পরকালীন প্রস্তুতি

কুর'আন-সুন্নাহর আলোকে পরকালীন মুক্তির আশায় একটি পরকালমুখী উদ্যোগ

হতাশাগ্রস্তদের জন্য কিছু পরামর্শ

যারা বিভিন্ন হতাশার ভিতর যাচ্ছেন। তারা কিছু নিয়ম মানতে পারেন চাইলে।

১। প্রথম কথা হল, নিজের অতীত জীবনের যাবতীয় পাপ কাজের কথা সবাইকে বলে বেড়ানোর অভ্যাস বাদ দিন। যত কাল আর অন্ধকার অতীত থাকুক – তা গর্ব করে সবার সামনে বলে নিজের পাপ সবার সামনে আর প্রকাশ করবেন না। আল্লাহ তার বান্দার পাপ গোপন রাখেন। এটা বান্দার উপর আল্লাহর স্পেশাল রহমত। আর বান্দা যদি নিজেই তার গুনাহের কথা সকলকে বলে বেড়ায় তাহলে নিশ্চয়ই তা ভালো কিছু না।

২। নিজের সকল সমস্যাগুলো একমাত্র আল্লাহর কাছেই বলুন। কেবল নামাজেই বলতে হবে এমন কথা নেই। নামজের ভিতরে বাহিরে ২৪ ঘন্টার যেকোন সময় আল্লাহর সাথে কথা বলুন। আরবী, বাংলা যেই ভাষাতেই হোক।

৩। আল্লাহ নিজে আপনার সাথে কথা বলছেন কুর’আনের মাধ্যমে। সেই কুর’আনকে আবার পানি হিসেবে ব্যবহার করুন। মৃত অন্তরে পানি ঢেলে দিন। অর্থ খেয়াল করে পড়ুন। মন থেকেই কুর’আনকে ভালোবাসলে একটা অদ্ভুত ব্যাপার লক্ষ করবেন- কয়েকদিন পরে। যখন অর্থ পড়বেন, Randomly এমন অনেক আয়াত আপনার সামনে পড়বে যেন মনে হবে আল্লাহ এক্সেক্টলি আপনার জন্যেই এই কথাগুলো বলছেন। আপনি যেই সমস্যার ভিতর যাচ্ছেন তা দূর করার জন্যই আল্লাহ আপনাকে এই কথাগুলো শুনাচ্ছেন।

৪। বেশি করে দুয়া করুন। দুয়া করার কিছু ভালো সময় আছে। এই সময়গুলোতে দুয়া করুন। দুয়া কবুল হয় না বলে অনেকে অভিযোগ করেন। আপনার দুয়া যদি আসলেই হালাল কোন কিছুর জন্যে হয়, আপনার ভবিষ্যতের জন্য ভালো হয় (আল্লাহর দৃষ্টিতে, আপনার দৃষ্টিতে নয়) তবে তা কবুল হবেই। আর তাড়াতাড়ি দুয়া কবুল করতে মেহনত বেশি করা লাগবে। গুনাহের কাজ বাদ দিতে হবে। তাহাজ্জুদ নিয়মিত করে ফেলতে হবে।

৫। দান সদকা করুন। এগুলো বিপদ আপদ কমায়। সত্যিকারের অসহায় ভাই বোনদের সাহায্য করুন।

৬। সবচেয়ে বড় কথা ধৈর্য্য ধারণের অভ্যাস বাড়াতে হবে, আল্লাহর কাছে আজ চাইলাম, আজই পেয়ে যাব এমন সবসময় হবে না। আপনি আপনার চাওয়াতে আসলেই অনেস্ট কিনা – এটা আল্লাহ পরখ করবেন। সেই নিয়ামত আপনাকে দেওয়া হলেও তা আপনার কাঁধে বহনের মত শক্তি আপনার আছে কিনা তাও আল্লাহ দেখবেন। তাই সময় হলেই গিফট আপনার দরজার আসবেই। এর আগ পর্যন্ত ধৈর্য্য ধরতে হবে একটু কষ্ট করে।


Writer: Misbah Mahin

কোন মন্তব্য নেই