পরকালীন প্রস্তুতি

কুর'আন-সুন্নাহর আলোকে পরকালীন মুক্তির আশায় একটি পরকালমুখী উদ্যোগ

ফিতরার দাম নির্ধারণ ও ফিতরা গ্রহণের প্রবণতা (একটি সচেতনতা মূলক পোস্ট)


আলহামদুলিল্লাহ, আজ ঈদুল ফিতরের ফিতরাহ নিয়ে ছোট একটি আলোচনা করতে যাচ্ছি, যা একটি সচেতনতা মূলক পোস্ট হিসেবে ধরে নিতে পারেন। কোন ভূমিকা, রঙ-রস ছাড়া অনেকটা সারসংক্ষেপ এর মতো কিছু বিষয় তুলে ধরা হবে এখানে। আর হয়তো এতেই সাড়া দিবে কোন সচেতন বিবেক, ইন শা আল্লাহ্...

অন্যান্য সকল বছরের ন্যায় এবারও চলতি বছরে ফিতরার দাম নির্ধারীত হয়েছে। দাম যাই হউক সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ – তা নির্ধারীত হয়ে থাকে মূল কিছু ইসলামিক নির্দেশনার উপর ভিত্তি করে। তাই এ বিষয়ে কিছু জানা প্রয়োজন।

ফিতরা বা সদাকাতুল ফিতর এর বিষয়বস্তুকে ৩ ভাগে ভাগ করা যায়।
ক) কি দিয়ে আদায় করতে হবে?
খ) কাদের হাতে তা দিতে হবে বা কাদের প্রাপ্য?
গ) ফিতরা কে দিবে?

ক) সদাকাতুল ফিতর ৪ টি জিনিস দিয়ে আদায় করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।। তা হলো –
১। পনির
২। কিশমিশ
৩। খেজুর
৪। জব বা আটা
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রত্যেক স্বাধীন-ক্রীতদাস, নারী-পুরুষ, ছোট-বড় মুসলমানের উপর যাকাতুল ফিতর বা ফিতরা ফরজ করেছেন: এক সা’ পরিমাণ খেজুর কিংবা যব। মানুষ ঈদের নামাযে বের হওয়ার পূর্বেই তিনি তা আদায় করার আদেশ দিয়েছেন।[সহিহ বুখারী ও সহিহ মুসলিম, ভাষ্যটি সহিহ বুখারীর]
তাহলে খাদ্যদ্রব্যের পরিবর্তে এই মূল্য নির্ধারণের প্রবণতাটি কি সুন্নাহ্ পরিপন্থি নয়? আর যদিও তা শর্ত সাপেক্ষে বৈধ করি তবুও কেন আমরা উত্তম আমলের পিছু নিবো না?

খ) কাদের দিতে হবে বা কাদের প্রাপ্য?
দেখুন পবিত্র কুরআন, ১০ নং পারা, সুরা আত তাওবাহ, ৬০ নং আয়াত। ৮ টি খাত বর্ণিত আছে। এই ৮ যায়গাতে আপনি দিতে পারবেন। যথা-
১.ফক্বীরঃ নিঃসম্বল ভিক্ষাপ্রার্থী,
২.মিসকীনঃ যে ব্যক্তি নিজের প্রয়োজন মিটাতেও পারে না, মুখ ফুটে চাইতেও পারে না। বাহ্যিকভাবে তাকে সচ্ছল বলেই মনে হয়,
৩. ‘আমেলীনঃ যাকাত আদায়ের জন্য নিয়োজিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ,
৪.ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট ব্যক্তিগণ, অমুসলিমদেরকে ইসলামে দাখিল করাবার জন্য এই খাতটি নির্দিষ্ট,
৫. দাসমুক্তির জন্য; এই খাত বর্তমানে শূন্য। তবে অনেকে অসহায় কয়েদী মুক্তিকে এই খাতের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করেছেন (কুরতুবী),
৬.ঋণগ্রস্ত ব্যক্তিঃ যার সম্পদের তুলনায় ঋণের অংক বেশী। কিন্তু যদি তার ঋণ থাকে ও সম্পদ না থাকে, এমতাবস্থায় সে ফক্বীর ও ঋণগ্রস্ত দু’টি খাতের হকদার হবে,
৭. ফী-সাবীলিল্লাহ বা আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করা,
৮. দুস্থ মুসাফির বা পথিমধ্যে কোন কারণবশতঃ পাথেয় শূন্য হয়ে পড়লে পথিকগণ এই খাত হ’তে সাহায্য পাবেন। যদিও তিনি নিজ দেশে বা বাড়ীতে সম্পদশালী হন।

গ) ফিতরা কে দিবে?
ঈদের রাত ও ঈদের দিনে যার কাছে তার নিজের ও তার দায়িত্বে যাদের পোষণ অর্পিত তাদের খাদ্যের অতিরিক্ত এক সা’ বা তদুর্ধ পরিমাণ খাবার থাকে তার উপর সদাকাতুল ফিতর ফরয।

এই হিসেব মতে খুব অল্প সংখ্যক লোকই সাদকাতুল ফিতরার যোগ্য হবে। এখন কেউ এই হুকুমের বাহিরে এসে কেউ তা গ্রহণের প্রবণতা দেখায় তা কখনোই শরীয়াসম্মত হবে না। তাই এই বিষয়ে গ্রহীতা ও দাতা উভয়কে আরো সচেতন হতে হবে। নচেৎ পুরো বিষয়টাই গোলাটে হয়ে যাবে।


প্রাসঙ্গিক বিষয়

কোন মন্তব্য নেই