পরকালীন প্রস্তুতি

কুর'আন-সুন্নাহর আলোকে পরকালীন মুক্তির আশায় একটি পরকালমুখী উদ্যোগ

ফিকহুস সিয়াম (পর্ব-২)



● রোজাদার ব্যক্তি কিভাবে ফজরের শুরু ও সূর্যাস্ত সম্পর্কে নিশ্চিত হবে?

রোজাদার কর্তব্য ফজরের শুরু ও সূর্যাস্তের সময় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া। এ সম্পর্কে জানার জন্য নিম্নলিখিত যে কোন উপায় অবলম্বন করা যেতে পারে:

১. সরাসরি পর্যবেক্ষণ।
২. নির্ভরযোগ্য মুয়াযযিনের উপর নির্ভর করা।
৩. নির্ভরযোগ্য প্রচার মাধ্যম কর্তৃক প্রচারিত আযানের উপর নির্ভর করা।
৪. নির্ভরযোগ্য কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ঘোষিত/তৈরি ঘোষণা বা ক্যালেন্ডার অনুসরণ করা।

ফজর হয়েছে বলে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত পানাহার করা যাবে, কেননা মূল বিষয় হচ্ছে ওয়াক্ত না হওয়া। আল্লাহ্ সুবহানওয়া বলেন: "আর আহার করো ও পান করো যতক্ষণ না ফজরের সাদা রেখা কালো হতে স্পষ্ট হয়।" -(সূরা বাকারাহ্, আয়াত: ১৮৭)

সূর্যাস্তের ক্ষেত্রে খুব সম্ভবত সূর্যাস্ত হয়েছে বলে মনে করলেও ইফতার বৈধ। যেমনটি আসমা বিনতে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যুগে এক মেঘের দিনে আমরা ইফতার করলাম, এরপর সূর্য উদিত হলো।" -(বুখারী: ১৯৫৯)

এক্ষেত্রে পরবর্তীতে পুনরায় সূর্য দেখা দিলে তৎক্ষণাৎ পানাহার বন্ধ করতে হবে, তবে ইতঃপূর্বে পানাহারের কারণে সাওমের ক্ষতি হবে না। আর যদি পরে তা জানা যায়, তা হলেও সাওম আদায় হয়ে যাবে। -(আশ শারহ আল মুমিত, ৬/৩৯৬-৩৯৭)


● কোন অঞ্চলে দিন খুব দীর্ঘ হলে কি করণীয়?

যদি সেখানে দিন কিংবা রাত্রির অস্তিত্ব থাকে, তবে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সাওম পালন করতে হবে, যদিও দিবাভাগ খুব দীর্ঘ হয়। তবে কেউ যদি দিবসের অত্যধিক দৈর্ঘ্যের কারণে মৃত্যু কিংবা অসুস্থতার আশংকা করে, অথবা কোন আস্থাভাজন অভিজ্ঞ ডাক্তার এ ধরনের আশংকা ব্যক্ত করেন, তবে সে সাওম ভঙ্গ করতে পারবে এবং পরবর্তীতে যখন সক্ষম হয়, তখন ঐ দিনটির কাযা আদায় করে নেবে।

যদি কোন অঞ্চলে রাত বা দিন কোন একটির অস্তিত্ব না থাকে, সেক্ষেত্রে সালাত ও সাওমের জন্য নিকটবর্তী যে দেশে দিন বা রাত হয়, সে দেশের সময়সূচী অনুসরণ করবে। এর সপক্ষে দলীল হলো দাজ্জালের অবস্থানের সময়কাল সম্পর্কে আল্লাহর রসূলের (সা:) বক্তব্য:

"..... তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: '...একদিন এক বছরের মত, একদিন এক মাসের মত আর একদিন এক সপ্তাহের মত আর বাকি দিনগুলো তোমাদের দিনগুলোর মতই।' আমরা (অর্থাৎ সাহাবীগণ) বললাম: 'হে আল্লাহর রসূল, যে দিনটি এক বছরের মতো, তাতে কি একদিনের সালাতই আমাদের জন্য যথেষ্ট হব?' তিনি (সা:) বললেন: 'না। তার পরিমাণ নির্ধারণ করে নাও'...।" -(মুসলিম: ২৯৩৭)


● প্লেনে ভ্রমণকারী রোজাদার ব্যক্তির জন্য করণীয় কি?

প্লেনে ভ্রমণরত অবস্থায় সূর্যাস্ত ও ফজরের সূচনা প্লেন থেকে দেখে নির্ণয় করতে হবে। এক্ষেত্রে এরোপ্লেন যে দেশের ওপর দিয়ে অতিক্রম করছে, সেই দেশের সময়সূচী অনুসরণ করা যাবে না। কেননা শরীয়তে সাওমের শুরুকে ফজরের শুরু এবং সাওমের সমাপ্তিকে সূর্যাস্তের সাথে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। আর তা হবে প্রত্যেক ব্যক্তির অবস্থান অনুযায়ী।

কোন কারণে তা সম্ভব না হলে সাধ্যমত আন্দাজ করে সাওমের শুরু ও শেষ করবে। কেননা এক্ষেত্রে এছাড়া আর কোন উপায় নেই।

বিমানে ভ্রমণকারী ভূমিতে থাকা অবস্থায় সূর্যাস্তের সময় অনুযায়ী ইফতার করল, এরপর এরোপ্লেন আকাশে ওড়ার পর সূর্য দেখা গেল, এক্ষেত্রে তাকে পানাহার হতে বিরত হতে হবে না, কেননা তার সাওম শরীয়তসম্মতভাবে পূর্ণ হয়েছে।

তেমনি নিজ দেশে ইফতার করার পর ঐ দিন থাকতেই কেউ যদি অন্য দেশে পৌঁছে যায় এবং সেই দেশে দিবাভাগ বিরাজ করে, তবে পানাহার থেকে বিরত থাকার প্রয়োজন নেই এবং সাওম পূর্ণ হয়েছে বলে ধরা হবে।

কিন্তু যদি সূর্যাস্তের পূর্বেই প্লেন আকাশে ওড়ে আর এর ফলে দিবসের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি পায়, তবে সূর্যাস্ত না হওয়া পর্যন্ত সাওম পালন করতে হবে।

তথ্যসূত্র: শারহু উমদাতিল ফিকহ্ - ড. আব্দুল্লাহ বিন আব্দিল আযীয আল-জিবরীন, পৃ: ৫৬৪-৫৬৫


আরো পড়ুন:

কোন মন্তব্য নেই