পরকালীন প্রস্তুতি

কুর'আন-সুন্নাহর আলোকে পরকালীন মুক্তির আশায় একটি পরকালমুখী উদ্যোগ

মাযহাব নিয়ে মারামারি

আল্লাহ তা’আলা কুরআনে বলেছেন,

তোমরা সবাই মিলে আল্লাহর রজ্জুকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরো, এবং কখনোও পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না। [আলি ইমরান, ৩:১০৩]

উল্লিখিত আয়াতে আল্লাহ সুবহানাহু তা‘আলা মুসলিমদেরকে তাওহীদের ভিত্তিতে এক হতে বলছেন। এক মুসলিম অন্য মুসলিমের ভাই। আর এই ভ্রাতৃত্ব কোনো জাতি-গোত্র-বর্ণের গণ্ডিতে আবদ্ধ নয়।

প্রাক ইসলামি যুগে মানুষদের মধ্যে অনেক দলাদলি ছিল। ছোট ছোট বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে যুদ্ধ পর্যন্ত লেগে যেত। জীবন দিতে হতো অসংখ্য মানুষকে। কিন্তু ইসলাম আসার পর শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। মুসলিমদের মধ্যে আর কোনো দলাদলিই ছিল না। কিন্তু দেখা যায়, আজ মুসলিমরা ছোট ছোট বিষয় নিয়ে নিজেদের মধ্যে বিভেদ করছে। পরস্পরকে ভুল বলে আখ্যায়িত করছে, এমনকি কাউকে কাফির বলতেও দ্বিধাবোধ করছে না। মুসলিমদের মধ্যে এসব বিভেদের অন্যতম কারণ হলো মাযহাব কেন্দ্রিক মতপার্থক্য। ছোট ছোট মতপার্থক্যের কারণে এক মাযহাবের অনুসারীরা অন্য মাযহাবের অনুসারীদের দেখতে পারে না। এমনকি মাযহাবের ইমামের সম্পর্কেও তারা কটু কথা বলতে দ্বিধাবোধ করে না। এগুলো সবই আমাদের অজ্ঞতার ফলাফল। ইসলাম সম্পর্কে আমাদের জ্ঞানের স্বল্পতার কারণেই আমরা এমন মূর্খতাপূর্ণ আচরণ করি।

অথচ আল্লাহর রাসুল রাসূল (সা.) বলে গিয়েছেন, “সর্বোত্তম প্রজন্ম হলো আমার প্রজন্ম। তারপর তার পরের প্রজন্ম এবং তারপর তার পরের প্রজন্ম।”

আমাদের জানা নেই যে, ফিক়হ শাস্ত্রে এই মাযহাবের ইমামদের ভূমিকা কতখানি! তাঁরা মুসলিম উম্মাহ্‌র কল্যাণ ছাড়া অকল্যাণ চাননি কখনো। তারা চাননি যে, তাদের মাযহাবকে কেন্দ্র করে এধরনের বিভেদের সৃষ্টি হোক।

তাহলে কেন আজ মাযহাব কেন্দ্রিক দলাদলি? মুসলিমদের মধ্যে কেন এত বিভেদ? এর সমাধান কী? কীভাবে আবার মুসলিম উম্মাহ্‌র একত্রীকরণ সম্ভব? বিশ্ব মুসলিম ঐক্য সাধনের লক্ষ্যে সবাই মিলে কেবল একটি মাযহাব অনুসরণ করব; নাকি সবকটি মাযহাবকে প্রত্যাখ্যান করব?

এই বিষয়গুলো অত্যন্ত চমৎকারভাবে ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিস্তারিতভাবে আলোচিত হয়েছে ড. বিলাল ফিলিপসের এর ‘মাজহাব: অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ’ বইটিতে। এটি এমন একটি বই যা প্রতিটি মুসলিমের পড়া উচিত যেন তার মধ্যে কোনো ধরনের মাযহাবকেন্দ্রিক গোঁড়ামি না থাকে। আমরা যদি বিষয়টিকে বুঝে নিয়ে নিজেদেরকে সংশোধন করতে পারি, তখন মুসলিম ঐক্যকে সর্বাগ্রে প্রাধান্য দিয়ে উম্মাহ্‌র বৃহত্তর স্বার্থ অর্জনের দিকে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে, ইনশা’ আল্লাহ।

—সানজিদা শারমিন, সহকারী সম্পাদক, বিসিটিআই

কোন মন্তব্য নেই