পরকালীন প্রস্তুতি

কুর'আন-সুন্নাহর আলোকে পরকালীন মুক্তির আশায় একটি পরকালমুখী উদ্যোগ

রিচার্ড ডকিন্সের "দা গড ডিল্যুশান"- এর জবাব


রিচার্ড ড্যকিন্সের "দা গড ডিল্যুশান" বইটি হাতে তুলে নেয়ার সময় আমি ভেবেছিলাম হয়তো নতুন এমন কিছু যুক্তির সম্মুখীন হব যা দিয়ে নাস্তিকতার দর্শনের পক্ষে ইতিবাচক [১]যৌক্তিক আলোচনা তুলে ধরা হবে।
.
কিন্তু বলতে বাধ্য হচ্ছি, বইটা পড়ার পর আমি হতাশ হয়েছি। যা পড়লাম তা ঘষামাজা করে মান্ধাতার আমলের, অসংলগ্ন পুরনো যুক্তিগুলোর পুনরাবৃত্তি ছাড়া আর কিছুই না। বুঝলাম, রিচার্ড ডকিন্স দর্শন-তত্ত্বে অতোটা পারদর্শী নন। এ বিষয়ে পরিচিতও নন।
.
এ জন্য আমার মনে হল ইতিমধ্যে যেসব আলোচনা এ বিষয়ে হয়েছে সেগুলোর সংকলন করে নিম্নোক্ত উপায়ে তার প্রধান যুক্তিগুলোর জবাব দেওয়া যেতে পারে :
.
১/ যে যুক্তিকে ডকিন্স তার প্রধান যুক্তি হিসেবে গণ্য করে সেটার জবাব
২/ দার্শনিকদের মতে যেটি ডকিন্সের সবচেয়ে ভালো যুক্তি, সেটার জবাব

.
ডকিন্সের প্রধান যুক্তির জবাবঃ
.
ডকিন্স যেটাকে তার বইয়ের “প্রধান যুক্তি” হিসেবে অভিহিত করেছে, তার একটি সারাংশ দেওয়া হয়েছে “দা গড ডিল্যুশান” বইয়ের ১৫৭-১৫৮ পৃষ্ঠাতে -
.
“১/ মানুষের বুদ্ধিমত্তার জন্য এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের একটি হলো মহাবিশ্বের জটিল এবং অসম্ভাব্য ডিজাইন বা নকশাকে ব্যাখ্যা করা।
.
২/ সাধারণ প্রবনতা হলো আপাতভাবে যাকে (ইচ্ছাকৃত) ডিজাইন বলে মনে হয়, সেটাকে প্রকৃতপক্ষেই কোন নকশাকারের ইচ্ছাকৃতভাবে তৈরি করা নকশা বা ডিজাইন হিসেবে ধরে নেওয়া।
.
৩/ এই প্রবণতাটি ভুল কারণ “ডিজাইনার হাইপোথিসিস” [অর্থাৎ একজন বুদ্ধিমান ডিজাইনার বা নকশাকার (স্রষ্টা) ইচ্ছাকৃতভাবে মহাবিশ্বকে এভাবে সৃষ্টি করেছেন] আমাদের সামনে সাথে সাথে আরো একটি বড় সমস্যা দাড় করিয়ে দেয়। সেটা হলো নকশাকারের নকশা কে করেছে ?
.
৪/ বর্তমানের আমাদের কাছে থাকা সবচেয়ে সৃজনশীল এবং শক্ত ব্যাখ্যা হল ডারউইনের “প্রাকৃতিক নির্বাচন দ্বারা বিবর্তনের মতবাদ” [evolution by natural selection]। আর পদার্থবিদ্যার ক্ষেত্রে আমাদের কাছে এর সমতুল্য কোন ব্যাখ্যা নেই।
.
৫/ জীববিজ্ঞানের ক্ষেতরে ডারউইনের বিবর্তনবাদ যেমন তেমনি পদার্থবিদ্যার ক্ষেত্রেও এমন শক্তিশালী এবং ভালো ব্যাখ্যা একসময় পাওয়া যাবে এমন আশা আমাদের ছেড়ে দেয়া উচিত না।
.
(অতএব) প্রায় নিশ্চিতভাবেই বলা যায় ঈশ্বরের অস্তিত্ব নেই।”
.
.
প্রারম্ভিক আলোচনাঃ
.
ডকিন্সের মূল পয়েন্টগুলো নিয়ে আলোচনায় যাবার আগে যাওয়ার আগে - “প্রায় নিশ্চিতভাবেই বলা যায় ঈশ্বরের অস্তিত্ব নেই।” – ডকিন্সের এই উপসংহার বা সিদ্ধান্তের ব্যাপারে কিছু কথা বলতে চাই।
.
আমার মূল প্রশ্ন হলো - কিভাবে উপরের ৫টি বিবৃতি থেকে ডকিন্স এই উপসংহারে পৌছায় যে ঈশ্বরের অস্তিত্ব নেই? কোন যৌক্তিক ক্রমধারার মাধ্যমে প্রথম পাঁচটি বিবৃতি থেকে শেষের উপসংহারটি পাওয়া যায়? যেন সে স্রেফ হাওয়া থেকে তার উপসংহার নিয়ে আসল।
.
প্রথম পাঁচটি বিবৃতি থেকে এই উপসংহারে উপনীত হওয়াটা কেবল ডকিন্সের যুক্তির ভিত কতোটা দুর্বল সেটাই প্রমান করে। আমার কাছে মনে হয়, এখানে একমাত্র ডিল্যুশান হল ডকিন্সের এ দৃঢ় বিশ্বাস যে তার যুক্তি ঈশ্বরের অস্তিত্বকে নাকচ করে দায়।
.
ডকিন্সের পাঁচটি বিবৃতি থেকে যদি কোন উপসংহারের আসতেই হয়, তবে যৌক্তিকভাবে আমরা বড়জোর এটুকু বলতে পারি যে – মহাবিশ্বের ডিজাইন থাকার উপর ভিত্তি করেই আমাদের এই উপসংহারে আসা উচিত না যে স্রষ্টা আছেন। তবুও, যদি আমরা এটাকে সত্যি বলে ধরেও নেই, তাও কিন্তু এ থেকে “স্রষ্টার অস্তিত্ব নেই” - এটা প্রমান হয় না [২]। অন্য অনেক যুক্তি দিয়ে স্রষ্টার অস্তিত্বের ব্যাপারে আমরা উপসংহার টানতে পারি। যার মধ্যে আছে :
.
• নৈতিকতা থেকে যুক্তি [Argument from morality]
• কুরআনের মু'জিযা
• মহাজাগতিক ঘটনাবলী থেকে যুক্তি [The Cosmological Argument]
• প্রত্যেকের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে যুক্তি [Argument from Personal Experience]
• প্রত্যেক মানুষের আত্মবোধ থেকে যুক্তি [Argument from consciousness] [৩]
.
যদি আমরা ডকিন্সের পাঁচটি বিবৃতির প্রতিটিকে সঠিক হিসাবে গ্রহণ করেও নেই, তবুও স্রষ্টার অস্তিত্ব আছে এমন ধারণাকে নাকচ করে দেয়ার জন্য তা যথেষ্ট হবে না । আর অবশ্যই এ থেকে নাস্তিকতার দর্শনের পক্ষে কোন ইতিবাচক যৌক্তিক অবস্থান তৈরি করা সম্ভব না।
.
তবে ডকিন্সের বিবৃতিগুলোর মধ্যে অনেকগুলোই ভুল। আসুন ধারাবাহিকভাবে সেগুলোর বিশ্লেষণ এবং উত্তর দেয়া যাক।
.
[ইন শা আল্লাহ চলবে]
=========================
১। a positive case for the Atheist worldview – সাধারন নাস্তিকরা বিভিন্ন ধর্মকে ভুল প্রমান করার মাধ্যমে নিজেদের অবস্থানকে সঠিক প্রমান করতে চায়। অর্থাৎ বাকিদের ভুল প্রমান করার মাধ্যে তারা নিজেদের সঠিক প্রমান করতে চায় (i.e Negative case)। কিন্তু তাদের দাবির (স্রষ্টা নেই) পক্ষে যুক্তি তর্ক পেশ করে না, কিংবা তাদের দার্শনিক অবস্থানের পক্ষে ইতিবাচক প্রমান (Positive Case) আনে না।
.
২। যদি “ক” থেকে “খ” এর অস্তিত্ব প্রমান না করা যায়, তার মানে এই না যে “খ” এর অস্তিত্ব নেই এটা প্রমাণিত।
.
৩। ই প্রতিটি যুক্তি নিয়ে দীর্ঘ ও বিস্তারিত আলোচনা আছে। তবে সেগুলো তুলে ধরা এই প্রবন্ধের উদ্দেশ্য না হওয়াতে এখানে কেবল নাম উল্লেখ করা হয়েছে। আগ্রহী পাঠক এ ব্যাপারে পড়ে নিতে পারেন।

 রিচার্ড ডকিন্সের "দা গড ডিল্যুশান"- এর জবাব [২য় কিস্তি]

.
এর আগে আমরা আলচনা করেছি কেন "দা গড ডিল্যুশান বই"-এর 'প্রধান যুক্তিকে' সঠিক প্রমান করার জন্য রিচার্ড ডকিন্স যে পাঁচটি বিবৃতি উপস্থাপন করেছে তার প্রতিটিকে যদি আমরা সঠিক হিসাবে গ্রহণ করেও নেই, তবুও স্রষ্টার অস্তিত্ব আছে এমন ধারণাকে নাকচ করে দেয়ার জন্য তা যথেষ্ট হবে না ।
.
তবে ডকিন্সের বিবৃতিগুলোর মধ্যে অনেকগুলোই ভুল। আসুন ধারাবাহিকভাবে সেগুলোর বিশ্লেষণ এবং উত্তর দেয়া যাক ।
.
বিবৃতি ১ : "মানুষের বুদ্ধিমত্তার জন্য এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের একটি হলো মহাবিশ্বের জটিল এবং অসম্ভাব্য ডিজাইন বা নকশাকে ব্যাখ্যা করা।"
.
-আমি মনে করি যখন আমরা স্রষ্টাকে বাদ দিয়ে একে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করি কে কেবলমাত্র তখনই এটা চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়। যদি আপনি নাস্তিকতার অবস্থানকে সঠিক ধরে নিয়ে শুরু করেন তাহলে আসলেই এই জটিল এবং অসম্ভাব্য ডিজাইনকে ব্যাখ্যা করা অত্যন্ত কঠিন। তবে যারা চিন্তাশীল এবং এ ব্যাপারে গভীরভাবে চিন্তা করে তাদের জন্য আমার মতে সবচেয়ে সরল এবং শ্রেষ্ঠ ব্যাখ্যা হল "এই ডিজাইনের পেছনে একজন অপার্থিব ডিজাইনার আছেন" ।
.
আমার পরবর্তী পয়েন্টে কেন একজন স্রষ্টার অস্তিত্ব বিশ্বজগতের নকশার ব্যখ্যা দিতে পারে তা নিয়ে আলোচনা করা হবে।
.
বিবৃতি ২ঃ “সাধারণ প্রবনতা হলো আপাতভাবে যাকে (ইচ্ছাকৃত) ডিজাইন বলে মনে হয়, সেটাকে প্রকৃতপক্ষেই কোন নকশাকারের ইচ্ছাকৃতভাবে তৈরি করা নকশা বা ডিজাইন হিসেবে ধরে নেওয়া।”
.
-এটা শুধুমাত্র একটা সাধারন প্রবণতা না। বরং মহাবিশ্বের সূচনার সময়কার ফাইন-টিউনিং [১] এর আলোকে বিচারবুদ্ধি ও বিবেচনাবোধের আলোকে পাওয়া যৌক্তিক উপসংহার । এই যুক্তিটির পেছনের ভিত্তিগুলো উপস্থাপন করে এ নিয়ে আরেকটু আলোচনা করা যাক। আমার এই কথার পেছনের পূর্বানুমান বা ভিত্তি [premise] হলোঃ
.
ক) প্রানের অস্তিত্বের জন্য অপরিহার্য মহাবিশ্বের ফাইন টিউনিং এর উদ্ভব তিন ভাবে হতে পারেঃ অপরিহার্যতার [physical necessity] কারনে, দৈবভাবে অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে করা ডিজাইনের কারনে।
.
খ) মহাবিশ্বের ফাইন টিউনিং প্রাকৃতিক অপরিহার্যতার কারনে বা দৈবভাবে আসেনি।
.
গ) অতএব, এই ফাইন টিউনিং ইচ্ছাকৃতভাবে করা ডিজাইনের ফসল।
.
প্রস্তাবনা ক-এর ব্যাখ্যাঃ
.
মানব অস্তিত্বের অনুকূল একটি মহাবিশ্বের অস্তিত্ব থাকার কারন হল প্রাণের উপযোগী করার জন্য এই মহাবিশ্বের কাঠামোকে সুক্ষাতিসুক্ষভাবে নির্দিষ্ট করা হয়েছে [tune করা হয়েছে]। আর এই টিউনিং এতোই সুক্ষ ও সুনির্দিষ্ট যে তা আমাদের বোধশক্তির বাইরে । নিচের উদাহরণগুলোকে বিবেচনা করা যাক :
.
• মাধ্যাকর্ষণ শক্তি এবং দুর্বল পারমাণবিক বল : ফিজিসিস্ট পি.সি.ডব্লিউ ডেইভিস বলেন যে মাধ্যাকর্ষণ শক্তি অথবা দুর্বল পারমাণবিক শক্তিতে অতি ক্ষুদ্র পরিবর্তনও মানব অস্তিত্বের জন্য সহায়ক একটি মহাবিশ্বের অস্তিত্বের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়াত। পি.সি.ডব্লিউ ডেইভিসের মতে এই শক্তিগুলোতে ১০^১০০ ভাগের এর একভাগ পরিমাণ এদিকওদিক হলে মহাবিশ্ব মানুষের অস্তিত্বের জন্য সহায়ক হতো না।
.
• সম্ভাব্য বিশ্বজগতগুলোর phase-space [২] এর আয়তন : অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির রজার পেনরোয এর ব্যাখ্যায় বলেন, কেউ যদি আমাদের আমাদের বিশ্বজগতের অনুরূপ একটি বিশ্বজগত তৈরি করতে চায় তবে তাকে নিশানা করতে হবে সম্ভাব্য বিশ্বজগতগুলোর ফেইজ স্পেসের খুব ক্ষুদ্র একটি আয়তনের দিকে । এটা টেকনিক্যাল সাইন্স যা অনেকের কাছে বোধগম্য নাও হতে পারে। তবে এটা নিয়ে আমাদের অতোটা চিন্তা না করলেও হবে। কিন্তু যা আমাদের বোধগম্য এবং যে প্রশ্নটা আমাদের করা উচিত তা হল -
.
"আমাদের মহাবিশ্বের অনুরূপ মহাবিশ্ব সৃষ্টির জন্য কত ছোট আয়তনের দিকে নিশানা করতে হবে?”
পেনরোযের মতে এই আয়তন হবে ১/১০^x, যেখানে x= ১০^(১২৩)।
.
ব্যাপারটা এভাবে চিন্তা করুন। সমগ্র মহাবিশ্ব যদি একটা ডার্টবোর্ডের আকৃতির হয়, তাহলে একটা প্রোটনের আকার কতোটুকু হবে? আমাদের বিশ্বজগতের মত আরেকটি বিশ্বজগত তৈরি করতে যে পরিমান সুক্ষাতিসুক্ষ হিসেব এবং নির্ভুলতা প্রয়োজন তা ডার্টবোর্ড আকৃতির মহাবিশ্বে একটি প্রোটনের যে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র আকার হবে তাতে আঘাত করার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতার চেয়েও অনেক, অনেক বেশি ।
.
উপরের বক্তব্য গুলোর আলোকে বলা যায় যে , উপরে উল্লিখিত বিশ্বজগতের ফাইন-টিউনিং এর ব্যাপারে এখানে শুধু ৩টি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা পাওয়া যায় -
.
১/ অপরিহার্যতা [physical necessity]
২/ দৈবক্রমে
৩/ ইচ্ছাকৃতভাবে করা ডিজাইন
.
প্রাকৃতিক অপরিহার্যতা কেন সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হতে পারে নাঃ
.
এই ব্যাখ্যাটি অযৌক্তিক । ধ্রুবক এবং রাশি গুলোর যেই সুনির্দিষ্ট মান আছে , এখানে এগুলোর ঠিক এরকম মান হবার কোন বাস্তবিক বাধ্যবাধকতা বা অপরিহার্যতা নেই । পি.সি.ডব্লিউ ডেইভিস একে ব্যাখ্যা করেন এভাবেঃ
.
"পদার্থবিদ্যার সুত্রগুলো যদি ইউনিকও হত , তার মানে এই না যে প্রাকৃতিক মহাবিশ্বও ইউনিক… মহাবিশ্বের প্রারম্ভিক অবস্থার [initial condition] মাধ্যমেই পদার্থ বিদ্যার সুত্রগুলোর উদ্ভব হতে হবে... বরং মহাবিশ্বের প্রারম্ভিক অবস্থার সূত্র [laws of initial conditions] সম্পর্কে এখনো পর্যন্ত আমরা যা জানি তাতে এমন কোন কিছুই নেই যা থেকে আমরা ধরে নিতে পারি যে পদার্থবিজ্ঞানের সূত্রগুলোর প্রারম্ভিক অবস্থার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবার অর্থ মহাবিশ্বের অনন্য হওয়া। বরং আপাতভাবে এটাই প্রতীয়মান যে মহাবিশ্ব অন্য রকমও হতে পারতো। ঠিক এরকমই হবার কোন আবশ্যকতা ছিল না।” [৩]
.
তাছাড়া যদি কেউ এমন ভাবে যে প্রাণের উপযোগী আমাদের এ মহাবিশ্বে যে ফাইন টিউনিং আছে, এটার উদ্ভব হয়েছে মহাবিশ্বের সূচনার সময় কোন আবশ্যকতার [physical necessity] কারনে, তাহলে এটার অর্থ হবে যে প্রাণীর বেঁচে থাকার অনুপযোগী কোন মহাবিশ্ব পাওয়া অসম্ভব ! [৪]
.
তবে পদার্থবিজ্ঞানীদের মতে আমরা যে বিশ্বজগতে বাস করি তা এখন যেমন আছে এমন নাও হতে পারত এবং আরো অনেক বিশ্বজগত থাকতে পারত যা মানুষের জীবনধারণের জন্য উপযোগী হতো না ।
.
কেন ফাইন টিউনিং দৈব ভাবে হতে পারে নাঃ
.
কিছু লোক আছে যারা র‍্যান্ডলি, বাই চান্স বিশ্বজগতের আবির্ভাবের অসম্ভব হবার বিষয়টা বোঝার কারনে বলে "এমনি-এমনিই এটা হওয়া সম্ভব !"
.
কিন্তু যদি সকালে উঠে দেখলে কেউ দেখে তার গ্যারেজে একটি হাতি ঘুমিয়ে আছে, অথবা তার বাগানে একটি বোয়িং ৭৪৭ বিমান নেমে এসেছে, তবে কি সে সে বলবে এমনি-এমনি, বাই চান্স, র‍্যান্ডমলি এমনটা হয়েছে?
.
এমনকি তাদের অযৌক্তিক দৃষ্টিভঙ্গি ধরিয়ে দেভার পরেও তারা এমনি-এমনিতেই, বাই চান্স, র‍্যান্ডমলি এই বিশ্বজগতের আবির্ভাব হওয়ার থিওরির উপর বিশ্বাস করে বসে থাকে এর জবাবে আমি এটা বলব যে এটা শুধুমাত্র র‍্যান্ডম চান্স না বরং এটা একটি ব্যাপার যাকে অনেকে "সুনির্দিষ্ট সম্ভাব্যতা" [specified probability] বলেছেন ।
.
"সুনির্দিষ্ট সম্ভাব্যতা" হল এমন একটি সম্ভাব্যতা যা একটি স্বতন্ত্র ও স্বাধীন প্যাটার্ন মেনে চলে। ধরুন একটি বানরকে আপনার ল্যাপটপটা দিয়ে একটা রুমে বসিয়ে দিলেন। বানরটা এই রুমে ২৪ ঘন্টা থাকবে, আর এই পুরোটা সময়ে সে টাইপ করে যাবে। পরদিন সকালে রুমে ঢুকে আপনি দেখলেন সে টাইপ করেছে , "টু বি অর নট টু বি!"। [৫]
.
বিস্ময়করভাবে বানরটি শেক্সপিয়ারের বিশ্ববিখ্যাত নাটকের একটি লাইন লিখে ফেলেছে ! আপনি হয়ত আশা করেছিলেন সে "ঘর",”গাড়ি" , “আপেল" এর মত কোন শব্দ টাইপ করবে । তবে এক্ষেত্রে সে শুধু অসম্ভাব্য ভাবে একাধিক ইংরেজি শব্দই টাইপ করে ক্ষান্ত হয়নি বরং সঠিকভাবে ইংরেজী ব্যাকরনের স্বতন্ত্র ও স্বাধীন নিয়মেরও অনুসরণ করেছে।
.
এই ঘটনা এমনি-এমনিই, বাই চান্স হয়ে গেছে এমন ভাবাটা শুধু অযৌক্তিক না বরং পুরোই বিচার-বিবেচনার বিপরীত কথা। কারণ এই দৃষ্টিকোণ থেকে যে কেউ যেকোনো কিছু দাবি করতে পারে । এটা আসলে কতোটা অসম্ভাব্য তা একটু পরিস্কার করা যাক। ব্রিটিশ গণিতবিদরা হিসাব করে দেখেছেন যে, যদি একটি বানর সম্ভাব্য সকল মুহূর্তে টাইপ করে , তাহলে "টু বি অর নট টু বি! " শব্দ গুলো টাইপ করতে বানরটির ২৮ বিলিয়ন বছর লাগবে !
.
শেষ কথা , এমনি-এমনিতেই ঘটনা ঘটার হাইপোথিসিস [chance hyposthesis]] গ্রহণ করা আমাদের নিজ বিশ্বজগতের অস্তিত্ব অস্বীকার করার সমান ।
.
সুতরাং যেহেতু আমরা দেখলাম ১ এবং ২ নং বিবৃতি সত্যি , তাহলে এটা বলা যায় যে অতিপার্থিব পরিকল্পনাই [supernatural design] হল বিশ্বজগতের ফাইন-টিউনিং এর সবচেয়ে যৌক্তিক ব্যাখ্যা ।
[ইন শা আল্লাহ চলবে]
========================
১। ফাইন টিউনিংঃ ফাইন টিউনিংকে অনেকসময় সৃষ্টির বুদ্ধিদীপ্ত নকশা বা Inetelligent Design ও বলা হয়। একবিংশ শতাব্দীতে বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করলেন মহাবিশ্বের মৌলিক শক্তি এবং ধ্রুবকগুলোর মান যদি এখন যে মান আমরা দেখি তার চেয়ে বিন্দুমাত্র কম বেশি হতো তাহলে আমাদের চেনা মহাবিশ্বের অস্তিত্ব থাকতো না। এই মানগুলো অত্যন্ত সুক্ষ এবং সুনির্দিষ্ট। আর এর যে কোন একটিতে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র পরিবর্তন হলে মহাবিশ্বের প্রাণের অস্তিত্ব থাকা সম্ভব হতো না।
পদার্থবিজ্ঞানীরা এতোগুলো রাশির একইসাথে সুক্ষাতিসুক্ষভাবে সুনির্দিষ্ট মান হওয়াকে ফাইন টিউনিং বলেন।
এই রাশিগুলোর মান এতো সুনির্দিষ্ট কিভাবে হল? নিছক দুর্ঘটনাবশত?নাকি কেউ একজন খুব সুস্পষ্টভাবে এই সকল রাশির মান নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন??
প্রকৃতির দোহাই দিয়ে এই পর্যায়ের সুক্ষতা ও সুনির্দিষ্টতাকে ব্যাখ্যা করা যায় না। এমনকি ডকিন্স স্বীকার করে যে মহাবিশ্বের ফাইন টিউনিংকে বর্তমান বিজ্ঞান ব্যাখ্যা করতে পারে না। [ ডকিন্সের বিবৃতি ১ দ্রষ্টব্য]
৩।“Even if the laws of physics were unique, it doesn’t follow that the physical universe itself is unique…the laws of physics must be augmented by cosmic initial conditions…there is nothing in present ideas about ‘laws of initial conditions’ remotely to suggest that their consistency with the laws of physics would imply uniqueness. Far from it…it seems, then, that the physical universe does not have to be the way it is: it could have been otherwise.”
৪। যদি মহাবিশ্ব সূচনার সময়কালে সংঘটিত মহাবিশ্বের অস্তিত্বের জন্য আবশ্যক ঘটনার ফসল হিসেবে ফাইন টিউনিং এসে থাকে তাহলে যেকোন মহাবিশ্বের ক্ষেত্রে এই একই ফসল অর্থাৎ ফাইন টিউনিং পাওয়া যাবে।
৫। উইলিয়াম শেইক্সপিয়ারের বিখ্যাত ট্র্যাজিডি হ্যামলেটের একটি প্রসিদ্ধ লাইন 
=========================
লেখক: হামযা যর্তযিস
অনুবাদেঃ সত্যকথন ডেস্ক
অফিসিয়াল ওয়েব সাইট ঃ shottokothon.com  এবং response-to-anti-islam.com

ফেসবুক পেজঃ fb.com/shottokothon1





কোন মন্তব্য নেই