পরকালীন প্রস্তুতি

কুর'আন-সুন্নাহর আলোকে পরকালীন মুক্তির আশায় একটি পরকালমুখী উদ্যোগ

উযুর বিস্তারিত বর্ণনা


আসসালামু আলাইকুম। ইসলামে আত্মিক ও শারীরিক পবিত্রতা অর্জন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাদিসের বর্ণনায় এসেছে যে, পবিত্রতা হল ঈমানের অর্ধেক অংশ। আর পবিত্রতা অর্জনের একটা বড় মাধ্যম হল উযূ। তাই আসুন, অযূ সম্পর্কে জানা-অজানা বিষয়গুলো কুরআন ও হাদিসের আলোকে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করি যেন আমরা এর দ্বারা উপকৃত হতে পারি ইনশাআল্লাহ।

কুরআনে আল্লাহ তা'আলা বলেন,
হে মু’মিনগণ! তোমরা যখন সলাতের জন্য উঠবে, তখন তোমাদের মুখমন্ডল এবং কনুই পর্যন্ত হস্তদ্বয় ধৌত করবে। আর তোমাদের মাথা মাসেহ করবে এবং পা গোড়ালি পর্যন্ত ধৌত করবে। তোমরা যদি অপবিত্র অবস্থায় থাক তবে বিধিমত পবিত্রতা অর্জন করবে। আর যদি পীড়িত হও বা সফরে থাক অথবা তোমাদের কেউ যদি মলত্যাগ করে আসে অথবা যদি তোমরা স্ত্রীদের সাথে সহবাস কর আর পানি না পাও তাহলে পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করবে তা দিয়ে তোমাদের মুখমন্ডল ও হাত মাসেহ করবে। আল্লাহ তোমাদের উপর সংকীর্ণতা চাপিয়ে দিতে চান না, তিনি তোমাদেরকে পবিত্র করতে চান আর তোমাদের প্রতি তাঁর নি‘আমাত পূর্ণ করতে চান, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। [সূরা আল-মায়েদা/৫, আয়াতঃ ৬]

হে ঈমানদারগণ! তোমরা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় সলাতের নিকটবর্তী হয়ো না যতক্ষণ না তোমরা যা বল, তা বুঝতে পার এবং অপবিত্র অবস্থায়ও (সলাতের কাছে যেও না) গোসল না করা পর্যন্ত (মসজিদে) পথ অতিক্রম করা ব্যতীত; এবং যদি তোমরা পীড়িত হও কিংবা সফরে থাক; অথবা তোমাদের কেউ শৌচস্থান হতে আসে অথবা তোমরা স্ত্রী সঙ্গম করে থাক, অতঃপর পানি না পাও, তবে পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম কর, আর তা দিয়ে তোমাদের মুখমন্ডল ও হস্তদ্বয় মাসহ কর; আল্লাহ নিশ্চয়ই পাপ মোচনকারী, ক্ষমাশীল। [সূরা আন-নিসা/৪, আয়াতঃ ৪৩]

সাফল্য লাভ করবে সে যে নিজেকে পরিশুদ্ধ করে, আর তার প্রতিপালকের নাম স্মরণ করে ও নামায কায়েম করে।কিন্তু তোমরা তো দুনিয়ার জীবনকেই প্রাধান্য দাও, অথচ আখিরাতই অধিক উৎকৃষ্ট ও স্থায়ী। [সূরা আল-আ'লা/৮৭, আয়াতঃ ১৪-১৭]

শপথ আকাশের এবং যিনি ওটা নির্মাণ করেছেন তাঁর। কসম যমীনের এবং যিনি তা বিস্তৃত করেছেন। শপথ মানুষের এবং তাঁর, যিনি তাকে সুঠাম করেছেন। অতঃপর তাকে তার অসৎকর্ম ও সৎকর্মের জ্ঞান দান করেছেন। সেই সফলকাম হয়েছে যে নিজ আত্মাকে পবিত্র করেছে। সেই ব্যর্থ হয়েছে যে নিজ আত্মাকে কলূষিত করেছে। [সূরা আশ-শামস/৯১, আয়াতঃ ৫-১০]

হাদিসে উযূ সম্পর্কে বর্ণনা
উযূ ঈমানের অর্ধেকঃ
আবূ মালিক আশ আরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, পবিত্রতা হল ঈমানের অর্ধেক অংশ। “আলহামদুলিল্লাহ” (শব্দটি) পাল্লাকে ভরে দেয়। “সূবহানাল্লাহ ও আলহামদুলিল্লাহ (পাল্লাকে) ভরে দেয়, কিম্বা [রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন] আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যবতীঃ স্থান ভরে দেয়। সালাত (নামায/নামাজ) হল আলো, সাদাকা হল প্রমাণিকা, ধৈর্য হল জ্যোতি। কুরআন তোমার পক্ষে কিংবা বিপক্ষে দলীল। প্রত্যেক মানুষ প্রত্যহ আপন সত্তাকে বিক্রি করে, তখন কেউ সত্তার উদ্ধারকারী হয় আর কেউ হয় ধবংস কারী। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/তাহারাত (পবিত্রতা), হাদিস নম্বরঃ ৪২৭]
আবূ মালিক আল-আশআরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সুষ্ঠুভাবে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করা ঈমানের অর্ধেক। আল-হামদুলিল্লাহ (নেকীর) পাল্লা পূর্ণ করে। সুবহানাল্লাহ ও আল্লাহু আকবার পৃথিবী ও আকাশমন্ডলী ভরে দেয়। সালাত হল নূর, যাকাত হল দলীল, ধৈর্য হল আলোকমালা এবং কুরআন হল তোমার পক্ষে অথবা বিপক্ষের প্রমাণ। প্রত্যেক মানুষ ভোরে উপনীত হয়ে নিজেকে বিক্রয় করে, এতে সে হয় তাকে মুক্ত করে অথবা ধ্বংস করে। [সুনানে ইবনে মাজাহ, অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা ও তার সুন্নাতসমূহ, হাদিস নম্বরঃ ২৮০, হাদিসের মানঃ সহিহ]

উযূর ফযীলতঃ
নু‘আয়ম মুজমির (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি আবূ হুরায়রা (রাঃ) এর সঙ্গে মসজিদের ছাদে উঠলাম। তারপর তিনি উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে বললেনঃ ‘আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, কিয়ামতের দিন আমার উম্মাতকে এমন অবস্থায় ডাকা হবে যে, উযূর প্রভাবে তাদের হাত-পা ও মুখমণ্ডল থাকবে উজ্জ্বল। তাই তোমাদের মধ্যে যে এ উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে নিতে পারে, সে যেন তা করে। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/উযূ, হাদিস নম্বরঃ ১৩৮]

আমর ইবনু সাঈদ ইবনুল আতা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উসমান (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। এমন সময়ে তিনি পানি আনার নির্দেশ দিলেন। এরপর তিনি বললেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, কোন মুসলিম ব্যাক্তির যখন কোন ফরয সালাতের ওয়াক্ত হয় আর সে সালাতের উযূ (ওজু/অজু/অযু)-কে উত্তমরুপে আদায় করে, সালাতের বিনয় ও রুকুকে উত্তমরূপে আদায় করে তা হলে যতক্ষন না সে কোন কবীরা গোনাহে লিপ্ত হবে, তার এই সালাত (নামায/নামাজ) তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহের জন্য কাফফারা হয়ে যাবে। তিনি বলেন, আর এ অবস্থা সর্বযুগেই বিদ্যমান। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/তাহারাত (পবিত্রতা), হাদিস নম্বরঃ ৪৩৬]

হুমরান ইবনু আবান থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উসমান (রাঃ) কে উযূর পানি দিতাম। আর তিনি প্রত্যহ গোসল করতেন। উসমান (রাঃ) বলেছেন, আমাদের এ সালাত (নামায/নামাজ) আদায়ের পর, মিস’আর বলেন, আমার মনে হয় সালাতটি ছিল আসরের- রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে কিছু বলতে মনস্থ করলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি ঠিক করতে পারছিলাম না যে তোমাদেরকে একটি বিষয়ে কিছু বলব না নীরব থাকবো। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! যদি তা কল্যাণকর হয় তাহলে আমাদেরকে বলুন, আর অন্য কিছু হলে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল ভাল জানেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন যে, কোন মুসলমান যখন পবিত্রতা অর্জন করে এবং আল্লাহ তার উপর যে পবিত্রতা অপরিহার্য করেছেন তা পূর্ণাঙ্গরুপে অর্জন করে এবং তারপর এই পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করে তাহলে এ সকল সালাত তাদের মধ্যবর্তী সময়ের সকল গুনাহের কাফফারা হয়ে যায়। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/তাহারাত (পবিত্রতা), হাদিস নম্বরঃ ৪৩৬]

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, পাঁচ ওয়াক্ত সালাত (নামায/নামাজ) এবং এক জুম'আ থেকে আরেক জুমুআ পর্যন্ত এসব তাদের মধ্যবতী সময়ের জন্য কাফফারা হয়ে যায় যতক্ষন পর্যন্ত কবীরা গুনাহে লিপ্ত না হয়। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/তাহারাত (পবিত্রতা), হাদিস নম্বরঃ ৪৪৩]

উকবা ইবনু আমির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের উট চরানোর দায়িত্ব নিজেদের উপরে ছিল। আমার পালা এলে আমি উট চরিয়ে বিকেলে ফিরিয়ে নিয়ে এলাম। তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে পেলাম, তিনি দাঁড়িয়ে লোকদের সঙ্গে কথা বলছেন। তখন আমি তাঁর এ কথা শুনতে পেলাম, “যে মুসলমান সুন্দর রুপে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে তারপর দাঁড়িয়ে দেহ ও মনকে পুরোপুরি তার প্রতি নিবদ্ধ রেখে দুই রাকআত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়।” উক্‌বা বলেন, কথাটি শুনে আমি বলে উঠলাম ওহ, কথাটি কত উত্তম! তখন আমার সামনের একজন বলতে লাগলেন, আগের কথাটি আরো উত্তম। আমি সে দিকে তাকিয়ে দেখলাম তিনি উমর (রাঃ)। তিনি আমাকে বললেন তোমাকে দেখেছি, এইমাত্র এসেছা। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আগে বলেছেন, তোমাদের যে ব্যাক্তি কামিল বা পূর্ণরূপে উযূ করে এই দু’আ পাঠ করবে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নাই, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসুল” তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে যাবে এবং যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা সে জান্নাতের প্রবেশ করতে পারবে। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/তাহারাত (পবিত্রতা), হাদিস নম্বরঃ ৪৪৬]

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন মুসলমান কিংবা বলেছেন, কোন মুমিন বান্দা যখন যখন উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে তখন মুখ ধোয়ার সাথে অথবা বলেছেন, পানির শেষ বিন্দুর সাথে তার ঐ সকল গুনাহ বের হয়ে যায় যার দিকে তার দুচোখের দৃষ্টি পড়েছিল; এবং যখন দুইহাত ধোয়, তখন, পানির সাথে অথবা বলেছেন, পানির শেষ বিন্দুর সাথে তার ঐ সকল শোনাহ বের হয়ে যায়। যেগুলো তার দু হাতে ধরেছিল; এবং যখন দুই পা ধোয় তখন পানির সাথে অথবা বলেছেন, পানির শেষ বিন্দুর সাথে তার ঐ সকল গুনাহ বের হয়ে যায় যেগুলোর দিকে তার দু'পা অগ্রসর হয়েছিল; ফলে (উযূর শেষে) লোকটি “তার সমুদয় গুনাহ থেকে সম্পূর্ণভাবে পরিষ্কার হয়ে উঠে। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/তাহারাত (পবিত্রতা), হাদিস নম্বরঃ ৪৭০]

নূ’আয়ম ইবনু আবদুল্লাহ আল-মুজমির (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একবার আবূ হুরায়রা (রাঃ) কে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতে দেখলাম। তিনি তার মুখমন্ডল ধুইলেন এবং পরিপূর্ণ ও উত্তমরুপেই তা ধুইলেন। এরপর তিনি ডান হাত ধুইলেন এমন কি বাহুর কিছু অংশও ধুয়ে ফেললেন। তারপর বাম হাত ও বাহুর কিছু অংশসহ ধুয়ে ফেললেন। এরপর মাথা মাসহ করলেন। তারপর তিনি ডান পা ধুইলেন এমনকি গোছারও কিছু অংশ ধুয়ে ফেললেন। তারপর বাম পা গোছার কিছু অংশসহ ধুইলেন। তারপর বললেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে এভাবেই উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতে দেখেছি তিনি আরো বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পরিপূর্ণ ও উত্তমরুপে করার কারণে কিয়ামতের দিন তোমাদের মুখমন্ডল জ্যোর্তিময় এবং হাত পা উজ্জ্বল হবে। অতএব, তোমাদের যার ইচ্ছা সে যেন তার মুখমন্ডলের নূর এবং হাত-পায়ের দীপ্তি বাড়িয়ে নেয়। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/তাহারাত (পবিত্রতা), হাদিস নম্বরঃ ৪৭২]

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমার উম্মাত হাউযের পাড়ে আমার কাছে আসবে আর আমি তখন (অন্যান্য উম্মাতের) লোকজনকে সে হাউয থেকে ফিরিয়ে দিতে থাকব যেমনিভাবে লোকে অন্যের উটকে নিজের উট থেকে ফিরিয়ে রাখে। সাহাবায়ে কিরাম আরয করলেন, ইয়া নাবীয়াল্লাহ! আপনি কি আমাদেরকে চিনতে পারবেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ, তোমাদের এমন এক চিহ্ন থাকবে যা তোমাদের ছাড়া অন্য কারো থাকবে না। (আর তা হল) তোমরা আমার কাছে আসবে মুখমন্ডল শুভ্র এবং হাত-পা দীপ্তিমান অবস্থায়। এটা হবে উযূ (ওজু/অজু/অযু) এর কারণে। আর তোমাদের মধ্য থেকেই একটি দলকে আমার কাছে আসতে বাধা দেয়া হবে তাই তারা আমার কাছে আসতে পারবে না। তখন আমি বলব, প্রভু! এরা তো আমার লোকজন! তখন এর জবাবে একজন ফেরেশতা আমাকে বলবে, আপনি কি জানেন, এরা আপনার পরে কী অঘটন ঘটিয়েছিল? [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/তাহারাত (পবিত্রতা), হাদিস নম্বরঃ ৪৭৫]

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি কি তোমাদেরকে এমন (কাজের) কথা বলব না, যদ্বারা আল্লাহ তায়ালা পাপরাশি দূর করে দিবেন এবং মর্যাদা উচু করে দিবেন? সাহাবায়ে কিরাম আরয করলেন, হ্যাঁ, অবশ্যই ইয়া রাসুলাল্লাহ! তিনি বললেন, তা হল, অসুবিধা ও কষ্ট সত্ত্বেও পরিপূর্ণভাবে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করা, মসজিদে আসার জন্য বেশী পদচারণা এবং এক সালাত (নামায/নামাজ)-এর পর অন্য সালাতের জন্য অপেক্ষা করা। জেনে রাখ, এটাই হল রিবাত (তথা নিজকে আটকে রাখা ও শয়তানের মুকাবিলায় নিজকে প্রস্তুত রাখা)। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/তাহারাত (পবিত্রতা), হাদিস নম্বরঃ ৪৮০]

আবদুল্লাহ আস-সুনাবিহী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যাক্তি উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে কুলি করলো এবং নাকে পানি পৌঁছালো, তার গুনাহ্সমূহ তার মুখ ও নাক থেকে বের হয়ে যায়। সে তার মুখমন্ডল ধৌত করলে তার গুনাহসমূহ তার মুখমন্ডল থেকে বের হয়ে যায়, এমনকি তার দু চোখের ভ্রুর নিম্নাংশ থেকেও গুনাহসমূহ বেরিয়ে যায়। সে তার উভয় হাত ধৌত করলে তার দু হাত থেকে গুনাহসমূহ বেরিয়ে যায়। সে তার মাথা মাসহ করলে তার মাথা থেকে গুনাহসমূহ বের হয়ে যায়, এমনকি তার দু কান থেকেও গুনাহসমূহ বের হয়ে যায়। সে তার উভয় পা ধৌত করলে তার পদদ্বয় থেকেও গুনাহসমূহ ঝরে যায়, এমনকি তার পদদ্বয়ের নখের নিম্নভাগ থেকেও গুনাহ বের হয়ে যায়। এরপর তার সালাত ও তার মসজিদে যাতায়াতের সাওয়াব (উল্লিখিত বিষয়ের) অতিরিক্ত। [সুনানে ইবনে মাজাহ, অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা ও তার সুন্নাতসমূহ, হাদিস নম্বরঃ ২৮২, হাদিসের মানঃ সহিহ]

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন সাহাবীদের বললেন আমি কি তোমাদের এমন এক বিষয়ের কথা বলব, যার কারণে আল্লাহ তা‘আলা গুনাহ্ বিদূরিত করে দিবেন এবং মর্যাদা বৃদ্ধি করে দিবেন? সাহাবীগণ বললেন অবশ্যই বলুন, হে আল্লাহর রাসূল! রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন তা হলঃ কষ্টকর অবস্থায়ও পূর্ণ ভাবে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করা, বেশি করে মসজিদে যাওয়া, এক সালাতের পর আরেক সালাতের অপেক্ষা করা। এ হলো জিহাদের প্রস্তুতি নিয়ে সীমান্ত প্রতিরক্ষার মত। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ৫১, হাদিসের মানঃ সহিহ]

হুমরান ইবনু আবান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আবূ বুরদা (রহঃ) কে মসজিদে এ মর্মে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি উসমান (রাঃ) কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত করতে শুনেছেন, যে ব্যাক্তি আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক উযূ (ওজু/অজু/অযু) সম্পন্ন করবে, পাঁচ ওয়াক্ত সালাত (নামায/নামাজ)-এর মধ্যবর্তী সময়ের পাপসমূহের জন্য কাফফারা স্বরূপ গণ্য হবে। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ১৪৫, হাদিসের মানঃ সহিহ]

আবূ হুরায়রা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার কবরস্থানের দিকে গেলেন। (তথায় উপস্থিত হয়ে) তিনি বললেনঃ হে মুমিন সম্প্রদায়ের ঘরের অধিবাসী! তোমাদেরকে সালাম, আমরাও ইনশাল্ললাহ তোমাদের সাথে মিলিত হব। আমি আশা করি আমার ভ্রাতৃবৃন্দকে দেখতে পাব। উপস্থিত সাহাবায়ে কিরাম জিজ্ঞাসা করলেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমরা কি আপনার ভ্রাতা নই? তিনি বললেনঃ বরং তোমরা আমার সাহাবী। আর আমার ভ্রাতৃবৃন্দ হল যারা পরবর্তীকালে আসবে, আর আমি হাউযে কাওসারে তাদের অগ্রবর্তী হব। তারা বললেন ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনার যেসকল উম্মত পরবর্তীকালে আগমন করবে, আপনি তাদের কিভাবে চিনবেন? তিনি বললেনঃ তোমরা বল তো, যদি কোন ব্যাক্তির একদল কালো ঘোড়ার মধ্যে সা’দা চেহারা ও সা’দা পদবিশিষ্ট ঘোড়া থাকে, তবে কি সেই ব্যাক্তি তার ঘোড়া চিনে নিতে পারবে না? তারা বলেনঃ নিশ্চয়ই। তিনি বললেনঃ কিয়ামতের দিন উযূর দরুণ তাদের হস্তপদ উজ্জ্বল হবে। আর আমি হাউযে কাওসারে তাদের আগে গিয়ে অপেক্ষা করব। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ১৫০, হাদিসের মানঃ সহিহ]

উযূ সহ রাতে ঘুমাবার ফযীলতঃ
বারা ইবনু ‘আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন তুমি বিছানায় যাবে তখন সালাত (নামায/নামাজ)-এর উযূর মতো উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে নেবে। তারপর ডান পার্শ্বে শুয়ে বলবেঃ
اللَّهُمَّ أَسْلَمْتُ وَجْهِي إِلَيْكَ وَفَوَّضْتُ أَمْرِي إِلَيْكَ وَأَلْجَأْتُ ظَهْرِي إِلَيْكَ رَغْبَةً وَرَهْبَةً إِلَيْكَ لاَ مَلْجَأَ وَلاَ مَنْجَا مِنْكَ إِلاَّ إِلَيْكَ اللَّهُمَّ آمَنْتُ بِكِتَابِكَ الَّذِي أَنْزَلْتَ
“হে আল্লাহ্! আমার জীবন আপনার কাছে সমর্পণ করলাম। আমার সকল কাজ আপনার কাছে সোপর্দ করলাম এবং আমি আপনার আশ্রয় গ্রহণ করলাম, আপনার প্রতি আগ্রহ ও ভয় নিয়ে। আপনি ছাড়া কোন আশ্রয়স্থল ও নাজাতের স্থান নেই। হে আল্লাহ্! আমি ঈমান আনলাম আপনার নাযিলকৃত কিতাবের উপর এবং আপনার প্রেরিত নাবীর উপর।”

তারপর যদি সে রাতেই তোমার মৃত্যু হয় তবে ফিতরাতে ইসলামের উপর তোমার মৃত্যু হবে। এ কথাগুলি তোমার শেষ কথা বনিয়ে নাও। তিনি বললেন, ‘আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ কথাগুলি পুনরায় শোনালাম। যখন اللَّهُمَّ آمَنْتُ بِكِتَابِكَ الَّذِي أَنْزَلْتَ পর্যন্ত পৌঁছে وَرَسُولِكَ বললাম, তখন তিনি বললেনঃ না; বরং وَنَبِيِّكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ বল। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/ উযূ, হাদিস নম্বরঃ ২৪৫]

ওযু করার সময় বিসমিল্লাহ পাঠ করাঃ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ, রাসূল্লুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেনঃ ঐ ব্যক্তির নামায আদায় হয় না যে সঠিক ভাবে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে না এবং ঐ ব্যক্তির উযূ (ওজু/অজু/অযু) হয় না যে আল্লাহর নাম স্মরণ করে না (অর্থাৎ বিসমিল্লাহ্ বলে না)। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ১০১, হাদিসের মানঃ সহিহ]

আদ-দ্বারাওয়ার্দী (রহঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেছেন, . রবীআ (রহঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীছ “ ঐ ব্যাক্তির উযূ (ওজু/অজু/অযু) হয় না যে বিসমিল্লাহ্ বলে না” -এর ব্যাখ্যায় বলেনঃ যে ব্যাক্তি উযূ (ওজু/অজু/অযু) ও গোসলের সময়- নামাযের উযূ (ওজু/অজু/অযু)র বা অপবিত্রতার গোসলের নিয়াত করে না- তার উযূ (ওজু/অজু/অযু)ও গোসল হয় না। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ১০২, হাদিসের মানঃ সহিহ]

রাবাহ ইবন আবদির রাহমান ইবনু আবী সুফইয়ান ইবনু হুওয়ায়তিব (রহঃ) তাঁর পিতামহী থেকে বর্ণনা করেন। আমার পিতা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর নাম নিবে না, তার উযূ (ওজু/অজু/অযু) হবে না। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ২৫, হাদিসের মানঃ সহিহ]

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ (কোন এক সফরে) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কয়েকজন সাহাবী পানি তালাশ করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমাদের কারো নিকট পানি আছে কি? (একজন পানি এনে দিলে) তিনি পানিতে হাত রাখলেন এবং বললেনঃ বিসমিল্লাহ বলে উযূ (ওজু/অজু/অযু) কর। আমি তাঁর আঙ্গুলের ফাঁক থেকে পানি বের হতে দেখলাম। তাঁদের সর্বশেষ ব্যাক্তিসহ সকলেই এই পানিতে উযূ করেন। সাবিত (রহঃ) বলেনঃ আমি আনাস (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি উপস্থিত লোকের সংখ্যা কত মনে করেন? তিনি বললেন, সত্তরজনের মত। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ৭৮, হাদিসের মানঃ সহিহ]

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যার উযূ (ওজু/অজু/অযু) হয়নি তার সালাত হয়নি এবং যে ব্যাক্তি উযূ (ওজু/অজু/অযু)র সময় বিসমিল্লাহ বলেনি তার উযূ (ওজু/অজু/অযু) হয়নি। [সুনানে ইবনে মাজাহ, অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা ও তার সুন্নাতসমূহ, হাদিস নম্বরঃ ৩৯৯, হাদিসের মানঃ হাসান]

উযূর অঙ্গ একবার/দুইবার/তিনবার ধৌত করাঃ
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক উযূ (ওজু/অজু/অযু)-তে একবার করে ধুয়েছেন। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/উযূ, হাদিস নম্বরঃ ১৫৯]

হুমরান (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি ‘উসমান ইবনু আফফান (রাঃ)-কে দেখেছেন যে, তিনি পানির পাত্র আনিয়ে উভয় হাতের তালুতে তিনবার ঢেলে তা ধুয়ে নিলেন। এরপর ডান হাত পাত্রের মধ্যে ঢুকালেন। তারপর কুলি করলেন ও নাকে পানি দিয়ে নাক পরিষ্কার করলেন। তারপর তাঁর মুখমণ্ডল তিনবার ধুয়ে এবং দু’হাত কনুই পর্যন্ত তিনবার ধুয়ে নিলেন। এরপর মাথা মাসেহ করলেন। তারপর উভয় পা গিরা পর্যন্ত তিনবার ধুয়ে নিলেন। পরে বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি আমার মত এ রকম উযূ (ওজু/অজু/অযু) করবে, তারপর দু রাক‘আত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করবে, যাতে দুনিয়ার কোন খেয়াল করবে না, তার পেছনের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/উযূ, হাদিস নম্বরঃ ১৬১]

উসমান ইবনু আফফান (রাঃ) এর আযাদকৃত গোলাম হুমরান থেকে বর্ণিত যে, উসমান (রাঃ) উযূর পানি চাইলেন। এরপর তিনি উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতে আরম্ভ করলেন। (বর্ণনাকারী বলেন), তিনি [উসমান (রাঃ)] তিনবার তাঁর হাতের কব্জি পর্যন্ত ধুইলেন এরপর কুলি করলেন এবং নাক ঝাড়লেন। এরপর তিনবার তার মুখমন্ডল ধুইলেন। এবং ডান হাত কনুই পর্যন্ত তিনবার ধুইলেন। অতঃপর বাম হাত অনুরুপভাবে ধুইলেন। অতঃপর তিনি মাথা মাসেহ করলেন। এরপর তার ডান পা টাখনু পর্যন্ত ধুইলেন এরপর বাম পা অনুরুপভাবে ধুইলেন। এরপর তিনি বললেন যে, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আমার এ উযূ করার ন্যায় উযূ করতে দেখেছি। এবং উযূর শেষে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যাক্তি আমার এ উযূর ন্যায় উযূ করবে এবং দাঁড়িয়ে এরূপে দু-রাকআত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করবে যে, সে সময়ে মনে মনে অন্য কোন কিছু কল্পনা করেনি, সে ব্যাক্তির পুর্বের সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। ইবনু শিহাব বলেন, আমাদের আলিমগণ বলতেন যে, সালাতের জন্য কারোর এ নিয়মের উযূই হল পরিপূর্ণ উযূ। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/তাহারাত (পবিত্রতা), হাদিস নম্বরঃ ৪৩১]
ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিটি অঙ্গ একবার একবার করে ধুয়ে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করেছেন। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ৪২, হাদিসের মানঃ সহিহ]

আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণনা করেন যে, প্রতিটি অঙ্গ দুইবার করে ধুয়ে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উযূ (ওজু/অজু/অযু) করেছেন। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ৪৩, হাদিসের মানঃ হাসান]
আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিটি অঙ্গ তিনবার করে ধুয়ে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করেছেন। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ৪৪, হাদিসের মানঃ সহিহ]

উযু করার পর দু'আঃ
উকরা ইবনু আমের (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে অবস্হান করার সময়ে আত্ননির্ভরশীল হয়ে নিজেদের যাবতীয় কাজ এমনকি উট চরানোর দায়িত্বও আমাদের নিজেদের মধ্যে পালাক্রমে ভাগ করে নিতাম। রাবী বলেন, একদা আমার উপর উট চরানোর দায়িতু থাকাকালে আমি যখন সন্ধ্যায় উটসহ প্রত্যাবর্তন করি, তখন আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ভাষণরত পাই। আমি তাকে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বলতে শুনেছি তোমাদের যে কেউ উত্তমরূপে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে অতি বিনয়ের সাথে ও একাগ্র চিত্তে দুই রাকাত নামায আদায় করে- তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়। এতদ্শ্রবণে আমি খুশিতে বাগ বাগ হয়ে বলে উঠিঃ বাহ্ বাহ্! এটা কতই না উত্তম প্রাপ্তি অতঃপর সেখানে পূর্ব হতে উপস্থিত- আমার সাম্মুখের এক ব্যাক্তি বলে উঠল হে উকবা! এর চেয়ে উত্তম বস্তু আছে। অতঃপর আমি তাকিয়ে দেখি তিনি ছিলেন . উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) তখন আমি তাকে জিজ্ঞাসা করি, হে আবূ হাফ্সা তা কি? জবাবে তিনি বলেন, তুমি এখানে আগমনের একটু পূর্বে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ তোমাদের যে কেউ উত্তমরূপে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করার পর এরূপ বলেঃ – أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ
(“আশহাদু আল-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লা-শারীকা লাহু; ওয়া-আশুহাদু আন্না মুহাম্মাদান আব্দুহু ওয়া রাসুলুহু”) তার জন্যে আটটি জান্নাতের সমস্ত দরজা খোলা হবে বা খুলে যাবে। সে ব্যক্তি সেচ্ছায় যে কোন জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ১৬৯,হাদিসের মানঃ সহিহ]

উমর ইবনু খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন কোন ব্যক্তি যদি খুব ভাল করে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে এই দু‘আ পড়ে তবে জান্নাতের সব দরজাই তার জন্য খুলে যাবে এবং যে দরজা দিয়ে সে ইচ্ছা করবে সেটি দিয়েই জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে। দু‘আটি হলঃ
أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ اللَّهُمَّ اجْعَلْنِي مِنَ التَّوَّابِينَ وَاجْعَلْنِي مِنَ الْمُتَطَهِّرِينَ
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তিনি এক, তাঁর কেউ শরীক নেই। আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসুল। হে আল্লাহ্! আমাকে তওবাকারীদের মধ্যে শামিল কর এবং পবিত্রদের অন্তর্ভুক্ত কর। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ৫৫, হাদিসের মানঃ সহিহ]

উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি উত্তমরূপে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে আর বলেঃ
أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ
“আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ তার বান্দা ও রাসূল” তার জন্য বেহেশতের আটটি দরজাই খুলে দেওয়া হবে। সে যে দরজা দিয়ে ইচ্ছে প্রবেশ করবে। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ১৪৮, হাদিসের মানঃ সহিহ]

মোজার উপর মাসেহ করাঃ
মুগীরা ইবনু শু’বা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রাকৃতিক প্রয়োজনে বাইরে গেলে মুগীরা (রাঃ) পানি সহ একটি পাত্র নিয়ে তাঁর অনুসরণ করলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রাকৃতিক প্রয়োজন শেষ করে এলে মুগীরা (রাঃ) তাঁকে পানি ঢেলে দিলেন। আর তিনি উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলেন এবং উভয় মোজার উপর মাসেহ করলেন। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/উযূ, হাদিস নম্বরঃ ২০৩]

মুগীরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে এক সফরে ছিলাম। (উযূ (ওজু/অজু/অযু) করার সময়) আমি তাঁর মোজাদ্বয় খুলতে চাইলে তিনি বললেনঃ ওদুটো থাকুক, আমি পবিত্র অবস্থায় ও দু’টি পরেছিলাম। (এই বলে) তিনি তার ওপর মাসেহ করলেন। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/উযূ, হাদিস নম্বরঃ ২০৬]

মুগীরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করালেন। তিনি উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলেন এবং উভয় মোযার ওপর মাসেহ করলেন। মুগীরা (রাঃ) বলেন, তারপর তিনি (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ আমি এ দুটিকে পবিত্রাবস্ত্রায় পরেছি। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/তাহারাত (পবিত্রতা), হাদিস নম্বরঃ ৫২৫]

সুরাইয়া ইবনু হানী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশা (রাঃ)-এর কাছে এলাম মোযার ওপর মাসেহ করার মাস’আলা জিজ্ঞেস করতো তিনি বললেন, আবূ তালিবের পূত্র (আলী (রাঃ)-এর কাছে গিয়ে এ মাসআলা জিজ্ঞেস কর। কারণ সে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে সফর করত। অতঃপর আমরা তাঁকে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসাফিরের জন্য তিন দিন তিন রাত নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন এবং মুকীমের জন্য এক দিন এক রাত। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/তাহারাত (পবিত্রতা), হাদিস নম্বরঃ ৫৩২]

আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ধর্মের মাপকাঠি যদি রায়ের (বিবেক-বিবেচনা) উপর নির্ভরশীল হত, তবে মোজার উপরের অংশে মাসেহ্ না-করে নিম্নাংশে মাসেহ্ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হত। রাবী আলী (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তাঁর মোজার উপরের অংশে মাসেহ্ করতে দেখেছি। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ১৬২,হাদিসের মানঃ সহিহ]

খুযায়মা ইবনু ছাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, চামড়ার মোযায় মাসেহ করা সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেনঃ মূসাফির তা করতে পারবে তিন দিন আর মুকীম পারবে একদিন। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ৯৫, হাদিসের মানঃ সহিহ]

সাফওয়ান ইবনু আসসাল রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ননা করেন যে, তিনি বলেনঃ আমরা মূসাফির হলে ফরয গোসল ব্যতীত তিনদিন তিনরাত পর্যন্ত চামড়ার মোযা না খুলতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বলেছেন। এই নির্দেশ ছিল পেশাব-পায়খানা ও নিদ্রার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ৯৬, হাদিসের মানঃ হাসান]

আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসেহের ব্যাপারে মুসাফিরের জন্য তিন দিন তিন রাত এবং মুকীমের জন্য একদিন এক রাত সময় নির্ধারণ করেছেন। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা]

উযুতে যাদের গোড়ালি ভিজেনি তাদের জন্য জাহান্নামের শাস্তিঃ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যাক্তিকে দেখলেন, সে তার গোড়ালি ধোয়নি। তখন তিনি বললেনঃ ঐ গোড়ালিগুলোর জন্য দুর্ভোগ জাহান্নামের। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/তাহারাত (পবিত্রতা), হাদিস নম্বরঃ ৪৬৬]

আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, অযূতে যাদের গোড়ালী ভিজেনি তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের শাস্তি। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ৪১, হাদিসের মানঃ সহিহ]

আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক দল লোককে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতে দেখেন। তাদের পায়ের গোড়ালির প্রতি লক্ষ্য করে দেখেন যে, তা শুষ্ক রয়েছে। তখন তিনি তাদের উদ্দেশ্যে বলেনঃ যাদের পায়ের গোড়ালী শুষ্ক থাকবে, তাদের জন্য জাহান্নামের দুর্ভোগ। তোমরা পরিপূর্ণরূপে উযূ কর। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ১১১, হাদিসের মানঃ সহিহ]

উযু করার সময় নাক ঝাড়াঃ
সালমা ইবনু কায়স রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন, যখন উযূ (ওজু/অজু/অযু) করবে তখন নাকে পানি ঢেলে তা ঝেড়ে ফেলবে। আর কুলুখ ব্যবহার করলে তা বেজোড় সংখ্যায় করবে। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ২৭, হাদিসের মানঃ সহিহ]

লাকীত ইবনু সাবরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে উযূ (ওজু/অজু/অযু) সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেনঃ পূর্ণরূপে উযূ করবে, আর তুমি যদি রোযাদার না হও তাহলে উত্তমরূপে নাকে পানি পৌছাবে। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ৮৭, হাদিসের মানঃ সহিহ]

দাড়ি ও অন্যান্য অঙ্গ খেলাল করাঃ
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূল্লুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতেন, তখন তিনি এক কোশ পানি হাতে নিয়ে থুতনির নীচে দিয়ে তা দ্বারা দাড়ি খেলাল করতেন। তিনি আরো বলেনঃ আমার প্রতিপালক আমাকে এরূপ করার নির্দেশ দিয়েছেন। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ১৪৫, হাদিসের মানঃ সহিহ]

উছামাম ইবন আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দাড়ি খিলাল করতেন। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ৩১, হাদিসের মানঃ সহিহ]

লাকীত ইবনু সবিরা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন উযূ (ওজু/অজু/অযু) করবে অঙ্গুলী খিলাল করবে। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ৩৮, হাদিসের মানঃ সহিহ]
ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, উযূ (ওজু/অজু/অযু) করার সময় তোমার হাত ও পায়ের অঙ্গুলী খিলাল করবে। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ৩৯, হাদিসের মানঃ হাসান]

মাথা মাসেহ করাঃ
আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাতে মাথা মাসেহ করেছেন। উভয় হাতকে সামনে ও পিছনে নিয়েছেন। মাথার সম্মুখ ভাগ থেকে শুরু করে হাত দুটি মাথার পিছন দিকে নিয়ে গেছেন। এরপর হাত দুটি আবার যে স্থান থেকে শুরু করেছিলেন সেস্থানে ফিরিয়ে নিয়ে এসেছেন। তারপর তাঁর দুই পা ধুয়েছেন। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ৩২, হাদিসের মানঃ সহিহ]

রুবায়্যি‘ বিনত মুআববিয ইবনু ‘আফরা রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসূলসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতে দেখেছেন। রুবায়্য‘ বলেন, তিনি তাঁর মাথার সম্মুখ ভাগ ও পশ্চাৎ,কানপট্টি এবং তাঁর দুইকান একবার মাসেহ করলেন। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ৩৪, হাদিসের মানঃ হাসান]

ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মাথা এবং পশ্চাৎ ও সম্মুখ ভাগসহ কান মাসেহ করেছেন। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ৩৬, হাদিসের মানঃ হাসান]

পাগড়ির উপর মাসেহ্‌ করাঃ
বিলাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উভয় মোযা ও পাগড়ীর ওপর মাসেহ করেছেন। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/তাহারাত (পবিত্রতা), হাদিস নম্বরঃ ৫৩০]

অযূ ছাড়া সালাত কবুল হয় নাঃ
আবূল মালীহু থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেনঃ আল্লাহ্ তা’আলা অসদুপায়ে অর্জিত ধন-সস্পদ ছদকাহ্ করলে কবুল করেন না এবং বিনা উযূ (ওজু/অজু/অযু)তে নামায আদায় করলে তাও কবুল করেন না। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ৫৯, হাদিসের মানঃ সহিহ]

উসামা ইবনু উমায়র (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তায়ালা পবিত্রতা ব্যতীত কোন সালাত (নামায/নামাজ) কবুল করেন না এবং অবৈধভাবে অর্জিত মালের সদকা গ্রহণ করেন না। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ১৩৯, হাদিসের মানঃ সহিহ]

আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহ পবিত্রতা ছাড়া সালাত কবূল করেন না এবং হারাম পন্থায় অর্জিত মালের দান-খয়রাতও কবূল করেন না। [সুনানে ইবনে মাজাহ, অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা ও তার সুন্নাতসমূহ, হাদিস নম্বরঃ ২৭৩, হাদিসের মানঃ সহিহ]

মল মুত্রের বেগ চেপে রেখে সালাত কবুল হয় নাঃ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি এবং আখেরাতের প্রতি ঈমান এনেছে- তার জন্য এটা উচিত নয় যে, মল মুত্রের বেগ চেপে রেখে (তা ত্যাগ না করা পর্যন্ত) নামায আদায় করে। অতঃপর তিনি নিম্নরূপ শব্দযোগে বর্ণনা করেছেন। যে ব্যক্তি আল্লাহ্ এবং শেষ দিবসের প্রতি ঈমান এনেছে- তার জন্য কোন সম্প্রদায়ের অনুমতি ছাড়া তাদের ইমামতি করা হালাল নয় এবং দুআর মধ্যে তাদেরকে বাদ দিয়ে কেবলমাত্র নিজের জন্য দুআ করাও বৈধ নয়। যদি কেউ এরূপ করে- তবে সে তাদের সাথে বিসশ্বাসঘাতকতা করল। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ৯১, হাদিসের মানঃ সহিহ]

লজ্জাস্থান স্পর্শের কারণে উযু করা ও না করাঃ
কায়েস ইবনু তলক থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। একদা আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট গমন করি এমন সময় সেখানে একজন গ্রাম্য লোক আগমন করে মহানাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করে- হে আল্লাহর নাবী। উযূ (ওজু/অজু/অযু) করার পর যদি কোন ব্যক্তি নিজের পুরুষাংগ স্পর্শ করে- তবে এ ব্যাপারে আপনার মতামত কি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ পুরুষাংগ তো একটি গোশতের টুকরা অথবা গোশতের খন্ড মাত্র। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ১৮২, হাদিসের মানঃ সহিহ]

বুসরা বিনত সাফওয়ান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ কেউ লজ্জাস্থান স্পর্শ করলে উযূ (ওজু/অজু/অযু) না করে সালাত পড়বে না। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ৭১, হাদিসের মানঃ সহিহ]

তালক ইবনু আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ এরো (লজ্জাস্থান) তার শরীরের একটি অংশ ছাড়া আর কিছুই নয়। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ৮৫, হাদিসের মানঃ সহিহ]

আবূ আইউব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুললাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যাক্তি তার লজ্জাস্থান স্পর্শ করলো সে যেন উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে। [সুনানে ইবনে মাজাহ, অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা ও তার সুন্নাতসমূহ, হাদিস নম্বরঃ ৪৮২, হাদিসের মানঃ সহিহ]
কায়স ইবনু তালক আল-হানাফী (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট পুরুষাঙ্গ স্পর্শ করার বিষয়ে জিজ্ঞেস করতে শুনেছি। তিনি বলেনঃ তাতে উযূ (ওজু/অজু/অযু)র প্রয়োজন নেই। কেননা তা তোমার দেহের একটি অঙ্গ। [সুনানে ইবনে মাজাহ, অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা ও তার সুন্নাতসমূহ, হাদিস নম্বরঃ ৪৮৩, হাদিসের মানঃ সহিহ]

ঘুম নিয়ে সালাত আদায় নিষেধঃ
আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সালাত (নামায/নামাজ) আদায়ের অবস্থায় তোমাদের কারো যদি তন্দ্রা আসে তবে সে যেন ঘুমের রেশ কেটে না যাওয়া পর্যন্ত ঘুমিয়ে নেয়। কারন, তন্দ্রাবস্থায় সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলে সে জানতে পারবে না, সে কি ক্ষমা চাইছে, না নিজেকে গালি দিচ্ছে। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/উযূ, হাদিস নম্বরঃ ২১২]
আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ যদি সালাতে ঝিমায়, সে যেন ততক্ষণ ঘুমিয়ে নেয়, যতক্ষন না সে কি পড়ছে, তা বুঝতে পারে। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/উযূ, হাদিস নম্বরঃ ২১৩]

বমির কারণে উযুঃ
মা‘দান ইবনু আবী তালহার সনদে আবূদ-দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বমি হল। পরে তিনি উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলেন। মা‘দান ইবনু আবী তালহা বরেন, দামিশক মসজিদে ছাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু এর সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হলে তাঁর কাছে আবূদ -দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু এর এই রিওয়ায়াতটির উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন আবূদ-দারদা সত্য বলোছেন। তখন আমিই নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে উযূ (ওজু/অজু/অযু)র পানি ঢেলে দিয়েছিলাম। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ৮৭, হাদিসের মানঃ সহিহ]

গোসলের পর উযূ না করাঃ
আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গোসলের পর উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতেন না। [সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ১০৭, হাদিসের মানঃ সহিহ]

নারীর ওড়না ছাড়া সালাত হয় নাঃ
আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: আল্লাহ প্রাপ্তবয়স্কা নারীর সালাত ওড়না পরা ব্যতীত কবূল করেন না। [সুনানে ইবনে মাজাহ, অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা ও তার সুন্নাতসমূহ, হাদিস নম্বরঃ ৬৫৫, হাদিসের মানঃ সহিহ]

উযুতে প্রয়োজনাতিরিক্ত পানি ব্যাবহার সম্পর্কেঃ
আবূ নাআমা হতে বর্ণিত। আবদুল্লাহ্ ইবনু মুগাফ্ফাল (রাঃ) তার পুত্র ইয়াযীদ)-কে বলতে শুনেছেন যে, ইয়া আল্লাহ্! আমি আপনার নিকট জান্নাতের ডান পার্শ্বস্থ শ্বেত-প্রাসা’দ পার্থনা করি- যখন আমি সেখানে প্রবেশ করব। আবদুল্লাহ্ (রাঃ) বলেন, হে আমার প্রিয় পুত্র! তুমি জান্নাত কমনা কর এবং দোজখ হতে মুক্তি প্রার্থনা কর। কেননা আমি রাসূল্লুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ “অদূর ভবিষ্যতে- এই উম্মতের মধ্যে এমন এক সম্প্রদায়ের উদ্ভব হবে, যারা পবিত্রতা অর্জন ও দু'আর মধ্যে অতিরঞ্জিত করবে (ইবনু মাজাহ)। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ৯৬, হাদিসের মানঃ সহিহ]

বকরীর গোশত এবং ছাতু খেয়ে উযূ না করাঃ
আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বকরীর কাঁধের গোশত খেলেন। তারপর সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন; কিন্তু উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলেন না। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/ উযূ, হাদিস নম্বরঃ ২০৭]

উটের গোশত খেয়ে উযু করাঃ
জাবির ইবনু সামুরা (রাঃ) থেকে বর্নিত যে, এক ব্যাক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে জিজ্ঞেস করল, আমি কি বকরীয় গোশত খেয়ে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করব? তিনি বললেন, তোমার ইচ্ছা উযূ করতেও পার আর নাও করতে পার। সে বলল, আমি কি উটের গোশত খেয়ে উযূ করব? তিনি বললেন, হ্যাঁ, উটের গোশত খেয়ে তুমি উযূ করবে। সে বলল, আমি কি বকরির ঘরে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে পারি? তিনি বললেন, হ্যাঁ। সে বলল, আমি কি উটের ঘরে সালাত আদায় করতে পারি? তিনি বললেন, না। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৩/হায়েয, হাদিস নম্বরঃ ৬৮৯]

হাদস ছাড়া উযূ করাঃ
আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক সালাতের সময় উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতেন। আমি বললামঃ আপনারা কিরূপ করতেন? তিনি বললেনঃ হাদস (উযূ ভঙ্গের কারন) না হওয়া পর্যন্ত আমাদের (পূর্বের) উযূই যথেষ্ট হত। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৪/ উযূ, হাদিস নম্বরঃ ২১৪]

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদের কেউ যখন তার পেটের মধ্যে কিছু অনুভব করে তারপর তার সন্দেহ দেখা দেয় যে, পেট থেকে কিছু বের হল কিনা। তখন সে যেন মসজিদ থেকে কখনো বের নাহয় যতক্ষন না শব্দ শোনে অথবা গন্ধ পায়। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৩/হায়েয, হাদিস নম্বরঃ ৬৯২

তায়াম্মুমঃ
আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে কোন এক সফরে বের হলাম। আমরা যখন বায়দা অথবা জাতুল যায়শ নামক স্থানে পৌঁছলাম তখন আমার একটি হার হারিয়ে গেল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার সঙ্গীগন তার তালাশে সেখানে অবস্থান করলেন। তাদের অবস্থান পানির নিকটে ছিল না এবং তাদের সাথেও পানি ছিল না। লোকজন আবূ বকর (রাঃ) এর নিকট এসে বলল, আপনি কি দেখছেন না আয়িশা (রাঃ) কি করলেন? তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এবং অন্যান্য লোকদের এমন স্থানে অবস্থানে বাধ্য করেছেন যার নিকটে কোন পানি নেই এবং লোকদের সাথেও পানি নেই। তখন আবূ বকর (রাঃ) আমার নিকট এলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন আমার উরুর উপরে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন।

আবূ বকর (রাঃ) বললেন, তুমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং অন্যান্য লোকদের এমন স্থানে আটকিয়ে রেখেছ যেখানে পানির কোন উৎস নেই আর তাদের সাথেও পানি নেই। আয়িশা (রাঃ) বলেনঃ তিনি মাকে খুব তিরস্কার করলেন আর আল্লাহর যা ইচ্ছা ছিল তাই বললেন এবং তার হাত দিয়ে আমর কোমরে খোঁচা দিতে লাগলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শরীর আমার উরুর উপর থাকার কারণে আমি নড়াচড়া করতে পারছিলাম না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিদ্রায় রইলেন, এমনকি পানির কোন ব্যবস্থা ছাড়াই ভোর হয়ে গেল। তখন আল্লাহ তায়ালা তায়াম্মুমের আয়াত নাযিল করলেন।

এতে উসায়র ইবনু হুজায়র (রাঃ) বললেনঃ হে আবূ বকরের পরিজন! এটাই তোমাদের প্রথম বরকত নয়। আয়িশা (রাঃ) বলেনঃ আমি যে উটের উপরে ছিলাম সেটিকে উঠালে তার নিচে আমার হারটি পেলাম। [সূনান নাসাঈ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ৩১১, হাদিসের মানঃ সহিহ]
আম্মার ইবনু ইয়াসির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। যখন মুসলিমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে তাইয়াম্মুম করেন, তখন তিনি মুসলিমদের নির্দেশ দিলে তারা তাদের হাতের তালু দ্বারা মাটিতে আঘাত করেন, কিন্তু মাটি থেকে কিছুই নেননি। এরপর তারা তাদের মুখমন্ডল একবার মাসহ করেন। তারা পুনর্বার তাদের হাতের তালু দ্বারা মাটিতে আঘাত করেন এবং তাদের হাতসমূহ মাসহ করেন। [সুনানে ইবনে মাজাহ, অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা ও তার সুন্নাতসমূহ, হাদিস নম্বরঃ ৫৭১, হাদিসের মানঃ সহিহ]
হিশাম ইবনু উরওয়া থেকে তাঁর পিতার সূত্রে এবং তিনি . আয়িশা (রাঃ) -র সূত্রে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উসায়েদ ইবনু হুদায়েরের সাথে আরো কয়েকজনকে আয়িশা (রাঃ) -র হারানো হার অনুসন্ধানের জন্য পাঠান। এমন সময় নামাযের ওয়াক্ত হওয়ায় তারা বিনা উযূ (ওজু/অজু/অযু)তে নামায আদায় করেন। অতঃপর তারা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খিদমতে হাযির হয়ে এ বিষয়ে তাকে অবহিত করেন। তখন তায়াম্মুমের আয়াত নাযিল হয় এ সময় . উসায়েদ (রাঃ) . আয়িশা (রাঃ) -কে লক্ষ্য করে বলেন, আপনি মনঃক্ষুন্ন হয়েছেন, তার ফলশ্রুতিতে আল্লাহ্ তা’আলা আপনার এবং গোটা মুসলিম মিল্লাতের জন্য পথ সুপ্রশস্ত করে দিয়েছেন। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা, হাদিস নম্বরঃ ৩১৭,হাদিসের মানঃ সহিহ]

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) এর হারানো হার অনুসন্ধানের জন্য উসাইদ ইবনু হুদাইর এবং তার সাথে আরো কয়েকজনকে পাঠালেন। পথিমধ্যে সলাতের ওয়াক্ত হলে লোকেরা বিনা অযুতেই সলাত আদায় করেন। অতঃপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে তাঁরা বিষয়টি তাঁকে জানান। তখনই তায়াম্মুমের আয়াত নাযিল হয়। নুফাইলের বর্ণনায় আরো রয়েছেঃ উসাইদ ইবনু হুদাইর (রাঃ) ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে বললেন, আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন। আপনার নিকট অপছন্দনীয় একটি বিষয়ের উপলক্ষেই আল্লাহ মুসলমানদের জন্য এবং আপনার জন্য সহজ একটি বিধান নাযিল করেছেন।[1] [পাবলিশারঃ আল্লামা আলবানী একাডেমী, গ্রন্থঃ সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত), অধ্যায়ঃ ১/পবিত্রতা অর্জন, হাদিস নম্বরঃ ৩১৭, হাদিসের মানঃ সহিহ]

[1] বুখারী (অধ্যায়ঃ তায়াম্মুম, হাঃ ৩৩৪, এবং অনুঃ যখন পানি ও মাটি কোনটিই পাওয়া যাবে না, হাঃ ৩৩৬), মুসলিম (অধ্যায়ঃ হায়িয, অনুঃ তায়াম্মুম সম্পর্কে) একাধিক সনদে হিশাম ইবনু ‘উরওয়াহ থেকে তার পিতার সূত্রে।

তায়াম্মুম সম্পর্কে যা জানা জরূরীঃ
(ক) তায়াম্মুম পরিচিতিঃ তায়াম্মুম অর্থ সংকল্প করা। ইসলামী পরিভাষায়ঃ পানি না পাওয়া গেলে উযু ও গোসলের পরিবর্তে শারঈ পদ্ধতিতে পাক মাটি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করাকে তায়াম্মুম বলা হয়।

মহান আল্লাহ বলেনঃ যদি তোমরা অসুস্থ হও, কিংবা সফরে থাকো, কিংবা পায়খানা থেকে আসো, অথবা স্ত্রী সহবাস করে থাকো, অতঃপর পানি না পাও, তাহলে তোমরা পাক মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করো এবং তোমাদের মুখমন্ডল ও দু’ হাত মাসাহ্ করো। (সূরা মায়িদাহ, আয়াত ৬)

(খ) তায়াম্মুমের কারণঃ (১) উযু বা গোসলের জন্য পবিত্র পানি না পাওয়া গেলে (২) পানি পেতে গেলে সালাতের ওয়াক্ত ছুটে যাওয়ার আশংকা হলে (৩) পানি ব্যবহারে রোগ বৃদ্ধির ভয় বা মৃত্যুর আশংকা থাকলে (৪) পানি পেতে গেলে শত্রুর ভয় বা জীবনের ঝুঁকি থাকলে (৫) পিপাসার পানি ফুরিয়ে যাওয়ার ভয় থাকলে ইত্যাদি। এ সকল কারণে উযু ও ফরয গোসলের পরিবর্তে প্রয়োজনে দীর্ঘদিন পর্যন্ত তায়াম্মুম করা যাবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিশ্চয় পাক মাটি মুসলমানদের জন্য উযু স্বরূপ। যদিও দশ বছর পর্যন্ত পানি না পাওয়া যায়। (আহমাদ, আবূ দাঊদ, তিরমিযী)

(গ) এক নজরে তায়াম্মুম সম্পর্কিত কতিপয় মাসআলাহঃ
(১) মাটি, বালি, পাথুরে মাটি ইত্যাদি মাটি জাতীয় সব ধরণের জিনিসের দ্বারা তায়াম্মুম করা জায়িয, যদিও তাতে ধূলাবলি না থাকে। কিন্তু ধূলা-মাটিহীন স্বচ্ছ পাথর, কয়লা, কাঠ, মোজাইক, চুন ইত্যাদি দ্বারা তায়াম্মুম করা জায়িয কি না এ নিয়ে মতভেদ আছে। দেয়াল বা অন্য পাক স্থানে যেখানে ধূলাবালি লেগে আছে, সেখানে তাত মেরে তায়াম্মুম করা যায়। কিন্তু দেয়ালে যদি তৈলাক্ত পদার্থ থাকে তবে তাতে তায়াম্মুম করা যাবে না। আর যদি মাটিতে, দেয়ালে বা অন্যত্র ধূলা না পাওয়া যায়, তাহলে কোনো পাত্রে বা রুমালে ধূলা নিয়ে তাতে হাত মেরে তায়াম্মুম করা যাবে।

(২) পানির দ্বারা পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যমে যেসব কাজ করা যয় তায়াম্মুম দ্বারাও সেসব কাজ করা যাবে। যেমন, সালাত আদায়, কুরআন পড়া ও স্পর্শ করা, মাসজিদে প্রবেশ ইত্যাদি। (নায়লুল আওত্বার, ১/৩১১)।
(৩) যেসব কারণে উযু ভঙ্গ হয় সেসব কারণে তায়াম্মুমও ভঙ্গ হয়। তায়াম্মুম অবস্থায় পানি পাওয়া গেলে তায়াম্মুম ভঙ্গ হয়ে যাবে। উযু ও গোসলের পরিবর্তে যে তায়াম্মুম করতে হয় তার নিয়ম একই। এর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। (আইনী তুহফা)।
(৪) তায়াম্মুম করে সালাত আদায়ের পর ওয়াক্তের মধ্যে পানি পাওয়া গেলে পুনরায় ঐ সালাত আদায় করতে হবে না। (আবূ দাঊদ, নাসায়ী, দারিমী)।
(৫) তায়াম্মুম করে ইমামতি করা যাবে। যেমন ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) করেছেন- (সহীহুল বুখারী)। অধিকাংশ ‘আলিমের (জমহুর ‘উলামার) মতেও তায়াম্মুম করে উযু কারীদের সালাতে ইমামতি করা জায়িয। (‘উমদাতুল ক্বারী)।
(৬) পাক মাটি বা পানি কিছুই না পাওয়া গেলে বিনা উযুতেই সালাত আদায় করবে- (সহীহুল বুখারী)। তবে এ সালাতের ক্বাযা করতে হবে কি না এ নিয়ে মতভেদ আছে।
(৭) তায়াম্মুম নষ্ট না হলেও প্রতি ওয়াক্ত সালাতের জন্য তায়াম্মুম করা জায়িয। এরূপ করাকে কেউ ওয়াজিব এবং কেউ মুস্তাহাব বলেছেন।
(৮) জুনুবী ব্যক্তি যখমী হলে যদি ক্ষত বৃদ্ধির ভয় থাকে কিংবা প্রচন্ড শীতে ঠান্ডা লাগার আশংকা থাকে তাহলে গোসলের পরিবর্তে তায়াম্মুম করবে। (আবূ দাঊদ, দারাকুতনী, আহমাদ, নায়লুল আওত্বার, ই‘লাউস সুনান)।
(৯) যে ব্যক্তির কাছে পানি নেই তার জন্যও সহবাস করার অনুমতি আছে। (ত্বাবারানী, ইবনু হিব্বান, দারাকুতনী, নায়লুল আওত্বার)।
(১০) যে ব্যক্তি আখিরী ওয়াক্তে পানি পাওয়ার আশাবাদী, তার জন্য আওয়াল ওয়াক্তে তায়াম্মুম করা জায়িয। (মালিক, ই‘লাউস সুনান)।
(১১) যে ব্যক্তি ওয়াক্তের মধ্যেই পানি পাওয়ার আশাবাদী, তার জন্য বিলম্বে তায়াম্মুম করা উত্তম। (দারাকুতনী, ‘আলীর মাওকূফ বর্ণনা, ই‘লাউস সুনান)।
(১২) উযু করতে যাওয়ার কারণে যদি জানাযার সালাত ছুটে যাওয়ার আশংকা হয়, তাহলে এ অবস্থায় তায়াম্মুম করা জায়িয আছে কি না এ সম্পর্কে ফাক্বীহদের মধ্যে মতভেদ আছে। ইমাম আবূ হানিফা, সুফিয়ান, আওযাঈ ও একদল ফাক্বীহদের মত হচ্ছে, এ অবস্থায় তায়াম্মুম করা জায়িয আছে। কিন্তু ইমাম মালিক, ইমাম শাফিঈ ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল ও একদল ফাক্বীহের মত হচ্ছে, এ অবস্থায় তায়াম্মুম করা যাবে না। (বিদায়াতুল মুজতাহিদ, অনুচ্ছেদ-জানাযার সালাত, এং অন্যান্য)।
(১৩) কেউ অসুস্থতার কারণে নিজে নিজে উযু বা তায়াম্মুম করতে অসমর্থ হলে অন্য কেউ তাকে উযু বা তায়াম্মুম করিয়ে দিবে।

(ঘ) তায়াম্মুমের পদ্ধতিঃ পবিত্রতা অর্জনের নিয়্যাতে ‘বিসমিল্লাহ’ বলে পবিত্র মাটির উপর একবার দু’ হাত মেরে তাতে ফুঁক দিয়ে মুখমন্ডল ও দু’ হাতের কব্জি পর্যন্ত একবার মাসাহ্ করতে হবে। (দেখুন, সহীহুল বুখারী, সহীহ মুসলিম, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, সহীহ আবূ দাঊদ, মিশকাত ও অন্যান্য)

উল্লেখ্য তায়াম্মুমে মাটিতে দু’ বার হাত মারা এবং দু’ হাতের কনুই বা বগল পর্যন্ত মাসাহ্ করা সম্পর্কে যেসব বর্ণনা এসেছে সেগুলো সহীহ নয়। হাফিয ইবনু হাজার আসকালানী (রহঃ) ‘ফাতহুল বারী’ গ্রন্থে এবং ইমাম শাওকানী (রহঃ) ‘আস-সায়লুল জাররার’ গ্রন্থে বলেনঃ "তায়াম্মুম সম্পর্কে সহীহুল বুখারী ও সহীহ মুসলিমে বর্ণিত দু’টি সহীহ হাদীস ছাড়া বাকী সমস্ত হাদীসগুলোই হয় যঈফ (দুর্বল) না হয় গাইরে মারফূ (যার সানাদ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছায় না।) সুতরাং ঐ হাদীসগুলোর উপর ‘আমাল করা ঠিক নয়।" (দেখুন, মির‘আতুল মাফাতীহ ১/৩৪৬)।

ইমাম ইবনু হায্ম (রহঃ) বলেন, তায়াম্মুমে দু’ বার হাত মারা সংক্রান্ত সমস্ত হাদীসগুলোই অচল। তাই ঐগুলোর দ্বারা দলীল পেশ করা জায়িয নয়। (দেখুন, আল-মুহাল্লা ২/১৪৯)।

‘আম্মার ইবনু ইয়াসার বর্ণিত হাদীসটির ব্যাখ্যায় হানাফী মুহাদ্দিস আহমাদ ‘আলী সাহারানপুরী (রহঃ) বলেন, এ হাদীস প্রমাণ করে, তায়াম্মুমের মার চেহারা ও দু’ কব্জির জন্য মাত্র একবার। (দেখুন, বুখারীর ৫০ পৃষ্ঠায় ২নং টীকা)।

‘আল্লামা ‘আবদুল হাই লাখনৌভী হানাফী (রহঃ) বলেন, তায়াম্মুমে মাটিতে দু’ বার হাত মারা ও তাতে কনুই পর্যন্ত মাসাহ্ করা সম্পর্কে হাকিম ইবনু আদী, দারাকুতনী ও বাযযার প্রমূখ যা বর্ণনা করেছেন তার অধিকাংশ সূত্রই যঈফ। (দেখুন, শারহু বিক্বায়্যাহ, ৫৯ পৃষ্ঠা ৩নং টীকা)।

ইমাম হাসান (রহঃ) ইমাম আবূ হানিফা (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তায়াম্মুমের হাত মাসাহ্ কব্জি পর্যন্ত হবে (কনুই পর্যন্ত নয়)। সাহাবী ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকেও এটাই বর্ণিত আছে। (দেখুন, হিদায়া ১/৩৪, ৩নং টীকা)।

হানাফী মাযহাবের দ্বিতীয় ইমাম হিসেবে খ্যাত ইমাম আবূ ইউসূফ (রহঃ)ও মাটিতে একবার হাত মারার পক্ষে।

অতএব তায়াম্মুমে মাটিতে হাত মারা দু’ বার নয় বরং একবার এবং হাত মাসাহ্ কনুই বা বগল পর্যন্ত নয় বরং কব্জি পর্যন্ত। এটাই সহীহ।

সংকলক: Md. Nazmul Haque

কোন মন্তব্য নেই