পরকালীন প্রস্তুতি

কুর'আন-সুন্নাহর আলোকে পরকালীন মুক্তির আশায় একটি পরকালমুখী উদ্যোগ

মাত্রাতিরিক্ত ভক্তিঃ যেকোনো সময় দ্বীন থেকে বের করে দিতে পারে

আল্লাহ সুবাহানওয়া তা'আলা বলেনঃ
"আর তারা বলে, 'তোমরা তোমাদের উপাস্যদের বর্জন করবে না; বর্জন করবে না ওয়াদ, সুওয়া, ইয়াগুস ও নাসরকে ।" - (সূরা নূহঃ ২৩)

এই আয়াতের ব্যখ্যায় ইবনে আব্বাস (রা) বলেনঃ
"এগুলো নাবী নূহের লোকজনদের মূর্তি, যেগুলো কালের আবর্তে আরবদের মূর্তি হয়ে যায় । 'ওয়াদ' হয়ে যায় দাওমাতুল জান্দাল অঞ্চলের কাল্ব গোত্রের দেবতা, হুযাইল গোত্র তাদের দেবতা হিসেবে 'সুওয়া' কে গ্রহণ করে, 'ইয়াগুস' 'ইয়াউক' ও 'নাসর' কে যথাক্রমে জারফ এর নিকটবর্তী গুতাইফ, হামদান ও হিমাইয়া গোত্র । এ মূর্তিগুলোর নামকরণ করা হয়েছিল নূহের কওমের প্রয়াত পুণ্যবানদের নামানুসারে । তাদের মৃত্যুর পর তাদের মূর্তি তৈরির জন্য শয়তান লোকদের কুমন্ত্রণা দেয় । পরবর্তী প্রজন্মের নিকট শয়তান এসে বললো যে, তাদের পূর্বপুরুষরা এসব মূর্তির পূজা এ কারণেই করতো যে এদের কারণে বৃষ্টি বর্ষিত হতো । এভাবে শয়তানের ধোঁকার শিকার হয়ে তারা শিরক এ লিপ্ত হল ।"

নাবী নূহ (আ) এর সম্প্রদায়ের মধ্যে শির্কের উল্লিখিত ঘটনা ইঙ্গিত করে যে, পুণ্যবানদের অতিরঞ্জিত প্রশংসা এবং তাদের প্রতি মাত্রাতিরিক্ত ভালোবাসার উপর ভিত্তি করেই মূর্তিপূজা আরম্ভ হয়েছিলো । এ অতিরিক্ত খারাপ পরিণতির আরেকটা জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত হলো বৌদ্ধধর্মে বুদ্ধের এবং খ্রীষ্টধর্মে যিশুর মূর্তি পূজা করা ।

উমার ইবনু খাত্তাব বর্ণনা করেন যে, নাবি (সা) বলেনঃ
"তোমরা আমার মাত্রাতিরিক্ত প্রশংসা করবে না, যেমনটি খ্রীষ্টানরা ঈসা ইবনে মারইয়ামের ক্ষেত্রে করেছে । নিশ্চয়ই আমি কেবল একজন বান্দা, তাই আমাকে বরং আব্দুল্লাহ ওয়া রাসূলুল্লাহ (আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর রাসূল) বলেই ডাকো ।" -(বুখারী ও মুসলিম)

ওই সময়ে ইহুদী এবং খ্রীষ্টানরা যেসব কবরকে নাবী বা নেককারদের মনে করতো, সেগুলোর উপর উপাসানালয় নির্মাণ করতো । এ পাপাচারের কারণে নাবী (সা) তাদের অভিশাপ দিয়েছেন ।

একবার নাবী (সা) এর স্ত্রী উম্মু সালামাহ (রা) তাঁকে ইথিওপিয়ার একটি গির্জার কথা বললেন, যেটির দেওয়ালে তিনি অনেকগুলো ছবি দেখেছিলেন । তার কথা শুনে নাবী (সা) বলেনঃ

"তাদের মধ্যে কোন পুণ্যবান ব্যক্তি মারা গেলে তারা তাদের কবরের উপর উপাসানালয় নির্মাণ করে এবং এ ধরণের চিত্রাঙ্কন করে । আল্লাহর দৃষ্টিতে তারা হলো নিকৃষ্টতম সৃষ্টি ।" -(বুখারী ও মুসলিম)

সুতরাং আমাদের দেশে কবরকে ঘিরে সৃষ্টি হওয়া মাজার পূজা, মোমবাতি প্রজ্বলন, পীর পূজা, মিলাদ-মাহফিল ও সম্মান প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে গড়ে উঠা নানা ভাস্কর্যের সবই ইসলাম বিরোধী আচরণ । তাই এগুলো থেকে নিজে দূরে থাকুন এবং অন্যকে দূরে থাকতে সচেতন করুন । ইন শা আল্লাহ ।


কোন মন্তব্য নেই