পরকালীন প্রস্তুতি

কুর'আন-সুন্নাহর আলোকে পরকালীন মুক্তির আশায় একটি পরকালমুখী উদ্যোগ

একেই কি বলে সভ্যতা?


১.
আমার এক বোন ছোটো বেলা থেকে পর্দা করে চলে। ১৪ পুরুষ ছাড়া কাউকে দেখা দেয় না। এখন ওর বিয়ে ঠিক হয়েছে। কিন্তু বরপক্ষ ওকে বিয়ের দিন মুখ ঢাকতে দিবে না জানিয়েছে। ওদের কথা তুমি এই একদিন মুখ ঢাকিও না বিয়ের পর করিও।এখন মেয়ের পরিবার ও ওদের কথায় রাজি। কিন্তু ও মুখ ঢাকতে চায়। এখন ও কি করবে।

২.
তারা আমার পরিবার দেখলো, স্ট্যাটাস দেখলো,আমাদের প্রপার্টি দেখলো, আমার সৌন্দর্য ও খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখলো, শুধু দেখলো না আমাকে।

৩.
নুজাইরাহ কত চেষ্টা করেও বৈবাহিক জীবনের ২৫ বছরেও সঠিকভাবে পর্দা করতে পারলো না। যদিও তার স্বামী পাঁচ ওয়াক্ত নামাজি ছিল শুধু বিয়ের ২৫ বছরেও স্ট্যাটাস এর জন্য দাড়ি টা রাখতে পারেনি।

৩.
বাবা আমার বিয়ে ঠিক করেছিল এক বেদ্বীন ছেলের সাথে। রাজি হয়নি। আমার ভরনপোষন এর দায়িত্ব তিনি আর নিবেননা বলেছেন।

৫.
সাদিয়া জেনারেল লাইনে পড়েও, আধুনিক ফ্যামিলিতে থেকেও সহশিক্ষার মধ্যেই যথাসম্ভব পর্দা করেছে। মেয়েটা বড্ড চুপচাপ ছিল প্রতিবাদ করতে জানতো না। তাই হয়তো এখন বরের সাথে পহেলা বৈশাখ সহ আরও অনেক অনুষ্ঠানে শাড়ী, ফুল,খোলাচুলে তাকে পাক্কা বাঙ্গালীবেশে দেখা যায়।

৬.
মেয়েটা, তাকে দেখতে আসা মহিলা গুলোর সামনে বলেছিল আমি রান্না পারি তবে সব পদের পারিনা। পরে তাকে মায়ের হাতে মার খেয়ে বুঝতে হল "সত্য এখন স্বার্থভেদে বলতে হয়"।

৭.
মেয়েটা ১৪ মাহাররাম পর্যন্ত মেনে চলে , শুধু হাফেজা , আলেমা না হওয়ায় আজও তার অর্ধেক দ্বীন পূর্ন হলনা। কত আলেম, হাফেজ শুধু দর্শনেই হার মানলো।

৮.
মেয়েটা শেষমেশ লিখেই ফেললো।
আমিও এখন পণ্য, কিন্তু মোড়কে মোড়ানো বলে আজও আমার বাবার অভিজাত দোকান থেকে কেউ আমায় কিনলো না। কি জানি মেয়েটা ঠিক কতটা কষ্ট পেয়েছিল.....তাই নিজেকে পণ্যই ভেবে নিল...

৯.
"আমি উচ্চমাধ্যমিক পাশ। ভালো ছাত্রী।কেউ কোনো কাজ দিতে পারলে দয়া করে আমাকে জানাবেন, খাদেমার কাজ হলেও চলবে। আমার শুধু একটু নিরাপদ আশ্রয়, এবং মৃত্যু পর্যন্ত বেঁচে থাকার জন্য খাবারের প্রয়োজন। বেতনের কোনো দরকার নেই। শুধু ইবাদতের সময়টা দিলেই হবে "

বিঃদ্রঃ আমি একটা ভালো ফ্যামিলি থেকে বিলং করি তাই ইনফরমেশনের ব্যপারে নিশ্চিত থাকতে পারেন....

*
ঠিক কতটা কষ্টে পড়লে মানুষ এমন কথা পাবলিক্যালি বলতে বাধ্য হয় অনুভব করতে পারছি না....

১০.
"ইয়া আল্লাহ,ইয়া রহমান তুমি আমার বিয়ে দিয়ে দাও। তারপর তুমি আমায় যেমন রাখবে আমি তেমনি শোকর করব ইন শা আল্লাহ। তবুও আমার বাবা মা কে মুক্তি দাও আমি নামক বোঝা থেকে আর আমায় মুক্ত কর এই "বোঝা" নামক উপমা থেকে। আমিতো তোমার রহমত, তারা তো বোঝেনা। তারা বড্ড বাস্তবমুখি। তাই আমি যার নিয়ামত তুমি আমাকে তার কাছেই পাঠিয়ে দাও।

*
ঠিক কতটা কষ্ট পেলে এমন দোয়া কেউ করতে পারে আমার অনুভুতিতে আসে না,,,, তবে এটা বেশ বুঝতে পারি শুধু চরিত্র রক্ষার জন্যই সবাই বিয়ে বিয়ে করে না। অনেকের এই চাওয়ার পেছনে এমন অনেক, জোড়ালো কারন ও রয়েছে....... যা আমাদের উপহাসের নিচেই চাপা পরে যায়....

*
হয়তো চরিত্র গুলো কিছু কাল্পনিক কিছু বাস্তব কিন্তু বিষয়গুলো অহরহ ঘটে চলেছে। কিন্তু আমরা অনেকে চাইলেও কিছু করতে পারিনা। ঐ যে, ঐ একই কারন আমাদেরও পরিবার রয়েছে, আমাদেরও সমাজে থাকতে হয়, আরও কত পিছুটান।

কিন্তু, "সত্যিই কি এই সমাজ আমাদের নিয়ে ভাবে যতটা ভরসা আল্লাহ আমাদের দিয়েছেন?

অবশ্যই না। কিন্তু তবুও কেন আমরা দোটানায় পড়ি সিদ্ধান্ত নিতে? আমরা কি তাহলে সত্যিই আল্লাহকে পরিবারের থেকে বেশি ভালোবাসতে পারিনি? নিজের অজান্তেই শির্ক করে ফেলছিনাতো? এই সমাজ কি আমার হাশরের দায়িত্ব নেবে? পৌঁছে দেবে আমায় জান্নাতে?

কখনো না। তবুও আমরা পারিনা প্রকৃত তাওক্কুল করতে। কারন মানুষ এখন সমাজ কে যতটা ভয় করে, মেনে চলে আল্লাহকে অতটা মানতে চাইনা। তাইতো এখন বিয়ে মানুষে মানুষে হয়না। হয় মেশিনের সাথে। একটা সৌন্দর্য বর্ধনের মেশিন আর একটা টাকা বাড়ানোর মেশিন। সমাজের চাবি দেওয়া পুতুল সব। কিছু অভিজ্ঞতার তিক্ততা আমিও আস্বাদন করেছি।

কাল এক বোন আমাকে প্রশ্ন করলেন -
"আচ্ছা যত ইসলামিক চিন্তাবিদ আছে, যত মুফতি, মাওলানা,লেখক, তাদের কেউ কি কোনো অসহায় বা বঞ্চিত কে বিয়ে করেছে। তারাতো শুধু উৎসাহ দেয়। কই নিজেরাতো ঐ কাজটা করে উদাহরণ হয় না। আমি উত্তর দিতে পারিনি। কারন আমার জানাশোনার মধ্যে এমন কেউ নেই,,, কারও জানা থাকলে অনুগ্রহ করে জানালে উপকৃত হবো.........

কোন মন্তব্য নেই