পরকালীন প্রস্তুতি

কুর'আন-সুন্নাহর আলোকে পরকালীন মুক্তির আশায় একটি পরকালমুখী উদ্যোগ

কিছু সুবর্ণ সুযোগ : আমরা সহজেই কাজে লাগাতে পারি

প্রশংসা আল্লাহ্ সুবাহানহুয়া তা'আলার। যিন আমাদেরকে ইসলামের মতো শ্রেষ্ঠ নিয়ামাহ্ দিয়ে পরকালীন মুক্তির সুযোগ করে দিয়েছেন। অর্থাৎ আল্লাহর একত্ববাদে নিরেট বিশ্বাস, পবিত্রতার সাথে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, সম্পদের যাকাত, রমাদানের সিয়াম, আর হজ্জের মৌসুমে আল্লাহর ঘর তাওয়াফ আমাদেরকে পরকালীন মুক্তির আশ্বাসই দেয়। তবে আমাদের মানবসুলভ বৈশিষ্টের কারণে আমরা কখনো ছোট থেকে বড় রকমের অনেক অন্যায় করে থাকি, কখনো ভুলে যাই আল্লাহর মনোনীত সরল-সঠিক পথটি, আবার কখনো স্বেচ্ছায় মেনে নেই শয়তানের দাসত্ব। আর এতসব অন্যায় ও ভুলকে দূরে ঠেলে সরল-সঠিক পথটি ফিরে পেতে আল্লাহ্ সুবাহানহুয়া তা'আলা আমাদের জন্য রেখেছেন অসংখ্য সহজ সুযোগ। এছাড়া দুনিয়া ও আখিরাতে একজন বিশ্বাসীর সম্মান-মর্যাদা বাড়িয়ে নিতেও রেখেছেন কিছু সুবর্ণ সুযোগ। তাই ইসলামের অপরিহার্য বিষয়গুলোর পাশাপাশি এইসব সহজ ও গুরুত্বপূর্ণ সুযোগগুলো সামনে নিয়ে আসার জন্যই এই লিখা।


দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সালাত

জাবের (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, "পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের উদাহরণ ঠিক প্রবাহিত নদীর ন্যায়, যা তোমাদের কোন ব্যক্তির দরজার পাশে থাকে, যাতে সে প্রত্যহ পাঁচবার গোসল করে থাকে ।" -[মুসলিমঃ ২৩৩; তিরমিযীঃ ২১৪; রিয়াদুস স্বা-লিহীনঃ ১০৫০]

রাতের সালাত

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সাঃ) বলেছেনঃ ফরজ সালাত ব্যতীত নফল সালাতের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম সালাত হচ্ছে রাতের সালাত । -[মুসলিমঃ ১১৬৩; তিরমিযীঃ ৪৩৮, ৭৪০; বুলুগুল মারামঃ ৩৬৮]

বারো রাকাত সুন্নাত সালাত

উম্মে হাবীবাহ রামলা বিনতে আবু সূফিয়ান (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কে বলতে শুনেছি, "যে কোন মুসলিম ব্যক্তি আল্লাহর (সন্তুষ্টি অর্জনের) জন্য প্রত্যহ ফরয সালাত ছাড়া বারো রাকাত সুন্নাত সালাত পড়ে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের মধ্যে একটি গৃহ নির্মাণ করবেন ।" -[মুসলিম, তিরমিযী, নাসায়ী, রিয়াদুস স্বা-লিহীনঃ ১১০৪]

রমাদানের ছিয়াম

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত । তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ তা'আলা বলেছেনঃ সাওম ব্যতীত আদম সন্তানের প্রতিটি কাজই তার নিজের জন্য, কিন্তু সিয়াম আমার জন্য । তাই আমি এর প্রতিদান দেব । সিয়াম ঢাল স্বরূপ । তোমাদের কেউ যেন সিয়াম পালনের দিন অশ্লীলতায় লিপ্ত না হয় এবং ঝগড়া-বিবাদ না করে । যদি কেউ যেন সিয়াম পালনের দিন অশ্লীলতায় লিপ্ত না হয় এবং ঝগড়া-বিবাদ না করে । যদি কেউ তাকে গালি দেয় অথবা তার সঙ্গে ঝগড়া করে, তাহলে সে যেন বলে, আমি একজন সায়িম । যাঁর কব্জায় মুহাম্মদের প্রাণ, তাঁর শপথ অবশ্যই সায়িমের মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট মিসকের গন্ধের চাইতেও সুগন্ধি । সায়িমের জন্য রয়েছে দু'টি খুশি যা তাকে খুশি করে । যখন সে ইফতার করে, তখন সে খুশি হয় এবং যখন সে তার রবের সাথে সাক্ষাৎ করবে, তখন সাওমের বিনিময়ে আনন্দিত হবে । [বুখারীঃ ১৯০৪, ১৮৯৪; মুসলিমঃ ১১৫১]

রমাদানের শেষ দশক

আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত । তিনি বলেন, যখন রমাদানের শেষ দশক আসত তখন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তাঁর লুঙ্গি কষে নিতেন (বেশি বেশি ইবাদাতের প্রস্তুতি নিতেন) এবং রাত্র জেগে থাকতেন এবং পরিবার পরিজনকে জাগিয়ে দিতেন । -[বুখারীঃ ২০২৪; মুসলিমঃ ১১৭৪]

শাওয়ালের ৬ টি ছিয়াম

আবু আইয়ুব আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত । রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- "যে ব্যক্তি রমাদানের ছিয়াম পালনের পর শাওয়ালেরও ৬ টি ছিয়াম পালন করল, (পুণ্যের দিক দিয়ে) সে পূর্ণ একটি বছর ছিয়াম পালন করল ।" -[মুসলিমঃ ১১৬৪; তিরমিযীঃ ৭৫৯]

আরাফার দিনে ছিয়াম

আবু কাতাদাহ আল-আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত । রাসূলুল্লাহ (সাঃ) 'আরাফার দিনে ছিয়াম সম্বন্ধে জিজ্ঞাসিত হয়ে বললেন- এর দ্বারা বিগত ও আগত এক বছরের গোনাহ (পাপ) মোচন হয় । সোমবারের দিনে ছিয়াম পালন সম্বন্ধে জিজ্ঞাসিত হয়ে বললেন, এটা সেদিন যেদিন আমি জন্মেছি এবং নবুওয়াত লাভ করেছি আর আমার উপর (কুরআন) অবতীর্ণ হয়েছে । -[মুসলিমঃ ১১৬২; তিরমিযীঃ ৬৭৬]

মুহাররমের ছিয়াম

আবু ক্বাতাদাহ (রাঃ) হ’তে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন, ‘আমি আশা করি আশূরা বা ১০ই মুহাররমের ছিয়াম আল্লাহর নিকটে বান্দার বিগত এক বছরের (ছগীরা) গোনাহের কাফফারা হিসাবে গণ্য হবে’।[মুসলিম হা/১১৬২, মিশকাত হা/২০৪৪]

শাবান মাসের ছিয়াম

আয়িশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, "রসূল সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামকে রামাদান ব্যতীত অন্য কোন মাসে পূর্ণ মাস সওম পালন করতে দেখিনি, শাবান মাস ব্যতীত অন্য মাসে অধিক পরিমাণে নফল সওম পালন করতে দেখিনি" [বুখারীঃ ১৯৬৯]

শনি ও রবিবারের ছিয়াম

উম্মু সালামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত । রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যেসব দিনে ছিয়াম পালন করতেন তার মধ্যে শনি ও রবিবারেই বেশি ছিয়াম পালন করতেন । আর তিনি বলতেন- এ দুটি দিন মুশরিকদের 'ঈদ (খুশীর) উদযাপনের দিন, আমি তাদের বিপরীত করতে চাই । -[নাসায়ী কুবরাঃ ২/১৪৬; ইবনু খুজাইমাহঃ ২১৬৭]

সোমবারের ছিয়াম

আবু কাতাদাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিতঃ রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সোমবারের সওম পালন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হল। তিনি বললেন, "এ দিনে আমার জন্ম হয়েছে এবং এ দিনে আমাকে নবুওয়াত দেয়া হয়েছে বা আমার উপর কোরআন নাজিল শুরু হয়েছে" [মুসলিমঃ ২৮০৪]

আইয়্যামুল বিযে ছিয়াম

আবু কাতাদাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিতঃ রাসূল সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, "প্রত্যেক মাসে (১৩, ১৪, ১৫) তিনটি সওম ও এক রমজানের পর পরবর্তী রমজানে সওম পালন পূর্ণ বছর সওম পালনের সমান" (মুসলিমঃ ২৮০৪)

কুরআন তিলাওয়াত

আবু উমামাহ (রা:) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ্ (সা:) কে বলতে শুনেছি যে, তোমরা কুরআন মাজীদ পাঠ কর । কেননা, কিয়ামতের দিন কুরআন তার পাঠকের জন্য সুপারিশকারী হিসাবে আগমন করবে । - [মুসলিম ৮০৪; আহমাদ ২১৬৪২]

সূরা ইখলাছ

আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত , রাসূলুল্লাহ (সাঃ) (সূরা) ‘কূল হুওয়াল্লাহু আহাদ’ সম্পর্কে বলেছেন, "সেই মহান সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রান আছে, নিঃসন্দেহে এটি কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমতুল্য”।
অপর এক বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) সাহাবাগনকে বললেন, 'তোমরা কি এক রাতে এক তৃতীয়াংশ কুরআন পড়তে অপারগ?’ প্রস্তাবটি তাদের পক্ষে ভারী মনে হল। তাই তারা বলে উঠলেন ‘হে আল্লাহর রাসূল! এ কাজ আমাদের মধ্যে কে করতে পারবে?’ ( অর্থাৎ কেও পারবে না।) তিনি বললেন, “কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ, আল্লাহুস সামাদ” (সূরা ইখলাস) কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমতুল্য”। (অর্থাৎ, এই সূরা পড়লে এক তৃতীয়াংশের কুরআন পড়ার সমান নেকী অর্জিত হয়।) -[সহীহুল বুখারি ৫০১৫]

সূরা ফালাক্ক ও নাস

আবূ সাঈদ খুদরী ( রাঃ) হতে বর্ণিত,তিনি বলেন, 'রাসূলুল্লাহ (সূরা ফালাক্ক ও নাস অবতীর্ণ হবার পূর্ব পর্যন্ত নিজ ভাষাতে) জিন ও বদ নজর থেকে (আল্লাহর) আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। পরিশেষে যখন উক্ত সূরা দু’ টি অবতীর্ণ হল, তখন ঐ সূরা দু’টি দ্বারা আশ্রয় প্রার্থনা করতে লাগলেন এবং অন্যান্য সব পরিহার করলেন’। -[তিরমিজী ২০৫৮]

সূরা মূলক

আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, 'কুরআনের তিরিশ আয়াতবিশিষ্ট একটি সূরা এমন আছে , যা তার পাঠকারীর জন্য সুপারিশ করবে এবং শেষাবধি তাকে ক্ষমা করে দেয়া হবে,সেটা হচ্ছে ‘তাবা-রাকাল্লাযী বিয়্যাদিহিল মূলক’ (সূরা মূলক)। -[আবূ দাউদ ১৪০০]

আয়াতুল কুরসী

উবাই ইবনে কা’ব (রাঃ) হতে বর্ণিত,তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, 'হে আবূ মুনযির! তুমি কি জান,মহান আল্লাহর গ্রন্থ (আল-কুরাআন) এর ভিতর তমার যা মুখস্থ আছে, তার মধ্যে সবচেয়ে বড় (মর্যাদাপূর্ণ) আয়াত কোনটি?’ আমি বললাম, ‘সেটা হচ্ছে আয়াতুল কুরসী’। সুতরাং তিনি আমার বুকে চাপর মেরে বললেন, ‘আবুল মুনযির! তমার জ্ঞান তোমাকে ধন্য করুক’। [মুসলিম ৮১০]

সূরা কাহফ

আবূ দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, '‘যে ব্যক্তি সূরা কাহফের প্রথম দিক থেকে দশটি আয়াত মুখস্ত করবে,সে দাজ্জালের(ফিৎনা) থেকে পরিএাণ পাবে।’’ অন্য বর্ণনায় ‘কাহফ সূরার শেষ দিক থেকে’ উল্লেখ হয়েছে। [মুসলিম ৮০৯]

সূরা ফাতেহা ও সূরা বাক্বারার শেষ আয়াতসমূহ

আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বললেন, ''একদা জিবরাইল (আঃ) নবী(সাঃ)-এর নিকট বসে ছিলেন। এমন সময় উপর থেকে একটি শব্দ শুনতে পেলেন। তিনি (জিবরাইল) মাথা তুলে বললেন, ‘এটি আসমানের একটি দরজা, যা আজ খোলা হল। ইতোপূর্বে এটা কখনও খোলা হয় নাই। ওদিক দিয়ে একজন ফেরেশতা আবতির্ন হল। এই ফেরেশতা যে দুনিয়াতে অবতরণ করেছে,ইতোপূর্বে কখনও অবতরণ করেনি। সুতরাং তিনি এসে নবী (সাঃ)-কে সালাম জানিয়ে বললেন, ‘‘আপনি দুটি জ্যোতির সুসংবাদ নিন। যা আপনার আগে কোন নবীকে দেওয়া হই নাই। (সে দুটি হচ্ছে) সূরা ফাতেহা ও সূরা বাক্বারার শেষ আয়াতসমূহ । ওর মধ্যে হতে যে বর্নটিই পাঠ করবেন, তাই আপনাকে দেওয়া হবে।’’ [মুসলিম ৮০৬]

হাজ্জ্ব

আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সা) বলেছেনঃ "এক উমরাহর পর আর এক উমরাহ উভয়ের মধ্যবর্তী সময়ের (গুনাহের) জন্য কাফফারা । আর জান্নাতই হলো হাজ্জ্বে মাবরুবের (কবুল হাজ্জ্বের) প্রতিদান ।" [বুখারীঃ ১৭৭৩; মুসলিমঃ ১২৪৯]

সাদাকা/দান

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত । নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, মহান আল্লাহ বলেছেনঃ "হে আদম সন্তানেরা! তোমরা অকাতরে দান করতে থাকো, আমিও তোমাদের উপর ব্যয় করবো, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেন, আল্লাহর ডান হাত প্রাচুর্যে পরিপূর্ণ । রাত দিন অনবরত ব্যয় করলেও তা মোটেই কমছে না ।" [মুসলিমঃ ৯৯৩]


দোয়া ও যিকর


আবু হুরায়রা (রা:) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন: ''দুটি কালিমা (বাক্য) রয়েছে, যে দুটি দয়াময় আল্লাহর কাছে অতি প্রিয়, জবানে (উচ্চারণে) খুবই সহজ, আমলের পাল্লায় অত্যন্ত ভারী । তা হচ্ছে, 'সুবহানাল্লাহী অবিহামদিহী, সুবহানাল্লাহিল আযীম' । (অর্থাৎ আমরা আল্লাহ্ তা'আলার প্রশংসা সহকারে তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করছি, মহান আল্লাহ্ অতীব পবিত্র) । -[সহীহুল বুখারী: ৬৪০৬, ৬৬৮২; মুসলিম: ২৬৯৪]


উক্ত রাবী (রা:) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন, "আমার এই বাক্যমালা 'সুবানাল্লাহিল অলহামদুলিল্লাহিল অলা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার' পাঠ করা সেই সমস্ত বস্তু অপেক্ষা অধিক প্রিয়, যার উপর সূর্যোদয় হয় ।" -[বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, রিয়াযুস স্বা-লিহীনঃ ১৪১৭]


আবু আইয়ুব আনসারী (রা:) থেকে বর্ণিত, নবী (সা:) বলেছেন, "যে ব্যক্তি 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু অহদাহু লা শারীকা লাহ্, লাহুল মুলকু অলাহুল হামদু অহুয়া আলা কুল্লি শায়ইন ক্বাদীর' দিনে দশবার পাঠ করবে, সে ব্যক্তি ইসমাঈলের বংশধরের চারজন দাস মুক্ত করার সমান সাওয়াব লাভ করবে ।" -[সহীহুল বুখারী: ৬৪০৪; মুসলিম: ২৬৯৩]


আবু যার (রা:) কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আল্লাহর রসূল (সা:) আমাকে বললেন: "আল্লাহর নিকট সর্বাধিক প্রিয় কথা তোমাকে জানাব না কি? আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয় কথা হল, 'সুবহানাল্লাহি অবিহামদিহ্' । - [মুসলিম, তিরমিযী, রিয়াযুস স্বা-লিহীনঃ ১৪২০]


আবু মালিক আশআরী (রা:) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সা:) বলেন: "পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক । আর 'আলহামদু লিল্লাহ' (কিয়ামতে নেকীর) দাঁড়িপাল্লাকে ভরে দিবে এবং 'সুবহানাল্লাহ' ও 'আলহামদুলিল্লাহ্' আসমান ও যমীনের মধ্যস্থিত শূন্যতা পূর্ণ ক'রে দেয় ।" - [মুসলিম, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, রিয়াযুস স্বা-লিহীনঃ ১৪২১]


কা'ব ইবনে উজরাহ্ (রা:) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন, ''নামাযান্তে (নামাজ শেষে) কিছু বাক্য রয়েছে, সেগুলো যে পড়বে, সে আদৌ ব্যর্থ হবে ননা । তা হচ্ছে প্রত্যেক ফরয নামাজের পর ৩৩ বার 'সুবহানাল্লাহ্' ৩৩ বার 'আলহামদুলিল্লাহ্' ও ৩৪ বার 'আল্লাহু আকবার' পড়া । -[মুসলিম: ৫৯৬; তিরমিযী: ৩৪১২]

1 টি মন্তব্য: