পরকালীন প্রস্তুতি

কুর'আন-সুন্নাহর আলোকে পরকালীন মুক্তির আশায় একটি পরকালমুখী উদ্যোগ

একটু খেয়াল করুন!

চোখের কথাই ভেবে দেখুন – রেটিনা, ফোভিয়া-সেন্ট্রালিস, অপটিক নার্ভ, স্ক্লেরা, ভিট্রিয়াস হিউমার, লেন্স, আইরিস এবং কর্নিয়া নিয়ে আমদের একটি চোখ গঠিত। এসব কিছু একসাথে কাজ করছে বিধায় আপনি এই লেখাগুলো পড়তে পারছেন, আকাশ দেখছেন, তারা উপভোগ করছেন, মেঘ, রঙ, গাছপালা, প্রাণীজগৎ আরও কত কী সুন্দরভাবে দেখতে পারছেন। আর এই সবকিছুই হচ্ছে আমাদের চিন্তা আর চেষ্টার সীমার বাইরে।

আপনার কানের কথাও ভেবে দেখুন। কীভাবে এটিকে সুচারুরুপে নকশা করা হয়েছে। যে কোনো আওয়াজ এসে আপনার কানের ছিদ্রে প্রবেশ করলে আপনার কানের পর্দা পর্যন্ত পৌঁছে যায় আর আপনি তা স্পষ্ট শুনতে পান।

জিহ্বার প্রতি খেয়াল করুন, একটি পেশী যা আপনার চিন্তা ও অনুভূতিকে ভাষায় প্রকাশ করতে সাহায্য করে। দেখুন কী সুশৃঙ্খলভাবে আপনার দাঁতগুলো একটি আরেকটির পাশে বসে আপনার মুখের সৌন্দর্যবর্ধন করছে। এই দাঁতগুলোর কোনোটি কামড় দেয়, কোনোটি চিবোয়, কোনোটি আবার গুড়ো করে। প্রত্যেকটি দাঁতেরও ভিন্ন ভিন্ন কাজ এবং উদ্দেশ্য ভাগ করে দেয়া আছে। আপনার ঠোট আপনার মুখকে আটকে রাখে, একে রঙ দান করে আর আপনার ইচ্ছা অনুযায়ী প্রত্যেকটি শব্দ স্পষ্টভাবে উচ্চারণে সহায়তা করে। আল্লাহ্‌ আপনার স্বরযন্ত্রকে এমন ভাবে বানিয়েছেন যে আপনার কন্ঠ নিঃসৃত প্রত্যেকটি শব্দ সেই ধ্বনি বহন করে যা দুনিয়াতে অনন্য। আর কারও সাথেই তা মিলে না। শ্রোতা শুনামাত্রই বুঝতে পারে সে কার কথা শুনছে। এসবের মাঝে আছে এক জটিল ও দীর্ঘ পদ্ধতি আর বিস্ময় যা এখানে আলোচনা করে শেষ করা যাবে না।

আপনার হাতের দিকে মনোনিবেশ করুন আর ভাবুন কীভাবে এটি কাজ করে। আপনার হাতের তালু, পাঁচটি আঙ্গুল যাদের চারটি একদিকে আর একটি অন্য দিকে। বৃদ্ধাঙ্গুলি অন্য দিকে হওয়াতে এটি সব আঙ্গুলে স্পর্শ করতে পারে। অন্য আর কোনো উপায়ে বানালে হাত আমরা এইভাবে ব্যবহার করতে পারতাম না। কল্পনা করুন যদি পাঁচটি আঙ্গুল একই পাশে থাকত! তবে আপনার পক্ষে একটি বাক্যও লেখা সম্ভবপর হতো না।

তারপর আপনার নখের মত তুচ্ছ একটি জিনিসের দিকে নজর দিন। এটি আপনার আঙ্গুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। আপনাকে অনেক কিছু ধরতে সহায়তা করছে যা আপনি অন্যভাবে ধরতে পারতেন না। এত সামান্য একটি জিনিস নখ যা হয়ত আপনার মনোযোগ আকৃষ্ট করে না। অথচ এটি না থাকলে হয়ত আপনি অসহায় হয়ে পড়তেন।

এসব অত্যাশ্চর্য বস্তুর সমন্বয়ে আপনার দেহ গঠিত হয়েছে। অথচ এর মূলে ছিল কেবল একবিন্দু আণুবীক্ষণিক জমাট বাধা তরলকণা। এসব মিলেই আপনি। আর আপনি এই পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষের মাঝে একজন মাত্র। আর মানুষ এই পৃথিবীর অসংখ্য প্রজাতির জীবের মাঝে একটি মাত্র। আর এই পৃথিবী সূর্যের চারপাশে প্রদক্ষিণরত গ্রহের মাঝে একটি মাত্র! আর সূর্য শত কোটি ছায়াপথের মাঝে একটিতে অবস্থিত নগণ্য এক নক্ষত্র মাত্র! আর বিস্ময়কর এই বিশ্বজগতের তারকাদের অনন্যতার সারাংশ তুলে ধরাও বিশাল এক কঠিন কাজ। এসব কিছু উদ্দেশ্যহীন, দৈবক্রমে সংঘটিত কোনো প্রাকৃতিক ঘটনা হতে পারে না।

এসব কিছুই সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ্‌’র প্রয়াসহীন সৃষ্টি। সূরা বাকারার এই দুইটি আয়াতে আল্লাহ্‌ আমাদেরকে দুইটি ব্যাপারে চিন্তা করতে বলেছেন: ১) নিজেদের নিয়ে এবং ২) নিজেদের চারপাশ নিয়ে। এতে করে আল্লাহ্‌’র ইবাদাতে আমাদের মন নিবিষ্ট হবে।

"হে মানব সমাজ, তোমরা তোমাদের সেই পালনকর্তার এবাদত কর, যিনি তোমাদের এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা মুত্তাক্বী (ধর্মভীরু) হও। যিনি তোমাদের জন্য ভূমিকে বিছানা এবং আকাশকে ছাদ স্বরূপ স্থাপন করেছেন।"

সুতরাং যখন নিজের মধ্যে ঈমান - আমলে দুর্বলতা অনুভূত হবে, ইবাদাতে শক্তি ও মিষ্টতা পাবেন না তখন নিজের দেহের কথা ভাবুন অথবা কোনো এ্যানাটমি বই খুলে দেখুন, মহাকশের ছবি দেখে ভাবুন অথবা চোখ বন্ধ করে আল্লাহ্‌’র বড়ত্ব নিয়ে চিন্তা করুন।

- তারিক মেহান্না

কোন মন্তব্য নেই