পরকালীন প্রস্তুতি

কুর'আন-সুন্নাহর আলোকে পরকালীন মুক্তির আশায় একটি পরকালমুখী উদ্যোগ

ধারাবাহিক কুরআন ০১


[১]
হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাঃ বলেন, “একবার আমরা সফরে ছিলাম। এক স্থানে আমরা যাত্রা বিরত করি। হঠাৎ একজন দাসী এসে বললো, “এখানকার গোত্র নেতাকে সাপে কেটেছে। এখন আমাদের লোকেরা সবাই অনুপস্থিত। ঝাড় ফুক দিতে পারে এমন কেউ আপনাদের মধ্যে আছে?"

তখন আমাদের মধ্য হতে একটি লোক তার সাথে গেল। যে গেলো, সে যে ঝাড় ফুকও জানতো তা আমরা জানতাম না। সেখানে গিয়ে সে ঝাড় ফুক করলো। আল্লাহর অপার মহিমায় তখুনি গোত্রের নেতা সম্পূর্ণরূপে আরোগ্য লাভ করলো। তারপর গোত্র নেতা আমাদের জন্য ৩০ টি ছাগী দিল এবং অনেক দুধও পাঠিয়ে দিল। আমাদের কাফেলার যে লোকটি ঝাড়ফুঁক করতে গিয়েছিল, সে ফিরে আসলে আমরা তাকে জিজ্ঞেস করলাম,
“তোমার কি এ বিদ্যা জানা ছিল?'
: "আমিতো শুধু সূরাহ ফাতিহা পড়ে ফুঁ দিয়েছি।"

আমরা বললাম, “তাহলে এসব প্রাপ্ত মাল এখনও স্পর্শ করো না। প্রথমে রাসূলুল্লাহ সঃ-কে জিজ্ঞেস করো।" মদীনায় আমরা রাসূলুল্লাহ সাঃ'র কাছে এ ঘটনা পুরোপুরি বর্ণনা করলাম। তখন তিনি (নবী কারীম সঃ) বললেন, “এটা যে ফুঁ দেয়ার সূরা, তা সে কি করে জানলো? এ মাল ভাগ করো। আমার জন্যেও একভাগ রেখো।" মুসলিমের কোনো এক বর্ণনায় আছে যে, ফুঁক দাতা লোকটি আবু সাঈদ খুদরী রাঃ ছিলেন।

[২]
রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেন, "যখন তোমরা বিছানায় শয়ন কর তখন যদি সূরাহ ফাতিহা পড়ে নাও, তাহলে মৃত্যু ছাড়া প্রত্যেক (ক্ষতিকর) জিনিস হতে নিরাপদে থাকবে।" [তাফসীরে ইবনে কাসীর]

© MD Torikul Islam Tarek

কোন মন্তব্য নেই