Ticker

6/recent/ticker-posts

Advertisement

সাহাবীদের (রা:) মর্যাদা বিষয়ক


●●● আবু বকর (রা:) হতে বর্ণিত । তিনি বলেন, আমরা যখন গুহায় আত্মগোপন করেছিলাম তখন আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বললাম, যদি কাফিররা তাদের পায়ের নিচের দিকে দৃষ্টিপাত করে তবে আমাদেরকে দেখে ফেলবে । তিনি বললেন, হে আবু বকর! ঐ দুই ব্যক্তি সম্পর্কে তোমার কী ধারণা আল্লাহ্ যাদের তৃতীয় জন । -(সহীহুল বুখারী: ৩৬৫৩; মুসলিম: ২৩৮১)

●●● আমর ইবনু আস (রা:) হতে বর্ণিত । নাবী (সা:) তাঁকে যাতুস সালাসিল যুদ্ধের সেনাপতি করে পাঠিয়ে ছিলেন । তিনি বলেন, আমি তাঁর নিকট উপস্হিত হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, মানুষের মধ্যে কে আপনার নিকট সবচেয়ে প্রিয়? তিনি বললেন, আয়িশাহ্ (রা:) । আমি বললাম, পুরুষদের মধ্যে কে? তিনি বললেন, তাঁর (আবু বকর) । আমি জিজ্ঞেস করলাম, অতঃপর কোন লোকটি? তিনি বললেন, উমার ইবনু খাত্তাব । অতঃপর আরো কয়েকজনের নাম বললেন । -(সহীহুল বুখারী: ৩৬৬২; মুসলিম: ২৩৮৪)

●●● যুবায়র ইবনু মুত'ঈম (রা:) হতে বর্ণিত । তিনি বলেন, এক স্ত্রীলোক নাবী (সা:) এর নিকট এল । তিনি তাঁকে আবার আসার জন্য বললেন । স্ত্রীলোকটি বলল, আমি এসে যদি আপনাকে না পাই তবে কি করবো? এ কথা দ্বারা স্ত্রীলোকটি নাবী (সা:) এর মৃত্যুর প্রতি ইশারা করেছিল । তিনি (সা:) বললেন, যদি আমাকে না পাও তাহলে আবু বকরের নিকট আসবে । -(সহীহুল বুখারী: ৩৬৫৯; মুসলিম: ২৩৮৬)

●●● ইবনু আব্বাস (রা:) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, উমার (রা:) এর লাশ খাটের উপর রাখা হল । খাটটি কাঁধে তোলে নেয়ার পূর্ব পর্যন্ত লোকজন তা ঘিরে দু'আ পাঠ করছিলো । আমিও তাদের মধ্যে একজন ছিলাম । হঠাৎ একজন আমার স্কন্ধে হাত রাখায় আমি চমকে উঠলাম । চেয়ে দেখলাম, তিনি আলী (রা:) । তিনি উমার (রা:) এর জন্য আল্লাহর অশেষ রহমতের দু'আ করেছিলেন । তিনি বলেছিলেন, হে উমার! আমার জন্য আপনার চেয়ে বেশি প্রিয় এমন কোন ব্যক্তি আপনি রেখে যাননি, যাঁর কালের অনুসরণ করে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করবো । আল্লাহর কসম! আমার এ বিশ্বাস যে আল্লাহ্ আপনাকে আপনার সঙ্গীদয়ের সঙ্গে রাখবেন । আমার মনে আছে, আমি অনেকবার নাবী (সা:) কে বলতে শুনেছি, আমি, আবু বকর ও উমার গেলাম । আমি, আবু বকর ও উমার প্রবেশ করলাম এবং আমি আবু বকর ও উমার বাহির হলাম ইত্যাদি । -(সহীহুল বুখারী, ৩৬৮৫; মুসলিম: ২৩৮৯)

●●● আবু সাঈদ খুদরী (রা:) হতে বর্ণিত । তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সা:) বলেছেন: একবার আমি নিদ্রাবস্থায় (স্বপ্নে) দেখলাম যে, লোকদেরকে আমার সামনে আনা হচ্ছে । আর তাদের পরণে রয়েছে জামা । কারো জামা বুক পর্যন্ত আর কারো জামা এর নীচ পর্যন্ত । আর উমার ইবনুল খাত্তাব (রা:) কে আমার সামনে আনা হল এমন অবস্থায় যে, তিনি তাঁর জামা (অধিক লম্বা হওয়ায়) টেনে ধরে নিয়ে যাচ্ছেন । সাহাবীগণ আরয করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এর কী তা'বীর করেছেন? তিনি বললেন: (এ জামা অর্থ) দ্বীন । -(সহীহুল বুখারী, মুসলিম, আল লু'লু ওয়াল মারজান; হা: ১৫৪৬)

●●● ইবনু উমার (রা:) হতে বর্ণিত । তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (সা:) কে বলতে শুনেছি, একদা আমি নিদ্রাবস্থায় ছিলাম । তখন (স্বপ্নে) আমার নিকট এক পিয়ালা দুধ নিয়ে আসা হলো । আমি তা পান করলাম । এমনকি আমার মনে হতে লাগল যে, সে পরিতৃপ্তি আমার নখ দিয়ে বের হয়ে যাচ্ছে । অতঃপর অবশিষ্টাংশ আমি 'উমার ইবনুল খাত্তাবকে দিলাম । সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এ স্বপ্নের কী ব্যাখ্যা করেন? তিনি জবাবে বললেন: তা হল 'আল-ইলম (জ্ঞান)' । - (সহীহুল বুখারী, মুসলিম, আল-লুলু ওয়াল মারজান: ১৫৪৭)

●●● জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ্ (রা:) হতে বর্ণিত । তিনি বলেন, নাবী (সা:) বলেছেন: আমি জান্নাতে প্রবেশ করে একটি প্রসাদ দেখতে পেলাম এবং জিজ্ঞেস করলাম, এটি কার প্রসাদ ? তাঁরা বললেন, এ প্রসাদটি উমার ইবনু খাত্তাব (রা:) এর । আমি তার মধ্যে প্রবেশ করতে চাইলাম; কিন্তু তোমার (সেখানে উপস্থিত উমারের) আত্মমর্যাদাবোধ আমাকে প্রবেশে বাধা দিল । এ কথা শুনে উমার (রা:) বললেন, হে আল্লাহর নাবী! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক! আপনার ক্ষেত্রেও আমি (উমার) আত্মমর্যাদাবোধ প্রকাশ করবো ? -(সহীহুল বুখারী: ৫২২৬; মুসলিম: ২৩৯৪)

●●● আবু মুসা হতে বর্ণিত । তিনি বলেন, মদিনাহর এক বাগানের ভিতর আমি নাবী (সা:) এর সঙ্গে ছিলাম । তখন এক ব্যক্তি এসে বাগানের দরজা খুলে দেয়ার জন্য বলল । নাবী (সা.) বললেন, তার জন্য দরজা খুলে দাও এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও । আমি তার জন্য দরজা খুলে দিয়ে দেখলাম যে, তিনি আবু বকর (রা.) । তাঁকে আমি আল্লাহর রসূল (সা.) এর দেয়া সুসংবাদ দিলাম । তিনি আল্লাহর প্রশংসা করলেন । অতঃপর আরেক ব্যক্তি এসে দরজা খোলার জন্য বললেন । নাবী (সা.) বললেন, তার জন্য দরজা খুলে দাও এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও । আমি তার জন্য দরজা খুলে দিয়ে দেখলাম, তিনি উমার (রা.) । তাঁকে আমি নাবী (সা.) এর সুসংবাদ জানিয়ে দিলাম । তখন তিনি আল্লাহর প্রশংসা করলেন । অতঃপর আরেকজন এসে দরজা খোলার জন্য বললেন । নাবী (সা.) বললেন, তার জন্য দরজা খুলে দাও এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ জানিয়ে দাও । কিন্তু তার উপর ভয়ানক বিপদ আসবে । (আমি তার জন্য দরজা খুলে দিয়ে) দেখলাম যে, তিনি উসমান (রা.) । তাঁকে আমি নাবী (সা.) যা বলেছেন তা জানিয়ে দিলাম । তখন তিনি আল্লাহর প্রশংসা করলেন আর বললেন, আল্লাহই সাহায্যকারী । -( সহীহুল বুখারী: ৩৬৯৩; মুসলিম: ২৪০৩)

●●● আবূ মূসা আশ‘আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি একদা ঘরে উযূ করে বের হলেন এবং আমি আজ সারাদিন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে কাটাব, তার হতে পৃথক হব না। তিনি মসজিদে গিয়ে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খবর নিলেন, সহাবীগণ বললেন, তিনি এদিকে বেরিয়ে গেছেন, আমিও ঐ পথ ধরে তাঁর অনুসরণ করলাম। তাঁর খোঁজে জিজ্ঞাসাবাদ করতে থাকলাম। তিনি শেষ পর্যন্ত আরীস কূপের নিকট গিয়ে পৌঁছলেন। আমি কূপের দরজার নিকট বসে পড়লাম। দরজাটি খেজুরের শাখা দিয়ে তৈরি ছিল। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাঁর প্রয়োজন সেরে উযূ করলেন। তখন আমি তাঁর নিকটে দাঁড়ালাম এবং দেখতে পেলাম তিনি আরীস কূপের কিনারার বাঁধের মাঝখানে বসে হাঁটু পর্যন্ত পা দু’টি খুলে কূপের ভিতরে ঝুলিয়ে রেখেছেন, আমি তাঁকে সালাম করলাম। এবং ফিরে এসে দরজায় বসে রইলাম এবং মনে মনে স্থির করে নিলাম যে আজ আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পাহারাদারের দায়িত্ব পালন করব। এ সময় আবূ বাকর (রাঃ) এসে দরজায় ধাক্কা দিলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কে? তিনি বললেন, আবূ বাকর! আমি বললাম থামুন, আমি গিয়ে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আবূ বাকর (রাঃ) ভিতরে আসার অনুমতি চাচ্ছেন। তিনি বললেন, ভিতরে আসার অনুমতি দাও এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও। আমি ফিরে এসে আবূ বাকর (রাঃ) কে বললাম, ভিতরে আসুন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনাকে জান্নাতের সুসংবাদ দিচ্ছেন। আবূ বাকর (রাঃ) ভিতরে আসলেন এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ডানপাশে কুপের ধারে বসে দু‘পায়ের কাপড় হাঁটু পর্যন্ত উঠিয়ে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মত কূপের ভিতর ভাগে পা ঝুলিয়ে দিয়ে বসে পড়েন। আমি ফিরে এসে বসে পড়লাম। আমি আমার ভাইকে উযূ রত অবস্থায় রেখে এসেছিলাম। তারও আমার সঙ্গে মিলিত হবার কথা ছিল। তাই আমি বলতে লাগলাম, আল্লাহ যদি তার কল্যাণ চান তবে তাকে নিয়ে আসুন। এমন সময় এক ব্যক্তি দরজা নাড়তে লাগল। আমি বললাম, কে? তিনি বললেন, আমি ‘উমার ইবনু খাত্তাব। আমি বললাম, অপেক্ষা করুন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট সালাম পেশ করে আরয করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! ‘উমার ইবনু খাত্তাব অনুমতি চাচ্ছেন। তিনি বললেন, তাকে ভিতরে আসার অনুমতি এবং জান্নাতের সুসংবাদ জানিয়ে দাও। আমি এসে তাঁকে বললাম, ভিতরে আসুন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনাকে জান্নাতের সু-সংবাদ দিচ্ছেন। তিনি ভিতরে প্রবেশ করলেন এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বামপাশে হাঁটু পর্যন্ত কাপড় উঠিয়ে কূপের ভিতর দিকে পা ঝুলিয়ে বসে গেলেন। আমি আবার ফিরে আসলাম এবং বলতে থাকলাম আল্লাহ্ যদি আমার ভাইয়ের কল্যাণ চান, তবে যেন তাকে নিয়ে আসেন। অতঃপর আর এক ব্যক্তি এসে দরজা নাড়তে লাগল। আমি জিজ্ঞেস করলাম, কে? তিনি বললেন, আমি ‘উসমান ইবনু আফ্ফান। আমি বললাম, থামুন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খেদমতে গিয়ে জানালাম। তিনি বললেন, তাকে ভিতরে আসতে বল এবং তাকেও জান্নাতের সু-সংবাদ দিয়ে দাও। তবে কঠিন পরীক্ষা হবে। আমি এসে বললাম, ভিতরে আসুন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনাকে জান্নাতের সু-সংবাদ দিচ্ছেন, তবে কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হয়ে। তিনি ভিতরে এসে দেখলেন, কূপের ধারে খালি জায়গা নাই। তাই তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সম্মুখে অপর এক স্থানে বসে পড়লেন। শরীফ (রহ.) বলেন, সা‘ঈদ ইবনু মুসাইয়্যাব (রহ.) বলেছেন, আমি এর দ্বারা তাদের কবর এরূপ হবে এই অর্থ করেছি। (সহীহ বুখারী (তাওহীদ প্রকাশনী); ৩৬৭৪)

●●● সা'দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রা:) থেকে বর্ণিত । রাসূলুল্লাহ (সা.) তাবূক যুদ্ধাভিযানে রওয়ানা হন । আর 'আলী (রা.) কে স্বীয় স্থলাভিষিক্ত করেন । 'আলী (রা.) বলেন, আপনি কি আমাকে শিশু ও নারীদের মধ্যে ছেড়ে যাচ্ছেন । নাবী (সা.) বললেন, তুমি কি এ কথায় রাযী নও যে, তুমি আমার কাছে সে মর্যাদায় অধিষ্ঠিত মূসা (আ:)'র নিকট যে মর্যাদায় অধিষ্ঠিত ছিলেন হারুন (আ:) । পার্থক্য শুধু এতটুকুই যে, (হারুন (আ:) নাবী ছিলেন আর) আমার পর কোন নাবী নেই । -(সহীহুল বুখারী: ৪৪১৬; মুসলিম: ২৪০৪)

●●● সাহল ইবনু সা'আদ (রা.) হতে বর্ণিত । তিনি খায়বারের যুদ্ধের সময় নাবী (সা.) কে বলতে শুনেছেন, আমি এমন এক ব্যক্তিকে পতাকা দিব যার হাতে বিজয় আসবে । অতঃপর কাকে পতাকা দেয়া হবে, সেজন্য সকলেই আশা করতে লাগলেন । পরদিন সকালে প্রত্যেকেই এ আশায় অপেক্ষা করতে লাগলেন যে, হয়তো তাকে পতাকা দেয়া হবে । কিন্তু নাবী (সা.) বললেন, আলী কোথায়? তাঁকে জানানো হলো যে, তিনি চক্ষুরোগে আক্রান্ত । তখন তিনি আলীকে ডেকে আনতে বললেন । আল্লাহর রসূল (সা.) তাঁর মুখের লালা তার (আলীর) উভয় চোখে লাগিয়ে দিলেন । তৎক্ষণাৎ তিনি এমনভাবে সুস্থ হয়ে গেলেন যে, তাঁর কোন অসুখই ছিলো না । তখন 'আলী (রা.) বললেন, আমি তাদের বিরুদ্ধে ততক্ষণ লড়াই চালিয়ে যাব, যতক্ষণ না তারা আমাদের মতো হয়ে যায় । নাবী (সা.) বললেন, তুমি সোজা এগিয়ে যাও । তুমি তাদের প্রান্তরে উপস্থিত হলে প্রথমে তাদেরকে ইসলামের প্রতি আহ্বান জানাও এবং তাদের কর্তব্য সম্পর্কে তাদের অবহিত কর । আল্লাহর কসম, যদি একটি ব্যক্তিও তোমার দ্বারা হিদায়াত লাভ করে, তবে তা তোমার জন্য লাল রংয়ের উটের চেয়েও উত্তম । -(সহীহুল বুখারী: ২৯৪২; মুসলিম: ২৪০৬)

●●● আয়িশাহ (রা.) হতে বর্ণিত । তিনি বলেন, (এক রাতে) আল্লাহর রসূল (সা.) জেগে কাটান । অতঃপর তিনি যখন মদীনায় এলেন এই আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করলেন যে, আমার সাহাবীদের মধ্যে কোন যোগ্য ব্যক্তি যদি রাতে আমার পাহারায় থাকতো । এমন সময় আমরা অস্ত্রের শব্দ শুনতে পেলাম । তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ইনি কে? ব্যক্তিটি বলল, আমি সা'দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস, আপনার পাহারার জন্য এসেছি । তখন নাবী (সা.) ঘুমিয়ে গেলেন । -(সহীহুল বুখারী, মুসলিম, আল-লুলু ওয়াল মারজান: ১৫৬০)

●●● আলী (রা.) হতে বর্ণিত । তিনি বলেন, নাবী (সা.) কে সা'দ (রা.) ব্যতীত আর কারো জন্যও তাঁর পিতা-মাতাকে উৎস্বর্গ করার কথা বলতে দেখিনি । আমি তাঁকে (সা.) বলতে শুনেছি, 'তুমি তীর নিক্ষেপ কর, তোমার জন্য আমার পিতা-মাতা উৎস্বর্গ (ফিদা) হোক ।' -(সহীহুল বুখারী: ২৯০৫; মুসলিম: ২৪১২)

●●● জাবির (রা.) হতে বর্ণিত । তিনি বলেন, খন্দকের যুদ্ধের সময় আল্লাহর রসূল (সা.) বললেন, 'কে আমাকে শত্রু পক্ষের খবর এনে দিবে?' যুবায়র (রা.) বললেন, আমি আনব । তিনি (সা.) আবার বললেন, 'আমার শত্রু পক্ষের খবরাখবর কে এনে দিবে?' যুবায়র (রা.) আবারও বলেন, আমি আনব । অতঃপর নাবী (সা.) বললেন, প্রত্যেক নাবীরই সাহায্যকারী থাকে, আর আমার সাহায্যকারী যুবায়র । -(সহীহুল বুখারী: ২৮৪৬; মুসলিম: ২৪১৫)

●●● আনাস ইবনু মালিক (রা.) হতে বর্ণিত । আল্লাহর রসূল (সা.) বলেছেন, প্রত্যেক উম্মতের মধ্যে একজন বিশ্বস্থ ব্যক্তি থাকেন, আর আমাদের এ উম্মতের মধ্যে বিশ্বস্ত ব্যক্তি হচ্ছে আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ্ (রা.) । -(সহীহুল বুখারী: ৩৭৪৪; মুসলিম: ২৪১৯)

●●● হুজাইফা (রা.) হতে বর্ণিত । তিনি বলেন, নাবী (সা.) নাজরানবাসীকে লক্ষ্য করে বলেছিলেন, আমি এমন ব্যক্তিকে পাঠাব যিনি হবেন প্রকৃতই বিশ্বস্ত । একথা শুনে সাহাবীগণ আগ্রহের সাথে অপেক্ষা করতে লাগলেন । পরে তিনি (সা.) আবু উবাইদা (রা.) কে পাঠালেন । -(সহীহুল বুখারী: ৩৭৪৫; মুসলিম: ২৪২০)

●●● বারা (রা.) হতে বর্ণিত । তিনি বলেন, আমি হাসানকে নাবী (সা.) এর স্কন্ধের উপর দেখেছি । সে সময় তিনি (সা.) বলেছিলেন, হে আল্লাহ্! আমি একে ভালোবাসি, তুমিও তাকে ভালোবাসো । -(সহীহুল বুখারী: ৩৭৪৯; মুসলিম: ২৪২২)

●●● আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রা.) হতে বর্ণিত । তিনি বলেন, নাবী (সা.) একটি সেনাবাহিনী পাঠানোর জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেন, এবং উসামাহ ইবনু যায়দ (রা.) কে উক্ত বাহিনীর নেতা মনোনীত করেন । কিছু সংখ্যক লোক তাঁর নেতৃত্বের উপর মন্তব্য প্রকাশ করতে লাগলো । নাবী (সা.) বললেন, তার নেতৃত্বের প্রতি তোমরা সমালোচনা করছো । ইতোপূর্বে তার পিতার নেতৃত্বের প্রতিও তোমরা সমালোচনা করেছ । আল্লাহর কসম, নিশ্চয়ই সে (যায়িদ বিন হারিসাহ) নেতৃত্বের জন্য যোগ্যতম ব্যক্তি ছিলো এবং আমার প্রিয় পাত্রদের একজন ছিলো । অতঃপর তার পুত্র আমার প্রিয় পাত্রদের একজন । -(সহীহুল বুখারী: ৩৭৩০; মুসলিম: ২৪২৬)

●●● আলী (রা.) বলেন, আমি নাবী (সা.) কে এ কথা বলতে শুনেছি যে, সমগ্র নারীদের মধ্যে ইমরানের কন্যা মারইয়াম হলেন সর্বোত্তম, আর নারীদের সেরা হলে খাদীজাহ্ (রা.) । -(সহীহুল বুখারী: ৩৪৩২; মুসলিম: ২৪৩০)

●●● আয়িশা (রা.) হতে বর্ণিত । একদা নাবী (সা.) তাঁকে বললেন, হে আয়িশা! এই যে জীবরাঈল (আ.) তোমাকে সালাম দিচ্ছেন । তখন তিনি বললেন, তাঁর প্রতি সালাম, আল্লাহর রহমত এবং তাঁর বরকত বর্ষিত হোক । আপনি এমন কিছু দেখেন যা আমি দেখতে পাই না । এর দ্বারা তিনি নাবী (সা.) কে বুঝিয়েছেন । -(বুখারী: ৩২১৭; মুসলিম: ২৪৪৭)

●●● আনাস ইবনু মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সা.) কে আমি বলতে শুনেছি, আয়িশা (রা.) এর মর্যাদা নারীদের উপর এমন যেমন সারীদের মর্যাদা অন্যান্য খাদ্যদ্রব্যের উপর । -(সহীহুল বুখারী: ৩৭৭০; মুসলিম: ২৪৪৬)

●●● আনাস (রা) হতে বর্ণিত । নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যুগে (সর্বপ্রথম) যে চার ব্যক্তি সম্পূর্ণ কুর'আন হিফজ করেছিলেন, তাঁরা সকলেই ছিলেন আনসারী । (তাঁরা হলেন) উবাই ইবনু কা'ব (রা.), মু'আয ইবনু জাবাল (রা.), আবূ যায়দ (রা.) এবং যায়দ ইবনু সাবিত (রা.) । -(সহীহুল বুখারী: ৩৮১০; মুসলিম: ২৪৬৫)

●●● জাবির (রা.) বলেন, আমি নাবী (সা.) কে বলতে শুনেছি সা'দ ইবনু মু'আয (রা.) এর মৃত্যুতে আল্লাহ্ তা'আলার আরশ কেঁপে উঠেছিল । -(সহীহুল বুখারী: ৩৮০৩; মুসলিম: ২৪৬৬)

●●● ইবনু আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত । একদা নাবী (সা.) পায়খানায় গেলেন, তখন আমি তাঁর জন্য উযূর পানি রাখলাম । তিনি জিজ্ঞেস করলেন: এটা কে রেখেছে? তাঁকে জানানো হলে তিনি বললেন: হে আল্লাহ্! তুমি তাকে দ্বীনের জ্ঞান দান করো । -(সহীহুল বুখারী: ১৪৩; মুসলিম: ২৪৭৭)

●●● আবু সা'ঈদ খুদরী (রা.) হতে বর্ণিত । আল্লাহর রসূল (সা.) বলেছেন, তোমরা আমার সাহাবীদেরকে গালমন্দ করো না । তোমাদের কেউ যদি উহুদ পর্বত পরিমাণ সোনা আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করো, তবুও তাদের একমুদ বা অর্ধমুদ এর সমপরিমাণ সাওয়াব হবে না । -(সহীহুল বুখারী: ৩৬৭৩; মুসলিম: ২৫৪১)

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ