পরকালীন প্রস্তুতি

কুর'আন-সুন্নাহর আলোকে পরকালীন মুক্তির আশায় একটি পরকালমুখী উদ্যোগ

স্বপ্ন দেখতে হবে সর্বোৎকৃষ্ট


জান্নাত অনেক বড়। সেখানে অনেকগুলো স্তর রয়েছে। আমাদের স্বপ্ন দেখতে হবে সর্বোৎকৃষ্ট স্তরে পৌঁছানোর জন্য।

আল্লাহ্ কী দারুণভাবে আমাদের অনুপ্রাণিত করছেন, "তোমরা প্রতিযোগিতা করে এগিয়ে যাও তোমাদের রবের ক্ষমা ও জান্নাতের দিকে, যার প্রশস্ততা আসমান-যমিনের সমান।" [সূরা আল হাদিদ: ২১]

আমাদের স্বপ্নই যদি থাকে কোনোরকম জান্নাতে প্রবেশ করা, তবে আশঙ্কা থাকে, আগে জাহান্নামের তিক্ত অভিজ্ঞতাও অর্জন করা লাগবে। আর স্বপ্নটা যদি থাকে জান্নাতুল ফিরদাউসের (এবং সে অনুযায়ী আমলও বেশি বেশি করা হয়) তবে আশা করা যায়, জান্নাতে আমরা প্রথম দফাতেই প্রবেশ করব; এমনকি চিরস্বপ্নের জান্নাতুল ফিরদাউসও আমাদের স্বাগত জানাতে পারে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, "তোমরা যখন চাবে তখন ফিরদাউসই চাবে।" [সহিহ আল জামি': ৩১২১]

আমাদের দশজন সাধারণ মুসলিমের মত হলে চলবে না। অবশ্যই নিজেকে অসাধারণ বানাতে চেষ্টা করতে হবে। সাইড বেঞ্চে, অতিরিক্ত খেলোয়াড় হিসেবে বসে থাকা যাবে না। উম্মাহর জন্য অনেক বড় বড় কাজ করার স্বপ্ন দেখতে হবে। এমন হতে পারে: ৫০ জন মুসলিমের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়া বা ২০ জন বিধবা নারীর ঘরোয়া পরিবেশে কোন ছোটোখাটো কাজের সুযোগ করে দেওয়া কিংবা ১০ জন ইয়াতিমের পড়ালেখার দায়িত্ব নেওয়া।

এছাড়া হতে পারে- টার্গেট করে ৫০ জন বেনামাযিকে নামাযি বানানো কিংবা পতিতালয়গুলো উঠিয়ে দেওয়া অথবা বিভিন্ন মাসজিদ ও বাসা-বাড়িতে কুরআন শিক্ষার আসর জমিয়ে এলাকার তরুণ-যুবাদের মাঝে কুরআনের আলো ছড়িয়ে দেওয়া। এমন অনেক পরিকল্পনাই করা যেতে পারে।

হয়ত মনে হবে "আমার পক্ষে এগুলো কীভাবে সম্ভব?"। ভাই, আল্লাহ্ চাইলে অবশ্যই সম্ভব। প্রথমত, এ ধরনের নেককাজের কেবল প্ল্যান করার মাধ্যমেই আপনি নেকি পেয়ে যাবেন। এরপর প্ল্যান বাস্তবায়নের তাওফিক হোক বা না হোক। এটা ইসলামের একটি মহান সৌন্দর্য যে, এখানে কেবল নেক কাজের পরিকল্পনার মাধ্যমেই নেকি পাওয়া যায়।

আমরা মুসলিম। বিশ্বকে বদলে দেওয়া জাতি। অলসতা, কাপুরুষতা, নিষ্ক্রিয়তা- এগুলো আমাদের সাথে যায় না। আমাদের সময় গুলো প্রতিনিয়ত কাটবে আল্লাহর দরবারে সিজদাবনত আর উম্মাহর কল্যাণে। আল্লাহ্ তাওফিক দিন।

▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂
লেখক: ডা. সাঈদ (আল্লাহ্‌ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন!)

কোন মন্তব্য নেই