পরকালীন প্রস্তুতি

কুর'আন-সুন্নাহর আলোকে পরকালীন মুক্তির আশায় একটি পরকালমুখী উদ্যোগ

ডারউইনিজমের ব্যবচ্ছেদ


ডারউইনিজমের ব্যবচ্ছেদ: পর্ব-১
.
'ডারউইনিজম' 'ইভোল্যুশন' 'এথেইজম' ইত্যাদি 'টার্ম' গুলোর সাথে আমরা সবাই কম বেশি পরিচিত। 'ডারউইনিজম' 'ইভোল্যুশন' নামগুলো শুনলে অনেকে বুঝে অথবা না বুঝে পক্ষে বিপক্ষে অবস্থান নেয়। 'ইভোল্যুশন' বা বিবর্তনবাদ শব্দটি শুনলেই আমরা মনে করি, এটা ডারউইন আর নাস্তিকদের সম্পত্তি, তাই ধর্মবিশ্বাসী অনেকেই চোখ বন্ধ করে এর বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে নেয়, যেটা আসলে সঠিক নয়।
.
জীব বিজ্ঞানের ভাষায় বিবর্তন হলো জীবের বৈশিষ্টের ধারাবাহিক পরিবর্তন। প্রকৃতি বিজ্ঞানী চার্লস ডারউইনের বিবর্তনবাদ থিওরির আগেও বিবর্তন নিয়ে অনেক হাইপোথিসিস ছিলো। বিজ্ঞানী কার্ল লিনিয়াস, পিয়েরে লুইস মৌপার্টিয়াস, ব্যাপ্টিস্ট ল্যামার্কস সহ অনেকে ইভোল্যুশন নিয়ে কাজ করেছেন।

.
ডারউইনের সাফল্য হলো সে সর্বপ্রথম বিবর্তনের মোটামুটি গ্রহণযোগ্য একটা তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়েছিলেন। ডারউইনের দেয়া বিবর্তনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী জীবের মধ্যকার বৈশিষ্ট্য পরিবর্তিত হয় 'ন্যাচারাল সিলেকশন' এর মাধ্যমে। প্রতিকূল পরিবেশের সাথে যে খাপ খাইয়ে চলতে পারে সেই বেঁচে থাকে-সোজা বাংলায় বলতে গেলে এটাই হচ্ছে 'ন্যাচারাল সিলেকশন' থিওরি। আমরা অনেকে ডারউইনিজম ও 'ন্যাচারাল সিলেকশন' থিওরি একই জিনিস মনে করি, যেটা আসলে ভুল। 
.
ডারউইন ছাড়াও আরো অনেক বিজ্ঞানী 'ন্যাচারাল সিলেকশন' থিওরী নিয়ে কাজ করেছেন, যেমন আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেস (ডারউইনের সহ-কর্মী), উইলিয়াম চার্লস ওয়েলস, প্যাট্রিক ম্যাথিউ তাদের মধ্যে অন্যতম। '
.
ডারউইনিজম' হলো বিজ্ঞানী ডারউইনের 'ন্যাচারাল সিলেকশন' থিওরির নিজস্ব ব্যাখ্যা। পরবর্তীতে হার্বার্ট স্পেন্সার এই থিওরিকে 'সারভাইভাল অফ দ্যা ফিটেস্ট' নামে কিছুটা ভিন্ন রূপে ব্যাখ্যা করেন। ডারউইন তার 'ওরিজিন অফ স্পেসিস' বইয়ে সকল জীব একই আদিরূপ থেকে এসেছে বলে যে মতামত দিয়েছে এটাও ডারউইনিজমের অন্যতম একটা মতবাদ।
ডারউইনের 'ন্যাচারাল সিলেকশন' আরো দশটা বৈজ্ঞানিক থিওরির মতোই আলোচিত সমালোচিত হয়েছে। তৎকালীন অনেক খ্যাতিমান বিজ্ঞানী যেমন, কার্ল ফন নাগেলি, উইলিয়াম থম্পসন, ফ্লেমিং জেনকিন তার ব্যাখ্যার বিপক্ষে দারুন সব বৈজ্ঞানিক যুক্তি উপস্থাপন করেন ফলস্বরূপ ডারউইনকে তার বইয়ে কিছু পরিবর্তন আনতে হয়। উল্লেখিত বিজ্ঞানীগণ একাডেমিক্যালি ডারউইনের থেকে অনেক বেশি যোগ্যতাসম্পন্ন ছিলেন। 
.
মজার ব্যাপার হলো, ডারউইনের সময়েই খুব অল্প সংখ্যক বিজ্ঞানী ইভোলুশনের সাথে ন্যাচারাল সিলেকশনের সম্পৃক্ততা স্বীকার করতো, অধিকাংশের মতে 'ন্যাচারাল সিলেকশন' খুবই 'মাইনর' একটা ভূমিকা পালন করে এ ক্ষেত্রে। বিংশ শতাব্দীতে এসে 'ন্যাচারাল সিলেকশন' তত্ত্ব 'ডেথ বেড'এ চলে যায়। সামগ্রিকভাবে সবাই 'ইভোল্যুশন' তত্ত্ব মেনে নিলেও 'ন্যাচারাল সিলেকশন' থিওরিকে অগ্রহনযোগ্য বলে রায় দেন অনেক খ্যাতিমান বিজ্ঞানী যেমন, এবেরহার্টেড ডেনার্ড, ভার্নন কেলোগ সহ আরো অনেকে। কিছুদিনের মধ্যেই 'ন্যাচারাল সিলেকশন' থিওরির বিপরীতে আরো চারটি মতবাদ প্রতিষ্ঠা পায় তার মধ্যে 'সালট্যাশনিজম' অন্যতম। 
.
এই ইভোলুশনারি মেকানিজমটা ডারউইনের থেকে পুরোটাই আলাদা। ডারউইন যেখানে বলেছিলো ইভোল্যুশন ধীরে ধীরে অনেক সময় নিয়ে হয়, সেখানে 'সালট্যাশনিজম' তত্ত্ব অনুসারে 'দ্রুত বৃহৎ মিউটেশন' এর মাধ্যমে ইভোল্যুশন সংঘটিত হয়। এই তত্ত্বে বিশ্বাসীদের মধ্যে জেনেটিক্সের প্রাণপুরুষ হুগো দ্যা ভ্রেইস থেকে শুরু করে আধুনিককালের কার্ল ভয়েস, নোবেল জয়ী বারবারা ম্যাক ক্লিনটকও আছেন। মডার্ন মলিকুলার বায়োলজি সমর্থিত এই তত্ত্বটি অন্য সব থিওরি থেকে বেশি গ্রহণযোগ্য ও বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত।
.
উপরের সংক্ষেপিত আলোচনা থেকে এটা পরিষ্কার বিবর্তনবাদের উপরে আদি থেকে আজ পর্যন্ত যত থিওরী পাওয়া যায় তার মধ্যে ডারউইনের 'ন্যাচারাল সিলেকশন' থিওরী বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে সবচেয়ে অনির্ভরযোগ্য ও অপ্রায়োগিক। প্রশ্ন হতে পারে, তারপরেও বাকি সব থিওরি থেকে ডারউইনের থিওরী কেনো বেশি আলোচিত ও সমালোচিত? এর পিছনেও অনেক কারণ আছে, তার যতটা না বৈজ্ঞানিক তার থেকেও সামাজিক ও রাজনৈতিক। পরবর্তী পর্বে এই বিষয়ে আলোচনা হবে ইনশাআল্লাহ।

ডারউইনিজমের ব্যবচ্ছেদ: পর্ব-২ 
.
ডারউইনিজম নিয়ে বিস্তারিত বলার আগে ইভোল্যুশন নিয়ে কিছু আলোচনা করা যাক। ইভোল্যুশন নিয়ে অনেকের মাঝে অস্পষ্টতা আছে। আগেই বলা হয়েছে, ইভোল্যুশন বা বিবর্তন হলো জীবের জণ্মগত বৈশিষ্টের ধারাবাহিক পরিবর্তন। বিবর্তনকে দুইভাগে ভাগ করা যায়, ম্যাক্রো ইভোল্যুশন বা বৃহৎ বিবর্তন ও মাইক্রো বা ছোট বিবর্তন। আমরা সবাই সাধারণত ম্যাক্রোইভোলুশন নিয়ে কথা বলি, তর্ক বিতর্ক করি।
.
ম্যাক্রোইভোলুশন থিওরী মতে জীবের টার্ন্সফর্মেশন বা রূপান্তর, এক জীব থেকে আরেক জীবে পরিণত হওয়া সম্ভব। সাইন্টিফিক তথ্য অনুযায়ী জীবের এই পূর্ণাঙ্গ পরিবর্তন সম্ভব নয়, বিশেষ করে বহু কোষী (মাল্টিসেলুলার) জীবের ক্ষেত্রে তো নয়ই। কিছু স্টাডি আছে যেখানে দেখা গেছে কিছু এক কোষী প্রোক্যারিওট গুলোর মধ্যে জিনগত সাদৃশ্য অনেক।
.
যেমন কিছু কিছু ব্যাকটেরিয়া প্রজাতির মধ্যে জিনগত সাদৃশ্যতা অনেক, এই সাদৃশ্যতা হয়তো এভোলিউশনারী মেকানিজমের মাধ্যমে হয়েছে। এক কোষী জীবে ইভোল্যুশন হওয়া খুবই সম্ভব এবং বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত।
সমস্যা হয় তখন, যখন আমরা এই মেকানিজম মাল্টিসেলুলার বা বহুকোষী প্রাণী যেমন, এনিম্যাল, প্লান্ট ইত্যাদির ক্ষেত্রেও একই রকম সহজ ও সরল মনে করি। আমরা সবাই কমবেশি আদি ও প্রাকৃত কোষের পার্থক্য ছোট বেলায় পড়েছি!!! এই দুই প্রকার কোষের স্ট্রাকচারাল/কাঠামোগত পার্থক্য আকাশ পাতাল। তাদের রিপ্রোডাকশন/প্রতিলিপি তৈরির প্রদ্ধতি একেবারেই আলাদা।
.
উদাহরণ দিলে ক্লিয়ার হবে- ব্যাকটেরিয়া (এক কোষী) যেখানে সেখানে জন্মাতে পারে, একটা ব্যাকটেরিয়া থেকে আরেকটা ব্যাকটেরিয়া হতে ৪ থেকে ২০ মিনিট সময় লাগে, পক্ষান্তরে একটা এনিম্যাল সেল (কোষ) থেকে আরেকটা হতে কমপক্ষে ২৪ ঘন্টা সময় লাগে । এই রকম হাজারো উদাহরণ দেয়া যাবে, যা থেকে এটাই স্পষ্ট হবে এক কোষী আর বহু কোষী জীবের মধ্যে আদৌ কোনো মিল নাই। তাই ব্যাক্টেরিয়াতে ইভোল্যুশন হলেই এটা বলে দেয়া চূড়ান্ত বোকামি যে বহুকোষী জীবেও ইভোল্যুশন (ম্যাক্রো) হয়।
.
বহুকোষী জীবে মাইক্রোইভোল্যুশন প্রতিনিয়ত হচ্ছে। প্রধানত মিউটেশন (জিনের গঠনগত পরিবর্তন), জিন ফ্লো, জেনেটিক ড্রিফট (জিনের স্থানান্তর) ইত্যাদি কারণে প্রাণী দেহে মাইক্রোইভোলুশন হয়। আমাদের যে ক্যান্সার হয়, এটাও একপ্রকার ইভোল্যুশন (মাইক্রো)। ক্যান্সার হলে কোষের ডিএনএ'র স্বাভাবিক গঠন পরিবর্তিত হয়ে যায়, ফলে অনিয়ন্ত্রিত কোষ বৃদ্ধি হয়, কিছু প্রোটিন বা মলিক্যুলের উৎপাদন কমে বা বেড়ে যায় কিন্তু এর ফলে মানুষ কখনো বানর বা হনুমান হয়ে যায় না!!
.
মূলকথা হলো, মাইক্রোইভোলুশনের মাধ্যমে দেহের বিশেষ করে, কোষের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ পরিবর্তন হতে পারে, কিন্তু তাতে একধরণের প্রাণী/উদ্ভিদ অন্য কোনো প্রাণী বা উদ্ভিতে রূপান্তরিত হয়ে যায় না বা বাইরের (ফেনোটিপিক্যাল) গঠনগত পরিবর্তন হয় না।
.
আরো একটা বিষয় পরিষ্কার করা দরকার, আমরা প্রায়ই শুনি বানর, শিম্পাঞ্জি সাথে আমাদের ডিএনএ'র অনেক মিল, তাই আমরা ধরে নিতেই পারি এদের সাথে হয়তো আমাদের এক কালে সাদৃশ্যতা ছিল।এটাও অজ্ঞতার এক বহিঃপ্রকাশ।
.
যারা মলিকুলার বায়োলজি ভালো জানে তাদের জন্য বুঝা অনেক সহজ, ডিএনএ'র মিল থাকলেই সবকিছু হয়ে যায় না। ডিএনএ'ই শেষ কথা নয়, ডিএনএ থেকে আর.এন.এ হয়, তার পরে প্রোটিন তৈরী হয়। প্রোটিন হলো সব কিছুর মুলে। অনেকেই জানে না, একই জীন (পার্ট অফ ডিএনএ) থেকে বিভিন্ন ধরণের আর.এন.এ. তৈরী হতে পারে, একই আর.এন.এ. বিভিন্ন ধরনের প্রোটিন তৈরী করতে পারে, একই প্রোটিনের বিভিন্ন আইসোফর্ম (দেখতে একই কিন্তু কাজ আলাদা) থাকতে পারে। তার মানে ডিএনএ'র মিল হলেই সবকিছু হয়ে যায় না। ব্যাক্টেরিয়ার ডিএনএ আর আমাদের ডিএনএ একই জিনিস দিয়ে তৈরী, তাই বলে ব্যাক্টেরিয়ার ডিএনএ যে কাজ আমাদের ডিএনএ কি একই কাজ করে? অবশ্যই নয়। প্রাণীদের ডিএনএ র সাদৃশ্য থাকতে পারে এবং থাকাটা স্বাভাবিক, মূল পার্থক্য হলো তাদের কাজে এবং এখানেই সবাই স্বাতন্ত্র ও আলাদা।
(ইন শা আল্লাহ চলবে)

.
ডারউইনিজমের ব্যবচ্ছেদ: পর্ব-৩
.
'বিজ্ঞানী' ডারউইনকে আসলেই 'জীব বিজ্ঞানী' বলা যায় কিনা তা নিয়ে অনেক সন্দেহ আছে, বিশেষ করে ডিএনএ'র গঠন জানার পরে তার দেয়া 'থিওরি' কোনো মতেই আধুনিক জীব বিজ্ঞানের অংশ হতে পারে না। বিত্তশালী পরিবারের সন্তান ডারউইন প্রথমে চিকিৎসা শাস্ত্র পড়ার জন্য স্কটল্যান্ডের এডিনবুর্গে যান, পড়াশোনা শেষ না করেই চলে আসেন, তার পিতা প্রচন্ড হতাশ হয়ে কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি করে দেন যাতে সে রেক্টর বা ক্লারিক জাতীয় সম্মানজনক পদে অধিষ্টিত হতে পারে, সেটা করতেও সে ব্যর্থ হয়, পরে ব্যাচেলর অফ আর্টস ডিগ্রী নেন।
.
প্রভাবশালী ও ধনবান পরিবারের সন্তান হওয়ার কারণে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখার পিছনে অনেক সময় ও অর্থ ব্যয় করতে পিছপা হননি। নিজ উদ্যোগে জীব বিজ্ঞানের শ্রেণী বিন্যাসের উপরে পড়াশোনা করেন। পরে ক্যাপ্টেন রবার্ট ফিটজরয়ের নেতৃত্বে জাহাজ এইচ.এম.এস বিগলে করে সারা দুনিয়া চষে বেড়িয়েছেন, বিশেষ করে দক্ষিণ আমেরিকার গালাপস দ্বীপে অনেক দিন অতিবাহিত করেন, সেখান কার জীববৈচিত্র, সাথে আদি মানুষদের জীবনযাত্রা প্রত্যক্ষ করেন, এবং লিখে ফেলেন তার আলোচিত 'অরিজিন অফ স্পেসিস' বই।
.
এখানে প্রায়োগিক বিজ্ঞান বলতে কিছু ছিলোনা, পুরোটাই তার মনগড়া নিজস্ব জীবন দর্শন। ডারউইন অবশ্যই প্রচন্ড মেধাবী একজন মানুষ ছিলেন সন্দেহ নাই, কিন্তু কোনো মতেই তাকে আধুনিক বিজ্ঞানের চর্চা অনুযায়ী 'জীব বিজ্ঞানী' বলা চলে না।
.
এবার থিওরি বা 'তত্ত্ব' নিয়ে কিছু বলা যাক। থিওরি হলো যুক্তি তর্কহীন অনুমান নির্ভর কিছু প্রস্তাবনা, সেটা সঠিক/ভুল যেকোনো একটা হতে পারে। একটা বিষয় পরিষ্কার হওয়া দরকার, বিজ্ঞানের অন্য সব শাখায় 'থিওরি' গ্রহণ যোগ্য হলেও 'জীব বিজ্ঞানের' ক্ষেত্রে পরীক্ষাগারে অপ্রমাণিত 'থিওরি' অসাড় একটা জিনিস। পদার্থ বিজ্ঞানে আইনস্টাইনের 'আপেক্ষিকতার তত্ত্ব', কম্পিউটার বা টেলিকমুনিকেশনে ক্লাউডে শ্যাননের 'ইনফরমেশন থিওরি', প্রায়োগিক গণিত শাস্ত্রের জন নিউম্যানের 'গেম থিওরি', রসায়নে লাভসিওরের 'অক্সিজেন দহন তত্ত্ব', ম্যাক্স প্লাঙ্কের 'কোয়ান্টম তত্ত্ব', স্টাটিস্টিকের টমাস ব্যাসের 'বেইস তত্ত্ব' সহ আরো অসংখ্য বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব আছে যেগুলো এখনো প্রয়োগসাধ্য ও বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমাণিত।
.
পদার্থ বা গণিত শাস্ত্রে একটা থিওরী দাঁড় করাতে একটা পেপার আর পেন্সিলই যথেষ্ঠ, পরীক্ষা নিরীক্ষার দরকার পড়ে না, উদাহরণ, আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার তত্ত্ব। জীব বিজ্ঞানে আপনি চাইলেই আপনার মন গড়া 'তত্ত্ব' বানাতে পারেন না। এক্সপেরিমেন্টাল এভিডেন্স ছাড়া জীব বিজ্ঞান কোনো কিছুই বিশ্বাস করে না।
.
আধুনিক কম্পিউটেশনাল বায়োলজিতে অনেক সময় সিমুলেশন বা ম্যাথমেটিক্যাল মডেলিংয়ের মাধ্যমে অনেক কিছু প্রেডিক্ট/অনুমান করা হয়, বাস্তবে যখন বায়োলজিক্যাল সিস্টেমে টেস্ট করা হয় তখন অধিকাংশ ক্ষেত্রে পূর্বানুমান ভুল প্রমাণিত হয়। জীববিজ্ঞানের মতো বিজ্ঞানের অন্য কোনো শাখা এতো রহস্যময়, জটিল ও বৈচিত্রময় নয়। আরো বলে রাখা ভালো, মানুষ মঙ্গলে পা রাখতে চলেছে, ইলেক্ট্রন, প্রোটন নিয়ে কাজ করছে, রোবট বানাচ্ছে আরো কত অ্যাডভান্স টেকনোলজি আমাদের সামনে, তারপরেও এখন পর্যন্ত আমাদের ডিএনএ র ৯০ ভাগেরও বেশি অংশ কি কাজ তা আমরা জানতে পারিনি । এতো জটিল একটা বিষয়ে একজন মানুষ বনে বাদাড়ে ঘুরে বেড়িয়ে, কিছু বানর, হনুমান, আর জংলী মানুষদের সাথে থেকেই 'জীব বিজ্ঞানের' থিওরি দিয়ে দিলো, আর কোটি কোটি মানুষ সেটা এইযুগেও বিশ্বাস করে চলেছে ভাবতেই আমাদের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা নিয়ে সংকিত হই।
.
এবার জেনে নেই ডারউইনের এভোলিউশনারী থিওরি সম্পর্কে তার সমসাময়িক প্রথিতযশা ও আধুনিক বিজ্ঞানীরা কে কি বলেছেন। বিখ্যাত ডেনিশ এম্ব্রায়োলজিস্ট সোরেন লোভট্রপ তার বই Darwinism: The Refutation of a Myth এ লিখেছেন -
.
"...the reasons for rejecting Darwin's proposal were many, but first of all that many innovations cannot possibly come into existence through accumulation of many small steps, and even if they can, natural selection cannot accomplish it, because incipient and intermediate stages are not advantageous."
.
ক্যামব্রিজে পড়াশোনা করা বিখ্যাত ভূতত্ত্ববিদ এডাম সিজুইক ডারউইনিজম নিয়ে তামাশা করেছেন -
.
"...parts (of Darwin's Origin of Species) I laughed at till my sides were almost sore..."
.
ব্রিটিশ বায়োলজিস্ট জর্জ জ্যাকসন এই তত্ত্বকে "The Incompetency of 'Natural Selection' বলে অবহিত করেছেন। মার্কিন বায়োলজিস্ট লুইস অগাস্টের মন্তব্য -
.
"There are...absolutely no facts either in the records of geology, or in the history of the past, or in the experience of the present, that can be referred to as proving evolution, or the development of one species from another by selection of any kind whatever."
.
আরেক বিখ্যাত মার্কিন গণিত ও পদার্থবিদ উলফস্গং স্মিথ তার 'Teilhardism and the New Religion' বইয়ে বলেছেন -
.
'evolutionism is in truth a metaphysical doctrine decked out in scientific garb'.
.
একজন মার্কিন 'আধুনিক এভোলিউশনারী' থিওরিস্ট মাইকেল বিহি তার 'Darwin's Black Box' বইয়ে নিও-ডারউইনিজমকে -
.
'a minor twentieth-century religious sect' বলে উল্লেখ করেছেন।
.
'Ultimately the Darwinian theory of evolution is no more nor less than the great cosmogenic myth of the twentieth century'- কথাটা বলেছেন বিখ্যাত ব্রিটিশ বায়োকেমিস্ট মাইকেল ডেনটন তার Evolution: A Theory in Crisis বইয়ে।
.
ডারউইনের সমসাময়িক বিখ্যাত বায়োলজিস্ট, স্যার রিচার্ড ওয়েন তার 'Darwin on the Origin of Species' বইয়ে ডারউইনের তত্ত্বকে ধুয়ে দিয়েছেন। এই রকম উদাহরণ অসংখ্য দেয়া যাবে যারা ডারউইনের এই আষাঢ়ে গল্প নিয়ে হাসি তামাশা করেছেন।
.
আরো একটা বিষয় আপনাদের জানানো দরকার, ডারউইনকে ইউরোপ আমেরিকার লোকেরাই বিজ্ঞানী মনে করে না। সাধারণত ইউরোপ আমেরিকাতে বড় বড় বিজ্ঞানীদের নামে বিভিন্ন ধরণের বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠানের নামকরণ হয়ে থাকে যেমন, স্যাঙ্গার ইনস্টিটিউট, ম্যাক্স প্লাঙ্ক ইনস্টিটিউট, পাস্তুর ইনস্টিটিউট, সাল্ক ইনস্টিটিউট, গর্ডন ইনস্টিটিউট, ফ্রান্সিস ক্রিক ইনস্টিটিউট, ওয়াটসন স্কুল অফ বায়োলজিক্যাল সাইন্স, এই রকম আরো অনেক নাম দেয়া যাবে যেখানে বিখ্যাত বিজ্ঞানীদেরকে সন্মান জানানো হয়েছে তাদের নামে নামকরণের মধ্য দিয়ে। অবাক করা বিষয় ডারউইনের মতো বিখ্যাত বিজ্ঞানীর (!!) নামে জীব বিজ্ঞানের কোনো ইনস্টিটিউটের নাম করণহয়নি এখন পর্যন্ত!!! তার মানে ডারউইনের দেশের মানুষরাই তাকে বায়োলজি ফিল্ডে বড় কোনো বিজ্ঞানী হিসাবে স্বীকৃতি দেয় না।
(ইন শা আল্লাহ চলবে)

==============================
লেখকঃ সাইফুর রাহমান

অফিসিয়াল ওয়েব সাইট ঃ shottokothon.com  এবং response-to-anti-islam.com

ফেসবুক পেজঃ fb.com/shottokothon1

কোন মন্তব্য নেই