পরকালীন প্রস্তুতি

কুর'আন-সুন্নাহর আলোকে পরকালীন মুক্তির আশায় একটি পরকালমুখী উদ্যোগ

জ্বিন জাতির রহস্য

জ্বীন জগৎ:
জ্বিন জগৎ একটি পৃথক জগৎ। সে জগৎ মনুষ্য জগৎ ও ফিরিশতা জগৎ থেকে আলাদা। তবে জ্বিন ও ইনসানের মধ্যে কিছু বিষয়ে সাদৃশ্য রয়েছে। যেমন জ্ঞান-বুদ্ধি ও ভালো-মন্দ নির্বাচন করে চলার ক্ষমতা ইত্যাদি। অবশ্য বহু বিষয়ে জ্বিন মানুষ থেকে পৃথক। সবচেয়ে বড় পার্থক্য হল, মানুষের সৃষ্টি-উপাদান ও জ্বিনের সৃষ্টি-উপাদানের ভিন্নতা।

জ্বিন:
আরবীতে 'জিন্ন' মানে আড়াল, অন্তরাল, পর্দা, গোপন ইত্যাদি। আর যেহেতু জ্বিন জাতি মানুষের চক্ষুর অন্তরালে থাকে, তাই তাদেরকে জ্বিন বলে।

জ্বিন সৃষ্টির মূল উপাদান:
মহান আল্লাহ সুবহানওয়া পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করেছেন, জ্বিনকে সৃষ্টি করা হয়েছে আগুন থেকে। তিনি বলেছেন- 'এর পূর্বে আমি জ্বিনকে সৃষ্টি করেছি ধূম্রহীন বিশুদ্ধ অগ্নি হতে।' -(সূরা আল হিজ্বর, আয়াত: ২৭)

জ্বিন জাতির সৃষ্টিকাল:
এতে কোন সন্দেহ নেই যে, জ্বিন জাতিকে মানুষের পূর্বেই সৃষ্টি করা হয়েছে। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন: 'নিশ্চয় আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি কালো পচা শুষ্ক ঠনঠনে মাটি হতে। আর এর পূর্বে জ্বিনকে সৃষ্টি করেছি ধূম্রহীন বিশুদ্ধ অগ্নি হতে।' -(সূরা আল হিজ্বর, আয়াত: ২৬-২৭)

জ্বিনদের দৈহিক আকৃতি:
এই ব্যাপারে আল্লাহ্ সুবহানওয়া তা'আলা যা বলেছেন: ''আমি তো বহু জ্বিন ও মানুষকে জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেছি, তাদের হৃদয় আছে কিন্তু তা দিয়ে উপলব্ধি করে না, তাদের কান আছে কিন্তু তা দিয়ে শুনে না, তারা জন্তু জানোয়ারের মত, বরং এর চেয়েও পথভ্রষ্ট, তারাই হল উদাসীন।'' -(সূরা আরাফ, আয়াত: ১৭৯)

জ্বিনদের প্রকারভেদ:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, "জ্বিন তিন শ্রেণীর। এক শ্রেণীর ডানা আছে, তারা এর সাহায্যে বাতাসে উড়ে বেড়ায়, এক শ্রেণী সাপ-কুকুরের আকারে বসবাস করে, আর এক শ্রেণী স্থায়ীভাবে বসবাস করে ও ভ্রমণ করে। -(ত্বাবারানীর কাবীর, হা: ৫৭৩; হাকেম, হা: ৩৭০২)

জ্বিনের অস্তিত্ব:
বহু মানুষ আছে, যারা জ্বিনের অস্তিত্ব স্বীকার করে না। বিশেষ করে বস্তুবাদী মানুষেরা অদৃশ্য জগতের কোন কিছুকেই বিশ্বাস করতে চায় না। আসলে জ্ঞান না থাকা কোন কিছুর অস্তিত্বহীনতার দলিল নয়। এ ব্যপারে আল্লাহ্ সুবহানওয়া বলেন: "বরং তারা এমন বিষয়কে মিথ্যা মনে করেছে, যাকে নিজ জ্ঞানের পরিধিতে আনয়ন করেনি কিংবা এখনো তাদের নিকট ওর পরিণাম (আযাব বা ব্যখ্যা) এসে পৌঁছেনি।....." -(সূরা ইউনুস, আয়াত: ৩৯)

ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.) বলেছেন্, 'মুসলিমদের কোন ফির্কা (জাহমিয়্যাহ ও মু'তাযিলাহ্ ব্যতীত) জ্বিনের অস্তিত্বের ব্যাপারে দ্বিমত পোষণ করেনি। কাফিরদের অধিকাংশ ফির্কাও জ্বিনের অস্তিত্ব স্বীকার করে।' -(মাজমূ ফাতাওয়া ১৯/১০)

জ্বিন দর্শন:

জ্বিন দর্শনের ব্যাপারে বর্ণিত সবচেয়ে সত্য কথা হলো নবী (সা:) এর জ্বিনের সাথে সাক্ষাৎ করা, কথা বলা, শিক্ষা দেওয়া, কুরআন তিলাওয়াত করে শুনানো ইত্যাদি।

ইবনে মাসঊদ (রা:) বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (সা:) কে আমরা খুঁজে পাচ্ছিলাম না। অতঃপর তাঁকে পাওয়া গেলে তার কারণ জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, "আমার কাছে জ্বিনের এক আহ্বায়ক এসেছিলো । আমি তার সঙ্গে গিয়ে তাদের কাছে কুরআন পড়লাম। অতঃপর তিনি আমাদেরক সঙ্গে নিয়ে তাদের (জ্বিনদের) বিভিন্ন চিহ্ন ও আগুনের চিহ্ন দেখালেন। তারা তাঁর নিকট খাদ্য চেয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, 'আল্লাহর নাম উল্লেখ করে যে কোন হাড্ডির উপর তোমাদের হাত পড়বে, তা তোমাদের জন্য পর্যাপ্ত গোশতে পরিণত হবে। আর প্রত্যেক গোবর হবে তোমাদের পশু খাদ্য। -(মুসলিম, হা: ১০৩৫)

মানুষ সচরাচর জ্বিন দেখতে পায় না, কিন্তু কিছু জীব-জন্তু যেমন, গাধা ও কুকুর জ্বিন দেখতে পায়। -(বুখারী, হা: ৩৩০৩)


বই: জ্বিন ও শয়তান জগৎ
লিখেছেন: আব্দুল হামীদ ফাইযী আল-মাদানী

কোন মন্তব্য নেই