পরকালীন প্রস্তুতি

কুর'আন-সুন্নাহর আলোকে পরকালীন মুক্তির আশায় একটি পরকালমুখী উদ্যোগ

রাজা-বাদশাহদের অহঙ্কার এবং বিজ্ঞানের অক্ষমতা


আমেরিকার মানুষদের স্বাভাবিক বুদ্ধিমত্তা নিয়ে অনেক হাসি তামাশাপূর্ণ কথা প্রচলিত আছে। এবারের কর্মকান্ড মনে হয় তাদের পূর্বের সব নির্বুদ্ধিতাকে ছাড়িয়ে গেছে। রোহিঙ্গা মুসলিমদের সাম্প্রতিক দূর্দশার ছবি মনটাকে সর্বদা নিস্তেজ করে রাখে, এরই মাঝে মার্কিন ভাঁড়দের সর্বশেষ ভাঁড়ামো দেখে প্রচন্ড হাসি পেলো।হারিকেন ইরমা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ফেসবুকে দুটি ইভেন্ট খোলা হয়েছে, একটি হলো, বাসার সবার ফ্যান ইরমার দিকে তাক করে রাখা আরেকটি হলো, হারিকেন ইরমাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়া। ইভেন্ট দুটিতে কনফার্মড পার্টিসিপেন্টের সংখ্যা যথাক্রমে প্রায় ৬০০০০ ও ১০০০০ এরও বেশি!!!
.
আপাত দৃষ্টিতে আমাদের কাছে হাস্যকর মনে হলেও এই ঘটনা দুটির তাৎপর্য অনেক। প্রচন্ড বিপদে মানুষ কতটা অসহায় আর হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়ে এটা তার একটি নমুনা মাত্র। তারা নিজেরাও জানে এসব দিয়ে এই ভয়াবহ দুর্যোগ মোকাবেলা একটা হাস্যকর চিন্তা ভাবনা ছাড়া আর কিছুই না তারপরেও মনকে স্বান্তনা দেয়ার শেষ চেষ্টা।
বিজ্ঞানের ক্ষমতা নিয়ে আমরা অনেক কথা বলি, বিশেষ করে কলাবিজ্ঞানীরা। 
.
কলাবিজ্ঞানীদের ধারণা মানুষ একসময় ঝড়, বৃষ্টি, চন্দ্র, সূর্য সব কন্ট্রোল করবে। তাদের এসব প্রোপাগান্ডা যে মিথ্যাচার ও বাস্তবতা বিবর্জিত, ঘূর্ণিঝড় ইরমা তার প্রমান। সারা পৃথিবীর সবাই চেষ্টা করেও একটা সাগর সেঁচে ফেলতে পারবে না, অথচ সামান্য একটা ঘূর্ণিঝড় মাত্র ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে দুটি বিশাল সমুদ্র সৈকত এমনভাবে সেঁচে ফেলেছে দেখে মনেই হয়না ওখানে কখনো সমুদ্র বলে কিছু ছিলো। কিছুদিন আগেও যদি বলা হতো বা কোরানে যদি বলা হতো সমুদ্রের পানি সেচে ফেলে সম্ভব, কলাবিজ্ঞানীরা একে অবৈজ্ঞানিক আর হাস্যকর কথা বলে উড়িয়ে দিতো। যারা এখনো কিয়ামতের ঘন্টা বাজার সাথে সাথে পাহাড় পর্বত তুলার মতো উড়তে থাকবে কথাটা মন থেকে মেনে নিতে চান না বা সংশয়ে আছেন বা বৈজ্ঞানিকভাবে কিভাবে সম্ভব বলে চিন্তা ভাবনা করছেন তাদের জন্য ইরমা একটা সতর্কবার্তা।
.
কল্পনা করে দেখুন, যেদিন মহাপ্রলয়ের সুর বেজে উঠবে, কি ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। মানুষ কেমন অসহায় হয়ে দিকবিদিক ছুটাছুটি করবে। ঘূর্ণিঝড় থেকে অন্য রাজ্যে বা দেশে চলে গেলে বাঁচা যায়, সেদিন পৃথিবীর কোনো জায়গা থাকবেনা যেখানে আশ্রয় নেয়া যাবে।
'মানুষ সেদিন বলবে, পালানোর পথ কোথায়?'
-
-
আগের যুগের প্রতাপশালী রাজা বাদশাহদের ইতিহাস আমরা জানি, তারা কেমন স্বেচ্ছাচারী ছিলেন ইতিহাসের পাতায় লিখা আছে। শুধুমাত্র সন্দেহ আর মনের ইচ্ছার কারণে অনেক নিরাপরাধ মানুষদের শুলে চড়িয়ে, আগুনে পুড়িয়ে মেরে ফেলতো। সাধারণ প্রজাদের কিছুই বলার থাকতো না, ন্যায়-অন্যায়ের ব্যাপারে অভিমত দেয়া তো আরো অনেক পরের কথা। রাজার আদেশ হাসিমুখে নির্দ্বিধায় মেনে নেয়া ছাড়া আর কোনো গত্যান্তর থাকতো না। টু শব্দ করলেই কল্লা চলে যেতো। রাজা বাদশাহদের যুগ বাদ দিলাম, আধুনিক যুগে এক রাষ্ট্র আরেক রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে জোর করে অন্যায় যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়ে মিলিয়ন মিলিয়ন নিরাপরাধ মানুষ মেরে ফেলছে, কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেনা। প্রতিবাদ করলেও তা আমলে নিচ্ছে না।
.
উপরের কথাগুলো বলার কারণ হলো, দুনিয়ার সামান্য ক্ষমতা সম্পন্ন রাজা বাদশাহদের ভয়ে আমরা তটস্থ থাকি, তাদের স্বেচ্ছাচারী কাজ কর্মের কোনো প্রতিবাদ করার হিম্মত রাখি না, চুপচাপ সব মেনে নেই। কখনো বলতে পারিনা, রাজা মহোদয় আপনার এই আদেশটা অন্যায় মূলক বা অমানবিক। মানুষ কত বড় হিপোক্রেট আর অবিবেচক, দুনিয়ার সামান্য রাজা বাদশাহের কোনো হুকুমের ন্যায়-অন্যায়ের ব্যাপারে কথা বলার সাহস রাখেনা, সেখানে রাজাধিরাজ, মহাশক্তিময় প্রভুর দেয়া আদেশ নিষেধ নিয়ে প্রশ্ন তোলে। সর্বশক্তিমান কেনো আমাদের পাপের কারণে পরকালে শ্বাস্তি দিবেন, এই ধরণের জ্ঞানহীন প্রশ্ন তুলি। দুনিয়ার সামান্য ক্ষমতাধরের সামনে কি কখনো এই ব্যাপারে প্রশ্ন করার হিম্মত আমরা রাখি? এমনকি অন্যায়ভাবে শ্বাস্তি ভোগ করলেও? অথচ সর্বশক্তিমান কখনো অন্যায় করেন না, সুযোগ দেন, বার বার ক্ষমা চাওয়ার পথ খুলে রেখেছেন। স্বার্থপর, অবিবেচক মানব সম্প্রদায় আসলে দয়াময়ের দয়ার সুযোগের অপব্যবহার করে। চিন্তা করে দেখুন, সর্বশক্তিমান যদি দুনিয়ার কোনো বাদশাহের মতো আচরণ করতো, আমার আপনার পরিণীতি কি হতো? পারতাম কোনো প্রশ্ন তুলতে কেনো আমাদের শাস্তি দিচ্ছেন বা যা করছেন অন্যায় করছেন, এই কথাগুলো বলতে?
মানব সম্প্রদায় জানে না তারা কত বড় হিপোক্রেট, অকৃতজ্ঞ আর অবিবেচক....
.
লেখকঃ সাইফুর রহমান [ফেসবুক id: Saifur Rahman]

অফিসিয়াল ওয়েব সাইট ঃ Click Here  এবং Click Here

ফেসবুক পেজঃ Click Here

কোন মন্তব্য নেই