পরকালীন প্রস্তুতি

কুর'আন-সুন্নাহর আলোকে পরকালীন মুক্তির আশায় একটি পরকালমুখী উদ্যোগ

আল্লাহর অস্তিত্ব


বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

বর্তমান সময়ে আমাদের মাথায় একটা চিন্তা প্রতিনিয়ত ঘুরপাক খাচ্ছে। আর তা হল কে নাস্তিক? আর কেনইবা তাঁরা নাস্তিক রয়ে গেল? তাদের কে আস্তিক বানানো সম্ভব কি? এই ব্যপারে কিছু লিখার ইচ্ছা ছিল বহুদিন ধরেই ছিল। তবে আজ শুধু আল্লাহর অস্তিত্ব প্রমাণে চেষ্টা করবো এবং সেই সাথে নাস্তিকদেরকে দ্বিন ইসলামে আসার আহ্বান জানাব যেখানে থাকবে কিছু বিদ্বান ব্যক্তিদের চমৎকার ও মনকে তাৎক্ষণিক পরিবর্তনীয় চিরন্তন যুক্তি।

তবে প্রথমেই নাস্তিক আর ইসলাম বিদ্বেষীদের আলাদাভাবে পরিচয় করিয়ে দেই:
"নাস্তিক" হল সেই ব্যক্তি যে পৃথিবীতে প্রচলিত সব ধর্মকে উপেক্ষা করে শুধু নাস্তিকবাদ(স্রষ্টা বলতে কিছু নেই! সবই প্রকৃতি!) চর্চা করে। আর "ইসলাম বিদ্বেষী" হল সেই ব্যক্তি যে শুধু ইসলামকে আঘাত করে। অর্থাৎ নাস্তিকরা সকল ধর্মবিরোধী আর ইসলাম বিদ্বেষীরা কেবল ইসলাম বিরোধী।

তাবে নাস্তিকদেরকে আস্তিক বানানোর ক্ষেত্রে সত্য ও সরল ধর্ম ইসলামই এগিয়ে। কেননা ইসলামের এমন কিছু যুক্তি আছে যা চিরন্তন সত্য এবং মূর্খরা ব্যতীত সবাই মাথা নত করে স্বীকার করতে বাধ্য। তাই কোন নাস্তিক যদি মূর্খতার উপর অটল না থাকে তাহলে আশা করি তারাও মেনে নিবে। ইনশা'আল্লাহ। তাহলে চলুন সামনে যাই.......




#১

একদা এক নাস্তিকের সাথে এক আস্তিকের বিতর্ক হয়। নাস্তিকটি আস্তিককে বলে, আপনি তো আল্লাহর অস্তিত্বে বিশ্বাসী। এর অর্থ কি? আপনি কি তাঁকে দেখেছেন? তিনি বললেন, না। আপনি কি তাঁকে কথা বলতে শুনেছেন? তিনি বললেন, না। আপনি কি তাঁকে শুঁকেছেন কিংবা ছুঁয়েছেন? তিনি বললেন না। তাহলে আপনি কিভাবে আল্লাহকে বিশ্বাস করেছেন?

তখন আস্তিকটি বলল, আপনি তো বুদ্ধিমান? তার অর্থ কি? আপনি কি বুদ্ধিকে দেখেছেন? সে বলল, না। আপনি কি বুদ্ধিকে কথা বলতে শুনেছেন? সে বলল, না। আপনি কি তাঁকে শুকেছেন কিংবা তাকে ছুঁয়েছেন? সে বলল, না। এবার আস্তিক বলল, তাহলে আপনি কিভাবে বুদ্ধিকে বিশ্বাস করেছে? উত্তরে সে হতবাক হয়ে গেল। -(আকীদাতুল মুসলিমীন ১ম খণ্ড, ১০৭ পৃ:)



#২
নাস্তিকদেরকে -ইমাম শাফিঈ (রহ:) এর জবাব:-
কিছু নাস্তিক ইমাম শাফিঈ (রহ.) কে জিজ্ঞেস করেন যে, সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বের প্রমাণ কী?

তখন তিনি বলেন, তুত গাছের পাতা ও মজা এবং ওর রং ও গণ্ধ আর  ওর প্রকৃতি তোমাদের কাছে একই রকম কি না? তাঁরা বলল, হ্যাঁ। এবার তিন বললেন, ওটাকে গুটিপোকা খায় , ওর পেট থেকে রেশম বের হয়। ওটাকে মৌমাছি খায়, ওর পেট থেকে মধু বের হয়। ওটাকে বকরি খায়, তার পেট থেকে বকরীর পায়খানা বের হয়। আর ওটাকেই হরিণও খায়। কিন্তু তার পেট থেকে মৃগনাভি তৈরী হয়। তাহলে তিনি কে? যিনি এত রকম জিনিসকে একমাত্র প্রকৃতি থেকে তৈরী করেছেন?

এর উত্তরে তারা সন্তুষ্টি হল এবং তাঁর হাতে তারা ইসলাম গ্রহণ করল। তাদের সংখ্যা ছিল ১৭ (সতের জন)। -(তাফসীরে কাবীর ১ম খণ্ড, ২১০ পৃ:)




#৩

নাস্তিকদেরকে -ইমাম আবূ হানিফা (রহ.) এর যুক্তি-
ইমাম ফাখরুদ্দীন রা-যী (মৃত ৬০৬ হি:) তদীয় তাফসীরে লিখেছেন যে, ইমাম আবূ হানিফা (রহ.) (মৃত ১৫০ হি:) নাস্তিকদের জন্য তলোয়ার স্বরূপ ছিলেন এবং নাস্তিকরাও তাঁকে হত্যা করার বাহানায় থাকতো। একদিন ইমাম আবূ হানিফা (রহ.) তাঁর মসজিদে বসে ছিলেন। হঠাৎ একদল নাস্তিক তাঁকে হত্যা করার জন্য উলঙ্গ তরবারী নিয়ে তাঁর কাছে হাজির হল।

তিনি তাদেরকে বললেন, তোমরা প্রথমে আমার একটি কথার জবাব দাও। তারপর তোমরা যা চাও তা কর। তারা বললল, হ্যাঁ ঠিক আছে। তাহলে আপনি আপনার কথা পেশ করেন। তিনি বললেন, তোমরা সেই ব্যক্তির ব্যপারে কি বলবে, যে তোমাদের এ কথা বলে, আমি সমুদ্রে একটি জাহাজ দেখেছি। যার মধ্যে রকমারী মাল বোঝাই রয়েছে। সমুদ্রে ঝড়ো হাওয়া এদিক উদিক বয়ে যাচ্ছে । কিন্তু তা সত্ত্বেও জাহাজটি একটুও এদিকে সেদিকে করতে পারছে না। বরং জাহাজটি সর্বদা সোজা চলে যাচ্ছে। অথচ ওর চালক কেউই নেই এবং দেখাশোনাকারীও কেউ নেই। এই ব্যপারটা কি জ্ঞানত: ঠিক, না বেঠিক?

তখন তারা সবাই বলল, এ ব্যপারটা অন্তত বুদ্ধি গ্রহণ করে না। অতঃপর ইমাম সাহেব বললেন, সুবাহা-নাল্লাহ! কী আশ্চর্যের ব্যপার যে, সমুদ্রের বিনা নাবিকে একটি জাহাজের আপনা আপনি সোজা চলে যাওয়াকে বিবেকবুদ্ধি গ্রহণ করতে পারে না। অথচ এই বিশাল পৃথিবীর রকমারী ও ভিন্ন ভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও একজন তদারকদারী ছাড়াও তা কি করে চলছে? তখন তারা সবাই কেঁদে ফেলল এবং বলতে বাধ্য হল যে, আপনি সত্যই বলেছেন। অতঃপর তারা নাস্তিকতা থেকে তাওবা করল- (তাফসীরে কাবীর ১ম খণ্ড, ২১০ পৃ:)। পরে তারা তাঁর হাতে ইসলামও কবুল করল- (আকা-য়িদে ইসলাম ইদরীস ২৩ পৃ:)।



#৪
নাস্তিকদেরকে- বিশিষ্ট তাবিঈ ইমাম জা'ফার সাদিক(রহ.) এর যুক্তি:-
বিশিষ্ট তাবিঈ ইমাম জা'ফর আস সাদিক (মৃত ৮৪ হি:) এর সামনে এক নাস্তিক সৃষ্টকর্তা আল্লাহর অস্তিত্ব অস্বীকার করে। তখন ইমাম জা'ফার তাকে বলেন, তুমি কখনো সমুদ্রে নৌকায় চড়েছো? সে বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তুমি কখনো তাতে ভয়ে সম্মুখীন হয়েছো? সে বলল, হ্যাঁ। সে আরো বলল, একদিন ভীষণ ঝর উঠেছিল। যা নৌকাটিকে ভেঙে ফেললো এবং মাঝিদের ডুবিয়ে মারলো। তখন আমি একটি তক্তায় শুয়ে পড়লাম। অতঃপর তক্তাটাও আমার হাত থেকে সরে গেল। তারপর সমুদ্রের ঢেউগুলো আমাকে ঝাপটা মারতে মারতে এক কিনারায় ফেলে দিল।

এবার ইমাম সাহেব বললেন, প্রথমে তো তোমার ভরসা ঐ নৌকা এবং ওর মাঝির উপরে ছিল, তারপর ঐ তক্তাটির উপরে, হয়তো তা তোমাকে উদ্ধার করবে। তারপর এইসব যখন তোমার হাত ছাড়া হয়ে গেল তখন তুমি নিজেকে নিশ্চয়ই মৃত্যুর হাতে সঁপে দিয়েছিলে? নাকি বাঁচার আশা করিছিলে? সে বলল তারপরেও আমি বাঁচার আশার করেছিলাম।

তখন ইমাম সাহেব বললেন, তাহলে তুমি কার কাছে বাঁচার আশা করেছিলে? সে চুপ হয়ে গেল। তিনি বললেন, ঐ মরণাপন্ন অবস্হায় তুমি যার কাছে আশা করেছিলে এবং যিনি তোমাকে ডুবে মরা থেকে বাঁচিয়েছন তিনিই আল্লাহ। নাস্তিকটি তখন তাঁর হাতে হাত রেখে ইসলাম কবুল করেন। -(তাফসীরে কাবীর ১ম খণ্ড, ২১০ পৃ:)



#৫

আর যারা মহান আল্লাহর সৃষ্টি আর সত্ত্বা নিয়ে CONFUSED আছেন তাদের জন্য দুটি সুন্দর ও চিরন্তন উপদেশ-

বিশিষ্ট সাহাবী আবু হুরায়রা (রা:) এর বর্ণনায় রাসূল (সা:) বলেন, তোমাদের কারো কাছে শয়তান আসে। অতঃপর সে বলে, এটা (আসমানটা) সৃষ্টি করেছে কে? এটা (যমীনটা) সৃষ্টি করেছে কে? পরিশেষে সে বলে, তোমাদের প্রতিপালককে সৃষ্টি করেছে কে? তাই যখন সে এই পর্যায়ে পৌছে যাবে তখন সে আল্লাহর কাছে আশ্রয় কামনা করবে এবং ঐ চিন্তা ভাবনা থেকে বিরত থাকবে। -(বুখারী, মুসলিম, মিশকাত ১৮ পৃ:)

এছাড়াও বিশষ্ট সাহাবী 'আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস(রা:) বলেন, তোমরা আল্লাহর সন্তুষ্টি সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা কর। কিন্তু আল্লাহ সম্পর্কে চিন্তা ভাবনা করোনা। তাহলে তোমরা ধ্বংস হয়ে যাবে। তাঁর থেকেই বর্ণিত, তোমরা আল্লাহর সম্পদগুলো সম্পর্কে চিন্তা কর। কিন্তু আল্লাহর সত্ত্বা সম্পর্কে চিন্তা করো না। - (আকীদাতুল মুসলিমীন ১ম খণ্ড, ১৩৯ পৃ:)

এতসব কথার পরও যদি কেউ নিজেকে সেই মূর্খতার (নাস্তিকতার) দাস মনে করে, আমার কোন ক্ষতি নেই!! তবে এইসব মূর্খদেকে একটি আয়াত স্মরণ করিয়ে দিয়েই শেষ করছি-

"নিশ্চয়ই আল্লাহ মানুষের প্রতি কিছুই যুলম করেন না। কিন্তু মানুষই নিজেদের প্রতি যুলম করে থাকে।" -[সূরা ইউনুস: ৪৪]

কোন মন্তব্য নেই