরা পাত্রে ঢাকনা দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। জাগ্রত হওয়ার পর পাত্রটিকে যেমন রেখেছিলাম তেমনি ঢাকা পাই, কিন্তু ভিতর পানিশূন্য ছিল।
তারা অপর কাফেলাকেও জিজ্ঞেস করল। সে কাফেলাটি তখন মক্কাতেই ছিল।তারা বললঃ আল্লাহর কসম! তিনি সত্যই বলেছেন। তিনি যে উপত্যকার কথা বলেছেন, সেখানে ঠিকই আমরা ভয় পেয়েছিলাম। তখন আমাদের একটি উট হারিয়ে যায়।আমরা অদৃশ্য এক ব্যক্তির আওয়াজ শুনতে পাই, যে আমাদের উটটির সন্ধান দিচ্ছিল। সেমতে আমরা উটটি ধরে ফেলি। ”
[সীরাতুন নবী ﷺ, ইবন হিশাম(র), ২য় খণ্ড(ইসলামিক ফাউন্ডেশন) পৃষ্ঠা ৭৬-৭৭]
.
এই ঘটনায় আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, ইসরা ও মিরাজের ব্যাপারে সে যুগেও লোকজন সন্দেহ পোষণ করেছিল। আর মুহাম্মাদ ﷺ সন্দেহবাদীদেরকে যথাযথ প্রমাণ দেখান। সুস্পষ্টভাবে তাদের সামনে মুহাম্মাদ ﷺ এর কথার সত্যতা প্রমাণিত হয়ে গিয়েছিল।
যেসমস্ত নাস্তিক ও খ্রিষ্টান মিশনারীরা মুহাম্মাদ ﷺ এর ইসরা ও মিরাজ মিথ্যা প্রমাণের জন্য কলম ধরেন, তারা কেন এই বর্ণণাটি উল্লেখ করেন না? সংশয়বাদীদের কি উচিত না, এই বর্ণণাটি ভালো মত লক্ষ্য করা, যাতে মুহাম্মাদ ﷺ সেই যুগের সংশয়বাদীদেরকে সুস্পষ্টভাবে তাঁর কথার স্বপক্ষে প্রমাণ দেখিয়েছিলেন?
.
সব শেষে বলব যে - ইসরা ও মিরাজ নবী মুহাম্মাদ ﷺ এর জন্য বিরাট এক মর্যাদা ও সাধারণ মানুষের জন্য পরীক্ষা। যুক্তি ও বিবেকের কষ্টিপাথরে কেউ যদি যাচাই করে, তাহলে সে এটা নিশ্চিত বুঝতে পারবে যে সারাজীবনের আল আমিন(বিশ্বস্ত) মুহাম্মাদ ﷺ ইসরা ও মিরাজের ব্যাপারেও সত্য কথা থেকে এক চুল বিচ্যুত হননি। এবং তাহলেই এ পরীক্ষায় সফল হওয়া সম্ভব হবে।
{ وَمَا جَعَلْنَا الرُّؤْيَا الَّتِي أَرَيْنَاكَ إِلاَّ فِتْنَةً لِلنَّاسِ }
“আর আমি যে দৃশ্য আপনাকে দেখিয়েছি তা কেবল মানুষের পরীক্ষার জন্য”
[ সূরা বনী ইস্রাঈল(ইসরা) ১৭ : ৬০]
.
======
লেখকঃ মুহাম্মাদ মুশফিকুর রহমান মিনার

অফিসিয়াল ওয়েব সাইট ঃ shottokothon.com  এবং response-to-anti-islam.com

ফেসবুক পেজঃ fb.com/shottokothon1

কোন মন্তব্য নেই