পরকালীন প্রস্তুতি

কুর'আন-সুন্নাহর আলোকে পরকালীন মুক্তির আশায় একটি পরকালমুখী উদ্যোগ

ইসলাম-পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা

ইসলাম এমন একটা জীবন ব্যাবস্থা যা, এটা পালন করতে থাকা মানুষের জীবনটাকে মধুর করে দেয়। দুঃখকষ্ট কেড়ে নিয়ে, সুখ শান্তিতে জীবন ভরিয়ে দেয়।

আমি আগে কখনই এসব ব্যাপার বুঝতে পারি নি। কিন্তু যেদিন থেকে গুরুত্বের সাথে ইসলাম পালন করা শুরু করেছি, সেদিন থেকেই যেন প্রশান্তির এক বিশাল সমুদ্রে এসে পড়েছি! জীবনের মানে খুঁজে হাঁপিয়ে উঠে শেষ পর্যন্ত ইসলামেই জীবনের পরিপূর্ণতা খুঁজে পেয়েছি।

ইসলামই জীবনকে পরিপূর্ণতা দিতে পারে। সেই ব্যক্তি জীবন, পারিবারিক জীবন, সামাজিক জীবন প্রতিটি ক্ষেত্রের সুষ্ঠু সমাধান রয়েছে এই ইসলামে।

ইসলামকে বুঝতে হলে চাই দূরদৃষ্টি। আপাতদৃষ্টিতে কোন কিছুকে কষ্টকর মনে হলেও, আসলে সেটিই যে পরম শান্তির এটা সবাই বুঝতে পারে না।

মনে করুন একটি বাস দাঁড়িয়ে আছে। বাসটির একপাশের সিটে রোদ পড়ছে, আর অন্য পাশের সিটগুলোতে ছায়া। কিন্তু বাসটি যখন ঘুড়ে গিয়ে চলতে শুরু করবে, তখন রোদ লাগা সিট গুলোতেই ছায়া পরবে আর আগের ছায়াময় সিটগুলোতেই রোদ পড়বে। এই বাসটিতে চড়ে যারা অভ্যস্ত তারাই কেবল দাঁড়িয়ে থাকা বাসের রোদলাগা সিটে বসবে, আর যারা তাদের কথা বিশ্বাস করে তারাও বসবে। অথচ অন্যরা ভাল মনে করে দাঁড়িয়ে থাকা বাসের ছায়াময় সিটে বসে সারাটা রাস্তা রোদ পোহাবে!

ইসলাম ব্যাপারটাও ঠিক এমনই। অল্প কিছু কষ্টের বিনিময়ে এখানে অসীম সুখ পাওয়া যায়। আর অবাধ্যরাই অল্প সুখের বিনিময়ে দুঃখের সমুদ্রে হাবুডুবু খায়।

ইসলামিক বিধি-বিধান এতটাই মহান যে, ইসলামের ছায়াতলে জাতিভেদ ভুলে সবাই এক কাতারে দাঁড়িয়ে যায়। সন্তানের কাছে বৃদ্ধ বাবা-মায়ের সম্মান, আর সমাজে মেয়েদের উপযুক্ত সম্মান ইসলামে আমাদের একটি বড় পাওয়া।

মহানবী হযরত মুহাম্মাদ(সাঃ) বলেছেন, সেই ব্যক্তিই সব চেয়ে উত্তম যে তার স্বীয় স্ত্রীর কাছে উত্তম। আবার আমরা এটাও জানি যে, স্বামীর অবাধ্য স্ত্রীর পরিনাম পরকালে ভয়াবহ। স্বামী-স্ত্রীকে এভাবে এক কে অপরের মাধ্যমে সম্মানিত করে একটি বাধ্যগত মধুর সম্পর্ক গঠন করা হয়েছে ইসলামে। সুবহানআল্লাহ!

ইসলামে পর্দার বিধানকে ফরয করা হয়েছে। আমাদের নির্বুদ্ধিতার দরুন যে পর্দা থেকে আমরা ক্রমশ স্বাধীন হতে চাই, সেই পর্দাই আসলে মানুষকে দেয় প্রকৃত স্বাধীনতা। মানুষের নজর থেকে নিজেকে যতটা পারা যায় আড়াল রাখাটাই মূলত স্বাধীনতা রক্ষা। পর্দাহীন ব্যক্তিই পরাধীন। পর্দা না থাকা মানে- নিজের প্রতি পতিত প্রতিটি দৃষ্টিকেই খুশি করার দায়বদ্ধতা। আর এই দায়বদ্ধতা থেকেই যত সব অযথা কাজের উৎপত্তি। যার ফলাফলও হয় মারাত্মক। বিপরীত লিঙ্গের কারো দিকে তাকানো তো দুরের কথা, সামান্য নরম সুরের কথা বলাই যে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে এটাতো সৃষ্টিকর্তাই বুঝতে পারেন! যে কারনে ইসলামে এগুলো নিষেধ করা হয়েছে।

মানুষ রুটিন করে করে নিজের কাজগুলোকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করতে চায়। কিন্তু মহান আল্লাহ্‌ তায়ালা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের যে রুটিন করে দিয়েছেন তা মেনে চললেই বাকি কাজগুলো আপনাআপনি শৃঙ্খলাবদ্ধ হয়ে যায়! আর অজু করার মধ্যে আছে এক সুশীতল প্রশান্তি।

ইসলামের সবচেয়ে বড় শিক্ষাটি হল, সব কিছু আল্লাহ্‌র ইচ্ছাতেই হয় গণ্য করা এবং আল্লাহ্‌ তায়ালাকে খুশি করার জন্যই সকল চেষ্টা করা। এটা যে করবে দুনিয়াবি কোন চিন্তাই আর তাকে কষ্ট দিবে না। আল্লাহ্‌ তায়ালার দেওয়া প্রতিটি কষ্টও আল্লাহ্‌র প্রতি সন্তুষ্টি দিয়ে পার করে দিবে!

মনের গভীরে দাগ কেটে যাওয়া প্রশান্তিময় কোন কিছুকেই মানুষ ভালবাসে। আর ইসলাম হৃদয়ের গভীরে স্থায়ী প্রশান্তি এনে দেয় যা কিনা ইসলামকে ভালবাসার মূল কারন।

ইসলাম, সুন্দর সাজানো এই জীবন ব্যবস্থা, একমাত্র সৃষ্টিকর্তার দ্বারাই তৈরি হওয়া সম্ভব। সব কিছুর সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ্‌ তায়ালার নগন্য বান্দা হয়েও ইসলামকে ভালবাসতে পারার রহমত প্রাপ্তিটা খুবই ভাগ্যের ব্যাপার। আলহামদুলিল্লাহ্‌।

লিখেছেন: নাসরিন নাহার লীনা (রা.বি.)

1 টি মন্তব্য:

  1. মাশাল্লাহ আল্লাহতায়ালা আপনার রহমত নাজিল করুক আপনাকে নেক হায়াত দান করক আমিন।
    পড়ে খুব ভাল লাগলো।

    উত্তরমুছুন