পরকালীন প্রস্তুতি

কুর'আন-সুন্নাহর আলোকে পরকালীন মুক্তির আশায় একটি পরকালমুখী উদ্যোগ

হাদীসে কুদসী


□□□ আবূ সা'ঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জান্নাতবাসীরা জান্নাতে এবং জাহান্নামীরা জাহান্নামে প্রবেশ করবে। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা মালাকদের বলবে, যার অন্তরে সরিষার দানা পরিমাণও ঈমান আছে, তাকে জাহান্নাম হতে বের করে আনো। তারপর তাদের জাহান্নাম হতে এমন অবস্থায় বের করা হবে যে, তারা (পুড়ে) কালো হয়ে গেছে। অতঃপর তাদের বৃষ্টিতে বা হায়াতের নদীতে নিক্ষেপ করা হবে। ফলে তারা সতেজ হয়ে উঠবে, যেমন নদীর তীরে ঘাসের বীজ গজিয়ে উঠে। তুমি কি দেখতে পাও না সেগুলো কেমন হলুদ বর্ণের ও ঘন হয়ে গজায়? -[বুখারীঃ ২২, ৪৫৮১; মুসলিমঃ ১৮৪]


□□□ আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মালাকগণ পালা বদল করে তোমাদের মাঝে আগমন করেন; একদল দিনে, একদল রাতে। আসর ও ফজরের সালাতে উভয়দল একত্র হন। অতঃপর তোমাদের মাঝে রাত যাপনকারী দলটি উঠে যান। তখন তাদের প্রতিপালক তাদের জিজ্ঞাসা করেন- আমার বান্দাদের কোন্ অবস্থায় রেখে আসলে? (অবশ্য তিনি (আল্লাহ) নিজেই তাদের ব্যপারে সর্বাধিক অবগত) উত্তরে তাঁরা বলেন, আমরা তাদের সালাতে রেখে এসেছি, আর আমরা যখন তাদের নিকট গিয়েছিলাম তখনও তারা সালাত আদায়রত অবস্থায় ছিলো। -[বুখারীঃ ৫৫৫, ৩২২৩; মুসলিমঃ ৬৩২]


□□□ সালিম ইবনু আব্দুল্লাহ রহিমাহুল্লাহ তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেন, আগেকার উম্মতের স্থায়িত্বের তুলনায় তোমাদের স্থায়িত্ব হলো- আসর হতে নিয়ে সূর্য অস্ত যাওয়ার মধ্যবর্তী সময়ের ন্যায় । তাওরাত অনুসারীদেরকে তাওরাত দেওয়া হয়েছিল । তারা তদানুযায়ী কাজ করতে লাগলো; যখন দুপুর হলো, তখন তারা অপারগ হয়ে পড়লো । তাদের এক এক 'কীরাত' করে পারিশ্রমিক প্রদান করা হয় । আর ইনজীল অনুসারীদেরকে ইনজীল দেওয়া হলো । তারা আসরের সালাত পর্যন্ত কাজ করে অপারগ হয়ে পড়লো । তাদেরকে এক এক 'কীরাত' করে পারিশ্রমিক দেওয়া হলো । অতঃপর আমাদেরকে কুরআন দেওয়া হলো । আমরা সূর্যাস্ত পর্যন্ত কাজ করলাম । আমাদের দু' দু' 'কীরাত' করে দেয়া হলো । এতে উভয় কিতাবী সম্প্রদায় বলল, হে আমাদের প্রতিপালক! তাদের দু' দু' 'কীরাত' করে দান করেছেন আর আমাদের দিয়েছেন এক এক 'কীরাত' করে; অথচ আমলের দিক দিয়ে আমরাই বেশি । আল্লাহ্ তা'আলা বললেনঃ তোমাদের পারিশ্রমিক ব্যাপারে আমি কি তোমাদের প্রতি কোনরূপ যুলুম করেছি ? তারা বললো, না । তখন আল্লাহ্ তা'আলা বললেনঃ এ হলো, আমার অনুগ্রহ যাকে ইচ্ছে তাকে দেই । -[বুখারীঃ ৫৫৭, ২২৬৮, ৭৫৩৩]


□□□ যায়দ ইবনু খালিদ জুহানী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে বৃষ্টি হবার পর হুদায়বিয়াতে আমাদের নিয়ে ফযরের সালাত আদায় করলেন । সালাত শেষে তিনি লোকদের দিকে ফিরে বললেনঃ তোমরা কি জান, তোমাদের পরাক্রমশীল ও মহিমান্বিত প্রতিপালক কী বলেছেন ? তাঁরা বললেনঃ আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলই বেশি জানেন । আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ (রব) বলেন, আমার বান্দাদের মধ্যে কেউ আমার প্রতি মু'মিন হয়ে গেল এবং কেউ কাফির । যে বলেছে, আল্লাহর করুণা ও রহমতে আমরা বৃষ্টি লাভ করেছি, সে হল আমার প্রতি বিশ্বাসী এবং নক্ষত্রের প্রতি অবিশ্বাসী । আর যে বলেছে, অমুক অমুক নক্ষত্রের প্রভাবে আমাদের উপর বৃষ্টিপাত হয়েছে, সে আমার প্রতি অবিশ্বাসী হয়েছে এবং নক্ষত্রের প্রতি বিশ্বাসী হয়েছে । -[বুখারীঃ ৮৪৬, ১০৩৮; মুসলিমঃ ৭১]


□□□ আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত । আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মহামহিম আল্লাহ তা'আলা প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশ থাকাকালে পৃথিবীর নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ করে ঘোষণা করতে থাকেনঃ কে আছে এমন, যে আমাকে ডাকবে ? আমি তার ডাকে সাড়া দিব । কে আছে এমন যে, আমার নিকট চাইবে ? আমি তাকে তা দিব । কে আছে এমন আমার নিকট ক্ষমা চাইবে ? আমি তাকে ক্ষমা করব । -[বুখারীঃ ১১৪৫, ৬৩২১; মুসলিমঃ ৭৫৮]


□□□ আদী ইবনু হাতিম রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত । তিনি বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে ছিলাম, এমন সময় দু'জন সাহাবী আসলেন, তাদের একজন দারিদ্র্যের অভিযোগ করছিলেন আর অপরজন রাহজানীর অভিযোগ করছিলেন । নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রাহজানির অবস্থা এই যে, কিছু দিন পর এমন সময় আসবে যখন কাফিলা মক্কাহ পর্যন্ত বিনা পাহারায় পৌঁছে যাবে । আর দারিদ্র্যের অবস্থা এই যে, তোমাদের কেউ সাদকাহ নিয়ে ঘুরাফেরা করবে, কিন্তু তা গ্রহণ করার মত কাউকে পাবে না । এমন সময় না আসা পর্যন্ত কিয়ামত হবে না । অতঃপর (বিচার দিবসে) আল্লাহর নিকট তোমাদের কেউ এমনভাবে খাড়া হবে যে, তার ও আল্লাহর মাঝে কোন আড়াল থাকবে না বা কোন ব্যাখ্যাকারী দোভাষীও থাকবে না । অতঃপর তিনি বলবেনঃ আমি কি তোমাকে সম্পদ দান করিনি ? সে অবশ্যই বলবে, হ্যাঁ । এরপর তিনি বলবেন, আমি কি তোমার নিকট রাসূল প্রেরণ করিনি ? সে অবশ্যই বলবে হ্যাঁ, তখন সে ব্যক্তি ডান দিকে তাকিয়ে শুধু আগুন দেখতে পাবে, তেমনিভাবে বাম দিকে তাকিয়েও আগুন দেখতে পাবে । কাজেই তোমাদের প্রত্যেকের উচিত এক টুকরা খেজুর (সাদকাহ) দিয়ে হলেও যেন আগুন হতে আত্মরক্ষা করে । যদি কেউ তা না পায় তবে যেন উত্তম কথা দিয়ে হলেও । -[বুখারীঃ ১৪১৩, ৩৫৯৫; মুসলিমঃ ১০১৬]


□□□ আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত । তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ তা'আলা বলেছেনঃ সাওম ব্যতীত আদম সন্তানের প্রতিটি কাজই তার নিজের জন্য, কিন্তু সিয়াম আমার জন্য । তাই আমি এর প্রতিদান দেব । সিয়াম ঢাল স্বরূপ । তোমাদের কেউ যেন সিয়াম পালনের দিন অশ্লীলতায় লিপ্ত না হয় এবং ঝগড়া-বিবাদ না করে । যদি কেউ যেন সিয়াম পালনের দিন অশ্লীলতায় লিপ্ত না হয় এবং ঝগড়া-বিবাদ না করে । যদি কেউ তাকে গালি দেয় অথবা তার সঙ্গে ঝগড়া করে, তাহলে সে যেন বলে, আমি একজন সায়িম । যাঁর কব্জায় মুহাম্মদের প্রাণ, তাঁর শপথ অবশ্যই সায়িমের মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট মিসকের গন্ধের চাইতেও সুগন্ধি । সায়িমের জন্য রয়েছে দু'টি খুশি যা তাকে খুশি করে । যখন সে ইফতার করে, তখন সে খুশি হয় এবং যখন সে তার রবের সাথে সাক্ষাৎ করবে, তখন সাওমের বিনিময়ে আনন্দিত হবে । -[বুখারীঃ ১৯০৪, ১৮৯৪; মুসলিমঃ ১১৫১]


□□□ আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তা'আলা ঘোষণা করেছেন যে, কিয়ামতের দিবসে আমি নিজে তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে বাদী হবো । এক ব্যক্তি, যে আমার নামে ওয়াদা করে তা ভঙ্গ করলো । আরেক ব্যক্তি, যে কোন আযাদ মানুষকে বিক্রি করে তার মূল্য ভোগ করলো । আরেক ব্যক্তি, যে কোন মজুর নিয়োগ করে তার হতে পুরো কাজ আদায় করে এবং তার পারিশ্রমিক দেয় না । -[বুখারীঃ ২২২৭]


□□□ আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত । তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ যখন সৃষ্টির কাজ শেষ করলেন, তখন তিনি তাঁর কিতাব লাওহে মাহফুজে লিখেন, যা আরশের উপর তাঁর নিকট আছে । (আল্লাহ বলেন) নিশ্চয়ই আমার রহমত আমার ক্রোধের উপর প্রবল । -[বুখারীঃ ৩১৯৪, ৭৪০৪]


□□□ আবু হুরায়রা (রা:) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন: "আল্লাহ্ তা'আলা কিয়ামতের দিন বলবেন, আমার মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্বের জন্য পরস্পরকে যারা ভালোবেসেছিলো তারা কোথায় ? আজকের দিন আমি তাদেরকে আমার (আরশের) ছায়ায় আশ্রয় দিবো, যেদিন আমার (আরশের) ছায়া ছাড়া অন্য কোন ছায়া নেই ।" -[মুসলিম, রিয়াযুস স্বা-লিহীনঃ ৩৮২]


□□□ মুআয (রা:) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা:) কে বলতে শুনেছি, "আল্লাহ্ তা'আলা বলেন, আমার মর্যাদার ওয়াস্তে যারা আপোসে ভালোবাসা স্থাপন করবে, তাদের (বসার) জন্য স্থান হবে নূরের মিম্বর; যা দেখে নবী ও শহীদগণ ঈর্ষা করবেন ।" -[তিরমিযী, রিয়াযুস স্বা-লিহীনঃ ৩৮৬]


□□□ আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত । নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ যখন কোন বান্দাকে ভালোবাসেন, তখন তিনি জীবরাঈল আলাইহি আস-সাল্লাম কে ডেকে বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ অমুক বান্দাহকে ভালোবাসেন, কাজেই তুমিও তাকে ভালবাসো । তখন জীবরাঈল আলাইহি আস-সাল্লাম ও তাকে ভালোবাসেন এবং আকাশের অধিবাসীদের মধ্যে ঘোষণা করে দেন যে, আল্লাহ অমুক বান্দাহকে ভালোবাসেন । কাজেই তোমরা তাকে ভালোবাসো । তখন আকাশের অধিবাসী তাকে ভালোবাসতে থাকে । অতঃপর পৃথিবীতেও তাকে সম্মানিত করার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয় । -[বুখারীঃ ৩২০৯, ৬০৪০, ৭৪৮৫; মুসলিমঃ ২৬৩৭; আহমাদঃ ৯৩৬৩]


□□□ আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত । তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, মহান আল্লাহ্ বলেছেনঃ আমি আমার নেককার বান্দাদের জন্য এমন জিনিস তৈরী করে রেখেছি, যা কোন চক্ষু দেখেনি, কোন কান শুনেনি এবং যার সম্পর্কে কোন মানুষের মনে ধারণাও জন্মেনি । তোমরা চাইলে এ আয়াতটি পাঠ করতে পারো, "কেউ জানে না, তাদের জন্য তাদের চোখ শীতলকারী কি জিনীস লোকানো আছে" (আস-সাজদাহঃ ১৩) । -[বুখারীঃ ৩২৪৪, ৪৭৭৯; মুসলিমঃ ২৮২৪]


□□□ আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন, আল্লাহ তা'আলা জাহান্নামবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে সহজ আযাব ভোগকারীকে জিজ্ঞেস করবেন, যদি পৃথিবীর ধন-সম্পদ তোমার হয়ে যায়, তবে তুমি কি আযাবের বিনিময়ে তা দিয়ে দিবে ? সে উত্তর দিবে, হ্যাঁ । তখন আল্লাহ বলবেন, যখন তুমি আদাম আলাইহি আস-সাল্লাম এর পৃষ্ঠে ছিলে, তখন আমি তোমার নিকট এর থেকেও সহজ একটি জিনিস চেয়েছিলাম । সেটা হলো, তুমি আমার সঙ্গে কাউকে শরীক করবে না । কিন্তু তুমি তা না মেনে শিরক করতে লাগলে । -[বুখারীঃ ৩৩৪, ৬৫৩৮; মুসলিমঃ ২৮০৫]


□□□ আবু সা'ঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত । তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, (ক্বিয়ামতের দিন) নূহ এবং তাঁর উম্মত (আল্লাহর দরবারে) হাজির হবেন । তখন আল্লাহ তাঁকে জিজ্ঞেস করবেন, তুমি কি (আমার বাণী) পৌঁছিয়েছ ? তিনি বলবেন, হ্যাঁ, হে আমার রব! তখন আল্লাহ তাঁর উম্মতকে জিজ্ঞেস করবেন, নূহ কি তোমাদের নিকট আমার বাণী পৌঁছিয়েছেন । তারা বলবে, না, আমাদের নিকট কোন নাবীই আসেননি । তখন আল্লাহ নূহকে বলবেন, তোমার জন্য সাক্ষ্য দিবে কে? তিনি বলবেন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর উম্মাত । (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন) তখন আমরা সাক্ষ্য দিবো, নিশ্চয়ই তিনি আল্লাহর বানী পৌঁছিয়েছেন । আর এটিই হলো মহান আল্লাহর বানীঃ 'আর এভাবেই আমি তোমাদেরকে মধ্যমপন্থী উম্মত করেছি, যেন তোমরা মানবজাতির উপর সাক্ষী হও' (আল-বাকারাহঃ ১৪৩) । -[বুখারীঃ ৩৩৩৯, ৪৪৮৭]


□□□ আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত । নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ক্বিয়ামতের দিন ইবরাহীম আলাইহি আস সাল্লাম তার পিতা আযরের দেখা পাবেন । আযরের মুখমন্ডলে কালি ও ধূলাবালী থাকবে । তখন ইবরাহীম আলাইহি আস-সাল্লাম বলবেন, আমি কি পৃথিবীতে আপনাকে বলিনি যে, আমার অবাধ্যতা করবেন না? তখন তাঁর পিতা বলবে, আজ আর তোমার অবাধ্যতা করবো না । অতঃপর ইবরাহীম আলাইহি আস-সাল্লাম আবেদন করবেন, হে আমার রব! আপনি আমার সঙ্গে ওয়াদা করেছিলেন যে, হাশরের দিন আপনি আমাকে লজ্জিত করবেন না । আমার পিতা রহম হতে বঞ্চিত হবার চেয়ে বেশী অপমান আমার জন্য আর কী হতে পারে ? তখন আল্লাহ বলবেন, আমি কাফিরদের জন্য জান্নাত হারাম করে দিয়েছি । পুনরায় বলা হবে, হে ইবরাহীম! তোমার পদতলে কী? তখন তিনি নীচের দিকে তাকাবেন । হঠাৎ দেখতে পাবেন তাঁর পিতার জায়গায় সর্বাঙ্গে রক্তমাখা একটি জানোয়ার পড়ে রয়েছে । এর চার পা বেঁধে জাহান্নামে ছুঁড়ে ফেলা হবে । -[বুখারীঃ ২৮, ৪৭৬৮]


□□□ আবূ সা'ঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে বর্ণনা করেন যে, তোমাদের আগের এক লোক, আল্লাহ তা'আলা তাকে প্রচুর ধন-সম্পদ দান করেছিলেন । যখন তার মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এল তখন সে তার ছেলেদের জড় করে জিজ্ঞেস করল, আমি তোমাদের কেমন পিতা ছিলাম? তারা বললো আপনি আমাদের উত্তম পিতা ছিলেন । সে বললো, আমি জীবনে কখনো কোন নেক আমল করতে পারিনি । আমি যখন মারা যাবো, তখন আমার লাশকে জ্বালিয়ে ছাই করে দিও এবং প্রচন্ড ঝড়ের দিন ঐ ছাই বাতাসে উড়িয়ে দিও । সে মারা গেলো । ছেলেরা ওসিয়াত অনুযায়ী কাজ করলো । আল্লাহ্ তা'আলা তার ছাই জড় করে জিজ্ঞেস করলেন, এমন ওসিয়াত করতে কে তোমাকে উদ্বুদ্ধ করলো ? সে বললো, হে আল্লাহ! তোমার শাস্তির ভয় । ফলে আল্লাহর রহমত তাকে ঢেকে নিলো । -[বুখারীঃ ৩৪৭৮; মুসলিমঃ ২৭৫৭]


□□□ আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত । তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলা যমীনকে নিজ মুষ্ঠিতে নিবেন এবং আকাশমন্ডলীকে ভাঁজ করে তাঁর ডান হাতে নিবেন, তারপর বলবেন, আমিই মালিক, দুনিয়ার বাদশারা কোথায় ? -[বুখারীঃ ৪৮১২, ৬৫১৯; মুসলিমঃ ২৭৮৭]


□□□ আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত । তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ বলেন, মানুষ কালকে (সময়কে) গালি দেয়, অথচ আমিই কাল (এর নিয়ন্ত্রণের মালিক) । একমাত্র আমারই হাতে রাত ও দিনের পরিবর্তন ঘটে । -[বুখারীঃ ৪৮২৬, ৬১৮১; মুসলিমঃ ২২৪৬]


□□□ আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নাবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে বর্ণিত । তিনি বলেছেনঃ আমার সামনে আমার উম্মতের কতক লোক হাউযে কাউসারের কাছে আসবে । তাদেরকে আমি চিনতে পারবো । আমার সামনে থেকে তাদেরকে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে । তখন আমি বলব, এরা আমার উম্মত । তখন আল্লাহ্ বলবেন, তুমি জানো না তোমার পরে এরা কী সব নতুন নতুন মত ও পথ বের করেছিলো । -[বুখারীঃ ৬৫৮২; মুসলিমঃ ২৩০৪]


□□□ আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে বর্ণিত, তিনি (আল্লাহ) বলেছেনঃ মানত আদম সন্তানকে এমন কিছু এনে দিতে পারে না যা তাকদীরে নেই অথচ সে যে মানতটি করে তাও আমি তাকদীরে নির্ধারণ করে দিয়েছি যাতে এর মাধ্যমে কৃপণের নিকট হতে (মাল) বের হয় । -[বুখারীঃ ৬৬০৯; মুসলিমঃ ১৬৪০]


□□□ আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত । রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ তা'আলা ইরশাদ করেনঃ আমার বিষয়ে আমার বান্দার ধারণার অনুরূপ ব্যবহার করে থাকি । -[বুখারীঃ ৭৫০৪]


□□□ আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর মহান প্রভু হতে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহ তাআলা বলেনঃযখন বান্দা আমার দিকে এক বিঘত অগ্রসর হয়, তখন আমি তার দিকে এক হাত অগ্রসর হই। যখন সে আমার দিকে এক হাত অগ্রসর হয় তখন আমি তার দিকে দুই হাত অগ্রসর হই। আর যখন সে আমার দিকে হেঁটে আসে তখন আমি তার দিকে দৌড়ে যাই। - [রিয়াদুস সালেহীনঃ ৯৭, বুখারী-৭৫৩৬,৭৪০৫, ৭৫২৭, মুসলিম-২৬৭৫, তিরমিযী-২৩৮৮, ৩৬০৩, ইবনে মাজাহ-৩৮২২, আহমাদ-৭৩৭৪, ২৭৪০৯, ৮৪৩৬]


□□□ আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত । নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, মহান আল্লাহ বলেছেনঃ "হে আদম সন্তানেরা! তোমরা অকাতরে দান করতে থাকো, আমিও তোমাদের উপর ব্যয় করবো, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেন, আল্লাহর ডান হাত প্রাচুর্যে পরিপূর্ণ । রাত দিন অনবরত ব্যয় করলেও তা মোটেই কমছে না ।" -[মুসলিমঃ ৯৯৩]


□□□ আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলা (ফেরেশতাদেরকে) বলেন: আমার বান্দা কোন পাপ কর্মের কথা ভাবলেই তা লিখবে না বরং সে যদি তা করে তবে একটি পাপ লিখবে । আর যদি সে কোন নেক কাজের নিয়্যাত করে কিন্তু সে যদি তা না করে, তাহলেও এর প্রতিদানে তার জন্য একটি সাওয়াব লিখবে । আর তা সম্পাদন করলে লিখবে দশটি সাওয়াব । -[মুসলিমঃ ১২৮]


□□□ উবাউদুল্লাহ ইবনু উমার ইবনু মায়সারাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সূত্রে সুহায়ব (রহিমাহুল্লাহ) বলেন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন- জান্নাতীগণ যখন জান্নাতে প্রবেশ করবে তখন আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে বলবেন: তোমরা কি চাও, আমি আরো অনুগ্রহ বাড়িয়ে দেই? তারা বলবে: আপনি কি আমাদের চেহারাগুলোকে আলোকোজ্জ্বল করে দেননি, আমাদের জান্নাতে দাখিল করেন নি এবং জাহান্নাম থেকে নাজাত দেননি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: এরপর আল্লাহ তা'আলা আবরণ তুলে নিবেন । আল্লাহর দর্শন লাভের চেয়ে অধিক পছন্দনীয় জিনিস আর কিছুই তাদের দেয়া হয় নি । -[মুসলিমঃ ১৮১]


□□□ আবু হুরায়রা (রা:) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন: এক লোক মানুষের সাথে লেন-দেন করতো । সে তার গোলামকে বলে দিত, তুমি যখন কোন অভাবগ্রস্তের কাছে যাবে তখন তাকে ক্ষমা করে দিবে । হয়ত আল্লাহ্ আমাদেরও ক্ষমা করে দিবেন । এরপর সে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে মিলিত হল । আর আল্লাহ্ তাঁকে মাফ করে দিলেন । -[মুসলিম: ১৫৬২]


কোন মন্তব্য নেই