পরকালীন প্রস্তুতি

কুর'আন-সুন্নাহর আলোকে পরকালীন মুক্তির আশায় একটি পরকালমুখী উদ্যোগ

এসো ছোট ছোট প্রশ্নোত্তরে ইসলাম শিখি (পর্ব- ৩)

৪১. প্রশ্নঃ সর্বশেষ আসমানী কিতাবের নাম কি?
উত্তরঃ কুরআনুল কারীম।

৪২. প্রশ্নঃ কালেমা “লাইলাহা ইল্লাল্লাহু’ এর অর্থ কি?
উত্তরঃ আল্লাহ্‌ ছাড়া সত্য কোন মা’বূদ নেই।

৪৩. প্রশ্নঃ আল্লাহ্‌ আমাদের কেন সৃষ্টি করেছেন?
উত্তরঃ শুধু তাঁর ইবাদত করার জন্য। (সূরা যারিয়াত- ৫৬)

৪৪. প্রশ্নঃ মানুষ মৃত্যু বরণ করলে, কবরে তাকে তিনটি প্রশ্ন করা হবে। সেগুলো কি কি?
উত্তরঃ প্রশ্ন করা হবে- তোমার রব কে? তোমার নবী কে? তোমার দ্বীন কি?

৪৫. প্রশ্নঃ ইবাদত কাকে বলে?
উত্তরঃ আল্লাহ পছন্দ করেন এমন প্রত্যেক গোপন ও প্রকাশ্য কথা ও কাজকে ইবাদত বলা হয়।

৪৬. প্রশ্নঃ ইবাদত কবূল হওয়ার শর্ত কয়টি ও কি কি?
উত্তরঃ ইবাদত কবূল হওয়ার শর্ত দু’টিঃ (১) ইবাদতটি একনিষ্টভাবে আল্লাহর জন্য করা (২) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর সুন্নাত মোতাবেক করা।

৪৭. প্রশ্নঃ সঠিক ইবাদতের মূল ভিত্তি কয়টি ও কি কি?
উত্তরঃ যে কোন ইবাদত সঠিক হওয়ার জন্য তিনটি মূল ভিত্তি রয়েছে। (১) আল্লাহর প্রতি ভালবাসা, (২) তাঁকে ভয় করা ও (৩) তাঁর কাছে আশা-আকাংখা করা

৪৮. প্রশ্নঃ শির্ক কাকে বলে?
উত্তরঃ ইবাদতের কোন একটি বিষয় আল্লাহ ছাড়া অন্যের উদ্দেশ্যে সম্পাদন করা।

৪৯. প্রশ্নঃ শির্ক কত প্রকার ও কি কি?
উত্তরঃ শির্ক দু’প্রকারঃ বড় শির্ক ও ছোট শির্ক।

৫০. প্রশ্নঃ বড় শির্ক কাকে বলে?
উত্তরঃ আল্লাহর ইবাদতে অন্য কাউকে অংশী করাকে বড় শির্ক বলে।

৫১. প্রশ্নঃ বড় শির্কের উদাহরণ কি?
উত্তরঃ এর অনেক উদাহরণ রয়েছেঃ যেমনঃ আল্লাহ ছাড়া কাউকে সিজদা করা, আল্লাহ ছাড়া অন্যকে ডাকা, সাহায্য প্রার্থনা, সন্তান কামনা করা, বিপদাপদে উদ্ধার কামনা করা, গাইরুল্লাহর উদ্দশ্যে কুরবানী করা, কবর-মাজারে নযর-মান্নত করা ইত্যাদি।

৫২. প্রশ্নঃ বড় শির্কের পরিণাম কি?
উত্তরঃ ইসলাম থেকে বের হয়ে যাবে এবং তওবা না করে মৃত্যু বরণ করলে, চিরকাল জাহান্নামের অধিবাসী হবে। (সূরা মায়েদাঃ ৭২)

৫৩. প্রশ্নঃ কোন্‌ পাপ নিয়ে তওবা ছাড়া মৃত্যু বরণ করলে চিরকাল জাহান্নামে থাকতে হবে?
উত্তরঃ শির্ক।

৫৪. প্রশ্নঃ নবী-ওলীকে উসীলা করে দু’আ করার বিধান কি?
উত্তরঃ নবী, ওলী, ফেরেশতা বা যে কোন মানুষকে উসীলা করে দু’আ করা বড় শির্ক।

৫৫. প্রশ্নঃ মক্কার কাফেরগণ কি মোটেও আল্লাহকে বিশ্বাস করত না?
উত্তরঃ তারা তাওহীদে রুবুবিয়্যার প্রতি বিশ্বাস রাখত।

৫৬. প্রশ্নঃ মক্কার কাফেরগণ তাওহীদে রুবুবিয়্যার প্রতি বিশ্বাস রাখত, একথার প্রমাণ কি?
উত্তরঃ আল্লাহ্‌ বলেন, “তাদের যদি জিজ্ঞেস কর যে, কে আসমান যমীন সৃষ্টি করেছে, তবে তারা জবাবে অবশ্যই বলবে, আল্লাহ্‌।” (সূরা লোকমান- ৩১)

৫৭. প্রশ্নঃ মক্কার কাফেরগণ কি কোনই ইবাদত করত না?
উত্তরঃ তারা বিভিন্নভাবে আল্লাহর ইবাদত করত। যেমন, তারা কা’বা ঘরের তওয়াফ করত। হজ্জ পালন করত ইত্যাদি।

৫৮. প্রশ্নঃ মক্কার কাফেরগণকে মুশরিক বলার কারণ কি?
উত্তরঃ কেননা তারা মুর্তি পুজা করত।

৫৯. প্রশ্নঃ তাদের মুর্তি পুজার ধরণ কিরূপ ছিল?
উত্তরঃ তারা মুর্তিগুলোকে আল্লাহর কাছে পৌঁছার মাধ্যম বা উসীলা মনে করত।

৬০. প্রশ্নঃ বিপদ-মুসীবতে পড়লে কাফেরদের অবস্থা কেমন হত?
উত্তরঃ বিপদ-মুসীবতে পড়লে তারা শির্ক করত না। তখন তারা একনিষ্টভাবে আল্লাহকে ডাকত।

কৃতজ্ঞতায়: ইসলামের জানালা

কোন মন্তব্য নেই