পরকালীন প্রস্তুতি

কুর'আন-সুন্নাহর আলোকে পরকালীন মুক্তির আশায় একটি পরকালমুখী উদ্যোগ

ইসলামী দন্ডবিধি জারির ঘোষণা দিল ব্রুনাই

পহেলা মে’১৪ থেকে ব্রুনাই দারুসসালামে ১ম পর্বের শরী‘আহ আইন তথা ইসলামী দন্ডবিধি জারির ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির সুলতান হাসান আল-বালক্বিয়াহ (৬৭)। এক রাজকীয় ঘোষণায় বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিদের অন্যতম সুলতান বালক্বিয়াহ বলেন, মহান আল্লাহর উপর আমার পূর্ণ বিশ্বাস ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে ঘোষণা করছি যে, ১লা মে থেকে ইসলামী দন্ডবিধির ১ম পর্ব কার্যকর করা হবে। পর্যায়ক্রমে ধীরে ধীরে পূর্ণাঙ্গ ইসলামী দন্ডবিধি বাস্তবায়ন শুরু হবে। তিনি বলেন, বিভিন্ন জনের থিওরিতে আল্লাহর আইনকে অস্বচ্ছ ও কর্কশ বলে বর্ণনা করা হয়েছে। তবে আল্লাহ নিজেই বলেছেন, তাঁর দেয়া আইন স্বচ্ছ ও সুন্দর। অতএব এ ঘোষণা দিতে পেরে আমি মহান আল্লাহর নিকটে শুকরিয়া আদায় করছি। উল্লেখ্য যে, এক বছর আগেই তিনি এ বিষয়ে জনসমক্ষে অবহিত করেছিলেন।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১লা মে থেকে বিবাহ-বহির্ভূত গর্ভধারণ, জুম‘আর ছালাত না পড়া, অন্য কোন ধর্ম প্রচার ইত্যাদি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসাবে বিবেচিত হবে। ১২ মাস পর ২য় পর্যায়ে চুরির শাস্তি হাতকাটা, মদ্যপানের শাস্তি ১০০ চাবুক মারা, ব্যভিচারের শাস্তি মৃত্যুদন্ড ইত্যাদি বাস্তবায়ন শুরু হবে। উল্লেখ্য, আগে থেকেই প্রতিবেশী মুসলিম-অধ্যুষিত দেশ মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার চেয়ে ব্রুনাইয়ে ইসলামী অনুশাসনের প্রয়োগ অনেক বেশী।

ব্রুনাইর সংখ্যাগরিষ্ট মালয় মুসলিমরা দন্ডবিধির পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়েছে। আর অমুসলিমরা এর সমালোচনা করলেও সুলতানের শান্ত থাকার আহবানের পর সবাই থেমে গেছেন।

এদিকে ইসলামী দন্ডবিধির সূচনার সমালোচনা করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক অফিস। তারা আন্তর্জাতিক আইনের বিরোধী এরূপ আইন জারি করায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং শরী‘আহ আইনকে অমানবিক ও নির্যাতনমূলক বলে উল্লেখ করেছে।

ব্রুনাই দারুসসালামের বেশীরভাগ মানুষই মালয় মুসলিম। দেশটির ৪ লাখ মানুষের মধ্যে ৬৪ শতাংশ মুসলিম, ১৩ শতাংশ বৌদ্ধ, ১০ শতাংশ খ্রিস্টান। বাকিরা কনফুসিয়ান, তাওবাদ ও অন্যান্য ধর্মের অনুসারী। ২০১৩ সালের জুলাইয়ের হিসাব অনুযায়ী মাথাপিছু আয় ৩৯ হাযার ৩৫৫ মার্কিন ডলার। জনগণ বিনামূল্যে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবা পায়। ব্যক্তিগত আয়করও পরিশোধ করতে হয় না। দক্ষিণ এশিয়ায় মানব উন্নয়ন সূচকে সিঙ্গাপুরের পর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ব্রুনাই। এখানে প্রতিটি পরিবারের গড়ে তিনটি করে গাড়ি আছে।

সূত্রঃ মাসিক আত-তাহরিক

কোন মন্তব্য নেই