পরকালীন প্রস্তুতি

কুর'আন-সুন্নাহর আলোকে পরকালীন মুক্তির আশায় একটি পরকালমুখী উদ্যোগ

ধারাবাহিক কুরআন ০২


[১]
হযরত উসাইদ বিন হুজাইর রাঃ এক রাত্রে সূরাহ বাকারার পাঠ আরম্ভ করেন। তাঁর ঘোড়াটি, তার পার্শ্বে বাঁধা ছিল। হঠাৎ, ঘোড়াটি লাফাতে শুরু করে। তিনি পাঠ বন্ধ করলে, ঘোড়া সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যায়। আবার তিনি পড়তে আরম্ভ করলে ঘোড়াও লাফাতে শুরু করে। তিনি পুনরায় পড়া বন্ধ করেন এবং ঘোড়াটিও স্তব্ধ হয়ে থেমে যায়। তৃতীয় বার এরূপই ঘটে। তাঁর শিশু পুত্র ইয়াহইয়া ঘোড়ার পার্শ্বেই শুয়ে ছিল। তিনি ভয় করলেন যে, না জানি ছেলের আঘাত লেগে যায়। ফলে তিনি পড়া বন্ধ করে ছেলেকে উঠিয়ে নেন। অতঃপর তিনি আকাশের দিকে দৃষ্টিপাত করেন ঘোড়ার চমকে উঠার কারণ কি, জানার জন্য। সকালে তিনি রাসুল সাঃ'র দরবারে হাজির হয়ে ঘটনাটি বর্ণনা করেন। তখন রাসূলুল্লাহ বলেন, ‘উসাইদ! তুমি পড়েই যেতে!'
--"হে আল্লাহর রাসূল! তৃতীয় বারের পরে প্রিয় পুত্র ইয়াহইয়ার কারণে আমি পড়া সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দিয়েছিলাম। তারপর আমি আকাশের দিকে তাকালে, ছায়ার ন্যায় একটা জ্যোতির্ময় জিনিস দেখতে পাই এবং দেখতে দেখতেই তা উপরের দিকে উড়ে শূন্যমার্গে মিলিয়ে যায়।"
--"তুমি কি জান সেটা কি ছিল? তারা ছিলেন গগন বিহারী অগণিত জ্যোতির্ময় ফেরেশতা। তোমার পড়ার শব্দ শুনে তারা একপদে নিকটে এসেছিলেন। যদি তুমি পাঠ বন্ধ না করতে তবে তারা সকাল পর্যন্ত এরকমভাবে থাকতেন এবং মদীনার সকল লোক তা দেখে চক্ষু জুড়াতো। একটি ফেরেশতাও তাদের দৃষ্টির অন্তরাল হতেন না।"

[২]
রাসূলুল্লাহ সঃ বলেছেন, সূরা বাকারাহ্ কুরআনের কুঁজ ও তার চূড়া। ইহার একেকটি আয়াতের সঙ্গে ৮০ জন করে ফেরেশতা উর্ধগগন থেকে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। বিশেষতঃ আয়াতুল কুরসী তো খাস আরশ হতে অবতীর্ণ হয়েছে এবং এই সূরার সঙ্গে মিলানো হয়েছে। আর যে ব্যক্তি রাত্রিকালে নীরব ক্ষণে নিজের নিভৃত কক্ষে এ সূরা পাঠ করে, তিন রাত পর্যন্ত শয়তান সেই ঘরে যেতে পারে না। আর যদি দিনের বেলায় ঘরে পড়ে তবে তিন দিন পর্যন্ত সেই ঘরে শয়তান পা দিতে পারে না।

[৩]
ইবনে মাসউদের (রাঃ) উক্তি আছে, যে ঘরে সূরাহ বাকারাহ'র প্রথম চার আয়াত, আয়াতুল কুরসী ও তার পরবর্তী দু’টি আয়াত এবং সব শেষের তিনটি আয়াত, এই দশ আয়াত পাঠ করা হয়, সেই ঘরে ঐ রাত্রে শয়তান যেতে পারে না এবং সেইদিন ঐ বাড়ীর লোকদেরকে শয়তান অথবা কোন খারাপ জিনিস ক্ষতি সাধন করতে পারে না। আয়াতগুলি পাগলের উপর পড়লে তার পাগলামীও দূর হয়ে যায়। (তাফসীরে ইবনে কাসীর)

কোন মন্তব্য নেই