Ticker

6/recent/ticker-posts

Advertisement

আবূ জাহলের নরকযাত্রা



সেনাপতি আবূ জাহলকে কড়া নিরাপত্তাবেষ্টনীতে রাখে তরবারি ও বর্শাধারী সেনারা। এই নিরাপত্তাব্যূহ ভেদ করে মুসলিমরা তার কাছে যেতেই পারছিল না।

আবদুর রহমান ইবনু আওফ (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর পাশে অল্পবয়সি দুই জন আনসার যুবক দাঁড়িয়ে ছিল। ফলে তিনি নিজেকে নিরাপদ মনে করছিলেন না। ভাবছিলেন শক্তিশালী কেউ পাশে থাকলে ভালো হতো। এমন সময় দু’জনের একজন অপরজন থেকে লুকিয়ে তাঁকে জিজ্ঞেস করল, “চাচা, আবূ জাহল কোনটা?”

আবদুর রহমান (রদিয়াল্লাহু আনহু) অবাক হয়ে বললেন, “তুমি জেনে কী করবে?”


“শুনেছি সে নাকি নবিজি صلى الله عليه وسلم-কে গালিগালাজ করে। যেই সত্তার হাতে আমার জান, তাঁর কসম! ওকে দেখামাত্র হয় আমি তাকে হত্যা করে ফেলব, আর নয়তো সে আমাকে হত্যা করবে।”

আরেকজনও একইভাবে একই কথা জিজ্ঞেস করল। যুদ্ধের হই-হল্লার মাঝে হঠাৎ আবূ জাহলকে চোখে পড়ল আবদুর রহমানের। ছেলে দুটোকে দেখিয়ে বললেন, “ওই যে, ওইটা আবূ জাহল।” তখন তারা বাজপাখির মতো চোখের পলকেই সব ভিড় পেরিয়ে আবূ জাহলের কাছে পৌঁছে গেল এবং সাথে সাথে আবূ জাহলের শরীর তরবারির আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত করে দিল। ফলে আবূ জাহলের মাটিতে পড়ে মৃত্যুর অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোনও কিছু করার থাকল না।


এরপর তারা দু’জনে রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর সামনে হাজির হয়ে নিজেকে আবূ জাহলের হত্যাকারী বলে দাবি করে এবং খুশি প্রকাশ করে। দু’জনেরই তরবারি পরীক্ষা করে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم ঘোষণা করেন, “তোমরা দু’জনেই তাকে হত্যা করেছ।”

.

এই দুই যুবক হলেন আফরার দুই ছেলে মুআয এবং মুআওওয়িয (রদিয়াল্লাহু আনহুমা)। মুআওওয়িয বদরে যুদ্ধেই শহীদ হয়েছিলেন। তবে মুআয জীবিত ছিলেন উসমান (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর খিলাফাতকাল পর্যন্ত। আবূ জাহলের কাছ থেকে লব্ধ জিনিসপত্র নবি صلى الله عليه وسلم তাকেই দিয়েছিলেন।


ওদিকে মৃত্যুপথযাত্রী আবূ জাহলকে ধূলায় লুটিয়ে কাতরাতে দেখেন আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রদিয়াল্লাহু আনহু)। পুরোনো শত্রুর ঘাড়ে পা দিয়ে মাথা কাটার উদ্দেশ্যে তার দাড়ি ধরেন এবং বলেন, “ওহে আল্লাহর শত্রু, আজ আল্লাহ তোকে কী বেইজ্জতিটাই না করে ছাড়লেন!”


এই মরণ মুহূর্তেও আবূ জাহলের দম্ভোক্তি, ‘কিসের বেইজ্জতি? তোরা যে ব্যক্তিকে হত্যা করছিস তার চেয়ে বড় কেউ আছে নাকি?’ আবার বলতে লাগল, ‘আফসোস! কৃষকের ছেলেরা ব্যতীত অন্য কেউ যদি আমাকে হত্যা করত? আজকে কার বিজয় হলো?

আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রদিয়াল্লাহু আনহু) জবাব দিলেন “আল্লাহ আর তাঁর রাসূলের।”


“ওহে বকরির রাখাল, কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে আছিস, খেয়াল আছে?” আবূ জাহলের এই কথার পর আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রদিয়াল্লাহু আনহু) তার শিরশ্ছেদ করেন। কাটা মাথাটি হাজির করেন নবি صلى الله عليه وسلم-এর সামনে।


“আল্লাহু আকবার! আলহামদুলিল্লাহ!” হর্ষধ্বনি করে উঠলেন আল্লাহর রাসূল। “আল্লাহ তাঁর প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছেন, তাঁর বান্দাদের সাহায্য করেছেন, আর একাই পরাজিত করেছেন শত্রুসেনাদের।” আবূ জাহলের কর্তিত মস্তকের দিকে চেয়ে নবি صلى الله عليه وسلم বলেন, “এই লোক ছিল এই উম্মাহর ফিরআউন।”


Somorpon Prokashon থেকে প্রকাশিত "রাসূলে আরাবী" গ্রন্থ থেকে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ