পরকালীন প্রস্তুতি

কুর'আন-সুন্নাহর আলোকে পরকালীন মুক্তির আশায় একটি পরকালমুখী উদ্যোগ

কুরবানীর মর্মকথা

কুরবানী শব্দের উৎপত্তি হলো আরবি 'কুরবানুন' শব্দ থেকে । এর অর্থ নৈকট্য, সান্নিধ্য, উৎসর্গ । সুতরাং কুরবানী অর্থ উৎসর্গ করার মাধ্যমে আল্লাহ তা'আলার নৈকট্য লাভ করা ।

মানব ইতিহাসে সর্বপ্রথম কুরবানী হল হযরত আদম (আ) এর দুই পুত্র হাবিল ও কাবিলের কুরবানী । আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ

"আর তাদেরকে আদমের দুই পুত্রের ঘটনা ঠিকমতো শুনিয়ে দাও । যখন তারা দুই জনেই কুরবানী করলো, তখন তাদের একজনের কুরবানী কবুল হলো, অপর জনের কুরবানী কবুল হলো না ।" -(সূরা মায়িদাঃ ২৭)

সেকালে কুরবানী গৃহীত হওয়ার একটি সুস্পষ্ট নিদর্শন ছিল এই যে, আকাশ থেকে একটি অগ্নিশিখা এসে কুরবানীকে ভস্মিভূত করে আবার অন্তর্হিত হয়ে যেত । যে কুরবানী অগ্নি ভস্মিভূত করত না, তাকে প্রত্যাখ্যাত মনে করা হত । আর ঘটনাচক্রে হাবিল ও কাবিলের মধ্যে দেওয়া কুরবানীর মধ্যে হাবিলের কুরবানীটিকে আকাশ থেক অগ্নিশিখা অবতরণ করে ভস্মীভূত করে দিল । কিন্তু কাবিলের কুরবানীর এমনটি হলো না । আর এই অবস্থায় কাবিলের দুঃখ ও ক্ষুভ বেড়ে গেলো এবং প্রকাশ্যে তার ভাইকে বলে দিলঃ 'অবশ্যই আমি তোমাকে হত্যা করবো' । আর এর জবাবে হাবিল ক্রোধ প্রদর্শন না করে একটি র্মার্জিত ও নীতিগত বাক্য উচ্চারণ করলো । সে বললোঃ 'আল্লাহ তা'আলার নিয়ম হল, তিনি আল্লাহ ভীরু ও পরহেজগারের কর্মই গ্রহণ করেন' । -(সূত্র: তাফসীরে মা'রিফুল কুরআন)

আসলে কুরবানীর ইতিহাস ততোটাই প্রাচীন যতোটা প্রাচীন দ্বীন-ধর্ম, অর্থাৎ মানুষের ইতিহাস । আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ

"আর আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্যে কুরবানীর এক পদ্ধতি নির্ধারণ করেছি, যেন তারা ঐসব পশুর উপর আল্লাহর নাম নিতে পারে, যেসব তিনি তাদেরকে দান করেছেন ।" -(সূরা হজ্জ্বঃ ৩৪)

কুরবানী সম্পর্কে কুরআন মাজীদের সূরা ছফফাতের ১০২-১১১ আয়াত পর্যন্ত বর্ণিত ইবরাহীম (আ) ও তাঁর পুত্র ইসমাঈল (আ) এর মধ্যে যে ঘটনার অবতারণা করা হয়েছে তা-ই হল প্রকৃত ইতিহাস ।

আর উম্মতে মুহাম্মদী (সা) এর উপর কুরবানীর হুকুম স্বরূপ আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ

"অতএব তুমি তোমার প্রভুর উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করো এবং কুরবানী করো ।" -(সূরা কাউছারঃ ২)

জাহেলি যুগের লোকেরা পশু কুরবানী করার পর তার গোশত বায়তুল্লাহর সম্মুখে এনে রেখে দিতো । তার রক্ত বায়তুল্লাহর দেয়ালে লেপে দিতো । তারা মনে করতো তাদের কুরবানী তাদের ইলাহ'র কাছে পৌঁছে দিয়েছে । কুরআন নাযিল হওয়ার পর তাদের এ দর্শনকে বলা হলো সম্পূর্ণ ভ্রান্ত । সঠিক দর্শন হল আল্লাহ তা'আলার নির্দেশ । তিনি বলেছেনঃ

"ওসব (কুরবানীর) পশুর রক্ত-মাংস আল্লাহর কাছে পৌঁছেনা- বরঞ্চ তোমাদের পক্ষ থেকে তাঁর কাছে পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া (আল্লাহভীতি) ।" -(সূরা হজ্জ্বঃ ৩৭)

রাসূলুল্লাহ (সা) বলেনঃ "আল্লাহ পবিত্র বস্তু ছাড়া অন্য কিছু কবুল করেন না ।" -(বুখারী হা/১৩১৮)

অতএব কুরবানী কবুল হওয়ার দুটি পূর্বশর্ত হলো, আল্লাহভীতি ও হালাল উপার্জন । দুটির কোন একটি না থাকলে কুরবানী কবুলিয়াতের আশা আকাঙ্ক্ষা অসম্ভব ।



কোন মন্তব্য নেই