পরকালীন প্রস্তুতি

কুর'আন-সুন্নাহর আলোকে পরকালীন মুক্তির আশায় একটি পরকালমুখী উদ্যোগ

'প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ-২' বই রিভিউ (২)

[Book Review of Paradoxical Sajid-2!]


আলহামদুলিল্লাহ্ "সাজিদ-২" নিয়ে প্রথম রিভিউটা লেখার হয়তো আমারই সৌভাগ্য হয়েছিলো!
বইয়ের নাম: প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ-০২
লেখক: আরিফ আজাদ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৪০
মুদ্রিত মূল্য: ৩৫০ টাকা

পড়ছিলাম "প্যারাডক্সিকাল সাজিদ-০২" বইটা। বইটি এতোটাই অসাধারণ আর দৃষ্টি-উন্মুক্তকারী যে এটি নিয়ে রিভিউ লিখতে গেলে ছোট করে কিছু লেখা কষ্টকর। সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকেই আলো অন্ধকারের একটা দ্বন্দ্ব হয়ে আসছে। কিন্তু মাঝে মাঝে অন্ধকারকে এতোই আকর্ষণীয় পন্থায় সামনে আনা হয় যে আমরা অন্ধকারকে আলোর চেয়ে সুন্দর মনে করে বসি। অথচ অন্ধকার যতই শক্তিশালী হোক সেখানে আলো তার অস্তিত্ব জানান দিতেই অন্ধকার বিলুপ্ত হয়ে যায়।

বর্তমানে ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার কারণে আমাদের সামনে সহজে অন্যদের সঠিক-বেঠিক সব ধরণের আদর্শগুলো চলে আসছে। মিথ্যে এমনভাবে উপস্থাপিত হচ্ছে মনে হবে যেন মিথ্যেটাই সঠিক।

"প্যারাডক্সিকাল সাজিদ-০২"টা হলো সেই মিথ্যের অন্ধকারে আলো পৌঁছাতে আসা একটি বই।

যেখানে নাস্তিকদের বিভিন্ন প্রশ্ন বা প্রোপাগান্ডার যেমন জবাব দেয়া হয়েছে তেমনি দেয়া হয়েছে খৃষ্টান মিশনারীর অপবাদের জবাবও৷

লেখকও সাজিদ প্রথম সিরিজের ভুলগুলো শুধরে নিয়ে এই সিরিজটাকে করে তুলেছেন আরো অতুলনীয়।

বইটি প্রথমে শুরু হয়েছে আল-কুরআনের নারী সংক্রান্ত একটি বহুল আলোচিত নাস্তিকদের অপবাদের জবাব দিয়ে যেটা নিয়ে নাস্তিকরা প্রায়শ স্যাটায়ার করতে দেখা যায়।

তারপর ভিতরে আরো অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। যেমন সালমান রুশদীর "The Satanic Verses " -বইয়ে কুরআনের আয়াত নিয়ে ভুল ব্যাখ্যার জবাব কিংবা আল-কুরআনের কিছু অসাধারণ অলৌকিকত্ব নিয়ে আলোচনা ইত্যাদি।

আরো আছে ইসলাম বিদ্বেষী মহলে সবচে' আলোচিত টপিক " পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ পুরুষ রাসূল মুহাম্মদ (সা.) এর ১১ জন সহধর্মিণী" কেন বা কীজন্য? টাইপ প্রশ্ন বা সমালোচনার যথেষ্ট উন্নতমানের আর গ্রহণযোগ্য উত্তর।

নাস্তিকদের একটা কমন অভিযোগ- "ধার্মিক মানুষ পৃথিবীতে প্রচুর হত্যাকান্ড চালিয়েছে" যেটা বলে তারা ধর্মকে বিচার করতে চায় কিন্তু ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় বিশ্বাসীদের চেয়ে বস্তুবাদীরাই পৃথিবীতে সবচে বেশি হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে যেটা "গল্পে গল্পে ডারউইনিজম" অধ্যায়টাতে পাওয়া যাবে।

ডারউইনিয়ান এভুলুশানের সত্যতার পক্ষে যেহেতু এখনো অবদি কোনো "এক্সপেরিমেন্টাল এভিডেন্স নেই‍"* তাই সেটা নিয়ে "সাজিদ-০২"-এ অতটা আলোচনা না থাকলেও ডারউনিজম মানবজাতিকে কী দিয়েছে সেটা নিয়ে তথ্যবহুল আলোচনা করা হয়েছে।

এছাড়া নানান বৈচিত্র্যময় বিষয়ের অবতারণা করে "সাজিদে" বিভিন্ন সমালোচনার জবাব দেওয়া হয়েছে।

অনেকে "প্যারাডক্সিকাল সাজিদ-০২" পড়ার আগে সেটার কাউন্টার সিরিজ পড়বেন শুধুমাত্র নিজস্ব আইডিওলজিটাকে টিকিয়ে রাখতে! সাজিদের ব্যাখ্যাগুলোকে লজিক্যাল ফ্যালাসি প্রমাণ করতে নাস্তিকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাবে।

তাই "প্যারাডক্সিকাল সাজিদ-০২" পড়ার আগে যদি পারেন চেষ্টা করবেন লজিক্যাল ফ্যালাসি সম্পর্কে একটু ধারণা নিয়ে রাখতে।

না হয় পরে কখনো নাস্তিকদের এই বইয়ের কাউন্টার সিরিজ চোখে পড়লে সেটাতে বিভ্রান্তি জন্মাতে পারে। আর আপনিই যখন লজিক্যাল ফ্যালাসি নিয়ে জানবেন তখন কোনটা কুযুক্তি আর কোনটা সুযুক্তি নিজেই বুঝবেন৷

তবে হ্যাঁ, অনলাইনে যেকোনো সাইট থেকে লজিক্যাল ফ্যালাসি সম্পর্কে পড়তে গেলে বিভ্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে কারণ সেগুলোর বেশিরভাগ নাস্তিকদের নিজেদের মত করে লেখা। তাই সঠিক সোর্স থেকে জানুন। এই ব্যাপারে আমি আপনাকে সাহায্য করতে পারি সেটা হলো-"Internet Encyclopedia of philosophy" লিখে সার্চ দিন আর সেখান থেকে এই সম্পর্কিত আর্টিকেলগুলো পড়ে নিন, ব্যাস।

আর হ্যাঁ চাইলে "সাজিদে" ব্যবহৃত রেফারেন্সগুলো কতটা অথেনটিক সেটা নিজেই যাচাই করে নিতে পারেন ইনশাআল্লাহ দেখবেন "সাজিদরা" কখনো রেফারেন্স নিয়ে কারসাজি করেনা!

এই বইয়ে "সাজিদ" শুধু ইসলাম নিয়ে বিভিন্ন অপবাদকে যুক্তি আর তথ্যের সংমিশ্রণে হটিয়ে দিয়েছে তা নয়, এর মাধ্যমে "সাজিদ" এটাও প্রমাণ করেছে ইসলাম চিন্তাশীলদের ধর্ম, ইসলাম মানবতা বিরোধী একটা কিছু নিয়েও পৃথিবীতে আসেনি বরং ইসলাম এসেছে বিশ্বের অনৈতিকতাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে, কুসংস্কারকে সংস্কার করতে সবচে' গভীর আর সর্বোৎকৃষ্ট পন্থায়।

ইসলাম মানুষের চিন্তার জানালা বন্ধ করতে আসেনি বরং ইসলাম এসেছে মানুষের চিন্তার জানালা খোলার জন্য , আলোচনার পথ উন্মুক্ত করার জন্য এবং মানুষকে সভ্যতা শেখানোর জন্য।

রিভিউ সোর্স: ‎পাঠাভ্যাস (Book Review & Discussion)

৭টি মন্তব্য: